21/08/2026
পবিত্র হাদিসের আলোকে জুম্মার দিনের বিশেষ বিশেষ নির্দেশনা ও ঘটনাগুলো নিয়ে সাজানো নিবন্ধ:
হাদিসের আলোয় জুম্মার দিন: বিশেষ মর্যাদা ও সহীহ আমল
পবিত্র হাদিস শরীফে জুম্মার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুম্মার দিনের অসংখ্য ফজিলত ও নিয়মের কথা বর্ণনা করেছেন, যা একজন মুমিনের জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
হাদিসে বর্ণিত জুম্মার মূল ফজিলত
সবচেয়ে উত্তম দিন: সহীহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, “সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুম্মার দিন।”
গুনাহ মাফের মাধ্যম: সহীহ বুখারী ও মুসলিমের বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, এক জুম্মা থেকে পরবর্তী জুম্মা এবং আরও অতিরিক্ত তিন দিন—মোট দশ দিনের ছোটখাটো গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়, যদি ব্যক্তি জুম্মার আদব রক্ষা করে নামাজ আদায় করে।
ফেরেশতাদের উপস্থিতি: সহীহ বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী, জুম্মার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতাগণ অবস্থান নেন এবং প্রথম থেকে ক্রমানুসারে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। কিন্তু যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে ওঠেন, তখন ফেরেশতাগণ আমলনামা গুট্টিয়ে খুতবা শুনেন।
সহীহ হাদিস সমর্থিত জুম্মার বিশেষ আমল
১. গোসল ও সুগন্ধি ব্যবহার: রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, “জুম্মার দিনে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য গোসল করা ওয়াজিব বা অত্যন্ত জরুরি।” (সহীহ বুখারী)
২. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া: হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুম্মার দিনে উত্তমরূপে ধোয়ামোছা করে/গোসল করে, ভোরে মসজিদে যায় এবং হেঁটে যায় (কোনো বাহনে না চড়ে), তার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য এক বছর নফল রোজা ও এক বছর নফল নামাজের সওয়াব লেখা হয়।
৩. সুরা কাহফ তেলাওয়াত: সুনানে দারেমীর বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি জুম্মার রাতে বা দিনে সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য কাবার ঘর পর্যন্ত একটি নূর বা আলো বিস্তৃত করা হয়।
৪. অত্যধিক দরুদ পাঠ: রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা জুম্মার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের পাঠ করা দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।” (সুনানে আবু দাউদ)
দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত
সহীহ বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) জুম্মার দিনের কথা আলোচনা করতে গিয়ে হাতের ইশারায় জানান যে, এই দিনে এমন একটি সংক্ষিপ্ত সময় রয়েছে, যে সময় কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে যা-ই প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে তা-ই দান করেন। অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণের মতে, এ সময়টি আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
জুম্মার দিনের এই বরকত ও সওয়াব অর্জনের মূল শর্তই হলো সঠিক সময়ে মসজিদে উপস্থিত হওয়া, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং খুতবা চলাকালীন সব ধরনের অনর্থক কথাবার্তা ও আচরণ থেকে বিরত থাকা।