23/05/2026
সুবিধাভোগী দুনিয়ায় তেলের তেলেসমাতি
—————————————————————
আজকের বাস্তবতায় আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে অনেক সময় যোগ্যতার চেয়ে “তেলের জোর” বেশি কাজ করে। এখানে দক্ষতা নয়, কথার মাধুর্য; পরিশ্রম নয়, তোষামোদ—অনেক ক্ষেত্রেই এগুলোই হয়ে ওঠে এগিয়ে যাওয়ার শর্টকাট।
এই “তেলের তেলেসমাতি” আসলে এক ধরনের সূক্ষ্ম খেলা। বাইরে থেকে এটা ভদ্রতা, সম্মান বা loyalty মনে হতে পারে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে এটা সত্যকে আড়াল করে, ভুলকে ঢেকে রাখে, আর সঠিক মানুষকে পিছিয়ে দেয়।
যারা তোষামোদে পারদর্শী, তারা খুব ভালো করেই জানে
কখন কী বলতে হবে, কাকে খুশি রাখতে হবে, আর কোন সত্যটা চেপে যেতে হবে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা অনেক সময় বাস্তবতা না দেখে “শুনতে ভালো লাগে” এমন কথার উপর নির্ভর করেন।
এর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় দুইভাবে—
প্রথমত, যোগ্য মানুষ ধীরে ধীরে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে। তারা বুঝতে পারে, এখানে দক্ষতার চেয়ে “কাকে খুশি রাখা যায়” সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত, সমাজ, রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠান নিজের অজান্তেই ভুল পথে হাঁটা শুরু করে। কারণ, সত্যিকারের feedback আর পৌঁছায় না।
এই সুবিধাভোগী দুনিয়ায় সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো—এখানে তোষামোদ শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়।একসময় এমন অবস্থা তৈরি হয়, যেখানে সবাই জানে কী হচ্ছে, কিন্তু কেউ আর সত্য বলার সাহস করে না।
তবুও আশা আছে।কারণ ইতিহাস বলে, টেকসই সাফল্য কখনো তোষামোদের উপর দাঁড়িয়ে থাকে না। শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে সততা, যোগ্যতা এবং স্পষ্ট কথা বলার সাহস।
শেষ কথা:“তেলের তেলেসমাতি সাময়িক সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি উন্নতির পথ বন্ধ করে দেয়।”