Hafizur Rahman

Hafizur Rahman The purpose of this page is to share my latest web-development work, artworks, and motion graphics d

03/06/2025

১৯৪৩ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে বিপর্যস্ত সমস্ত পৃথিবী। অ্যামেরিকাও এর বাইরে না। অভাব আর বেকারত্বের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য, কাজের অভাবে এক শহর থেকে আরেক শহরে পানির স্রোতের মত ভেসে চলেছে মানুষ। ঠিক এই রকমই এক হট্টগোলের মধ্যে এই গল্পের সূচনা।
আমার বয়স তখন মাত্র ৫। স্কুলে যাওয়ার বয়স তখনও হয়নি। আমরা থাকতাম ৮৪১, ইনউড স্ট্রীটে। বাড়িটা অবশ্য এখন আর নেই। মা মারা যাওয়ার পর একবার দেখতে গিয়েছিলাম, ছিল না বাড়িটা, ফাঁকা প্লট আর একধারে একটা গাছ দাঁড়িয়ে আছে, এই গাছের নিচেই একসময় খেলধুলা করতাম।
বাড়িটা খুব সুন্দর ছিল, আমার বাচ্চা বয়সের চোখে অনেক বড় মনে হত। আমরা রাস্তার উপরের দিকটাতে থাকতাম, প্রতিদিনই গোয়ালা, আইসক্রিমওয়ালা আর হরেকমাল বিক্রির ফেরিওয়ালারা ঘোড়ার ওয়াগন টানতে টানতে আসত দিনের বেচাকেনা করতে।
বাড়ির পিছনে ছিল একচিলতে উঠোন আর একটা গাছ। পিছনের গলি থেকে উঠোনটাকে আলাদা করার জন্য লাগোয়া একটা কাঠের বেড়া ছিল, গলির রাস্তাটা একটু ঢালু হয়েই নেমে গিয়েছিল একটা বিশাল ফাঁকা মাঠে, এখানেই এলাকার ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করত। মাঠের পিছন দিকটায় ছিল রেললাইন। প্রতিদিন ট্রেনে চলাচল করত, ট্রেনে করে মাঝে মাঝে সার্কাস আসত শহরে, আবার কখনও সৈন্য নিয়ে যেত রাতের অন্ধকারে, শ্ত্রুপক্ষের চোখ এড়াতে কামরার সব আলো নিভিয়ে ছায়ার মত চলে যেত। মাঝে মাঝে ট্রেনে কয়লা, গরু, সব্জি, আলু আর অন্যান্য রসদও যেত, আমি জানতাম কারন, সপ্তাহে অন্তত একবার মা আমাকে নিয়ে যেতেন রেললাইনের ধারে, ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া আলু ব্যাগে করে আনতাম আমরা, এক ব্যাগ মাঝে মাঝে দুই ব্যাগও ভরে যেত আলু দিয়ে। আলুগুলো সিদ্ধ করে রাতের খাবার তৈরি করতেন মা। যেকোন জিনিষ সেটা যাই হোক না কেন সেটা দিয়েই মজাদার সব খাবার বানিয়ে ফেলা ছিল মায়ের অনেক গুণের ভিতর অন্যতম একটা গুন। এইকারনেই অভাব অনটনকে মোটেই পাত্তা দিতেন না তিনি। খুব সাহসী ছিলেন, কিছুকেই ভয় পেতেন না! ওহ না, ভুল হল, বজ্রপাতে অসম্ভব ভয় ছিল উনার!
ট্রেনে করে মাঝে মাঝে ভবঘুরেরাও আসতো, কাজের খোঁজে। প্রায় সপ্তায় একজন দুইজন আমাদের বাড়িতে আসতো সাহায্যের আশায়। মা অপরিচিত মানুষকে ভয় পেতেন না। বাড়ির দরজা বন্ধ করেই রাখতেন কিন্তু কেউ এসে কড়া নাড়লে খুলে দেখতেন, সাহায্যের জন্য যখন কেউ আসত, প্রথমে এক গ্লাস দুধ ধরিয়ে দিতেন হাতে, বারান্দায় বসিয়ে খাবার তৈরি করে দিতেন, তারপর যতক্ষন না তার খাওয়া শেষ হয়, পাশে বসে গল্প করতেন, দেশের অবস্থা, পারিবারিক অবস্থা এসব বিস্তারিত জানতে চাইতেন। আমাকে সবসময় বোঝাতেন, “এরা আমার বাবার মতই কাজের মানুষ, তফাত হল বাবার কাজ আছে কিন্তু এদের নেই তাই অভাবও তাদের অপরিসীম, কাজের খোঁজে এরা এক শহর থেকে আরেক শহরে ঘুরে বেড়ায়। এদেরকে যতটুকু সম্ভব সাহায্য করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।“ আমাদের বাড়ির কাঠের বেড়ার গায়ে এক ধরনের সংকেতও লিখে রেখেছিলেন মা, বলেছিলেন এটা ভবঘুরেদের সংকেত, ওরা দেখলেই বুঝবে এখানে সাহায্য পাওয়া যাবে।
আমার গল্পের সাথে এই ভবঘুরেদের কিছুটা সম্পর্ক আছে আবার নেইও, সেটা বিবেচনাটা আপনাদের। আর বিবেচনার সুবিধার্থেই এই প্রেক্ষাপট রচনা করা।
মূল গল্পে ফিরে আসা যাক......
শরৎকাল, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। হাল্কা মেঘ আছে আকাশে, বেশ গরমও পড়েছে। আমি বাড়ির নিচতলায় বসার ঘরে খেলনা সৈন্যসামন্ত আর ট্রাক নিয়ে মশগুল। যুদ্ধ নিয়ে আমার খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও সৈন্যদের প্যারেড খুব পছন্দের। তাই আমার সৈন্য আর ট্রাকগুলোকে প্যারেডের মত করেই কার্পেটর ধার ঘেঁষে বসার ঘর থেকে খাবার ঘর পর্যন্ত সাজিয়ে নিয়ে খেলছিলাম। ঘণ্টার উপর সময় চলে গেছে। মা উপরতলার ঘরগুলো পরিস্কারে ব্যাস্ত ছিলেন।
হটাত রান্নাঘরের বাইরের দিকের দরজায় ঠক্ঠক্ শব্দ। আমি সাধারণত গিয়ে দেখি কে এসেছে, প্রতিবেশি বা আমার দাদিদাদিদের কেউ হলে তবেই দরজা খুলে দেই, নাহলে মাকে ডাকি। দরজায় আমার সমান উচ্চতায় কাঁচের একটা জানালা লাগানো আছে তার ভিতর দিয়ে দেখা যায় বাইরের দিকটা। তাই ঠক্ঠক্ শুনে অভ্যাসমত উঠে গেলাম দরজার কাছে কিন্তু বাইরে কাউকে দেখলাম না। ফিরে এসে আবার খেলতে শুরু করলাম। আবার ঠক্ঠক্ আওয়াজ। উপর থেকে মা বলে উঠলেন, “তুমি কি শুনতে পাচ্ছ না, দেখো না কে এসছে!”
আবারও দেখতে গেলাম। যথারীতি কেউ নেই। কিন্তু যেইমাত্র ঘুরে দাঁড়াতে গেলাম তখনই হ্যাট মাথায় দেয়া একজন মানুষের চেহারা ভেসে উঠল জানালার ওপাশে। হ্যাটটাও কেমন জানি অদ্ভুত, পুরনো আর আকৃতিহীন, কোন একসময় হয়ত ফেডোরার হ্যাট ছিল, এখন চাপ খেয়ে বসে গিয়ে মাথার মুকুটের মত লাগছে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, হ্যাটটার নিচে কোন মুখে নেই, যেখানে মুখ থাকার কথা সেখানে হ্যাট থেকে একটা ন্যাকড়া মত কাপড় ঝুলে আছে নিচের দিকে, যেখানে চোখ থাকার কথা সেখানে শুধু একটা চেড়া দাগ। এইই— ধুসর রঙের ময়লা একটা ন্যাকড়া কাপড় ঝুলে আছে শরীরের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত, ব্যাস আর কিচ্ছু নেই। কাপড়ের নিচেও কাঁধ বা বুক বলে কিছু আছে মনে হল না, কাপড়টাই শুধু ঝুলে আছে উপর থেকে নিচের দিকে। হাতে হাতমোজা, সেটাও ওই ময়লা ন্যাকড়া কাপড়ের, সেই হাতটাই এখন একটু একটু করে এগিয়ে আসছে জানালার দিকে, শূন্যে কিছুক্ষন ঝুলে থাকল তারপর হটাত ইশারা করল দরজাটা খুলতে একই সাথে মাথাটাও নোয়ানোর ভঙ্গিতে একটু নড়ে উঠল।
আমি নড়াচড়া করলাম না, করতে পারলাম না বলা ভালো। নিজের কাছেই নিজের গলার স্বর অদ্ভুত লাগলো, অনেকটা দুঃস্বপ্ন দেখে তীব্র আতংকে কেঁদে উঠার মত শোনা গেল। প্রথমে চিঁ করে ছোট একটা শব্দ তার পরপরই তীব্র চিৎকার। গা শিউড়ে উঠার জন্য যথেষ্ট।
সাথে সাথেই মা এসে হাজির। আমি তখন বাঁশপাতার মত থরথর করে কাঁপছি। কি দেখেছি বললাম, আদ্যোপান্ত। উনি দরজা খুলে দেখতে গেলেন, কিন্তু চতুর্দিক খুঁজেও কিছু পেলেন না, কোথাও কিছু নেই, না পায়ের ছাপ, না গ্লাসের টুকরা, জনমানুষ তো দুরের কথা কোন পশুপাখিরও চিহ্নমাত্র নেই। মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, আমার কল্পনা শক্তি নাকি অসাধারণ! একটু বিরক্তও মনে হল, হয়ত ভাবছেন তাকে নিচে আনানোর জন্যই এসব ফন্দী বের করছি আমি। নিজের কাজে ফিরে গেলেন আবার।
মিনিটও পার হয়নি আবার ঠক্ঠক্। এইবার সামনের বারান্দার দরজায়, মা আবার দেখতে বললেন, কে এসেছে । প্রচন্ড দ্বিধা আর ভয় নিয়ে দরজার কাছে গেলাম। যেই ভয়টা পাচ্ছিলাম, ঠিক তাই, দরজার কাঁচের ভিতর দিয়ে দেখা যাচ্ছে সেই মাথায় হ্যাট, ময়লা কাপড় পড়া লোকটা, অস্থিরভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকাচ্ছে আর হাত দিয়ে ইশারা করছে দরজাটা তাড়াতাড়ি খুলতে । শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি আমি, প্রায় একযুগ পরে মনে হল নড়ার শক্তি পেলাম, ধীরে ধীরে পিছাতে শুরু করলাম, তারপরই চিৎকার করে মাকে ডেকে উঠলাম। মা আবারও চলে আসলেন চোখের পলকে, এবার উনাকেও কিছুটা ভীত মনে হল। প্রতিবারই দরজায় ধাক্কানোর শব্দ পেয়েছেন উনি। দ্বিতীয়বারের ধাক্কাটা এতটাই জোরে ছিল, যেটা পাঁচ বছর বয়সী একটা বাচ্চার পক্ষে করা অসম্ভব। চট করে আমাকে কোলে তুলে নিয়ে সামনের আর পিছনের দরজার কাঁচের ভিতর দিয়ে বাইরে উঁকি দিলেন, সামনের দরজা খুলে বারান্দায় বের হয়ে আসলেন, নাহ, কিছু নেই, কিচ্ছু নেই।
মিসেস হোয়াইট তার বাড়ির উঠোন ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। নাহ তিনিও কিছু দেখেননি। মা আমাকে নিয়ে বাড়ির পিছনের উঠোনে গেলেন, আমি তার গলা শক্ত করে ধরে ছিলাম, আমার হাত ছাড়িয়ে কোল থেকে নামিয়ে দিলেন। আমি কিছুক্ষন নির্বাক হয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকলাম তারপর খুব আত্নবিশ্বাস আর দৃঢ়তার সাথে বললাম, ওটা স্বয়ং “মৃত্যু” ছিল।
মা চমকে উঠলেন, ভয়ে কেঁপে উঠলেন যেন একটু, “এসব কি কথাবার্তা?”
আমরা বাড়িতে এসব কথা কখন আলোচনা করি না। সমস্ত পৃথিবীতেই যুদ্ধ হচ্ছে, আমার চাচারাও যুদ্ধে গেছেন, কিন্তু আমার কাছে যুদ্ধটা শুধুই পতাকা আর প্যারেড ছাড়া আর কিছু না। মৃত্যু কি, কেন এসব আমার জানার বাইরে।
“বাজে কথা বলছো কেন?”
“ওটা মৃত্যুই,” নির্বিকারভাবে বলে উঠলাম আমি, “মৃত্যুই হবে”। তারপরই কান্না শুরু করলাম, “আমি কি মারা যাচ্ছি? নাকি মা, না বাবা?” এই প্রশ্নগুলো শেলের মত এসে বাঁধল বুকের ভিতর, হেঁচকি দিয়ে কেঁদে উঠলাম, পায়ের নিচে মাটি যেন সরে যাচ্ছে।
“না, না, এসব বাজে কথা, কোন ভবঘুরে হবে হয়ত, বা কোন গরিব মানুষ, আগুনে পুড়ে ঝলসে গেছে শরীর আর তুমি ভয় পেয়েছ দেখে পালিয়ে গেছে।” সান্ত্বনা দিলেন মা।
খেলায় ফিরে গেলাম আবার, বাবা কাজ থেকে ফিরে এলেন, রাতের খাওয়া সেরে ঘুমাতে গেলাম সবাই, সবকিছুই স্বাভাবিক।
সেই রাতে আমাদের পাশের বাড়ির বৃদ্ধা মিসেস রায়ান ঘুমের ভিতরেই মারা গেলেন। ঘুম থেকে উঠে মা আর মিসেস হোয়াইটকে বাড়ির পিছনের বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আলাপ করছেন শুনলাম। রোদ্রস্নাত পরিষ্কার সকাল। আমি পাজামা পড়েই তাদের কাছে গেলাম, যেতে যেতে শুনলাম চাপা স্বরে তারা গতকালে আমার অভিজ্ঞতা আর আমার বলা কথা নিয়ে আলাপ করছেন। আমি কাছে যেতেই মা আমার হাত ধরে বাড়ির ভিতর ফিরে আসলেন।
বললাম, “ওটা মৃত্যুই ছিল, ঠিকানা ভুলে আমাদের বাড়িতে এসেছিল।”
“বোকার মত কথা বল না” ধ্মকে উঠলেন মা, “ এটা কাকতালীয় ঘটনা ছাড়া কিছু না।” কথাটা নিজেও খুব একটা বিশ্বাস করলেন বলে মনে হল না, আমিও তেমন গুরুত্ব দিলাম না উনার কথাকে, কারন আমি জানি, আমি কি দেখেছি।
তারপর আর কোনদিন দেখিনি ওই ময়লা কাপড় পড়া লোকটাকে। মৃত্যু আমাদের আশেপাশে অনেকবারই এসেছে কিন্তু ওই বেশে আর দেখিনি কোনদিন। মা মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত এইরকমই ছিল ব্যাপারটা।
২০০০ সাল। মা বাড়িতে একাই থাকেন। একজন নার্স আর একজন কেয়ারটেকার দেখাশুনা করে উনার। ৯২ বছর বয়স হতে আর মাত্র এক মাস বাকি, প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে গেছেন, স্মৃতিশক্তি প্রায় পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে, খাবার খাওয়ার তিন মিনিট পরেও বলতে পারেন না খেয়েছেন কিনা। একমাত্র আমাকে একটু চিনতে পারেন, কথা বলেন, হটাত হটাত বাবার সাথে গুলিয়ে ফেলেন যদিও, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ১৯৩০, ১৯৪০ এমনকি ১৯৫০ সালের কিছু কিছু ঘটনা উনার ভালোই মনে আছে। মাঝে মাঝে গল্পের ছলে ময়লা কাপড় পড়া লোকটার কথা তুলি আমি, উনি তখন চুপ করে থাকেন, বুঝি তার ঠিকই মনে আছে, কিন্তু এই ব্যাপারে কথা বলতে চান না উনি।
অফিসের কাজে আরেক শহরে যেতে হয়েছিল, প্রচণ্ড ক্লান্তি নিয়ে ফ্যাটে ফিরলাম, ফ্রেস হয়ে, রাতের খাওয়া খেয়ে শুয়ে পড়লাম, ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। ব্যাস্ততার কারনে মায়ের খবর নেয়া হয়নি এই কয়দিন, সকালবেলায় অবশ্যই ফোন করব আর সম্ভব হলে বিকালে গিয়ে দেখা করে আসব এই প্রতিজ্ঞা করে ঘুমিয়ে পড়লাম।
হটাতই ঘুম ভেঙ্গে গেল, চুপচাপ শুয়ে থেকে বুঝার চেস্টা করছি, কেন ভাংলো। দুরের গির্জায় রাত দুইটা বাজার সংকেত দিচ্ছে। নাহ এই শব্দে তো ঘুম ভাঙ্গার কথা না। আমার রুমটা দোতালায় সামনের দিকে রাস্তার উপর, রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো রুমের ভিতর হাল্কা একটা আভা ছড়াচ্ছে। শুয়ে শুয়েই এদিক ওদিক তাকিয়ে বুঝতে চেস্টা করছি সমস্যাটা কি, হটাত মনে হল পায়ের দিকে জানালাটার ওপাশে কি যেন একটা, ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম, সেই মাথায় হ্যাট পড়া, মুখের সামনে কাপড় ঝুলে থাকা লোকটা, জানালার একদিক থেকে হেটে আরেকদিকে চলে গেল, এটা কিভাবে সম্ভব? জানালার ওপাশে তো কোন বারান্দা নেই! লাফ দিয়ে জানালার কাছে গিয়ে নিচের দিকে তাকালাম, শূন্য রাস্তা খাঁ খাঁ করছে, একটি মাত্র ল্যাম্পপোস্ট তার দুর্বল আলোয় রাতের অন্ধকার দূর করেতে গিয়ে আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে, অন্ধকার যেন আরও জেঁকে বসেছে রাস্তার আনাচেকানাচে। জনমানুষের চিহ্নমাত্র নেই কোথাও। হটাত ছোটবেলার সেই ভয়টা ফিরে আসল, শিরদাঁড়া বেয়ে ঠাণ্ডা স্রোতের একটা ধাঁরা বয়ে গেল উপর থেকে নিচের দিকে, মে মাসের গরমেও একটা শীতল অজানা ভয়ে হাতপা কাঁপছে, যুগযুগ ধরে দাঁড়িয়ে আছি যেন আমি, নড়তে পারছি না কোনভাবেই, কিছুক্ষন পরে হটাত শরীরে একটু যেন শক্তি ফিরে পেলাম, পিছন দিকে হেঁটে ধীরে ধীরে বিছানায় উঠে বসলাম তারপর চট করে বালিশটা নিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে কুন্ডুলি পাকিয়ে শুয়ে পড়লাম, ভয়ে ক্লান্তিতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি বলতে পারি না, ঘুম ভাঙ্গল ফোনের শব্দে, রিসিভার তুলতেই ওপাশ থেকে মায়ের নার্স জানালো, মা আর পৃথিবীতে নেই, ডাক্তার পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, গত রাত দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে কোন এক সময় উনার মৃত্যু হয়েছে।
------
অজ্ঞাত ভবঘুরে এবং একটি সত্যি ঘটনা।
মূল গল্প - কিম –জি ডেল
অনুবাদক - হাফিজুর রহমান।

30/05/2025

লেটার ফ্রম গাজা।
--
মূলঃ গাসসান কানাফানি
অনুবাদঃ হাফিজুর রহমান
---

প্রিয় মোস্তফা,
তোমার চিঠিটা মাত্রই হাতে পেলাম, তুমি জানিয়েছ, সেক্রেমেন্টোতে আমাদের একসাথে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র তৈরি হয়ে গেছে। ওদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি’র ‘সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং’ ডিপার্টমেন্ট থেকেও জানিয়েছে, ওরা আমাকে নেওয়ার ব্যাপারে প্রায় সব ব্যবস্থাই চুড়ান্ত করে ফেলেছে। আসলে, তোমাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর কোন ভাষা আমার জানা নেই, বন্ধু। কিন্তু এদিকে খবরটা তোমাকে কীভাবে জানাবো সেটাও ঠিক বুঝতে পারছি না – তবে জানাতে যে হবেই এটাও পুরোপুরি নিশ্চিত, সেটা নিয়ে আমার মনে কোনরকম দ্বিধা নেই, বলতে গেলে, আমি নানাদিক চিন্তাভাবনা করে তারপর সীদ্ধান্তটা নিয়েছি।

আমার ভাই, জীবনটাকে আমি এখন যতটা পরিষ্কারভাবে দেখছি, সেভাবে আগে কোনদিন দেখিনি বা বলতে পারো, দেখতে চাইনি। না বন্ধু, আমার মত আমি পালটে ফেলেছি। তোমার বলা সেই, ‘সবুজে ঘেরা বনশ্রী, নির্মল পানি, পাখির ডাকের সকাল আর সুন্দর সুন্দর মুখের দেশে’ আমি আর যেতে চাই না। আমি এখানেই পড়ে থাকতে চাই, ছেড়ে যেতে চাই না এই দেশ, এই মাটি।

আমাদের জীবনটা একসাথে এবং একই পথ ধরে আর চলবে না ভাবতেই প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে আমার, মোস্তফা। কান পাতলে আমি এখনও যেন শুনতে পাই আমাদের সেই প্রতিজ্ঞার কথা, ‘সারা জীবন একসাথে থাকবো’, কিছুক্ষণ পর পর দুজনেই একসাথে চিৎকার করে বলতাম, ‘আমরা একদিন অনেক বড় হবো, অনেক টাকা হবে আমাদের!’ বন্ধু, আমার আসলেই আর কিছু করার নেই। আমার আজও মনে আছে কায়রো এয়ারপোর্টের লবিতে আমরা দু’জন দাঁড়িয়ে ছিলাম, তোমার একটা হাত সজোরে চেপে ধরে রেখেছিলাম আমি, যেন ঢিল পড়লে ছিটকে পড়ে হারিয়ে যাবে তুমি, বিল্ডিং এর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা প্লেনের ঘুরন্ত মোটরের দিক থেকে চোখ সরছিলো না আমার। আমাদের জীবনটা, ওই মুহুর্তে কানফাটানো শব্দের ওই মোটরেরে মতই ঘুরছিল যেন, তুমি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছো, গোলগাল হাসি খুশি মুখটা খুব বেশি থমথমে আজ।
গাজা’র সাজিয়া কোয়ার্টারে আমরা যখন বেড়ে উঠছিলাম, তোমার তখনকার চেহারার সাথে এখনকার চেহারায় সামান্য কিছু বলীরেখা ছাড়া খুব একটা পরিবর্তন হয়নি বলা যায়। আমরা একসাথে বড় হয়েছি, দুইজন দুইজনকে বুঝতে পারি, শেষ অবধি পথটা একসাথেই থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু …

"প্লেন ছাড়তে আর পনের মিনিট বাকি আছে। আকাশের দিকে ওভাবে তাকিয়ে থেকো না তো। আমার কথা শুনো! সামনের বছর কুয়েতে চলে যাবে, সেখানকার চাকরি থেকে যে টাকা জমাতে পারবে তাতে খুব সহজেই গাজা থেকে পাত্তারি গুটিয়ে সহজেই ক্যালিফোর্নিয়াতে জমিয়ে বসতে পারবে। ওখানে থেকে আমরা একসাথে শুরু করবো, সামনে এগুতেই হবে আমাদের, বুঝতে পারছো?"
সেই মুহুর্তে আমি তোমার ক্রমাগত ঠোট নাড়ানোটাই দেখছিলাম শুধু। হড়বড় করে কথা বলা তোমার পুরনো অভ্যাস, কোন কমা নেই, দাঁড়ি নেই। কিন্তু মনের গভীরে আমার কেন জানি মনে হচ্ছিল তোমার এই চলে যাওয়াটা তোমার নিজের কাছেই পছন্দ হচ্ছে না। কেন, সে সম্পর্কে তিনটা ভালো কারণও তুমি দেখাতে পারছিলে না। আমার মধ্যেও এই একই অনুভূতি কাজ করছিল, তবে সেটা ছাপিয়েও স্বচ্ছ একটা প্রশ্ন ঠিকই মনের গভীরে ঘুরপাক খেত, কেন আমরা গাজাকে ছেড়ে সারাজীবনের জন্য পালিয়ে যাচ্ছি না? কেন যাচ্ছি না? কী বা কে আটকে রাখছে আমাদেরকে? এখন অবশ্য তোমার অবস্থা পাল্টেছে। কুয়েতের মিনিস্ট্রি অফ এডুকেশন তোমার সাথে চুক্তিও করে ফেলেছে, আমার ব্যাপারে অবশ্য আগ্রহ দেখালো না ওরা। আমার দুঃখ দূর্দশার দিনগুলোতে তুমি সাধ্যমত কিছু টাকা পাঠাতে আমাকে, তুমি চেয়েছিলে টাকাটা আমি যেন ধার বলে মনে করি, কারণ তোমার ভয় ছিল, ধারের কথা না বললে আমি হয়ত অপমানিতবোধ করে তোমাকে না বলে দিবো। আমার পরিবারের ভেতরে বাইরে সবকিছুই তুমি জানতে; তুমি জানতে ‘ইউএনআরডব্লিউএ’ এর স্কুল থেকে যৎসামান্য যে বেতন পাই তা দিয়ে মা, মৃত ভাইয়ের স্ত্রী আর তার চার বাচ্চার ভরণপোষণ চালানো আমার জন্য কতটা কঠিন।
‘আমার কথা শোন। প্রত্যেক দিন চিঠি লিখবে আমাকে … প্রত্যেক ঘন্টায় … প্রত্যেক মিনিটে! প্লেন ছেড়ে দিবে এখন। বিদায় আমার বন্ধু! অন্তত, যতদিন না আবার আমাদের দেখা হচ্ছে!’
পরম ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরলে আমাকে, তারপর ঝট করে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্লেনের দিকে হাঁটতে শুরু করলে, আবার যখন ফিরে তাকালে তোমার চোখ বেয়ে পানি পড়তে দেখলাম আমি।
এর বেশ কয়দিন পর কুয়েতের মিনিস্ট্রি অফ এডুকেশন আমার সাথেও চুক্তি করলো। আমার জীবন সেখানে কেমন কেটেছে তার সবটাই তোমার জানা। চিঠিতে তার সবই জানিয়েছি তোমাকে। কুয়েতে আঠার মতো থিকথিকে বৈচিত্রহীন এক জীবন কাটিয়েছি আমি, এরথেকে যেন কোন মুক্তি ছিল না আমার, একটা ঝিনুকে পরিণত হয়েছিলাম আমি, অন্ধকার গহ্বরে নিদারুণ একাকীত্ব গিলে খাচ্ছিল আমাকে, ক্রমাগত যুদ্ধ করে যাচ্ছিলাম, রাতের প্রথম প্রহরের মতো আলোহীন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সাথে। পচে গলে নষ্ট হয়ে যাওয়া একটা রুটিনে আটকা পড়েছিলাম আমি, সময়ের সাথে ব্যর্থ এক যুদ্ধে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়েছিলাম। বলতে গেলে, আমার পুরো জীবনটাই ছিল স্যাঁতস্যাঁতে পিচ্ছিল, এরথেকে বের হতে চাওয়ার একটা আবেগ কাজ করতো আমার ভেতরে, ব্যর্থ আবেগ।
সেই বছরের মাঝামাঝি সময়ে, ইহুদীরা সাবা’র সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টে রকেট হামলা সহ পুরো গাজায় আক্রমণ শুরু করল, আরও একবার বোমা আর ফ্লেম থ্রোয়ারদের তাণ্ডবে বিধস্ত হলো গাজা। আমাদের গাজা! ঘটনাটা আমার প্রতিদিনকার রুটিনে কিছুটা হয়ত প্রভাব ফেলেছিল, কিন্তু অতোটা গুরুত্ব দিলাম না, খেয়ালও করলাম না, এই গাজাকে ছেড়ে তো আমি চলে যাচ্ছি, সেই সুদূর ক্যালিফোর্নিয়াতে, সেখানে বাঁচার মতো করে বাঁচতে পারবো, আর কারো জন্য না হোক, নিজের জন্য অন্তত! অনেক কষ্ট, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি, বহু বহু বছর হলো। গাজাকে এখন আমি ঘৃণা করি, এখানে যারা বাস করে, তাঁদেরকেও! বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন এই শহরটা যত দেখি, ততই আমার কাছে কোন ধূসর ক্যানভাসের পটভূমিতে, মানসিকভাবে অসুস্থ কোন মানুষের আঁকা একটা কুৎসিত ছবি বলে মনে হয়। আমার মা, ভাইয়ের বিধবা আর তার বাচ্চাদের বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু সাহায্য আমি নিশ্চয় পাঠাবো, কিন্তু এই ছোট্ট বন্ধনটা থেকেও নিজেকে খুব দ্রুতই ছাড়িয়ে নিবো আমি। আহ! সবুজ শ্যামল ক্যালিফোর্নিয়া, সাত সাতটা বছর ধরে যে পরাজয়ের গ্লানি আমার ফুসফুসে ধূলোর পাহাড় জমিয়ে ফেলেছে, আমার নিঃশ্বাস নেওয়ার স্বাধীনতাটা পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে, তারথেকে বহুদূরে আমার স্বপ্নের ক্যালিফোর্নিয়া। যে মায়া, মমতা, আর ভালোবাসা আমার মা, ভাইয়ের ছেলেমেয়ে আর তাঁর বিধবার জন্য আমার মনের গভীরে আছে সেটা কোনভাবেই আমার জীবনের এই দূর্ভোগ সহ্য করাকে ন্যায্যতা দেয় না। এই সস্তা অনুভূতিগুলো আমাকে আরো বেশি করে গিলে ফেলার আগেই পালাতে হবে আমাকে।
এই অনুভূতিগুলো তোমার চেনা মোস্তফা, তোমাকেও একদিন সহ্য করতে হয়েছে এসব। এ কোন বাঁধনে বেঁধে রেখেছে গাজা আমাদেরকে, পালিয়ে যাওয়ার নূন্যতম শক্তিটা পর্যন্ত ভোঁতা হয়ে গেছে আমাদের, কেন? পরিষ্কার কোন কারণ কী কোনদিন খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি আমরা? কেন আমরা হেরে যাওয়ার দগদগে ক্ষতটা ভূলে সামনের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে ছুটে যাই না, তাতে হয়ত কিছুটা শান্তনা খুঁজে পাওয়া যেত? আমরা আসলেই জানি না কেন।
জুনের ছুটিতে জিনিসপত্র গুছিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য তৈরি হলাম, এয়ারপোর্টে দীর্ঘ অপেক্ষা, রওনা হওয়ার সেই সুখের মুহুর্তের জন্য উৎসুক, এটাই সেই সুখের মুহুর্ত যার জন্য যুগ যুগ ধরে মানুষ ছুটে চলে নিজ ঠিকানায়, নিজ ভূমে। গাজাকে যেমন রেখে গিয়েছিলাম তেমনই আছে, বধ্যভূমির শুকনো তপ্ত বালুর বুকে, সমুদ্রের ঢেউয়ের ধাক্কায় ভেসে আসা ময়লা আবর্জনায় বদ্ধ নিঃসঙ্গ শামুকের খোলের মতো। ভয়ংকর কোন দুঃস্বপ্ন দেখে ভয়ে আতংকে জেগে উঠা কোন মানুষের মনের থেকেও ভঙ্গুর তার চেহারা। আমাদের গাজা! কি সেই শক্তি যা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বসন্তের পাহাড়ি ছাগলের ঘরে ফেরার মতো করে মানুষকে তাঁর পরিবার, তাঁর ঘর, তাঁর স্মৃতিগুলোর কাছে বার বার ফিরিয়ে আনে? আমি জানি না। আমার শুধু জানি সেদিন সকালে আমিও আমার মায়ের কাছেই ফিরে গিয়েছিলাম। যখন আমি পৌঁছুলাম, দোরগোড়ায় দেখা হলো আমার ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ওঁর মেয়ে ‘নাদিয়া’কে গাজা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, মেয়েটা আমাকে দেখতে চায়, আমি কী যেতে পারবো! তোমার কী নাদিয়া’র কথা মনে আছে বন্ধু? আমার ভাইয়ে’র তের বছরের ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চা মেয়েটাকে?
সেদিনের সন্ধ্যায় দুই পাউন্ড আপেল কিনে নাদিয়াকে দেখার জন্য হাসপাতালের দিকে রওনা দিলাম। অবচেতন মনে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে নাদিয়ার হয়ত এমন কিছু একটা হয়েছে যেটা ওর মা আর দাদি আমার থেকে লুকিয়ে যাচ্ছেন, এমনকিছু যেটা বলার ভাষা হয়ত তাঁদের জানা নেই, এমন কোন ঘটনা যার সমাধানও আমার জানা নেই। নাদিয়াকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসি, একইভাবে ভালোবাসি এই প্রজন্মের প্রত্যেকটা ছেলেমেয়েদের, যাদের জন্মই হয়েছে পরাজয়ের ধ্বংসস্তূপের ভেতরে, ওদের কাছে সুখ যেন কোন সামাজিক বিচ্যুতির ফল।
কী হয়েছিল তখন? আমি জানি না। সাদা ধপধপে ঠাণ্ডা একটা রুমে ঢুকলাম। নিস্তব্ধ, চুপচাপ। অসুস্থ বাচ্চাদের ফেরেশতার মতো মনে হয়, আর অসুস্থতাটা যদি হয় নির্মম ভয়ংকর কোন ক্ষতের কারণে তাহলে তাদের আরও বেশি সৌম্য মনে হয়। নাদিয়া ওর বিছানায় শুয়ে আছে, পিঠের নিচে বালিশ দিয়ে কোমর থেকে উপরের দিকে উঁচু করা, বালিশের উপর ওর মেঘ কালো চুলগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বড় বড় চোখগুলোতে গভীর নীরবতা, ভেতরে জমে থাকা পানিতে চোখের মণি দুটো জ্বলজ্বল করছে। মুখটা শান্ত, স্থির কিন্তু একই সাথে কথা বলার জন্য উদগ্রীব। নাদিয়া এখনও বাচ্চা, তারপরেও যেন ঠিক বাচ্চা না সে, আরো বেশি বয়স্ক, অনেক বেশি বেড়ে গেছে ওর বয়স!
“নাদিয়া!”
নিজের গলা শুনে নিজেই চমকে উঠলাম, ডাকটা কী আমিই দিলাম না আমার পেছন থেকে অন্য কেউ? কিন্তু ও চোখ খুলে তাকাল আমার দিকে, ওর দৃষ্টির সামনে আমি যেন নিজেকে হারিয়ে ফেললাম ঠিক যেভাবে গরম চায়ে চিনি ফেললে গলে মিশে যায়।
মলিন এক টুকরো হাসি দিয়ে মিষ্টি স্বরে কথা বলে উঠল মেয়েটা,

‘চাচু, তুমি কুয়েত থেকে এখনই ফিরলে?’
গলাটা মাঝপথে ভেঙ্গে গেল, এক হাতের উপর ভর দিয়ে কষ্টেসৃষ্টে উঠে বসে আমার দিকে দুই হাত বাড়িয়ে দিলো, আমি ওকে জরিয়ে ধরে পিঠে হাল্কা চাপড় দিয়ে ওর পাশেই বসলাম।
‘কুয়েত থেকে তোর জন্য গিফট এনেছি মা, এতো এতো গিফট। তুই একেবারে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরবি, তখন দিবো তোকে, কেমন? চিঠিতে লাল ট্রাউজারের কথা লিখেছিলি মনে আছে? সেগুলোও এনেছি।’
মিথ্যা কথা, আবেগে বলে ফেলেছি, কিন্তু বলেই বুঝলাম, জীবনে প্রথমবারের জন্য হলেও সত্যি কথা বলেছি। নাদিয়া এমনভাবে কেঁপে উঠল যেন ইলেক্ট্রিক শক খেয়েছে, মাথা নামিয়ে থম মেরে বসে থাকলো। ভয়ংকর এক নিস্তব্ধতা নেমে এলো রুমের ভেতরে। ধীরে ধীরে আমার হাতের উলটো পিঠ ভিজে উঠলো ওর চোখের পানিতে।
‘কিছু একটা বল মা, নাদিয়া! লাল ট্রাউজার নিতে চাস না?’ মাথা তুলে আমার দিকে তাকাল মেয়েটা, মনে হলো কিছু বলতে চায়, কিন্তু থেমে গেল। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, তারপর কথা বলে উঠলো, যেন অনেক দূর থেকে ভেসে আসছে ওর গলা।
‘চাচু!’
হাত লম্বা করে আঙ্গুলের মাথা দিয়ে পায়ের উপরে বিছানো চাদরটা উলটে পায়ের দিকে ইশারা করল আমাকে, পা জোরা উরুর উপর থেকে কাটা।
বন্ধু, নাদিয়ার পা উরু থেকে কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে এটা আমি কোনভাবেই ভুলতে পারছি না। না! নাদিয়ার সেই কষ্ট হতাশা আর অভিমান ভরা মুখের কথাও আমি এক মুহুর্তের জন্য ভুলতে পারছি না। সেদিন হাসপাতাল থেকে ছিটকে বের হয়ে এসেছিলাম আমি, এক হাতে নাদিয়ার জন্য কেনা জিনিস গুলো শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে আঁকড়ে ধরে আছি, প্যাকেটটা আমার দিকে যেন নিঃশব্দে বিদ্রুপ করে যাচ্ছে। পড়ন্ত সূর্যের আলোয় রাস্তাগুলো রক্ত লাল রঙের হয়ে উঠেছে, এই গাজা ভিন্ন এক গাজা, মোস্তফা! তুমি আর আমি কোনদিন এভাবে দেখিনি গাজাকে। আমরা যেখানে থাকতাম সেই সাঁজিয়া কোয়াটারের সামনে একটা পাথরের স্তুপ ছিল, স্তুপটা শুধু সাজিয়ে রাখার জান্য করা হয়নি সেটার অন্য কোন একটা কারণও ছিল। এই গাজা, যেখানে আমরা থাকতাম আর সেই ভালো মানুষগুলো যাদের সাথে যুদ্ধের সাত বছর কাটিয়েছি সেখানেও কিছু নতুনত্ব ছিল, আমরা জানতাম না। আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা সবে মাত্র শুরু। আমি জানি না কেন এমন মনে হচ্ছে । শুধু এইটুকু জানি, বাড়ি ফেরার জন্য যে রাস্তাটা দিয়ে এখন হাঁটছি সেটাই "সাফাদ" এ যাওয়ার রাস্তা, আর রাস্তাটা অনেক, অনেক লম্বা, এখনও বহুদূর যেতে হবে। এই গাজায় সবকিছুই আতংক, দুঃখ আর কষ্টে জর্জরিত, কেঁদে ফুঁপিয়ে, শোক করে এর কোন সমাধান আর আসবে না। একটা সময় এটা শুধু চ্যালেঞ্জ ছিল, এখন তারথেকেও বেশি কিছু, এখন কাটা পড়া পায়ের জবাবদিহিতা চাওয়ার সময় হয়েছে।
ওরা আমাকে জানিয়েছে, ছোট ভাইবোনদেরকে বোমা আর আগুনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ওদের উপরে লাফ দিয়ে পড়ে নিজের ছোট্ট শরীরটা দিয়ে প্রাণপ্রিয় ভাইবোনদের শরীরগুলোকে ঢেকে দিতে চেয়েছিল আমার নাদিয়া। বোমায় বিদ্ধস্ত বাড়িটার ভেতরে আটকা পড়েছিল বাচ্চাগুলো। নাদিয়া তো নিজেকে বাঁচাতে পারতো বন্ধু, পালাতে পারতো, নিজের পা জোড়া বাঁচাতে পারতো। কিন্তু সে তো তা করেনি!
কেন?!!
না, প্রিয় বন্ধু, সেক্রমেন্টোতে আমি আর আসছি না, সেটার জন্য আমার কোন আক্ষেপও নেই। না, আমরা ছোটবেলায় যে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, সেটাও আমি ছাড়তে চাই না। গাজা ছেড়ে যাওয়ার সময় যে অদ্ভূত একটা অনুভূতি হচ্ছিল তোমার ভেতরে, সেই ছোট্ট অনুভূতিটাকে বিশাল করে তুলতে হবে তোমাকে বন্ধু। তোমাকে বিলীন হতে হবে সেই অনুভূতিতে, হেরে যাওয়ার এই কুৎসিত ধ্বংসাবশেষের ভেতর থেকে নিজেকে খুঁজে বের করে আনতে হবে তোমাকে, আমার ভাই।
আমি আসছি না তোমার কাছে। কিন্তু তোমাকে ফিরে আসতে হবে আমাদের কাছে। ফিরে আসো, নাদিয়ার উরু থেকে কাটা পড়া পা থেকে আমাদের শিখতে হবে, জীবন কী, আর এই জীবনে বেঁচে থাকার মূল্যটাই বা কী!
ফিরে আসো আমার ভাই! তোমার অপেক্ষাতেই আছি আমরা সবাই।
---
[গাসসান কানাফানি ‘লেটার ফ্রম গাজা’ লেখাটি লিখেছিলেন ১৯৫৬ সালে। ‘দ্য ট্রাইকন্টিনেন্টাল সোসাইটি অফ লন্ডন’ এ ১৯৮০ সালে ‘দ্য ১৯৩৬-৩৯ রিভোল্ট ইন প্যালেস্টাইন’ এ লেখাটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করে।
গাসসান ফায়াজ কানাফানি ছিলেন একজন ফিলিস্তিনি লেখক এবং রাজনীতিবিদ। তিনি ‘পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব ফিলিস্তিনে’র একজন নেতৃস্থানীয় সদস্য ছিলেন। ১৯৭২ সালে, বৈরুতে অবস্থানের সময় কানাফানিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।]

29/05/2025

[আইনজীবীর কাছে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর দেয়া স্বীকারোক্তির অংশবিশেষ]

ভুত বা প্রেতাত্না যেটাই বলেন না কেন, এগুলো দেখার কোন ক্ষমতা আমার কোনদিনই ছিল না। জীবনের প্রথম খুনটা করার পর থেকেই ওদের দেখতে শুরু করলাম। দিনটার কথা এখনো পরিষ্কার মনে আছে, মনে হয় এই তো গতকালই। ছোট্ট লরা ...... খুব সুন্দর ছিল দেখতে। মাথা ভর্তি লালচে সোনালী কোঁকড়া চুল। পরীর মত নিষ্পাপ একটা মুখ, সারাক্ষণ মিষ্টি হাসি লেগে আছে মুখে, প্রাণোচ্ছল, ছটফটে। কৈশোর পেরোয়নি এখনো, সারাটা জীবন পড়ে আছে সামনে। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওর পিছু নিয়েছিলাম আমি, ছোট পার্কটার ভিতর দিয়ে শর্টকাট মারার সময় ধরে ফেললাম ওকে, গাছপালার জঙ্গলের ভিতরে অন্ধকারমত একটা জায়গায় নিয়ে গিয়ে গলাটা চিঁড়ে দিলাম, মৃতদেহটা দেখে খুব মায়া লেগে গিয়েছিল তাই ওখানেই একটা গর্তের ভিতরে স্বযত্নে কবর দিলাম ওকে, এখন পর্যন্ত ওর লাশটা কেউ খুঁজে পায়নি, পুলিশ ধরার আগে পর্যন্ত প্রতিদিন একবার হলেও যেতাম ওর কবরে, অনেক যত্ন করতাম কবরটার।

এই ঘটনার বেশ কয়েকদিন পরে দেখলাম ওকে, মেয়েটার আত্না। সাদা ধোঁয়াশার মত স্বচ্ছ, শান্ত, চুপচাপ। আমার বিছানার পায়ের দিকে দাঁড়িয়েছিল, তাকিয়ে ছিল শুধু, কিছু যেন খুঁজছে, বুঝতে চাইছে। স্বাভাবিকভাবেই, প্রথমবার ভয়ে আধমরা হয়ে গিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম প্রতিশোধ নিতে এসেছে বোধহয়, বা ভয় দেখাতে চাইছে অথবা নিদেনপক্ষে যাতে আমি নিজে থেকে আত্নহত্যা করি সেই চেষ্টা করবে। কিন্তু কিচ্ছু না, ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকলো, চুপচাপ তাকিয়ে থাকলো, কি এক গভীর মনযোগে দেখছে আমাকে। পুরোটা সময় এমনভাবেই কাটালো ও। তাড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করলাম, লবন আর লোহা আনলাম, সিনেমায় যেমন দেখায় আর কি, কিন্তু কিছুই হল না। তাড়াতে পারলাম না, ধরার চেষ্টা করেও ধরতে পারলাম না আর ওটাও ধরল না আমকে। সারাক্ষণ আমার সাথে সাথে ঘুরতে লাগলো, ছায়ার মত। হয়ত আশা করছে আমার অনুতাপ হবে, আমার বিবেকে ধাক্কা লাগবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, ওসব কিছু নেই আমার, বিবেকের দংশন হল না আমার।

অনুতাপের বদলে আত্নার সংখ্যা বাড়ানোর একটা অদম্য পৈশাচিক ইচ্ছা মাথা চাড়া দিয়ে উঠল আমার অবচেতন মনে। খুঁজতে শুরু করলাম পরের শিকার। ইন্টারনেটে একটা ডেটিং সাইট থেকে ত্রিশ বত্রিশ বছরের হোমসেক্সুয়ালকে বেঁছে নিলাম, প্রলোভন দেখিয়ে একটা গলির মধ্যে ডেকে এনে কেটে দিলাম গলাটা, শরীরের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো কেটেছিঁড়ে বের করে ফেললাম, কবর দেয়ার কষ্টটা আর করলাম না, পচে যাক নরকের কীট। এটা আমার চেনা পরিচিতদের মধ্যে প্রথম শিকার, আর এই খুনটা করেই “মধ্যরাতের খুনী” উপাধি পেয়ে গেলাম আমি, তার কারণও আছে, মাঝ রাতের পর খুন করতে সুবিধা আর ভালোও লাগত আমার।

যেমন ভেবেছিলাম, ঘুম থেকে উঠে দেখালাম আমার সংগ্রহে এখন একটা না দুই দুইটা আত্না আছে। লরার পাশে গতরাতের ছেলেটা, মুখের ভাবভঙ্গী লরার মতই, কোন পার্থক্য নেই। এই মুখভাব আমি আরও আরও বেশী করে দেখতে চাই, সবকিছু যখন ঠিকঠাকমতই চলছে চলুক না, থামবো কেন, বেশ ভালোই তো লাগছে।

সুতরাং খুন করে চললাম, আরও আরও বেশী, আরও আরও সুচারুভাবে। একইসাথে ভূতের সংগ্রহ বেড়ে চলেছে, প্রত্যেকটা খুনের পর একটা একটা করে বেড়ে চলেছে ওদের সংখ্যা। প্রায় একটা ছোটখাটো আর্মি তৈরী হয়ে গিয়েছিল আমার, ছায়ার মত অনূসরণ করে, তাকিয়ে থাকে আমার দিকে, সারাক্ষণ, একদৃষ্টিতে। ওহ কেউ যদি দেখতে পারত আমার মত ...... প্রত্যেকটা মুখ যেন এক একটা মহিমার গুণ কীর্তন করছে, হাতের নিখুঁত কাজের উপঢৌকন। প্রতিটা মুখ দেখে তাকে মেরে ফেলার রাতের কথা মনে করি আমি। কি এক আনন্দে আপ্লুত হয়েছিলাম আমি, আমার ছোট এই জীবনের সবথেকে ভালো সময়টা কাটছিল।

হটাত একটা ঘটনা সব আনন্দকে মাটি করে দিল। কেউ একজন খুব বুদ্ধিমানের মত আমার কাজের নকল করতে শুরু করল, ইংরেজিতে যাকে বলে কপিক্যাট, আর আমি ঠিক যেভাবে খুন করি, যে সময়ে খুন করি সেও সেইভাবেই, সেসময়ই খুন করতে শুরু করল। কিন্তু সমস্যা হল, আমার মত এলোপাথারিভাবে শিকার না ধরে বরং আমি যাদেরকে খুন করেছিলাম তাদের পরিবারের মানুষদের বেঁছে বেঁছে খুন করতে লাগলো সে। তাদের বাবা, মা, চাচা, ভাই, বোন। অগত্যা বাধ্য হয়ে ওকে খুঁজে বের করলাম আমি। প্রথমশ্রেণীর গর্ধব একটা মানুষ, কিন্তু আমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এতটাই মুগ্ধ সে আমার কাজে যে অটোগ্রাফ পর্যন্ত চেয়ে বসল। দিয়েছিলাম ওকে অটোগ্রাফ .. ওর রক্ত দিয়েই সাইন করেছিলাম। কিন্তু ঘটনা এই কপিক্যাটকে নিয়ে নয়, ঘটনা ঘটল ওকে মারার পর।

সকালবেলায় ওর আত্নাটা স্বাভাবিকভাবেই অন্যদের সাথে এসে দাঁড়ালো কিন্তু এই প্রথম, ওরা কেউই আমার দিকে তাকিয়ে না থেকে নতুন অতিথিকে স্বাগত জানাতেই যেন বেশী ব্যস্ত হয়ে উঠল।

ওরা ওকে অত্যাচার করতে শুরু করল। নির্মমভাবে, নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত করে ফেলল। এমনকি যে আমি ওদেরকে দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, সেই আমিও ওদের এই বর্বর নির্যাতন আগাগোড়া দেখে যেতে বাধ্য হলাম, শতচেষ্টাতেও চোখ সরাতে পারছিলাম না। লোকটার উপর মায়াই হতে লাগল আমার।

আর ঠিক তখনই, আমি বুঝে ফেললাম। বুঝে ফেললাম কেন ওরা আমাকে ছায়ার মত অনুসরণ করে। কেন তারা কিছু বলে না। কেন তারা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
অপেক্ষা করছে ওরা।

ওরা অপেক্ষা করছে আমার পালা আসার। সবশেষে আমি যখন ওদের দুনিয়ায় ঢুকবো, ওরা আমার উপর ওদের প্রতিশোধটা নিবে। যেমনভাবে ওদের পরিবারকে খুন করার অপরাধে এখন ওই কপিক্যাটটার উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। আমার জন্যও কোন পরিকল্পনা নিশ্চয় আছে ওদের, এখন শুধুই অপেক্ষা, আমার যাওয়ার। আর আত্না হিসাবে কিইবা করার আছে ওদের অপেক্ষা করা ছাড়া।

ক্ষমা চাইতে চাইতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি আমি, কেঁদেছি, পালাতে চেয়েছি, কিন্তু কোন লাভ হয়নি। আঠার মত লেগে আছে আমার সাথে, ভবিতব্যকে বদলানোর কোন উপায় আর নেই আমার হাতে। শেষপর্যন্ত হাল ছেঁড়ে দিয়েছি।

এখন পুলিশ আমাকে ধরে ফেলেছে, খুব তাড়াতাড়িই হয়ত ইলেকট্রিক চেয়ারেও বসিয়ে দিবে, প্রচণ্ড ভয় করছে আমার। আতঙ্কে ঘুমাতে পারি না আমি কারণ আমিই পৃথিবীর একমাত্র ব্যক্তি যে জানে মৃত্যুর পর তার জন্য কি অপেক্ষা করে আছে। নিজের হাতে হত্যা করা অতৃপ্ত আত্নারা অনন্তকাল ধরে নির্যাতন করে যাবে আমাকে। এটা ওরা ভালোভাবেই জানে, অপেক্ষাও করছে সেই কারণে, এখনো তাকিয়ে আছে আমার দিকে, শুনছে আমার কথা, আমার স্বীকারোক্তি। আমাকে পাওয়ার পর আগের মত ব্যবহার আর করবে না ওরা, ওদের এই মুখের ভাব বদলে যাবে আমূল।

না ভুল বললাম, আমার মৃত্যুর পর না, এখনই বদলে গেছে, হাসছে ওরা, এই প্রথম।

------
ব্যক্তিগত সংগ্রহ।
মুল গল্পঃ ডিয়েগো গঙ্কালভেস।
অনুবাদকঃ হাফিজুর রহমান।

27/05/2025
Curious.
04/10/2023

Curious.

New international Terminal.
25/08/2023

New international Terminal.

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hafizur Rahman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share