21/03/2024
ইঞ্জিন অয়েলের প্যাকেটের দুই ধরনের গ্রেড দেখা যায়। একটি হচ্ছে মাল্টিগ্রেড, আরেকটি হচ্ছে মনোগ্রেড। মাল্টিগ্রেড হচ্ছে যেখানে আমরা দুই ধরনের সংখ্যা দেখতে পাই 5W-৩০; মনো গ্রেড হচ্ছে যেখানে একটি মাত্র সংখ্যা থাকে যেমন 10W। আমাদের দক্ষিণ এশিয়া, এই এলাকাগুলো যেহেতু নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল এ জন্য খুব বেশি শীত পড়ে না আবার খুব বেশি গরমও পড়ে না। বিশেষ করে শীতপ্রধান দেশগুলোতে মনোগ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে মাল্টিগ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহৃত হয়। মাল্টিগ্রেডের ইঞ্জিনগুলোতে প্রথমে যে সংখ্যাটা থাকে যেমন 5W/ 10W/0W এই সংখ্যাগুলোর সাথে ড লিখা থাকে; আমরা সাধারণত এটাকে মনে করে থাকি ড দিয়ে ওজন বোঝায়; কিন্তু এটা আসলে ডরহঃবৎ বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং এর দ্বারা ইঞ্জিন অয়েলের ভিস্কোসিটি এবং ডেনসিটি বোঝাতে সাহায্য করে। ইঞ্জিন অয়েল তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে ব্যবহার করার জন্য রিকমেন্ড করা হয়।
এখন যে জিনিসটা জানব সেটা হচ্ছে, ইঞ্জিন অয়েল একটি ইঞ্জিনের মধ্যে পাঁচ ধরনের কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়, যেমন- এটি আমাদের ইঞ্জিন সিলিন্ডারের মধ্যে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে, পিচ্ছিলতা তৈরি করে, ইঞ্জিন অয়েলটা যখন ইঞ্জিনের মধ্যে সচল হয় তখন এর এখানে যে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হয় সেটি থেকে তাপ কমাতে সাহায্য করে, ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং ডিটারজেন্ট বা পরিষ্কারকারক/ফ্লাশিং এজেন্ট হিসেবে ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহৃত হয়।
পেট্রল ইঞ্জিনে সর্বোচ্চ ১৬০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা উৎপন্ন হয়, এ ছাড়া ডিজেল ইঞ্জিনকে যেহেতু হাইপ্রেসার ইঞ্জিন বলে, এখানে ৩২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত তাপমাত্রা উৎপন্ন হয়। ইঞ্জিনের এই তাপমাত্রা থেকে ইঞ্জিনের ক্ষতি যেন না হয় সে জন্য অবশ্যই ভালো মানের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা উচিত। এ ছাড়া এই ইঞ্জিনের তাপমাত্রা ও এখানে ঘর্ষণের ফলে যে ক্ষয় হয় এর ফলে কিছু কণা জমে, এই কণাগুলোই আসলে ইঞ্জিন অয়েলের ভেতরে চলার ফলে ইঞ্জিন অয়েলটাকে কালো দেখায় এবং এই ইঞ্জিন অয়েলের ময়লা পরিষ্কারের জন্য আবার ভালো মানের অয়েল ফিল্টার প্রয়োজন যেটা থেকে ইঞ্জিন অয়েলের জমাকৃত ময়লা ফিল্টারের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়। ইঞ্জিন যখন সচল থাকে তখন ইঞ্জিনের মধ্যে ইঞ্জিন অয়েল ঘুরতে থাকে এবং ইঞ্জিন যখন বন্ধ করা হয় তখন অয়েল চেম্বারে এসে অয়েল জমা হয়, ইঞ্জিন অয়েলের সাথে সাথে ইঞ্জিনের যে ময়লাগুলো থাকে সেগুলো নিচে এসে জমা হয়। ভালো অয়েল ফিল্টার সুন্দরভাবে ফিল্টারিং করে এ জন্য আমাদের উচিত অয়েল ফিল্টারের দিকে গুরুত্ব দেয়া। এ জন্য সবসময় ভালো মানের অয়েল ফিল্টার ব্যবহার করা উচিত। আরেকটি বিষয়; গাড়ি যখন স্টার্ট করা হয় এ জন্য ইঞ্জিন যাতে ভালোভাবে গরম হয় সে জন্য কিছুক্ষণ স্টার্ট করে রাখা। স্টার্ট করার পরপরই গাড়ি ‘রান’ করা উচিত নয়, কারণ গাড়ি স্টার্ট করার ফলে গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনে সবদিকে সঞ্চালন হওয়ার যথেষ্ট সময় পায়। আমাদের দেশে যেহেতু প্রচুর পরিমাণ বালু বাইরে, এ জন্য তিন হাজার কিলোমিটার আগে সে অনুযায়ী ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করে নেয়া তবে সিনথেটিক অয়েলের ক্ষেত্রে আপনি আরো কিলোমিটার বেশি চালাতে পারবেন