10/06/2026
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) মানবসম্পদ ও এমিরাতাইজেশন মন্ত্রণালয় (MOHRE) বেসরকারি খাতে এমিরাতাইজেশন (Emiratisation) সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম চালু করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেসরকারি খাতে কর্মরত সব আমিরাতি নাগরিকের জন্য ন্যূনতম মাসিক বেতন ৬,০০০ দিরহাম (AED) নির্ধারণ করা। এছাড়া, কোম্পানিগুলোকে তাদের কর্মীসংখ্যার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট নিয়োগ কোটা পূরণ করতে হবে; অন্যথায় তাদেরকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
এমিরাতাইজেশনের প্রধান নিয়ম ও লক্ষ্যসমূহ
১. ন্যূনতম বেতন বাধ্যতামূলক
১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর।
নতুন, নবায়নকৃত এবং বিদ্যমান সব আমিরাতি কর্মীর চাকরির চুক্তিতে কমপক্ষে ৬,০০০ দিরহাম মাসিক বেতন উল্লেখ থাকতে হবে।
পুরোনো কর্মীদের বেতন হালনাগাদ করার শেষ সময় ৩০ জুন ২০২৬।
নির্ধারিত বেতন না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে কোম্পানির এমিরাতাইজেশন কোটার অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে না।
২. বড় কোম্পানি (৫০ বা তার বেশি কর্মী)
এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ধাপে ধাপে দক্ষ আমিরাতি কর্মী নিয়োগে মোট ১০% বৃদ্ধি অর্জন বাধ্যতামূলক।
লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে মাসিক জরিমানা দিতে হবে, যা সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে।
৩. মাঝারি কোম্পানি (২০–৪৯ কর্মী)
১৪টি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক খাতে পরিচালিত কোম্পানিগুলোকে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ অন্তত ১ জন আমিরাতি এবং ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ২ জন আমিরাতি নিয়োগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
৪. আর্থিক জরিমানা
মাঝারি আকারের কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ২ জন আমিরাতি কর্মী নিয়োগের শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ১,০৮,০০০ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রতি অনিয়োগকৃত আমিরাতি নাগরিকের জন্য জরিমানার পরিমাণ প্রতিবছর বৃদ্ধি পায়।
৫. সহায়তা ও আইন লঙ্ঘনের শাস্তি
Nafis কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য আমিরাতি নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা এবং পেনশন ভর্তুকি প্রদান করা হয়।
যেসব প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম নিয়োগ দেখানো, কর্মীসংখ্যা ইচ্ছাকৃতভাবে কমানো বা অন্য কোনো উপায়ে এমিরাতাইজেশন লক্ষ্য এড়ানোর চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও জরিমানা আরোপ করা হয়।
এই তথ্যগুলো ইউএই-ভিত্তিক ব্যবসা, নিয়োগকর্তা এবং প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এমিরাতাইজেশন নীতিমালা বর্তমানে দেশটির শ্রমবাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।