27/09/2026
মেধা তালিকায় ১ম, ২য় হয়েও চাকরি হলো না!
তাহলে এতদিন ধরে মেধার পেছনে ছুটে লাভটা কী?
তামান্নার গল্পটা শুনুন।
দিনরাত পরিশ্রম করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নিজের উপজেলা মতলব দক্ষিণে ১ম হয়েছেন তিনি। পুরো চাঁদপুর জেলার মেধাতালিকায় তার অবস্থান ১১তম।
শুধু পরীক্ষায় ভালো করাই নয়, পড়াশোনার রেকর্ডও অসাধারণ। ইংরেজিতে অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস, এরপর মাস্টার্সেও ফার্স্ট ক্লাস।
চূড়ান্ত তালিকায় নামও ছিল। এরপর নিয়োগের আশায় দীর্ঘ ৮ মাস অপেক্ষা। কিন্তু গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র দেওয়ার সময় জানতে পারলেন তার নামে কোনো নিয়োগপত্রই নেই!
ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন তিনি।
কিন্তু কেন?
তামান্নার দাবি, তাকে কোনো এক ‘পলিটিক্যাল ট্যাগ’-এর কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ তার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কিংবা তার পরিবারের কেউ কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
একই রকম আরেকটি ঘটনা বন্যা মল্লিকের।
ফার্মেসিতে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে জীবনে প্রথমবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এত প্রতিযোগিতার মধ্যেও নিজের উপজেলায় মেধাক্রমে ২য় হয়েছেন।
তারপরও চাকরি হয়নি।
বন্যা নিজেই কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন৷
মেধাক্রমে ২য়।
শিক্ষাগত যোগ্যতায় সমস্যা নেই।
পরিবারে কেউ রাজনীতি করেন না।
কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।
স্থায়ী ঠিকানা বা জমিজমা নিয়েও সমস্যা নেই।
তাহলে তাকে বাদ দেওয়ার কারণটা কী?
কারও বিরুদ্ধে যদি সত্যিই কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটা পরিষ্কার করে বলা হোক। কোনো অপরাধ বা অযোগ্যতা থাকলে সেটাও প্রকাশ করা হোক।
কিন্তু একজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখার পর, মাসের পর মাস অপেক্ষা করিয়ে, শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া হবে অথচ কেন বাদ দেওয়া হলো সেটাও পরিষ্কার করা হবে না এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
কারণ চাকরির জন্য একজন শিক্ষার্থী শুধু একটা পরীক্ষা দেয় না। বছরের পর বছর পড়াশোনা করে, পরিবারকে সময় দেয় না, নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখে।
তারপর মেধাতালিকায় জায়গা পাওয়ার পরও যদি শেষ পর্যন্ত অদৃশ্য কোনো কারণে স্বপ্নটা ভেঙে যায়, তাহলে তার প্রশ্ন করার অধিকার অবশ্যই আছে।
তাহলে কি আমরা বুঝে নিবো!! কোটা না মেধা নিয়ে আন্দোলন করে দিন শেষে সেই কোটা জিতে গেলো?