04/10/2020
💢 প্রতিরোধ ও প্রতিকার ০২
💊 কবুতরের গুরুতর ৪টি রোগের চিকিৎসাঃ
💥 চুনা বা সবুজ পায়খানা নিরাময়ঃ
১। দিনে ১/২ ঘন্টা কড়া রোদে দিন। বলতে হয় কবুতরের যে কোন অসুস্থতায় এটিই প্রথম পাওয়ার ফুল ট্রিটমেন্ট। রোদ বা তাপের বিকল্পে, প্রয়োজনে খাঁচার উপরে ৬০ পাওয়ারের একটি বাল্ব জ্বেলে দিন। তাপমাত্রা আধিক্যে, বাল্বটি মাঝা মাঝে অফ করে দিন।
২। অসুস্থ কালীন খাদ্যঃ * মাটি রেজা বা রেজা, বাজরা ও গ্রীট।
গম বা বড় খাদ্য না দেয়া উত্তম। এটি হজমে সমস্যা হতে পারে। খাদ্য যদি হজম হয়, তাহলে ৮ বা ১০ দানা করে দিনে ২ বার খাওয়াতে হবে, যদি তারা না খায়। হজমে সমস্যা হলে, রাইচ স্যালাইন ৫/৬ এম এল পরিমান দিনে ২ বার খাওয়াতে হবে।
৩। বমি হলে, ওমিডন ট্যাবলেট এর ৪ ভাগের ১ ভাগ পরিমান, দিনে ২ বার খাবার আধা ঘন্টা পূর্বে খাওয়াতে হবে।
[ অসুস্থকালীন, ভরাপেটে নতুন করে খাদ্য খাওয়ানো যাবে না। প্রয়েজনে উপসের ব্যবস্থা করাতে হবে।]
৪। সিপ্রোসিন ট্যাবলেট ( হিউম্যান) এর ১/৬ ভাগ পরিমান দিনে ২ বার খাওয়াতে হবে, ৫/৭ দিন। যদি কবুতর
বেশী দূর্বল থাকে বা কবুতরকে পূর্বে যদি কোন ওষুধ খাওয়ানো হয়ে থাকে, তবে ৮ ভাগের ১ ভাগ করে, দিনে ২ বার খাওয়াতে হবে, ৫ থেকে ৭ দিন।
[ চুনা বা সবুজ ড্রপিং হলে, দেরি না করে প্রথম ধাপেই সিপ্রোসিন খাওয়ানো। তাহলে কবুতর দ্রুতই সেরে ওঠে। ]
৫। কারমিনা সিরাপ ( হিউম্যান) ও স্যালাইন মিশ্রিত পানি এক বেলা খাওয়াতে হবে।
পরিমানঃ ২৫০ এম এল পানিতে, বোতলের মুখের এক ছিপি কারমিনা মেশাতে হবে আর স্যালাইন পরিমান মতো, ৫/৭ দিন।
🔹 খেয়ালে রাখুন, কবুতর যদি ৫/৭ দিন সিপ্রোসিন দেয়ার পরও ড্রপিং ঠিক না হয় বা দূর্বতল হয়ে পড়ে বা ওষুধ সেবন কালীন যে কোন সময় অতি দুর্বল হয়ে পড়ে তবে সিপ্রোসিন বন্ধ করে, শুধু রাইচ স্যালাইন খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি কারমিনা সিরাপের পানি ও রোদ্র চলবে।
🔸 ফার্মের অন্যান্য কবুতরের শরীরে যদি ভাইরাসটি সংক্রমন করেছে বলে মনে হয়, তবে প্রিতিরোধ মূলক অন্য সকল কবুতরকে ৮ ভাগের ১ ভাগ করে দিনে ২ বার সিপ্রোসিন খাওয়াতে হবে। বেবীকে ১০ ভাগের ১ ভাগ করে, দিনে ২ বার খাওয়াতে হবে। আর কারমিনা সবার জন্যই প্রযোজ্য এবং তাপমাত্রা ২৫-৩০ ডিগ্রীতে রাখতে হবে।
💥 সর্দী নিরাময়ঃ
১। দিনে ২ ঘন্টা করে রোদ্রে দিতে হবে। যা বাধ্যতা মূলক। না খেলে, অল্প পরিমান খাইয়ে দিতে হবে।
২। ছোট খাদ্য ও গ্রীট দিতে হবে। না খেলে অল্প পরিমান খাইয়ে দিতে হবে।
৩। ওরাডিন ট্যাবলেট ( হিউম্যান) -সর্দী রোধক-, ৪ ভাগের ১ ভাগ করে, দিনে ২ বার ৫/৭ দিন খাওয়াতে হবে। কখনো কখনো ট্যাবলেটের ২ ভাগের ১ ভাগও খাওয়ানো যেতে পারে।
৪। নিরাময়ে ধীরগতি হলে, ওরাডেক্সন ট্যাবলেট ( হিউম্যান)- এলার্জী রোধক, ৪ ভাগের ১ ভাগ করে, দিনে ২ বার ৫/৭ দিন, খাওয়াতে হবে।
৫। কাশি বা হাফানী থাকলে , কনটিন ২০০ এম জি ট্যাবলেটের ( হিউম্যান) ৪ ভাগের ১ ভাগ করে দিনে ২ বার ৩/৫ দিন, খাওয়াতে হবে।
বি.দ্র. কন্টিন দিলে, ওরাডেক্সন না দেয়া উত্তম।
৬। কারমিনা সিরাপের ( হিউম্যান) পানি দিতে হবে। পরিমানঃ ২৫০ এম এল পানিতে, বোতলের মুখের এক ছিপি কারমিনা মেশাতে হবে আর স্যালাইন পরিমান মতো, ৫/৭ দিন। না খেলে, সিরিঞ্জ দিয়ে ৫/৬ এম এল খাইয়ে দিতে হবে।
💥 ফাঁঙ্গাস নিরাময়ঃ
১। দিনে ২ ঘন্টা করে রোদ্রে দিতে হবে। যা বাধ্যতা মূলক। না খেলে, অল্প পরিমান খাইয়ে দিতে হবে।
২। ছোট খাদ্য ও গ্রীট দিতে হবে। না খেলে অল্প পরিমান খাইয়ে দিতে হবে।
৩। Fluconal 50 ( Fluconazole BP) ট্যাবলেট (হিউম্যান)-ঘা শুকানোতেঃ ৪ ভাগের ১ ভাগ করে দিনে ২ বার ৫/৭ দিন খাওয়াতে হবে।
৪। নিরাময়ে ধীরগতিতে, ওরাডেক্সন ট্যাবলেট ( এলার্জী রোধক), ৪ ভাগের ১ ভাগ করে, দিনে ২ বার, ৫/৭ দিন খাওয়াতে হবে। (হিউম্যান)
৫। কারমিনা ( হামদর্দ- হিউম্যান ) সিরাপের পানি দিতে হবে।
পরিমানঃ ২৫০ এম এল পানিতে, বোতলের মুখের এক ছিপি কারমিনা মেশাতে হবে আর স্যালাইন পরিমান মতো, ৫/৭ দিন। না খেলে, সিরিঞ্জ দিয়ে ৫/৬ এম এল খাইয়ে দিতে হবে।
💥 চোখ উঠা নিরাময়ঃ
১। দিনে ২ ঘন্টা করে রোদ্রে দিতে হবে। যা বাধ্যতা মূলক। না খেলে, অল্প পরিমান খাইয়ে দিতে হবে।
২। ছোট খাদ্য ও গ্রীট দিতে হবে। না খেলে অল্প পরিমান খাইয়ে দিতে হবে।
৩। ব্যাকটিন ডি আই ড্রপ বা মোক্সিব্যাক আই ড্রপ ( হিউম্যান) চোখে ব্যবহার করা যেতে পারে। দু'চোখে দু'ফোটা করে দিনে ৩/৪ বার, ৫/৭ দিন।
৪। পেনভিক ট্যাবলেট ( হিউম্যান, এন্টিবায়োটিক), ৪ ভাগের ১ ভাগ করে দিনে ২ বার ৫/৭ দিন, খাওয়াতে হবে।
৫। নিরাময়ে ধীরগতিতে একই সাথে, ওরাডেক্সন ট্যাবলেট ( হিউম্যান- এলার্জী রোধক), ৪ ভাগের ১ ভাগ করে, দিনে ২ বার, ৫/৭ দিন খাওয়াতে হবে।
৬। কারমিনা সিরাপের পানি দিতে হবে। পরিমানঃ ২৫০ এম এল পানিতে, বোতলের মুখের এক ছিপি কারমিনা মেশাতে হবে আর স্যালাইন পরিমান মতো, ৫/৭ দিন। না খেলে, সিরিঞ্জ দিয়ে ৫/৬ এম এল খাইয়ে দিতে হবে।
⚡ সতর্কতাঃ
🔹 অসুস্থ কালীন কবুতরগুলিকে সাধ্য মতো আলাদা করে ফেলুন।
🔸 পরিচর্যার হাতে সুস্থ কবুতরগুলির কাছে না যাওয়া উত্তম।
🔹 এ সময়ে কোন ভাবেই ওভার লোডিং খাদ্য খাওয়ানো যাবে না এবং বড় দানার খাদ্য না দেয়া উত্তম। পাকস্থলীর দূর্বলতায়, বড় দানার খাদ্যে হজমে সমস্যা হতে পারে। তাই ছোট দানার খাদ্য দিন। যেমন- মাটি রেজা বা রেজা, বাজরা বিকল্পে ৫/৭ দানা গম এবং গ্রিট।
🔸 বিচলিত হয়ে, নানান ফর্মূলার ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। মনে রাখবেন একই অসুস্থতায় নানান কম্পানীর, নানা ধরণের ওষুধের নাম থাকে কিন্তু কার্যকারীতা একটাই। তখন নানান জনের ওষুধ খাওয়ালে, ওভার ডোজ হয়ে কবুতরের জীবন নাশের শংকা থাকে।
❓প্রশ্ন, গ্রিট হজম হয়না। তবে বাস্তবতায় আমি তা পাইনি। গ্রিট খাওয়ানোর ১৫/২০ মিনিট পর ড্রপিং এর পজিটিভ পরিবর্তন হতে দেখেছি।
❓ সিপ্রোসিন নিয়ে একটি আলোচনা, না করলেই নয়। সিপ্রোসিন খাওয়ালে কবুতরের টাল রোগ হয়, এমন অভিযোগ অনেকে দেয়। তবে ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। আপনার ভুল প্রয়োগে কবুতর টাল হলে, সেটি ওষুধের দোষ নয় বরং সে দোষটি ওষুধ প্রয়োগকারীর।
মনে রাখা জরুরী, কবুতরকে যদি জাস্ট পূর্বেই কোন এ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয় বা কবুতরের শারিরীক অবস্থা খুব দুর্বল থাকে, তবে সেই ক্ষেত্রে ঐ কবুতরকে সিপ্রোসিনের মাত্রা কমিয়ে দিতে হবে। পূর্বের যে স্বাভাবিক পরিমান সেটি দেয়া যাবে না।
❓ সিপ্রোসিন খাওয়ালে পরবর্তীতে কবুতর ডিম বাচ্চা করে না। এই ধারণাটিও ভুল।
মনে রাখতে হবে, যে কোন এ্যান্টিবায়োটিক বা হাই পাওয়ারের এ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়ালে, প্রাণীর দেহে যে সব পজিটিভ ব্যাকট্রিয়া থাকে, তারা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাদেরকে সতেজ করার জন্য অসুস্থতার সেরে যাওয়ার পরপরই রিকভারী দেয়ার জন্য ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও ক্যালসিয়াম খাওয়ানো জরুরী। যেটি খাওয়ালে প্রাণী পূর্বের ফিটনেস ফিরে পায়।
🔹 ভি প্লেক্স ট্যাবলেট ( হিউম্যান)ঃ একদিন পর একদিন, দিনে ১ বার, ১ টি করে সরাসরি খাওয়াতে হবে, ৪/৫ দিন।
🔸 এরিস্টো ক্যাল ডি ( ক্যাল + ডি, হিউম্যান )ঃ একদিন পর একদিন, অর্ধেক করে দিনে ১ বার, সরাসরি খাওয়াতে হবে, ৪/৫ দিন।
👌 সিপ্রোসিনের ব্যবহার বিধিটা আমাকে সরকারী এক পশু ডাক্তার দিয়েছিলেন। সেই থেকেই আমি এটিকে মহৌষধের মত ব্যবহার করে আসছি। এটিতে যেন হাজারো রোগের নিরাময় হয়, আমার এমনই আস্থা। অবশ্যই আল্লাহ সকল সমস্যা সমাধানের মালিক। তিনিই সবই ভাল বুঝেন এবং সমাধান দিয়ে থাকেন, আমিন।
❓ অনেকে দেখি আমার প্রেসক্রাইবে, প্রশ্ন রাখেন সব ই যে হিউম্যান, ভ্যাটেরনারী নাই কেন?
🔸 এখানে আমি যা পেয়েছি, হিউম্যান মেডিসিন ব্যবহার বিধিটা যদি সঠিক হয়, তবে তা দ্রুত কাজ করে, অন্যদিকে ভ্যাটেরিনারিতে করে না।
আবার হিউম্যান ওষুধটা কবুতর পালকের হাতের নাগালে থাকে, যা ভ্যাটপরিনারি ওষুধটা হাতের নাগালে পাওয়া যায় না। এমনকি কোন কোন এলাকায়তো এ ওষুধের কোন দোকানই নাই। তো নানা কারণে আমি হিউম্যান ওষুধটাকে সাজেস্ট করি।
মনে রাখবেন, আমি ভ্যাটেরিনারী বা হিউম্যান প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কোন পাশি ডাক্তার না। নিজের কবুতরের সমস্যাগুলি নিরাময়ে যে বিষয়গুলি অভিজ্ঞতার আলোকে শিখেছি, সে তথ্যগুলি সেয়ার করলাম সবার জন্য। এখানে ভিন্ন মত থাকতেই পারে। আমি যেটি করি ঐটিই পেশ করলাম। ধন্যবাদ সবাইকে।
🚸🚸🚸 🚸🚸🚸 🚸🚸🚸 🚸🚸🚸
[ আমার নয়, আপনার প্রয়োজনেই আপনি পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন। আপনিও উপকৃত হবেন, পাশাপাশি আপনার সেয়ারিং এর দ্বারা অন্যরাও উপকৃত হতে পারে।