27/02/2026
ড্রয়িংরুমে হয়তো সবাই ইফতার শেষে বা তারাবির পর বসে আড্ডা দিচ্ছে। হাসি-তামাশা, গল্প, চা–নাস্তা—সব মিলিয়ে সুন্দর একটা মুহূর্ত। আপনিও তাদের সাথেই সোফায় বসে আছেন। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, আপনি পুরোপুরি উপস্থিত—ফিজিক্যালি আর মেন্টালি দু’ভাবেই।
কিন্তু সত্যিটা কি তাই?
আপনার ব্রেনের ভেতরে তখনও একটা “ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস” নীরবে রান করছে।
অথেনটিকেশন টোকেনটা এক্সপায়ার হয়ে গেল নাকি?
ওই স্পেসিফিক API কলটা এত স্লো কেন রেসপন্ড করছে?
কাল সকালে ক্লায়েন্ট ডেমোর আগে বাগটা ঠিক করতে পারবেন তো?
মানুষ ভাবে, আমরা শুধু এসি রুমে বসে কিবোর্ডে টাইপ করি।
কিন্তু শূন্য থেকে একটা পুরো সিস্টেম আর্কিটেকচার মাথার ভেতর দাঁড় করানো, শত শত লজিক একসাথে কানেক্ট রাখা—এই অদৃশ্য মানসিক চাপটা কতটা গভীর, সেটা নন-টেক কাউকে বোঝানো সত্যিই কঠিন।
মাঝরাতে যখন একটা লজিক মিলতে চায় না, চোখ জ্বালা করে, মাথা ধরতে থাকে—তখন নিজেকেই প্রশ্ন করি, “কী দরকার ছিল এই প্রফেশনে আসার?”
একটা নরমাল ৯টা–৫টার চাকরি করলে হয়তো অন্তত ব্রেনটা কিছুটা রেস্ট পেত!
ধীরে ধীরে ইমপোস্টার সিনড্রোম গ্রাস করতে শুরু করে। মনে হয়—আমাকে দিয়ে বুঝি আর হবে না।
কিন্তু পরদিন সকালে যখন বুঝতে পারেন—সব কিছুর পেছনে ছিল একটা ছোট্ট সেমিকোলন, একটা ব্র্যাকেটের ভুল—আর সেটি ঠিক করার পর আপনার কয়েক লাইন কোড হাজার মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান করে দেয়…
তখন আগের রাতের সব হতাশা এক মুহূর্তেই উধাও হয়ে যায়।
আমরা আসলে শুধু কোড লিখি না।
আমরা নতুন এক একটা দুনিয়া তৈরি করি—যেখানে নিয়মগুলো আমাদের লজিক দিয়ে গড়া।
এই সৃষ্টির নেশাটাই হয়তো আমাদের সব মানসিক চাপের মাঝেও টিকিয়ে রাখে।
আপনাদের কি কখনো এমন হয়েছে?
ফ্যামিলি বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছেন, অথচ মাথার ভেতর কোড ডিবাগিং চলছে?
এই অদৃশ্য প্রেশারটা আপনারা কীভাবে হ্যান্ডেল করেন?
শেয়ার করুন। 💬