05/04/2026
⚔️ খন্দক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অসীম ধৈর্য ও সাহসিকতা
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দক বা পরিখা খননের সময় আমরা মাটি খুঁড়ছিলাম, তখন একটি অত্যন্ত শক্ত পাথরের টুকরো সামনে এল। সাহাবীগণ নবী করীম ﷺ এর নিকট এসে বললেন, পরিখায় একটি শক্ত পাথর দেখা দিয়েছে যা আমরা ভাঙতে পারছি না। রাসূলুল্লাহ ﷺ তখন বললেন, আমি নিজেই নিচে নামছি। এরপর তিনি পরিখায় নামলেন। তাঁর পেটে তখন ক্ষুধার কারণে পাথর বাঁধা ছিল। আমরা তিন দিন ধরে কোনো খাবার খাইনি। রাসূলুল্লাহ ﷺ কুড়াল হাতে নিলেন এবং পাথরের ওপর আঘাত করলেন। আঘাতের ফলে পাথরটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে বালুর মতো হয়ে গেল। আমি দেখলাম, তিনি পাথরের ওপর তিনবার আঘাত করলেন এবং প্রতিবারই তার থেকে উজ্জ্বল আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল। আমি নবীজি ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতিটি আঘাতের সময় আমি উজ্জ্বল আলো দেখতে পাচ্ছি, এর কারণ কী? নবীজি ﷺ বললেন, হে জাবির! তুমি কি সেই আলো দেখেছ? আমি বললাম, জী হ্যাঁ। তিনি বললেন, প্রথম আঘাতে আমাকে পারস্যের প্রাসাদসমূহের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে। আমি সেখান থেকে কিসরার সাদা অট্টালিকাগুলো দেখতে পাচ্ছি। জিবরাঈল (আঃ) আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আমার উম্মত সেগুলোর ওপর বিজয়ী হবে। দ্বিতীয় আঘাতে আমাকে রোম সম্রাটের প্রাসাদসমূহের চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে এবং আমি তাদের লাল অট্টালিকাগুলো দেখতে পাচ্ছি। তৃতীয় আঘাতে আমাকে ইয়েমেনের সানআর চাবিকাঠি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আমার উম্মত এগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, অচিরেই আল্লাহ তোমাদের এই অঞ্চলগুলোর ওপর বিজয় দান করবেন। সাহাবীগণ এই সুসংবাদ শুনে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং আল্লাহর ওপর তাঁদের বিশ্বাস ও ধৈর্য বহুগুণ বেড়ে গেল।
Reference: সহীহ বুখারী ৪১০১।
Key Points:
✧ চরম প্রতিকূলতা ও ক্ষুধার মধ্যেও আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস ও জিহাদের প্রস্তুতি বজায় রাখা মুমিনের অন্যতম গুণ। ✧ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ভবিষ্যদ্বাণীসমূহ সত্য এবং তাঁর প্রদর্শিত পথে চললে আল্লাহ বিজয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন। ✧ জিহাদ ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার অভিযানে ধৈর্য এবং সুসংবাদ গ্রহণের মানসিকতা সাহাবীদের ঈমানকে শক্তিশালী করেছিল।