17/07/2026
লম্বা সময় পর কোন কাজ দেখলাম যা দেখে মনে হলো খুবই সুন্দর ধরনের রাইটিং দেখলাম।
ড্রামার গল্প শুরু হয় টক-শো চলাকালীন টেলিভিশন লাইভে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু দিয়ে। ড্রামার একদম প্রথম সিকুয়েন্সই ছিল এটা। তারপর দেখানো হয় এক অদ্ভুতুরে ব্যক্তিকে যিনি বাষ্পে পরিণত হতে পারেন। নিজের শরীরকে বাষ্প বানিয়ে যেভাবে খুশি কন্ট্রোল করতে পারেন। অনেকটা ওয়ান পিসের লোগিয়া পাওয়ারের মত।
শুরুর দুই এপিসোড দেখে মনে হচ্ছিল প্রথাগত অ্যাকশন থ্রিলার হবে একটু-আধটু ফ্যান্টাসি মিলিয়ে। এই টাইপ জিনিস আবার আমাকে খুব বেশি টানে না। ছেড়ে দিতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু কাস্টিংয়ে দুই পছন্দের শিল্পী থাকায় কন্টিনিউ করেছি।
ড্রামা শেষ করার পর উপলব্ধি করলাম যে কন্টিনিউ করে ভালো করেছি। এই গল্প যে এতটা গভীর এবং ইমোশনাল হবে তা প্রত্যাশা করিনি। গল্পটাকে ধীরে ধীরে খুব সুন্দরভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। অনেক ইন্টারেস্টিং জিনিস দেখানো হয়েছে, পাশাপাশি অনেক ক্ষুব্ধ হওয়ার মত জিনিসও দেখানো হয়েছে। আবেগে আপ্লুত করে অশ্রুসিক্ত করার করার মত জিনিসও আছে।
রহস্যগুলো খুব সুন্দরভাবে সময় নিয়ে দক্ষতার সাথে রিভিল করা হয়েছে। ড্রামার টুইস্টগুলো শক ভেল্যু হিসেবে ফ্যান্সি স্টাইলে ইউজ করা হয়নি। বরং সুক্ষ্মভাবে সবকিছু সময়মত স্টোরিতে আনা হয়েছে।
যদিও ড্রামায় আমার প্রিয় দুই শিল্পী; Shun Oguri এবং Yu Aoi অভিনয় করেছেন, তবে তাদেরকে ছাপিয়ে গল্পটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। এই ড্রামার গল্প লিখেছেন সাউথ কোরিয়ার বিখ্যাত সিনেমা "Train to Busan (2016)" এর ডিরেক্টর Yeon Sang-ho.
এটা আমার দেখা শুন ওগুরি অভিনীত ১২তম ড্রামা। আমি মূলত সিনেমার দর্শক। ড্রামা বেছে বেছে দেখি। আমার মত অডিয়েন্স যদি কোন একজন শিল্পীর ১২ টি ড্রামা দেখে, তবে বুঝতে হবে তাঁর কোয়ালিটির উপর আমার আস্থা কতটা রয়েছে। আজ এত বছর পর এসেও শুন ওগুরির স্ক্রিন প্রেজেন্সের ঝাঁঝ একটুও কমেনি। এখনো তাকে স্ক্রিনে দেখলে ফ্যানগার্লদের মত ভ্যাদভ্যাদ করে হাসতে থাকি আমি।
খুব সুন্দর ড্রামা। এখানে ক্রাইম-থ্রিলারের জনরা ছাপিয়ে আপনাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করবে ড্রামার মানবিকতা। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন দেখা উচিত কিনা, আমি বলবো অবশ্যই দেখতে পারেন।
Human V***r (2026)
Language: Japanese