11/03/2024
তোহমতঃ
"তোহমত" কত বড় যে ঘৃণিত একটা পাপের কাজ তাহা অনেকেই জানে না, আবার যারা জানে তারা মানে না! আর যারা মানে তারাই ভয়াভহ আজাব থেকে বেঁচে যাবে। গিবতের গুনাহ থেকেও মারাত্নক গুনাহ হলো তোহমত!!
রাসুল সঃ বলেন, গিবত জিনাহ থেকে মারাত্মক গুনাহ, সাহাবা রাঃ জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ সঃ যদি লোকটা সত্যি সত্যি কাজটা করে থাকে তাহলেও কি গিবত হবে? রাসুল সঃ বললে যদি সে সত্যি কোনো গুনাহর কাজ করে থাকে, আর তার পিছে তার ঐ দোষের কথা চর্চা করে তবে সেটাই হলো গিবত, কিন্তু যেই দোষের কথা চর্চা করা হয়েছে লোকটা যদি ঐ দোষটা করে না থাকে বা এমন কোনো দোষ তার উপর দেওয়া হচ্ছে বাস্তবে সেটা ঐ ব্যক্তি মধ্যে নাই, তবে সেটাই হবে তোহমত।
তোহমত এর শাস্তি কি? রাসুল সঃ বলেন হাসরের ময়দানে তোহমত কারিকে উঠানো হবে এবং যার বিরুদ্ধে তোহমত দেওয়া হয়েছিল তাকে তার সামনে হাজির করা হবে, আল্লাহ পাক তোহমতকারিকে বলবে তুমি যে তার বিরুদ্ধে এই এই অপবাদগুলা রটাইতা তাহা প্রমান করো, যখন সে প্রমান করতে পারবে না তখন জাহান্নামিদের শাস্তি দানের কারনে তাদের গলিত গরম রক্ত পুঁজের কুপের মধ্যে তোহমত কারিকে ডুবিয়ে রাখা হবে! এবং বলা হবে তুমি এই তোহমতের প্রমান দিয়ে তারপর সেখান থেকে বের হয়ে আসো!
তোহমত গিবত থেকেও ভয়াভহ কেনো? কারন হলো গীবতের গুনাহ হলো আপনার গুনাহ গুলা যার বিরুদ্ধে গীবত করেছেন তার কাছে চলে যাবে আর তার গুনাহ গুলা আপনার কান্দের উপর পরবে, রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছে গীবত নেকিকে এমন ভাবে ধ্বংস করে দেয় যেমন মাথায় খুর ( ব্লেড) চালালে মাথার চুল সব ঝরে যায়, ঠিক তেমনই নেকি তার থেকে এই ভাবে ঝরে যায়, তবে যার বিরুদ্ধে গিবত করা হয়েছে তার কাছে যদি দোষ স্বীকার করে মাপ চায় আর ঐ ব্যক্তি যদি মাপ করে দেয় তাহলে মাপ হয়ে যাবে, এছারা গিবতের গুনাহ আল্লাহ পাকও মাপ করেন না, এইটা যার গিবত করা হয়েছে তারই হক্ব।।
রাসুলুল্লাহ (সঃ) গিবতকে জিনাহ থেকেও মারাত্নক কেনো বলেছেন? কারন হলো জিনাহ করে কেও যদি আল্লাহর কাছে তৌবা করে ( কোরআনে জিনাহর তৌবা যে ভাবে বলেছে সেভাবে যদি তৌবা করে) তো আল্লাহপাক মাপ করে দিবেন, তৌবার কারনে সে জান্নাতিও হয়ে গেলো, কিন্তু গিবত তো যার করেছে তার কাছেই মাপ চাইতে হবে, আল্লাহর কাছে মাপ চালেও কোনো কাজ হবে না, এখন সে যদি আমেরিকা থাকে তো মৃত্তুর আগে আমেরিকা গিয়ে হলেও তার কাছে মাপ চাইতে হবে, এই জন্যই হাদিসে বলা হয়েছে গিবত জিনাহ থেকেও মারাত্নক গুনাহ!!
গীবতের গুনাহ থেকেও তোহমতকে মারাত্মক গুনাহ এই জন্য বলা হয়েছে যে, হয়ত গিবতের পর তার কাছে কিছু আমল বাকি থাকার কারনে বা আল্লাহপাক রহম করে দয়াকরে জান্নাতে দিয়ে দিতে পারেন, কিন্ত আপনি যদি কারো গিবত না করে থাকেন তো আপার অঢেল নেকি থাকার পরও আপনি যার বিরুদ্ধে তোহমত দিয়েছেন হাসরের ময়দানে সেটা প্রমান করতে না পারলে আপনাকে উত্তাক্ত গরম রক্ত পুঁজের কুপে চুবিয়ে রাখা হবে, রক্ত পুঁজ তো এমনিতেই দুর্গন্ধ, তার উপর টগবগে গরম!! তো আপনার এতো হজ্ব রোজা নামাজ কিছুই কাজে আসতেছে না শুধু মাত্র তোহমত লাগানোর কারনে, এই জন্যই বলা হয়- তোহমত গিবত থেকরও মারাত্মক গুনাহ!!
আজকাল দেখা যায় কোনো ব্যক্তির সাথে আমার ধন্দ থাকার কারনে বা আমার সাথে মতানৈক্য না হওয়ার কারনে তার বিরুদ্ধে এমন সব কথা রটিয়ে দেই যা কোনো দিনই সেই ব্যক্তি করতে পারে না, অথবা বলেদেই যে, সে অমুক থেকে এত এত টাকা খাইছে, বা সে অমুক নিষিদ্ধ ব্যক্তি বা দেশের সাথে সম্পর্ক রাখে, ইত্যাদি ইত্যাদি, এগুলা যদি সত্য হয় তো গিবত হবে, আর যদি মিথ্যা হয় তো তোহমত হবে।
আর যদি ওজুহাত দেখিয়ে আল্লাহতালাকে বলি যে, আমি এইরকম শুনেছি, তো সেটার শাস্তি আরো ভয়াভহ হবে, কারন কোআনে আল্লাহপাক বলেছেন "আন্দাজে কথা বলার উপর লা'নত" আর হাদিসে আছে মানুষ মিথ্যাবাদি হওয়ার এইটুকুই যথেষ্ট যে, সে শুনা কথা যাছাই না করিয়াই তাহা প্রচার করে থাকে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে গীবত, তোহমত থেকে বাঁচার তৌফিক দান করুন,