Face Of Media - ফেস অফ মিডিয়া

Face Of Media - ফেস অফ মিডিয়া Face of Media – ফেস অফ মিডিয়া
সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদের একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম।
📰 News | 🔍 Analysis | ❤️ Social Service
📍 মানুষের পাশে, সত্যের পথে।

১৫ আগস্ট—জাতীয় শোক দিবস।১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শাহাদাতবরণকারী সদস্যদে...
14/08/2026

১৫ আগস্ট—জাতীয় শোক দিবস।

১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শাহাদাতবরণকারী সদস্যদের স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা ও শোকে।

তাঁদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায়।
শ্রদ্ধা তাঁদের প্রতি, যাঁরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

গভীর শ্রদ্ধা ও শোক।

#১৫আগস্ট #জাতীয়শোকদিবস #বঙ্গবন্ধু #শ্রদ্ধাঞ্জলি

Power Crisis: দেশ কি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার মূল্য দিচ্ছে?দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ। শিল্পক...
03/08/2026

Power Crisis: দেশ কি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার মূল্য দিচ্ছে?

দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ। শিল্পকারখানা, কৃষি, পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য—সবকিছুর প্রাণশক্তি হলো নিরবচ্ছিন্ন তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ।

কিন্তু আজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে যে ভোগান্তির অভিযোগ দেখা যাচ্ছে, তা শুধু একটি সেবার সংকট নয়—এটি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি আঘাত।

মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে রান্না করতে পারছে না—চুলায় গ্যাস নেই। কোথাও জ্বালানি সংগ্রহে ভোগান্তি, কোথাও বিদ্যুতের ঘাটতিতে উৎপাদন ব্যাহত। শিল্পকারখানা ক্ষতির মুখে, ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায়, পরিবহন ব্যবস্থা চাপে। শেষ পর্যন্ত এর পুরো বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

একটি দায়িত্বশীল সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত নাগরিকের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু কার্যকর পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির অভিযোগ যত বাড়ছে, ততই মানুষের প্রশ্নও বাড়ছে—এই সংকট কি শুধুই অদক্ষতা, নাকি কৃত্রিম সংকট ও ভুল নীতির ফল?

আজকের জনদাবী আগামীকালের জন বিস্ফোরণ —

❖ আজ শুধু জানতে চাই কেন এই সংকট ?
❖ জনগণ আর কতদিন এই দুর্ভোগ সহ্য করবে?
❖ স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা কোথায়?
❖ জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ব্যয় করে কেন এখনো নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি?

রাষ্ট্র পরিচালনার সফলতা বক্তৃতায় নয়, মানুষের ঘরে গ্যাসের চুলা জ্বলছে কি না, কারখানার মেশিন চলছে কি না, কৃষক সেচ পাচ্ছেন কি না এবং ব্যবসা সচল আছে কি না—সেখানেই তার প্রকৃত মূল্যায়ন হয়।

দেশের মানুষ অজুহাত নয়, ফলাফল চায়। প্রতিশ্রুতি নয়, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ এবং নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ চায়। কারণ জ্বালানি থেমে গেলে অর্থনীতি থেমে যায়, আর অর্থনীতি থেমে গেলে থেমে গেলে হাজার ও জীবন হাজার ও স্বপ্ন থেকে যায়।

- হাবিবুর রহমান।

সার্জিও গর আসছেন— জবাব নিতে ?জুলাই-২৪-এর পর বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি অনেকাংশে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির প্রভ...
23/07/2026

সার্জিও গর আসছেন— জবাব নিতে ?

জুলাই-২৪-এর পর বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি অনেকাংশে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির প্রভাবের মধ্যে চলে এসেছে। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে বিদেশি শক্তিগুলোর প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১২,৫০০ কিলোমিটার দূরে বসেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করছে। সেই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তারা মূলত দুটি উপায়ে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অনুসরণ করে থাকে।
১. স্থানীয় অংশীদার বা এজেন্সির মাধ্যমে:
বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট নীতিগত বা প্রকল্পভিত্তিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে।

২. বিশেষ দূত বা উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি:
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নীতিনির্ধারণী বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ প্রতিনিধি বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফরে পাঠান। এসব সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিয়ে শুর করে, চলমান প্রকল্প, নীতি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রন, চাপ প্রয়োগ, জবাবদিহীতা, কৌশলগত অংশগ্রহণের নিশ্চিয়তা ও অন্য বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে সংঘটিত বৈঠকের আলোচনা, ফলাফল ও জবাবদিহীতা নিয়ে থাকে।

আমার বিশ্লেষণে, বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক
চীন সফরের সিদ্ধান্ত, আলোচনা জ বিশেষ করে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক সমঝোতার অগ্রগতি, আঞ্চলিক কৌশলগত পরিস্থিতি,ও চুক্তির শর্তগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়াই সার্জিও গরের আসন্ন সফরও মৃল উদ্দেশ্য।

এখন দেখার বিষয়, এই সফরে জন্য বাংলাদেশ কোন পর্যায়ের জবাবদিহিতা করতে প্রস্তুত?

— হাবিবুর রহমান

কুইক রেন্টালের ইতিহাস কি আবার ফিরে আসছে?জি জনাব, এমন চিন্তা থেকেই একসময় বিদ্যুৎ খাতে কুইক রেন্টাল ব্যবস্থা চালু হয়েছিল...
23/07/2026

কুইক রেন্টালের ইতিহাস কি আবার ফিরে আসছে?

জি জনাব, এমন চিন্তা থেকেই একসময় বিদ্যুৎ খাতে কুইক রেন্টাল ব্যবস্থা চালু হয়েছিল।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও দীর্ঘ লোডশেডিং মোকাবিলার যুক্তিতে বেসরকারি খাত থেকে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নেওয়ার নীতি গ্রহণ করে। স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগই পরে কুইক রেন্টাল নামে পরিচিতি পায়।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নীতির আড়ালে বিদ্যুৎ খাতের বড় অংশের দায়িত্ব কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যায়। সামিট গ্রুপ, ওরিয়েন্টাল গ্রুপসহ কিছু প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে বড় বড় চুক্তি পেতে থাকে। সমালোচকদের অভিযোগ, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণেই এই প্রভাব তৈরি হয়।

এরপর শুরু হয় ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে বিতর্ক। বিদ্যুৎ উৎপাদন হোক বা না হোক, চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্রগুলোর মালিকদের নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে।

বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ১৪ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বলা হয়, বিপিডিবির পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রির প্রতি ইউনিট মূল্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এই খাতে ব্যয় হয়েছে। আবার বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ভর্তুকির বড় অংশই ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধে ব্যবহৃত হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় পর্যায়ের পর্যালোচনায়ও দাবি করা হয়েছে যে, বিগত সরকারের সময় করা কিছু ত্রুটিপূর্ণ চুক্তির কারণে প্রতিবছর প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা) সমপরিমাণ আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য অনেকের কাছে সেই পুরোনো বিতর্কের স্মৃতি ফিরিয়ে দিচ্ছে। যে সরকার একসময় কুইক রেন্টাল ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছিল, তাদের নীতিগত অবস্থান এখন নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

প্রশ্ন একটাই— আমরা কি আবার একই পথে হাঁটছি?

হয়তো পার্থক্য শুধু একটি জায়গায়—

আগে ছিল সামিট গ্রুপ, এখন কি শুধু অন্য কোনো গ্রুপ?

— হাবিবুর রহমান

সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস: কী বার্তা দিচ্ছে এই আয়োজন?যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ৪ জুলাই তার স্বাধীনতা দিবস উদযা...
09/07/2026

সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস: কী বার্তা দিচ্ছে এই আয়োজন?
যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ৪ জুলাই তার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই মার্কিন দূতাবাস এ উপলক্ষে সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা কূটনৈতিক সমাবেশের আয়োজন করে থাকে। এটি একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক রীতি। কিন্তু বাংলাদেশের এবারের আয়োজন সেই প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদের ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রশ্ন হলো—কেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজন? কেন সংসদ প্রাঙ্গণ? কেন এবার?
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি মৌলিক সত্য হলো—রাষ্ট্রগুলো প্রতীক (Symbolism) ব্যবহার করে রাজনৈতিক বার্তা দেয়। কূটনীতিতে কোনো স্থানই নিরপেক্ষ নয়। একটি অনুষ্ঠান কোথায় হচ্ছে, কারা অংশ নিচ্ছেন এবং কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে—এসবই আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভাষা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে। কিন্তু সেসব অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন।
ইতিপূর্বে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠান হয়েছে, কারণ সেখানে ন্যাটোর সদর দপ্তর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক কেন্দ্র অবস্থিত। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটো জোটের প্রতীকী প্রদর্শন, এবং ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক সহযোগী।
দ্বিতীয়ত, জেরুজালেমে অনুষ্ঠান হয়েছে, কারণ ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র। যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা সহযোগিতা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি সেই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন আয়োজনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশ কি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিণত হচ্ছে? নাকি এটি শুধুই ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সৌজন্যমূলক একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন?
প্রশ্ন আরও আছে।
বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়া ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্র। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, সমুদ্র নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এমন একটি সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে এই আয়োজনকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা বলে ধরে নেওয়া কঠিন।
কিন্তু প্রশ্ন তোলা অবশ্যই নাগরিকের অধিকার।
কেন আগে কখনো এমন হলো না?
কেন এবার হলো?
এই আয়োজনের কূটনৈতিক বার্তা কী?
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি?
এসব প্রশ্নের উত্তর রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।
ইতিহাস বলে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আগে অনেক সময় প্রতীকী ঘটনাগুলোই প্রথম বার্তা বহন করে। আবার এমনও হয়েছে, বহু প্রতীকী অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য হিসেবেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। তাই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পর্যবেক্ষণ জরুরি, কিন্তু প্রশ্ন তোলা আরও জরুরি।
কারণ, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শুধু হাততালি দেওয়া নয়; রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের অর্থ ও উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করা। কারণ, ইতিহাসে অনেক বড় পরিবর্তনের শুরু হয়েছিল এমন কিছু ঘটনা দিয়ে, যেগুলোকে প্রথমে "স্রেফ একটি অনুষ্ঠান" বলেই মনে করা হয়েছিল।
আমেরিকার তৃতীয়তম এবং বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ নিয়ে আসছে।
— হাবিবুর রহমান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক

শায়ন ঝড়ে, চেতনা কাপেএকটি বহুল বিতর্কিত ও অশালীন শব্দ—CDI—যার ব্যবহার জুলাই ’২৪–এর পর থেকে দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। সমাজের বি...
04/07/2026

শায়ন ঝড়ে, চেতনা কাপে

একটি বহুল বিতর্কিত ও অশালীন শব্দ—CDI—যার ব্যবহার জুলাই ’২৪–এর পর থেকে দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে এই শব্দ ব্যবহার করেছে।

সেই ধারাবাহিকতায়, ১ জুলাই অভিনেত্রী Shayan জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে উদ্দেশ্য করে শব্দটির ব্যবহার করেন। এরপর থেকেই সমাজের রাজনৈতিক মহল, পেশাজীবী গোষ্ঠী ও তথাকথিত সুশীল সমাজের একাংশ এটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখাতে শুরু করেছে। এখানেই প্রশ্ন—সমস্যা কি শব্দে, নাকি ব্যক্তিতে?

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জাতীয় গণমাধ্যম—অতীতে বহুবার বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরকে উদ্দেশ্য করে শা/মা/CDI-সহ আরও নানা অশ্লীল শব্দ প্রকাশ্যে, নির্লজ্জভাবে উচ্চারিত হতে আমরা দেখেছি। তখন সমাজ বা রাষ্ট্রের বিবেক তেমন নড়েনি; প্রতিবাদ হয়নি, বিচারও হয়নি। উল্টো, এসব শব্দের প্রবর্তক বা ব্যবহারকারীরা রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে, এমনকি তাদের বক্তব্যকে পাঠ্য আলোচনার অংশ করার উদ্যোগও দেখা গেছে।

তাই স্পষ্ট—সমস্যা কেবল অশ্লীল শব্দে নয়; সমস্যা হলো কে বলছে, কাকে বলছে, এবং কোন রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বলছে।

আমরা যেমন শায়নের ব্যবহৃত অশ্লীল শব্দকে সমর্থন করতে পারি না, তেমনি ঘটনার পর তাকে ঘিরে যে সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, সেটিও অন্ধভাবে সমর্থন করা যায় না। ন্যায়বিচার যদি সত্যিই ন্যায়বিচার হয়, তবে তার মানদণ্ড সবার জন্য সমান হতে হবে।

তাই শায়নকে ঘৃণা নয়—ঘৃণা হোক অশ্লীল ভাষার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। থামাতে হলে ব্যক্তি নয়, থামাতে হবে সেই ভাষাচর্চার উৎসকে; প্রতিরোধ করতে হবে অশ্লীলতার প্রবক্তাদের। কারণ উৎস বন্ধ না হলে, একজন শায়ন থামলেও—হাজার শায়ন একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করবে।

মহব্বতহীন সমাজ: অপরাধের নীরব উৎপত্তিস্থলরাষ্ট্র থেকে সমাজ ব্যবস্থা, সমাজ থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সম্পর্ক—আর সম্পর্কগুলো...
24/06/2026

মহব্বতহীন সমাজ: অপরাধের নীরব উৎপত্তিস্থল

রাষ্ট্র থেকে সমাজ ব্যবস্থা, সমাজ থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সম্পর্ক—আর সম্পর্কগুলোর ভেতর থেকে ধীরে ধীরে মহব্বত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এই ক্ষয় একদিনে তৈরি হয়নি; এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের ফল। আজ আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে মানুষের বাহ্যিক উন্নতি যত বেড়েছে, অন্তর্গত মানবিকতা যেন তত সংকুচিত হয়েছে।
আজকের সমাজে সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের পেছনে শুধু ব্যক্তি-স্বার্থ বা অর্থনৈতিক কারণ নেই; গভীরে গেলে দেখা যায় সম্পর্কের ভাঙন, মূল্যবোধের পতন এবং মানবিকতার সংকট বড় ভূমিকা রাখছে। খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন—এসব অপরাধের সঙ্গে ক্রমশ পারিবারিক বা পরিচিত মানুষের সংশ্লিষ্টতা বাড়ছে। অপরাধী এখন আর দূরের কেউ নয়; অনেক ক্ষেত্রে সে পরিবারের ভেতরের মানুষ, আত্মীয়, প্রতিবেশী কিংবা ঘনিষ্ঠ পরিচিত।
সবচেয়ে ভয়াবহ বাস্তবতা হলো—যে পরিবার একসময় নিরাপত্তার আশ্রয় ছিল, সেটিই অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপত্তার কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। বাবা-মা দ্বারা সন্তান হত্যা, সন্তান দ্বারা বাবা-মাকে নির্যাতন বা হত্যা, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহিংসতা—এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি গভীর সামাজিক রোগের লক্ষণ।
একটি রাষ্ট্রের চরিত্র সমাজকে প্রভাবিত করে। যখন রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের সংকট দেখা দেয়, দুর্নীতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, ক্ষমতা জবাবদিহিহীন হয়ে পড়ে—তখন সমাজে নৈতিকতার ভিত্তিও দুর্বল হতে শুরু করে। মানুষ যখন দেখে অন্যায় করেও পার পাওয়া যায়, তখন অন্যায়ের প্রতি ভয় কমে যায়। আইনের শাসন দুর্বল হলে নৈতিক শাসনও দুর্বল হয়। কারণ রাষ্ট্র কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নয়; এটি একটি নৈতিক বার্তাও দেয়—কী গ্রহণযোগ্য, কী অগ্রহণযোগ্য।
এভাবেই অবক্ষয় রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সমাজের দিকে ধাবিত হয়। তারপর পরিবারে গিয়ে মিশে যায়।
পরিবার মানুষের প্রথম শিক্ষালয়। কিন্তু আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, অর্থনৈতিক চাপ, ডিজিটাল আসক্তি এবং পারস্পরিক দূরত্ব পরিবারকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দিচ্ছে। এক ছাদের নিচে থেকেও মানুষ মানসিকভাবে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। কথোপকথন কমছে, বোঝাপড়া কমছে, ধৈর্য কমছে। ভালোবাসার জায়গায় জায়গা নিচ্ছে বিরক্তি, সহমর্মিতার জায়গায় স্বার্থ, আর ত্যাগের জায়গায় হিসাব। এভাবেই এক একটি সম্পর্ক এক একটি লেনদেনে পরিণত হয় এবং মহব্বতগুলো ছিটকে পড়ে অজানা কোনো কোনায়।
নৈতিক শিক্ষার পতন: আজকের প্রজন্ম তথ্যসমৃদ্ধ, কিন্তু মূল্যবোধে দুর্বল—এ কথা পুরোপুরি সঠিক না হলেও অনেক ক্ষেত্রে সত্য। শিক্ষা ব্যবস্থা দক্ষতা শেখাচ্ছে, কিন্তু চরিত্র গঠন কতটা করছে—সেটা বড় প্রশ্ন।
নৈতিক শিক্ষা, আদব, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ—এসব চর্চা পরিবার ও সমাজ দুই জায়গাতেই কমে যাচ্ছে। ফলে মানুষ সফল হতে শিখছে, কিন্তু ভালো মানুষ হতে শিখছে না।
একজন প্রযুক্তিতে দক্ষ মানুষও নৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়ছে—এটাই বর্তমান সমাজের অন্যতম ট্র্যাজেডি।
আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অপরাধের প্রতি মানুষের সংবেদনশীলতা কমে যাওয়া। প্রতিদিন এত খুন, ধর্ষণ, নির্যাতনের খবর আসে যে অনেকেই যেন এতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। যখন সমাজ অপরাধে বিস্মিত হওয়া বন্ধ করে, তখন অপরাধ আরও সহজ হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও কখনো কখনো সহিংসতা, ঘৃণা এবং অপমানকে স্বাভাবিক করে তুলছে। ভাষার সহিংসতা অনেক সময় বাস্তব সহিংসতার পূর্বাভাস হয়ে দাঁড়ায়।
সম্পর্কের গভীরতা তথা মহব্বত হঠাৎ হারিয়ে যায় না; ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। যখন মানুষ মানুষকে ব্যবহার করতে শেখে, যখন সম্পর্ক বিশ্বাস হারায়, যখন স্বার্থ ভালোবাসাকে ছাপিয়ে যায়, যখন ক্ষমা ও সহনশীলতা কমে যায়, যখন ধর্ম, নৈতিকতা ও আত্মজিজ্ঞাসা দুর্বল হয়—তখন ভালোবাসা শুকিয়ে যায়, আবেগ ফুরিয়ে যায়। মহব্বত মানে শুধু আবেগ নয়; মহব্বত মানে দায়িত্ব, ত্যাগ, ধৈর্য এবং অপরের প্রতি আন্তরিক দায়বদ্ধতা।
এই অবক্ষয় থেকে বের হতে হলে কেবল আইন কঠোর করলেই হবে না। প্রয়োজন বহুমাত্রিক পরিবর্তন।
প্রথমত: রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত: পরিবারে সময়, সংলাপ ও আবেগীয় সংযোগ ফিরিয়ে আনতে হবে।
তৃতীয়ত: শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা শক্তিশালী করতে হবে।
চতুর্থত: ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল্যবোধ পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
পঞ্চমত: ব্যক্তি পর্যায়ে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির চর্চা বাড়াতে হবে।
আজ যে অপরাধগুলো আমরা দেখছি, সেগুলো কেবল আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতার গল্প নয়; এগুলো আমাদের সম্মিলিত নৈতিক পতনের প্রতিচ্ছবি। রাষ্ট্র যদি ন্যায় হারায়, সমাজ যদি মূল্যবোধ হারায়, পরিবার যদি ভালোবাসা হারায়—তবে সম্পর্কও টিকবে না। আর সম্পর্ক থেকে মহব্বত চলে গেলে মানুষ বাহ্যিকভাবে মানুষ থাকলেও ভেতরে ভেতরে নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। সভ্যতার প্রকৃত সংকট অর্থনৈতিক নয়; মানবিক।
তাই প্রশ্ন একটাই—আমরা কি এখনো সময় থাকতে মহব্বত, নৈতিকতা ও মানবিকতাকে ফিরিয়ে আনতে পারব, নাকি আরও ভয়ংকর এক নিষ্ঠুর সমাজের দিকে এগিয়ে যাব?

— হাবিবুর রহমান

"তুলা থেকে ট্র্যাপ: বাংলাদেশের হৃদপিণ্ডে হাত"বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে তথাকথিত “পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি” কর...
22/06/2026

"তুলা থেকে ট্র্যাপ: বাংলাদেশের হৃদপিণ্ডে হাত"

বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে তথাকথিত “পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি” করেছে, সেটিকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে প্রচার করছে। বলা হচ্ছে, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ সুবিধা পাবে। শুনতে বেশ আকর্ষণীয় লাগে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলে।
বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাপের মধ্যে আছে। রপ্তানি কমছে, অর্ডার কমছে, কারখানাগুলো কস্ট-প্রেশারে আছে। এর মাঝেই সরকার এমন একটি চুক্তি করেছে, যেখানে সুবিধার চেয়ে শর্তই বেশি; যেখানে সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে সীমিত কিছু রপ্তানি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে বলেছে—বাংলাদেশ শুধু সেইসব পোশাকই শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, যেগুলো মার্কিন তুলা বা মার্কিন উৎসের man-made fiber ব্যবহার করে তৈরি হবে। অর্থাৎ, এটি কোনো উন্মুক্ত duty-free access নয়; বরং conditional market access। বাংলাদেশের উৎপাদন স্বাধীনতা এখানে সরাসরি সীমাবদ্ধ।
Bangladesh Cotton Import Structure - MY2024-2025 সূত্রমতে, বাংলাদেশে ব্যবহৃত তুলার (বিশেষ করে গার্মেন্টস/স্পিনিং মিলের raw cotton) মাত্র ২–৩% চাহিদা দেশীয় উৎস থেকে মেটানো হয়। আর বাকি চাহিদার মধ্যে—আফ্রিকার দেশগুলো (মোট) থেকে ৪০–৪১% (প্রধান দেশ: বেনিন, ক্যামেরুন, বুরকিনা ফাসো, মালি), ব্রাজিল থেকে এককভাবে ২২–২৩%, ভারত থেকে ১৭–২০%, যুক্তরাষ্ট্র (USA) থেকে ৭–১০%, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৪–৬% এবং অন্যান্য দেশ যেমন পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, Ivory Coast থেকে ৫–১০% তুলা আমদানি করা হয়।
যদি আমেরিকার সাথে হওয়া চুক্তিতে US cotton বাধ্যতামূলক বা প্রাধান্যপ্রাপ্ত হয়, তাহলে একটা বড় বাস্তবতা হলো—বর্তমানে বাংলাদেশ মাত্র ~৭–১০% তুলা আমেরিকা থেকে নেয়। বাকি ৯০%+ আসে অন্য দেশ থেকে, কারণ সেগুলো সাধারণত সস্তা বা logistics-friendly।
এখন সরকারের চুক্তি অনুসারে US cotton-এর share হঠাৎ ৩০–৪০% করতে গেলে sourcing cost বাড়বে, সেই সাথে পণ্যের মূল্য বাড়বে।
সুতরাং, “সব পোশাক US cotton দিয়ে বানিয়ে সরকারের চুক্তি মোতাবেক duty-free export” সুবিধা আদায় করতে গেলে পণ্যের মূল্য যে পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার সাধ্য এদেশের ব্যবসায়ীদের থাকবে না।
সরল ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বলছে: “আমাদের কাঁচামাল কিনো, তাহলেই তোমার তৈরি পোশাকে ছাড় দেব।” যেটার বাস্তব ভিত্তি শূন্য। সুতরাং, এটা মুক্ত বাণিজ্য নয়; বরং supply-chain capture।
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, তার পেছনে একটি বড় শক্তি হলো sourcing flexibility—যেখানে উদ্যোক্তারা বিশ্ববাজার থেকে কম দামে, দ্রুত এবং প্রতিযোগিতামূলকভাবে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারেন। এই চুক্তি সেই স্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে। যদি কাঁচামাল sourcing রাজনৈতিক শর্তে আবদ্ধ হয়, তাহলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, lead time বাড়বে, এবং global competitiveness কমবে।
সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো—এটি একটি অসম চুক্তি।
বাংলাদেশ তার বাজার খুলে দিচ্ছে মার্কিন কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য, যন্ত্রপাতি, এমনকি প্রতিরক্ষা খাতের জন্যও। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে পূর্ণ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়নি; বরং সাধারণ ট্যারিফ ১৯% রেখেছে, আর সীমিত quota-ভিত্তিক কিছু পোশাকে শর্তসাপেক্ষ ছাড় দিয়েছে। অর্থাৎ—
বাংলাদেশের বাজার → যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যাপক উন্মুক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের বাজার → বাংলাদেশের জন্য সীমিত ও শর্তযুক্ত
একে কি reciprocal trade বলা যায়? নাকি এটাকে institutionalized dependency বলা বেশি সঠিক?
রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব, অর্থনৈতিক চাপ, কূটনৈতিক নির্ভরতা এবং বৈদেশিক স্বীকৃতির রাজনীতির মধ্যে সরকার এমন এক অবস্থানে গেছে, যেখানে দরকষাকষির সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। মুক্ত বাণিজ্যকে রাজনৈতিক negotiation-এর পণ্য বানিয়েছে।
সরকারের প্রচারণা বলছে “সুযোগ”।
শিল্পের বাস্তবতা বলছে “শর্ত”।
অর্থনীতির ভাষা বলছে “নির্ভরতা”।
এই চুক্তির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক সম্ভবত অর্থনৈতিক নয়, নীতিগত। একবার যদি বড় শক্তির supply-chain শর্তে রাষ্ট্র নতিস্বীকার করে, ভবিষ্যতে শুধু তুলা নয়—প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, এমনকি ভূরাজনৈতিক অবস্থানও দরকষাকষির অংশ হয়ে যেতে পারে।
আজ প্রশ্ন একটাই—
বাংলাদেশ এমন একটি অসম চুক্তিকে কেন তাদের সফলতা হিসেবে প্রচার করছে, যেখানে তারা সীমিত শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে নিজের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতাকে সমর্পণ করেছে?
ইতিহাস বলে, অসম চুক্তি কখনও কেবল বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেগুলো ধীরে ধীরে অর্থনীতি থেকে নীতিতে, নীতি থেকে সার্বভৌমত্বে প্রভাব ফেলে। শুল্কমুক্তির প্রচারণা দিয়ে হয়তো সাময়িক করতালি পাওয়া যায়; কিন্তু রাষ্ট্রের স্বাধীন অর্থনৈতিক অবস্থান একবার ক্ষয়ে গেলে সেই মূল্য বহু প্রজন্মকে দিতে হয়, দিতে হবে।

— হাবিবুর রহমান।

৬ এ ক্ষয়, ৬০০ তে সয়: বিচার নাকি রাজনীতি??শিশু রামিশার মর্মান্তিক ঘটনার পর রাষ্ট্রকে তার সর্বোচ্চ সক্ষমতার পরিচয় দিতে দেখ...
22/06/2026

৬ এ ক্ষয়, ৬০০ তে সয়: বিচার নাকি রাজনীতি??

শিশু রামিশার মর্মান্তিক ঘটনার পর রাষ্ট্রকে তার সর্বোচ্চ সক্ষমতার পরিচয় দিতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা—সবকিছুই ছিল দৃশ্যমান। এটি অবশ্যই একটি দায়িত্বশীল ও মানবিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশিত আচরণ।

একইভাবে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায়ও রাষ্ট্রকে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। তদন্ত হচ্ছে, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এটিও প্রশংসনীয়।

কিন্তু অপরদিকে, ৬০০-এর বেশি শিশু মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ, এমনকি নিন্দনীয় বলেও প্রতীয়মান হয়। যাদের অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা কিংবা দায়িত্বহীনতার কারণে এতগুলো নিষ্পাপ শিশুর জীবন ঝরে গেল, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কোনো দৃশ্যমান তদন্ত করেনি, কোনো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেনি, বিচারের কার্যকর উদ্যোগও নেয়নি। এমনকি ব্যাক্তি না গোষ্ঠীর পর্যায় থেকে বিভিন্ন সময়ে মামলার আবেদন করলে রাষ্ট্র তা খারিজ করে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা, রাষ্ট্রীয় শোক, আনুষ্ঠানিক বিবৃতি কিংবা বিচারের সুস্পষ্ট আশ্বাসও দেখা যায়নি।

প্রশ্ন হলো—যাদের অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা বা দায়িত্বহীনতার কারণে ৬০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে, তাদের ক্ষেত্রে আমরা কি একই মাত্রার রাষ্ট্রীয় তৎপরতা, একই দৃঢ়তা, একই জবাবদিহিতা এবং একই রকম দায় নির্ধারণ প্রত্যাশা করতে পারি না?

জনগণের কাছে সব শিশুর জীবন সমান মূল্যবান। রামিশা যেমন আমাদের সন্তান, তেমনি চিকিৎসা অব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা দায়িত্বহীনতার কারণে প্রাণ হারানো প্রতিটি শিশুও আমাদেরই সন্তান। ৬ জন শিশুর মৃত্যু যেমন বেদনাদায়ক, ৬০০ জন শিশুর মৃত্যুও তার থেকে হাজারগুন হৃদয়বিদারক।

রাষ্ট্র যদি একটি ঘটনায় সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে, তাহলে অন্য ঘটনাতেও একই মানদণ্ডে তদন্ত, জবাবদিহিতা ও বিচার নিশ্চিত করার নৈতিক দায়িত্ব তার রয়েছে। বিচার ও মানবিকতার মানদণ্ড ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাজনৈতিক অবস্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে না।

যখন একই ধরনের মানবিক ট্র্যাজেডির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া, জবাবদিহিতা ও বিচারপ্রক্রিয়ার মানদণ্ড ভিন্ন হয়ে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এটি কি সমান ন্যায়বিচার, নাকি রাজনৈতিক দ্বৈত মানদণ্ড (Political Double Standards)?

রাষ্ট্রের কাছে জনগণের প্রত্যাশা একটাই—প্রতিটি শিশুর জীবন সমান গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি মৃত্যুর বিচার সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিটি দায়ী ব্যক্তিকে সমানভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় মানুষের মনে এই ধারণাই আরও শক্তিশালী হবে যে, কিছু মৃত্যু রাষ্ট্রের কাছে অগ্রাধিকার পায়, আর কিছু মৃত্যু কেবল পরিসংখ্যান হয়ে থেকে যায়।

যদি রাষ্ট্র এভাবেই খারিজ করতে থাকে, তবে সমালোচকদের ভাষায় একে বলা যেতে পারে—

• This is political hypocrisy — এটাই রাজনৈতিক ভণ্ডামি।
• This is selective justice driven by politics — এটি রাজনীতিপ্রসূত বাছাই করা বিচার।
• This is the politics of double standards — এটি দ্বৈত মানদণ্ডের রাজনীতি।
• This is politics at the expense of justice — এটি ন্যায়বিচারের বিনিময়ে রাজনীতি।
• This is a classic example of political double standards — এটি রাজনৈতিক দ্বৈত মানদণ্ডের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

এটা কোন মামুলি ঘটনা না! রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই কেউ না কেউ আবেদন করতে থাকবে। দেখা যায়, রাষ্ট্র কতগুলো খারিজ করে - কতদিন ধরে খারিজ করে।

ভুক্তোভোগী পরিবার, সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরো জড়ালো পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।।

- হাবিবুর রহমান।।

ইউনুসের গোলামী চুক্তির কথা সবাই শুনছেন, এবার দেখে নিন কি সেই চুক্তি👉👉* আমেরিকা থেকে ১৪ টা বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে হবে, ফ্রা...
23/04/2026

ইউনুসের গোলামী চুক্তির কথা সবাই শুনছেন, এবার দেখে নিন কি সেই চুক্তি👉👉
* আমেরিকা থেকে ১৪ টা বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে হবে, ফ্রান্সের কাছ থেকে যে এয়ার বাস কেনার কথা ছিল সেটা কেনা যাবে না।

* ১৫ বছরে ১৫শ কোটি ডলারের তেল কিনতে হবে। প্রতি বছর ৩৫০ কোটি ডলারের পন্য কিনতে হবে। (১৫ শ কোটি ডলার!! বাংলা টাকায় কত হাজার কোটি হয় মিলিয়ে নেন)

* সামরিক সরঞ্জামাদি কেনার পরিমান বাড়াতে হবে, অন্য কোথাও থেকে কেনার রেস্ট্রিকশন আছে। বিশেষ করে চীন থেকে তুলনামূলক কম মূল্যে যা কেনা হয় তা কেনা যাবে না।

* আমেরিকান কোন পন্যে কোটা আরোপ করা যাবে না। মানে শুল্ক অতি অল্প। কিন্তু কিনতে গেলে বেশি শুল্ক দিতে হবে।

* তাদের পন্য কিনতে যতসব বাধা আছে তা থাকা যাবেনা। তাদের পন্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবেনা। কোয়ালিটি যা ই হোক না কেন। এবং অন্য কোথাও থেকে কিনতে হলে আমেরিকার পারমিশন নিতে হবে।

* আমাদের দেশি পন্যের মান বাড়ে কিংবা দাম কমে এমন কিছু করা যাবে না, দেশি পন্য উন্নয়নে ভর্তুকি দেয়া যাবে না, যেন আমরা উন্নত এমন কিছু তৈরি করতে না পারি যাতে তাদের পন্য পিছিয়ে যায়।

* আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা যেখানে যা আছে সব মেনে চলতে হবে।

* আমেরিকা তার নিরাপত্তার জন্য যেভাবে যেমন ব্যবস্থা নেয় আমাদের ও তেমন তাল মিলিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের সব কোথায় কি করছে ফলো করে আমাদের ও তেমন ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে তারা খুব সহজেই আমাদের সব কিছু বুঝতে পারে।

অথচ, এই সব আমাদের বাংলাদেশের প্রয়োজন ই নেই। এত সামরিক পন্য, উড়োজাহাজ, এত মূল্যের তেল এক কথায় ১৫ বছরের গোলাম বানিয়ে রাখা। সেই সাথে দেশী পন্যের ধ্বংস।

এখন কি স্লোগান হবে ঢাকা না ওয়াশিংটন??

এই চুক্তির পরে ইউনুসকে কে কি বলতে চান বলে যান, আর ইউনুস প্রেমী, নোবেল সো/দা দল যারা আছেন তাদের বক্তব্য ও রেখে যান।

(শেয়ার অনলি)

Address

Baridhara
Dhaka
1212

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Face Of Media - ফেস অফ মিডিয়া posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share