10/09/2024
বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটা মাজার ভাঙ্গায়, আমাদের কিছু হুজুগে মুসলিমদের বক্তব্য-
১. যারা ইসলামের নামে মাজার ভাঙ্গা হালাল করতেছে।
তাদের বলবো, আজমীর শরীফ ভাঙ্গেন, শাহারাস্তি মাজার ভাঙ্গেন বা পারিবারিক কবরস্থান ভাঙ্গেন, দেখি শরিয়ত কোন দিকে কথা বলে।
২. অতি আবেগী হয়ে কিছু বিষয়ে বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।
৩. মাজার-দরগা শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের অংশ। অলি আউলিয়ারদের মাজার অসাম্প্রদায়িকতা ও বিভিন্ন মতের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নিদর্শন।
তাঁদের জন্য কিছু কথা- এতো সাধু সাজার দরকার নাই। দিক দুইটা আছে, এক ডানপন্থী অন্যটা বামপন্থী এর মাঝখানে আর কিছুই নেই। এক হয় মহান রব আল্লাহকে নিজের সকল ইবাদতের একমাত্র সত্তা হিসেবে মেনে নেওয়া, আর না হয় অন্য কাউকে। স্বয়ং আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম এর জন্য কোন ইবাদত করা জায়েজ নেই, আর থাক অন্য কোন মানুষ। আর আল্লাহর ইবাদতের জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্টতম জায়গা হচ্ছে মসজিদ। এই ছাড়া আর অন্য কিছু নয়। যে কোন মাজারেই, যদি সেখানে ফিতনার আশঙ্কা থাকে, সেটা যত বড় বুজুর্গই হোক না কেন, তা ভেঙ্গে ফেলতে হবে। আর আমাদের মত হুজুগে বাঙালিদের জন্য তো আরো আগে ভাঙতে হবে। সকল আলেম-ওলামারা সবাই একমত যে, যে কোন বুজুর্গ ব্যক্তির মাজার এই জন্যই হতে পারে যে, আমরা সেটা ভ্রমণ করতে পারি এবং তার জীবন দর্শন সম্পর্কে জানতে পারি। হয়তো এতে আমাদের মধ্যে দ্বীনের ব্যাপারে সমীহ করে তোলবে।
প্রথমত, ইসলাম কখনোই মাজারকে হালাল করেনি(সেটা নিচের হাদিসগুলো দেখলেই বুজতে পারবো। আবার এই কথাও বলতে পারো, যে পৃথিবীতে তো অনেক মজার আছে। থাকতে পারে যেখানে বাড়াবাড়ি হচ্ছে ভেঙ্গে বলতে হবে। কারণ তারা পথভ্রষ্ট।)
ইসলাম আবেগ দিয়ে চলে না, চলে আল্লাহর রাসূল এবং আল্লাহর কথায়। দুনিয়ায় কি হচ্ছে না হচ্ছে, সেটা বিবেচনার চেয়েও বড় হচ্ছে ,আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের কথা প্রতিষ্ঠা করা এটা আমাদের দায়িত্ব। যদি নিজেকে মুসলিম মনে করি তাহলে এটাই আমাদের দায়িত্ব। কারন এই দুনিয়া আমাদের মূল গন্তব্য না।
’উমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি নবী (সা.) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন:
لاَ تُطْرُوْنِيْ كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ، فَقُوْلُوْا: عَبْدُ اللهِ وَرَسُوْلُهُ
‘‘তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে কখনো বাড়াবাড়ি করো না যেমনিভাবে বাড়াবাড়ি করেছে খ্রিষ্টানরা ’ঈসা বিন্ মার্য়াম্ (আ.) এর ব্যাপারে। আমি কেবল আল্লাহ্ তা’আলার বান্দাহ্। সুতরাং তোমরা আমার সম্পর্কে বলবে: তিনি আল্লাহ্ তা’আলার বান্দাহ্ এবং তদীয় রাসূল’’। (বুখারী, হাদীস ৩৪৪৫, ৬৮৩০)
’আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আন্হা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: উম্মে হাবীবাহ্ ও উম্মে সালামাহ্ (রা.) ইথিওপিয়ায় একটি গির্জা দেখেছিলো যাতে অনেকগুলো ছবি টাঙ্গানো রয়েছে। তারা তা রাসূল (সা.) কে জানালে তিনি বলেন:
إِنَّ أُوْلآئِكَ إِذَا كَانَ فِيْهِمُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ فَمَاتَ، بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا، وَصَوَّرُوْا فِيْهِ تِلْكَ الصُّوَرَ، فَأُوْلآئِكَ شِرَارُ الْـخَلْقِ عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
‘‘নিশ্চয়ই ওরা তাদের মধ্যে কোন ওলী-বুযুর্গ ইন্তিকাল করলে তারা ওর কবরের উপর মসজিদ বানিয়ে নেয় এবং এ জাতীয় ছবিসমূহ টাঙ্গিয়ে রাখে। ওরা কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা’আলার নিকট সর্ব নিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসেবে সাব্যস্ত হবে’’। (বুখারী, হাদীস ৪২৭, ৪৩৪, ১৩৪১, ৩৮৭৩ মুসলিম, হাদীস ৫২৮ ইবনু খুযাইমাহ্, হাদীস ৭৯০)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্ঊদ্ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন:
إِنَّ مِنْ شِرَارِ النَّاسِ مَنْ تُدْرِكُهُمُ السَّاعَةُ وَهُمْ أَحْيَاءُ، وَالَّذِيْنَ يَتَّخِذُوْنَ الْقُبُوْرَ مَسَاجِدَ
‘‘সর্ব নিকৃষ্ট মানুষ ওরা যারা জীবিত থাকতেই কিয়ামত এসে গেলো এবং ওরা যারা কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করলো’’।
(ইবনু খুযাইমাহ্, হাদীস ৭৮৯ ইবনু হিববান/ইহ্সান, হাদীস ৬৮০৮ ত্বাবারানী/কাবীর, হাদীস ১০৪১৩ বায্যার/কাশ্ফুল আস্তার, হাদীস ৩৪২০)
আবু ওয়াইল (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, আবুল হাইয়ায আলা-আসাদীকে আলী (রাঃ) বললেন, আমি এমন এক কাজের দায়িত্ব দিয়ে তোমাকে পাঠাব যে কাজ করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসায়াম আমাকে পাঠিয়ে ছিলেন। কোন ধরণের উচু কবরকে সমান না করে ছাড়বে না এবং কোন প্রতিকৃতি না ভেঙ্গে রাখবে না।
সহীহ, আল আহকাম (২০৭) ইরওয়া (৭৫৯), তাহজীরুস সাজিদ (১৩০) , মুসলিম