22/01/2021
টাইপোগ্রাফি এবং টাইপফেইস নিয়ে গত পর্বে সাধারণ একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। আজকে আরেকটু বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব। টাইপোগ্রাফি এর অনেক ধরণ রয়েছে যেখানে সাধারণ টাইপফেইস যেমন আছে ঠিক তেমনি হাতের লেখার টাইপফেইস ও আছে। এই হাতে সুন্দর ভাবে নিজস্ব ডিজাইনকে কাজে লাগিয়ে যে ধরণের টাইপফেইস তৈরি হয় সেগুলোকে ক্যালিগ্রাফি বলে।
ক্যালিগ্রাফির জন্য আলাদা কিছু আর্টিস্ট থাকে যারা এই ক্যালিগ্রাফি করতে সক্ষম এবং এই ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে সুন্দর কিছু লেখার ধরণ তৈরি করে থাকে। আর এই লেখার প্রধান বিশেষত্ব হল এখানে ব্রাশের স্ট্রোক সহ বিভিন্ন স্পেশাল কলম বা ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করে থাকে। ক্যালিগ্রাফিকে বলা হয়ে থাকে একটি সুনিপুন, অভিব্যক্তিপূর্ণ এবং সুগঠিত একটি রুপ।
টাইপফেইস যখন আমরা নির্ধারণ করি একটি লোগো ডিজাইনের জন্য বা যেকোন ডিজাইনে লেখার জন্য তখন আমাদেরকে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়। এখানের অনেক বিষয়ই লোগো ডিজাইন ছাড়া অন্যান্য ডিজাইন যেমন পোস্টার তৈরি বা ভিসিটিং কার্ড তৈরি এগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় তবুও টাইপোগ্রাফি নিয়ে জানতে হলে এগুলো জেনে রাখা প্রয়োজন।
ট্র্যাকিংঃ ট্র্যাকিং মূলত একটি নির্দিষ্ট টাইপফেইসে লেখাগুলোর অক্ষর একে অপরের কতটুকু পাশাপাশি আছে। অনেক ক্ষেত্রে সেটি বেশি কাছাকাছি হয়ে যায় যেটি দেখতে হিজিবিজি মনে হয় আবার যদি বেশি দুরত্ব হয়ে যায় তাহলে শব্দ গুলো পড়তে কষ্ট হয়ে যায়। তাই এটি নির্ধারণ করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আর সাথে কোন লোগোতে কোন ধরণের টাইপফেইস দিলে এই সমস্যা দূর হবে সেটি ডিজাইনার সবকিছু যাচাই বাছাই করে দেয়।
কার্নিংঃ এটি মূলত একটি ক্যারেক্টার বা শব্দের মধ্যে বিভিন্ন অক্ষরের মাঝেও নির্দিষ্ট কিছু দূরত্ব। এটিকে আরো বিস্তারিত একটু উদাহরণের মাধ্যমে বলা যেতে পারে। ধরুণ ইংরেজিতে লিখলে বা টাইপ করলে একটু ভাল ভাবে দেখলে খেয়াল করবেন Kerning শব্দটিতে K এর পর e এর যে দূরত্ব সেটি কিন্তু e থেকে r এর দূরত্বের সমান না। এগুলো কোন অক্ষর আছে পাশে সেটির উপর নির্ভর করে।
লিডিংঃ এটিকে সহজে আমরা বলতে পারি লাইন স্পেসিং। অর্থাৎ একটি লাইনের পর নিচের লাইনের মধ্যে যে দূরত্ব সেটিই মূলত লিডিং। অনেক সময় আমরা হেডলাইন দিই এবং এরপর মূল অংশটি লিখি এর মধ্যকার দূরত্ব কতটুকু রাখতে হবে যাতে করে রিডার ভাল ভাবে এবং সহজ ভাবে পড়তে পারবে তাই হল লিডিং।
হায়ারারকিহঃ এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি একজন রিডারকে সহায়তা করে কোন অংশটি প্রথমে পড়তে হবে আর কোনটি পরে। সাধারণ বই ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত বুঝা যায় না কারণ আমরা জানি বাম পাশের উপর থেকে পড়তে হবে। কিন্তু একটি পোস্টার ডিজাইনের ক্ষেত্রে ধরুন আপনি কোন ডিস্কাউন্ট দিচ্ছেন। তাহলে অবশ্যই এমন ভাবে ডিজাইনটি করতে হয় যাতে করে সেই ডিস্কাউন্টটি সবার আগে চোখে যায়। আর সে যাতে আরো মনোযোগ দিয়ে সেই ডিজাইনটি দেখে।