18/05/2026
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি অভিনেত্রী হলেন শাবানা এবং ববিতা। ♥️
সত্তর ও আশির দশকে (এমনকি নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধেও) তাঁরা ঢাকাই সিনেমাকে নিজেদের অভিনয়, গ্ল্যামার এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে শাসন করেছেন। দুজনেই নিজ নিজ জায়গায় অনন্য এবং তাঁদের কাজের ধারাও ছিল বেশ আলাদা।😊
শাবানা ছিলেন ঢালিউডের "মেলোড্রামা" বা পারিবারিক আবেগ-অনুভূতির সিনেমার অবিসংবাদিত সম্রাজ্ঞী। বাঙালি গৃহবধূ, মা, বা আত্মত্যাগী বোনের চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শককে কাঁদাতে বাধ্য করত।❤️
আসল নাম: আফরোজা সুলতানা রত্না।👍
ক্যারিয়ারের শুরু: ১৯৬২ সালে 'নতুন সুর' চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর অভিষেক। তবে নায়িকা হিসেবে তাঁর প্রথম সিনেমা ১৯৬৭ সালের সুপারহিট 'চকোরী' (উর্দু সিনেমা), যেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন নাদিম।🥰
চিত্রনায়ক আলমগীরের সাথে তাঁর জুটি ছিল বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সফল এবং দীর্ঘস্থায়ী। এছাড়া জসিম, রাজ্জাক এবং নাদিমের সাথেও তিনি বহু সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন।😊
ভাত দে', 'ছুটির ঘণ্টা', 'অবুঝ মন', 'রজনীগন্ধা', 'দোষী', 'অনিল বাগচীর একদিন', 'রাঙা ভাবী', ইত্যাদি ❤️
তিনি রেকর্ডসংখ্যক ১০ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী) লাভ করেছেন। ২০১৭ সালে তাঁকে 'আজীবন সম্মাননা' দেওয়া হয়।🥰
শাবানা মূলত সামাজিক ও পারিবারিক ড্রামায় অসাধারণ ছিলেন। তাঁর কান্নার দৃশ্য এবং আবেগঘন সংলাপ ডেলিভারি ছিল নিখুঁত, যা তৎকালীন মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ দর্শকদের মাঝে বিপুল জনপ্রিয় ছিল। ১৯৯৭ সালে তিনি হঠাৎ করেই চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নেন এবং বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।🎀
ববিতা ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে স্টাইলিশ, গ্ল্যামারাস এবং আধুনিক ঘরানার অভিনেত্রী। গ্রামীণ চঞ্চলা কিশোরী থেকে শুরু করে শহুরে আধুনিক তরুণী—সব চরিত্রেই তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।😊
আসল নাম: ফরিদা আক্তার পপি। (তিনি অভিনেত্রী সুচন্দার ছোট বোন এবং চম্পার বড় বোন)।🎀
ক্যারিয়ারের শুরু: ১৯৬৮ সালে জহির রায়হানের 'সংসার' চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে আসেন। নায়িকা হিসেবে তাঁর প্রথম বড় ব্রেক ১৯৬৯ সালের 'শেষ পর্যন্ত' সিনেমাটি।😊
বিশ্বখ্যাত বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের 'অশনি সংকেত' (১৯৭৩) চলচ্চিত্রে 'অন*ঙ্গ বউ' চরিত্রে অভিনয় করে ববিতা আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। এই সিনেমাটি বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গোল্ডেন বেয়ার পুরস্কার জিতেছিল।😊
চিত্রনায়ক রাজ্জাকের সাথে তাঁর জুটি ছিল অত্যন্ত রোমান্টিক এবং জনপ্রিয়। এছাড়া ফারুক, জাফর ইকবাল এবং ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথেও তাঁর দারুণ রসায়ন ছিল।❤️
অশনি সংকেত', 'ডুমুরের ফুল', 'নয়নমনি', 'বসুন্ধরা', 'গোলাপী এখন ট্রেনে', 'পদ্মা মেঘনা যমুনা', 'অনন্ত প্রেম' (জাফর ইকবালের সাথে রোমান্টিক সিনেমা)।🥀
তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী ও প্রযোজক হিসেবে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এবং ২০১৬ সালে 'আজীবন সম্মাননা' লাভ করেন।🥰
ববিতা ছিলেন ভীষণ স্বতঃস্ফূর্ত। গম্ভীর বা সাহিত্যিক ঘরানার সিনেমা থেকে শুরু করে কমার্শিয়াল অ্যাকশন-রোমান্টিক সিনেমা—সবখানেই তিনি মানিয়ে যেতেন। তাঁর ফ্যাশন সেন্স এবং হেয়ারস্টাইল তৎকালীন তরুণীদের আইকন ছিল।🎀