26/06/2026
পবিত্র আশুরা তথা ১০ই মহরমের আত্মত্যাগের কথা
পবিত্র আশুরা, অর্থাৎ ১০ই মহরম, ইসলামের ইতিহাসে সত্য, ন্যায়, ঈমান ও আত্মত্যাগের এক অনন্য স্মারক। এই দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রিয় দৌহিত্র, জান্নাতি যুবকদের নেতা হযরত ইমাম হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)-এর শাহাদাতের কারণে।
কারবালার প্রান্তরে তিনি এমন এক অবস্থার সম্মুখীন হন, যেখানে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা কিংবা সত্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করার মধ্যে একটি পথ বেছে নিতে হতো। তিনি অন্যায়, জুলুম ও অবিচারের কাছে আপস করেননি। কারণ তাঁর কাছে ইসলামের আদর্শ, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা ছিল জীবন থেকেও মূল্যবান।
হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) জানতেন যে, এই পথে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের শাহাদাত বরণ করতে হতে পারে। তবুও তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি উম্মাহর সংস্কার এবং তাঁর নানাজান রাসূলুল্লাহ (স.)-এর আদর্শকে জীবিত রাখার জন্যই বের হয়েছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ ছিল ক্ষমতা বা পার্থিব স্বার্থের জন্য নয়; বরং ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।
কারবালায় তিনি ও তাঁর অল্পসংখ্যক সঙ্গীরা দীর্ঘ সময় পানিবঞ্চিত অবস্থায় থেকেও ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসা হারাননি। অবশেষে ১০ই মহরম তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে, সত্যের পথে অবিচল থাকা একজন মুমিনের সর্বোচ্চ মর্যাদা।
হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ)-এর জীবন ছিল রাসূলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আনুগত্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি নিজের জীবন, পরিবার এবং সবকিছু কোরবান করে দেখিয়েছেন যে, রাসূল (স.)-এর শিক্ষা ও ইসলামের আদর্শ রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করাও একজন মুমিনের জন্য গৌরবের বিষয়।
কারবালার শিক্ষা আজও আমাদের আহ্বান জানায়—
সত্যের ওপর অবিচল থাকতে।
অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে।
ধৈর্য, তাকওয়া ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে।
রাসূলুল্লাহ (স.) এর পরেম হৃদয়ে ধারণ করে ও তার আদর্শকে জীবনের সর্বোচ্চ মর্যাদা দিতে।
আল্লাহ তাআলা হযরত ইমাম হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু), আহলে বাইত এবং কারবালার সকল শহীদের প্রতি তাঁর অশেষ রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের শিক্ষা আমাদের জীবনে বাস্তবায়নের তাওফীক দান করুন। আমীন।