19/03/2026
💝💝
বিকেলের মিষ্টি রোদ জানালার পাতলা পর্দা ভেদ করে রান্নাঘরে এসে পড়েছে। মায়া টেবিলের একপাশে বসে খুব যত্ন করে একটি কমলালেবু ছিলছিলেন। প্রতিটি কোয়া থেকে সাদা আঁশগুলো ছাড়িয়ে তিনি সামনের ছোট্ট মেয়েটির হাতে দিচ্ছিলেন।
ছয় বছরের মেয়েটি আপনমনে গুনগুন করে গান গাইছিল, যদিও সুরটা তখনও ঠিক দানা বাঁধেনি। জানালা দিয়ে কোনো পথচারী তাকালে মনে হবে এক দিদিমা আর নাতনি গল্পে মেতেছে। কিন্তু তাদের এই সম্পর্কের ভিতটা ছিল অন্যরকম—এক গভীর প্রতিশ্রুতি আর ভালোবাসার নিপুণ কারুকাজ।
বহু বছর আগে মায়া তার ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিলেন এক কিশোরীর জন্য, যার মাথা গোঁজার মতো কোনো নিরাপদ আশ্রয় ছিল না। সেই পালিত মেয়েটি বড় হয়েছে, নিজের পথে এগিয়েছে, কিন্তু জীবন সবসময় তার প্রতি সদয় ছিল না। যখন সে নিজের সন্তানকে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ দিতে পারল না, তখন মায়া বরাবরের মতো এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা করেননি মমতার হাত প্রসারিত করতে।
পালিত মেয়ের ছোট্ট শিশু কন্যাটিকে যখন প্রথমবার কোলে তুলে নিয়েছিলেন, তখন থেকেই মায়ার কাছে সে নিজের নাতনির চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না।
"মিষ্টি খেতে?" মায়া মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করলেন।
মেয়েটি উৎসাহের সাথে মাথা নাড়ল, কমলার রস তখন তার ঠোঁটের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে। মায়া আলতো করে তার আঙুল দিয়ে সেটা মুছে দিলেন। তার স্পর্শে ছিল এক পরম নির্ভরতা।
পাড়ার লোকজন মাঝে মাঝে মায়াকে জিজ্ঞেস করত, "এই বয়সে কি আর এতো ধকল সয়? এবার নিজের দিকে একটু তাকাও।" মায়া শুধু হাসতেন। তার চোখের শান্ত চাউনিতে এক গভীর শক্তির প্রতিফলন দেখা যেত। তিনি কেবল একটি শিশুর দেখাশোনা করছেন না, বরং ভালোবাসার এক অবিচ্ছিন্ন ধারাকে সজীব করে রাখছেন।
সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ল, মায়া মেয়েটিকে চেয়ার থেকে নামিয়ে দিলেন। দুজনে হাত ধরাধরি করে পেছনের বাগানে গেল দেখতে, হাসনাহেনা ফুটেছে কি না। তাদের এই হাঁটা দেখে বোঝা যায়, পরিবার মানেই কেবল রক্তের টান নয়; পরিবার হলো সেই আশ্রয় যা বিশ্বাস, দায়িত্ব আর অগাধ মমতা দিয়ে তিল তিল করে গড়ে তোলা হয়।