Z Team

Z Team বিশ্বের ইতিহাস তুলে ধরাই আমাদের কাজ। আমরা সত্যকে তুলে আনি প্রকাশ করি মানুষের নিকট।

যেখানে কুরবানির করা ছিল অপরাধ!  সেখানে এখন ঈদুল আজহা ৩দিনে কুরবানির হয় হাজার হাজার কুরবানির পশু।ফরিদপুরের আটরশিতে অবস্থি...
22/05/2026

যেখানে কুরবানির করা ছিল অপরাধ!
সেখানে এখন ঈদুল আজহা ৩দিনে কুরবানির হয় হাজার হাজার কুরবানির পশু।
ফরিদপুরের আটরশিতে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশাল আকারে কোরবানি ও তাবারক বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। এখানে একটি সুবৃহৎ কোরবানি শালা রয়েছে, যেখানে আগত লাখ লাখ ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য একসঙ্গে প্রায় ৫,০০০ (পাঁচ হাজার)অধিক গরু ও ছাগল কোরবানি করা হয়ে থাকে। বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ও জাকের পার্টির সুমহান প্রতিষ্ঠাতা হযরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (রহ.)-এর আগমন ও প্রচারের পূর্বে এই অঞ্চলে কোরবানির সঠিক নিয়ম ও ইসলামী অনুশাসন অনুপস্থিত ছিল। বর্তমানে তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এখানে বিশাল পরিসরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে কোরবানি উদযাপিত হয়।
কোরবানির পাশাপাশি দরবার শরীফে সার্বক্ষণিক জিকির-আজকার, কোরআন তেলাওয়াত ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত হয়।
বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের কুরবানির ইতিহাস :
প্রথমে আমি যেদিন আটরশিতে আসি-সেইদিন ছিল কোরবানীর ঈদের দিন। আমি দেখিলাম, সেই ঈদের দিনে লোকজন লাঙ্গল-জোয়াল লইয়া মাঠে যাইতেছে। এখানে নামাজ ছিল না-সমাজ ছিল না। ধনী, মানী, জ্ঞানী, গুণী লোক ছিল না। গরু কোরবানী হইতো না। গরুর গোস্তকে এই এলাকার মোসলমানেরা অস্পৃশ্য মনে করিত। ইসলাম কি-তাহারা জানিত না। পার্শ্বেই ছিল হিন্দু জমিদারের বাড়ী। এই এলাকার মোসলমানগণ জমিদার বাড়ীর পূজায় অংশ গ্রহণ করিত; পূজার প্রসাদ খাইত। তাহারা হিন্দুয়ানী রীতিকে ভালবাসিত। হিন্দুয়ানী রীতিতেই চলিত।
ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধ তাহাদের কাছে অপরিচিত ছিল। আমার মনে হয়, আটরশির মত এত নিকৃষ্ট গ্রাম বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি ছিল না।
সেই ঈদের দিনে জনাব মহসীন উদ্দিন খান ও তদীয় অপর দুই ভাইকে লইয়া পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করিয়া খোদাতায়ালার নিকট এই দু'আ করিলাম, “হে খোদাতায়ালা! এই যে তিন/চার জন আমরা ঈদের নামাজ পড়িলাম। দয়া করিয়া তুমি এখানে বিশাল ঈদের জামাত কায়েম কর।”
মহান খোদাতায়ালার দয়ায় আজ এখানে বিশাল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
যাই হোক, ১৩৫৪ সনে প্রতিষ্ঠিত 'জাকের ক্যাম্প' হইতে ধুমধামে তরিকা প্রচারের কাজ চলিতে থাকে। ক্যাম্পের ছাউনী ছিল ছনের এবং বেড়া বা বেষ্টনী ছিল সুপারী গাছের খোলের। আমার এক পুরাতন মুরীদ, নাম কালু লস্কর। সেই আমাকে সুপারী গাছের খোল সরবরাহ করিত।ধীরে ধীরে আগন্তকদের ভিড় বৃদ্ধি পায়। ফলে ক্যাম্পের ক্ষেত্রও বাড়াইতে হয়। প্রথমে নিকটস্থ এলাকা থেকে, ততপর পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন, থানা, জেলা থেকে, এমনকি দেশের সর্বত্র থেকে দলে দলে মানুষ আসা শুরু করে। তাহাদেরকে তরিকা দিতাম, খোদাপ্রাপ্তির তালিম দিতাম। এই ভাবে প্রচার কার্য দ্রুত গতিতে চলিতে থাকে।
প্রথমে প্রচারকেন্দ্র হিসাবে ক্যাম্প ছিল ছনের তৈরী ঘর- যাহার বেড়া ছিল সুপারী খোলের। কয়েক বছরের ব্যবধানে ছনের তৈরী ক্যাম্পের জায়গা দখল করে টিনের তৈরী ঘর এবং বেড়াও দেওয়া হয় টিন দ্বারা।
তখন ক্যাম্পের নাম দেওয়া হয় “বিশ্ব জাকের মঞ্জিল।”
পূর্বেই বলা হইয়াছে, পীর কেবলাজান শত সহস্র পরীক্ষা নিরীক্ষার কষ্টিপাথরে যাচাই করিয়া এই মিছকীনকে খোদাপ্রাপ্তিতত্ত্বজ্ঞানের যোগ্য বলিয়া মনে করেন এবং আধ্যাত্মিক নেয়ামতে পরিপূর্ণ ডালা মাথায় দিয়া এই অজ পাড়াগাঁ আটরশিতে পাঠাইয়া দেন সত্য তরিকা, সত্য ইসলাম প্রচারের জন্য।
কেবলাজান হুজুরের নির্দেশে বাংলা ১৩৫৪ সন হইতে এই আটরশি হইতে সত্য তরিকা প্রচার কাজ শুরু করি। জনাব মহসিন খান ছাহেবের অতি ক্ষুদ্র একটি ছনের ঘর ছিল-যে ঘরে তিনি একটি বকনা বাছুর পালিতেন। আমি তরিকা প্রচারের স্বার্থে তাহার নিকট সেই ঘরটি চাইলে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাহা আমাকে প্রদান করেন। সেই ক্ষুদ্র ঘর হইতে তরিকা প্রচারের কর্মসূচী শুরু হয়।প্রতি সপ্তাহে একটি করিয়া জলসা করিতাম।
উপস্থিত খোদাঅন্বেষীদের তালিম দিতাম, সবক দিতাম। আল্লাহ ও রাসূলে পাক (সাঃ) এর মহব্বতপূর্ণ ওয়াজ নসিহত শ্রবণে সকলেই অশ্রুপাত করিত। প্রত্যেকটি জলসাতেই প্রচুর ফয়ে ওয়ারেদ হইত। ০৮ রশি, সাড়ে ০৭ রশি, ১৪ রশি, আড়াই রশি, ব্রাহ্মণ এলাকার জাকেরান ও আশেকানসকল মুষ্ঠি চাউল দিত।
ততকালীন সময়ে গরুও খুব সস্তা ছিল। ০৩/০৪ টাকায় মাঝারী আকৃতির গরু পাওয়া যাইত। জাকেরানদের দেওয়া মুষ্ঠি দ্বারা সাপ্তাহিক জলসা সম্পন্ন করিতাম। ধীরে ধীরে হেদায়েতের কলেবর বৃদ্ধি পায় খোদাতালাশীদের ভীড় জমে। ফলে এক বছর অন্তে পার্শ্ববর্তী গ্রাম হইতে মাত্র আট (০৮) টাকার বিনিময়ে একটি কুড়ে ঘর ক্রয় করি। কুড়ে ঘরটির নাম দেওয়া হয় “জাকের ক্যাম্প।” সময়ের বিবর্তনে, কালের ব্যবধানে সেই জাকের ক্যাম্প বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে পরিণত হইয়াছে।
সূত্রঃ- বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পরিচালনা পদ্ধতি।

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর পাক দরবার শরীফ, যা 'বিশ্ব শান্তি মঞ্জিল' নামে পরিচিত, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। ...
12/05/2026

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর পাক দরবার শরীফ, যা 'বিশ্ব শান্তি মঞ্জিল' নামে পরিচিত, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। হযরত শাহ সূফী সৈয়দ ইউনুছ আলী (রহঃ) প্রতিষ্ঠিত এই দরবার শরীফ মারেফাত তরিকার অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান এবং এখানে প্রতি বছর বিশাল ওরছ ও ফাতেহা শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।
এনায়েতপুর পাক দরবার শরীফ সম্পর্কে মূল তথ্য:
অবস্থান: যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুরে অবস্থিত।
প্রতিষ্ঠাতা: হযরত শাহ সূফী সৈয়দ ইউনুছ আলী (রহঃ), যিনি 'খাজা হুজুর' বা খাজাবাবা এনায়েতপুরী নামে পরিচিত, ১৮৮৬ সালে এখানে এই দরবার ও খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন।
পরিচয়: এটি আধ্যাত্মিক শিক্ষা, জিকির-আজগার এবং ইসলামের নেপথ্য সেবার জন্য একটি বিখ্যাত কেন্দ্র। এই দরবারের অনুসারীর সংখ্যা বাংলাদেশে কোটির উপরে বলে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমান কার্যক্রম: দরবার শরীফের বর্তমান গদ্দিনিশীন পীর ও মোর্শেদগণ ইসলামের দাওয়াতী কাজ ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা প্রচারের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রভাব: এই দরবার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ফরিদপুরের আটরশি, চন্দ্রপাড়া, টাঙ্গাইলের প্যারাডাইস পাড়া, এবং ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য দরবার ও খানকাহ গড়ে উঠেছে।
এনায়েতপুরী (রহঃ) এর তরিকতের মূল শিক্ষা হলো অন্তরে জিকির জারি রেখে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।

Mirza Ghalib এর পরিচয় ও ব্যক্তিগত জীবনমির্জা গালিব (পুরো নাম: মির্জা আসাদুল্লাহ বেগ খান) ছিলেন উর্দু ও ফার্সি সাহিত্যের ...
09/05/2026

Mirza Ghalib এর পরিচয় ও ব্যক্তিগত জীবন
মির্জা গালিব (পুরো নাম: মির্জা আসাদুল্লাহ বেগ খান) ছিলেন উর্দু ও ফার্সি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি ১৭৯৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর ভারতে Agra-তে জন্মগ্রহণ করেন। গালিবকে উর্দু গজলের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিদের একজন হিসেবে ধরা হয়। তাঁর লেখায় প্রেম, দুঃখ, দর্শন ও জীবনের জটিলতা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

মির্জা গালিবের ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে দুঃখজনক দিকগুলোর একটি ছিল তাঁর কোনো সন্তানই বেঁচে থাকেনি। তাঁর স্ত্রী Umrao Begum-এর গর্ভে কয়েকটি সন্তান জন্মালেও সবাই খুব অল্প বয়সেই মারা যায়।
গালিব অল্প বয়সে (প্রায় ১৩ বছর বয়সে) বিয়ে করেন Umrao Begum-কে, সেই সময় (১৮-১৯ শতকে) ভারতীয় সমাজে কম বয়সে বিয়ে হওয়া খুবই স্বাভাবিক ছিল, তাই গালিবের বিয়েটাও সেই সামাজিক রীতির অংশ ছিল।

তাঁর জীবনে আর্থিক কষ্ট ছিল সবসময়,সন্তানরা বেঁচে থাকেনি, যা তাঁকে গভীরভাবে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে।

তিনি Delhi-তে দীর্ঘদিন বসবাস করেন ১৮৫৭ সালের Indian Rebellion of 1857-এর সময় তিনি সেই পরিস্থিতির সাক্ষী ছিলেন।

মির্জা গালিব ছিলেন একটু ব্যতিক্রমী স্বভাবের তিনি মদ্যপান করতেন (তৎকালীন সমাজে যা বিতর্কিত ছিল),জীবন নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অনেকটা দার্শনিক ও বাস্তববাদীর মতো।

তিনি ১৮৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর কবিতা আজও মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত।

বেশকয়েটি পোস্টে দেখলাম মির্জা গালিবের চর্চা তাই আমারও তাকে জানার আগ্রহ বাড়লো, এর আগে চিনতাম না।

শহীদ সৈয়দ আহমাদ বেরলভী ছিলেন উনিশ শতকের অন্যতম সংস্কারক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘তরিকত-...
08/05/2026

শহীদ সৈয়দ আহমাদ বেরলভী ছিলেন উনিশ শতকের অন্যতম সংস্কারক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘তরিকত-এ-মুহাম্মাদিয়া’। উনিশ শতকের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, নৈতিক জাগরণ, সামাজিক শুদ্ধি ও অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে ক্রমান্বয়ে ‘তরিকত-এ-মুহাম্মাদিয়া’ সাধারণ জনমানুষের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ইংরেজদের অত্যাচার, লুটপাট ও ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনের মাধ্যমেই উপমহাদেশের অসংখ্য মুসলমান ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। ‘তরিকত-এ-মুহাম্মাদিয়া’র পর্যায়ক্রমিক ফলাফল হিসেবে ১৮৩১ সালের ৬ মে তৎকালীন উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের বালাকোট শহরে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়, যা ইতিহাসে ‘বালাকোট যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের মাধ্যমে ইংরেজরা এই উপমহাদেশের স্থানীয় অধিবাসীদের উপর যে আধিপত্যবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করে, তার বিরুদ্ধে বালাকোট যুদ্ধ ছিল অসীম বীরত্বের বহিঃপ্রকাশ।

১৮৩১ সালের ৬ মে শহীদ সৈয়দ আহমাদ বেরলভী বালাকোট যুদ্ধের ময়দানে শাহাদাত বরণ করেন। কিন্তু তাঁর দেখিয়ে যাওয়া পথ ধরেই পরবর্তীতে ব্রিটিশ অপশাসনকে রুখে দেওয়ার সাহস ও প্রেরণা পায় আরো অনেকেই। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর এবং ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তুল্লাহ। বালাকোট যুদ্ধের প্রান্তরে সৈয়দ শহীদ আহমাদ ও তাঁর সহযোদ্ধাদের বীরত্বসূচক শাহাদাত উপমহাদেশের পরবর্তী স্বাধীনতা সংগ্রামগুলোতে অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলো।

24/04/2026
আজ ১৬ মার্চ দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। এই রাত সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। ...
16/03/2026

আজ ১৬ মার্চ দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। এই রাত সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই রাত ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটান। ২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাতে শবে কদর হতে পারে।
তবে ২৬ রমজানের দিবাগত রাতেই শবে কদর আসে বলে আলেমদের অভিমত। শবে কদর উপলক্ষে ২৭ রমজান (১৭ মার্চ, মঙ্গলবার) সরকারি ছুটি।
শবে কদরের রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। এই রাতকে কেন্দ্র করে পবিত্র কোরআনে ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরাও আছে। ‘শবে কদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবে কদর অর্থ মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি অর্থ হলো লাইলাতুল কদর (সম্মানিত রাত)।
পবিত্র শবে কদরের রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এ রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত। সব সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে শবে কদরের রাতে প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাঃ-কে ইবনে মুলজিম নামে একজন খারেজি ৬৬১ সালের ২৬ জানুয়ারীতে বর্তমান ইরাকে অবস্থিত কুফার শাহী মস...
11/03/2026

হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাঃ-কে ইবনে মুলজিম নামে একজন খারেজি ৬৬১ সালের ২৬ জানুয়ারীতে বর্তমান ইরাকে অবস্থিত কুফার শাহী মসজিদে হত্যা করে। ৪০ হিজরীর ২১ (বা ১৯) রমজান (২৮ জানুয়ারী ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দ) এ ইবনে মুজলিম বিষাক্ত বিষে মাখা একটি তলোয়ার দিয়ে হযরত আলী রাঃ এর মাথায় আঘাত করে এবং এই আঘাতের কারণেই ঘটনার দুইদিন পর ৬২ বা ৬৩ বছর বয়সে হযরত আলী (রা.) শাহাদাত বরণ করেন।[২] হযরত উমর রাঃ ও হযরত উসমান রাঃ এর পর তৃতীয় খলিফা হিসেবে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন
৬৫৬ খ্রীস্টাব্দে হযরত উসমান রাঃ এর হত্যাকাণ্ডের পর হযরত আলী রাঃ খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হন। খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই মুয়াবিয়া ১ সহ বিভিন্ন গোত্র তার বিরোধিতা করতে থাকে। ইসলামী শাসনের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথম ফিৎনা নামে একটি সামরিক যুদ্ধ সংগঠিত হয় যা খোলাফায়ে রাশেদীনদের শাসনের ইতি ঘটায় এবং উমাইয়া শাসনের গোড়াপত্তন ঘটায়। ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা উসমান ইবনে আফফান রাঃ -র হত্যাকাণ্ডের পর এটি শুরু হয় এবং হযরত আলী আ:-র খেলাফতের চার বছরকাল ধরে যুদ্ধটি চলতে থাকে। সিফফিনের যুদ্ধে (৬৫৭) হযরত আলী মুয়াবিয়া ১ এর সাথে মধ্যস্থতা করতে রাজী হলে তার দলের কিছু সৈন্য তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে, পরবর্তীতে তারা খারেজী (যারা আলীকে ত্যাগ করেছিল) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তারা হযরত আলীর কিছু সমর্থককে হত্যা করে, তবে ৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দের জুলাইয়ে সংগঠিত নাহরাওয়ান যুদ্ধে আলীর সৈন্যরা তাদের ধ্বংস করে দেয় ।
ইবনে মুজলাম মক্কায় আল-বুরাক ইবনে আব্দ আল্লাহ এবং আমর ইবনে বকর আল-তামিমি নামক অন্য দুইজন খারেজীর সাথে সাক্ষাত করে এবং তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে মুসলমানদের দুর্দশার জন্য হযরত আলী রাঃ, মুয়াবিয়া এবং আমর ইবনে আস্ই, মিশরের শাসনকর্তা, দায়ী। নাহরাওয়ান যুদ্ধে তাদের সঙ্গীদের মৃত্যুর প্রতিশোধ এবং সে সময়কার শোচনীয় অবস্থা নিরসনের জন্য তারা এই তিনজনকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। হযরত আলীকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ইবনে মুলজাম কুফার পথে রওনা হন। সেখানে তিনি এক মহিলার প্রেমে পড়েন যার পিতা এবং ভাই নাহরাওয়ান যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন। মহিলাটি এই শর্তে বিয়ে করতে রাজী হয় যে যদি সে আলী হত্যা করতে পারে তাহলেই সে ইবনে মুজলামকে বিয়ে করবে। ফলস্বরূপ, কুফা শাহী মসজিদে ইবনে মুজলাম হযরত আলীকে ছুরিকাঘাত করেন। হযরত আলীর শাহাদাতের পর, হাসান ইবনে আলী ইবনে মুজলামকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন।

প্রাচীন কোচ রাজার ঐতিহ্যম-িত নদীঘেরা ছায়াঢাকা, সুশীতল মদন কোচ শাসিত অঞ্চলে ১০৫৩ সালের কিছু আগে ইসলামের ঝা-া হাতে সুফি সা...
10/03/2026

প্রাচীন কোচ রাজার ঐতিহ্যম-িত নদীঘেরা ছায়াঢাকা, সুশীতল মদন কোচ শাসিত অঞ্চলে ১০৫৩ সালের কিছু আগে ইসলামের ঝা-া হাতে সুফি সাধক হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.)-এর আগমন ঘটে।পশ্চিম এশিয়ার সেলজুক রাজবংশের তুরস্ক সুলতানের সহোদর হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) জাতিতে ছিলেন তুর্কি। উল্লেখ্য যে রোম (ইতালি) সাম্রাজ্য বিজয়ী তুরস্ক রাজ্যকেই অন্য নামে রোম সাম্রাজ্য বলা হতো এবং শাসকদের বলা হতো রুমি। সুলতানের কনিষ্ঠ ভ্রাতা হিসেবে তাকেও শাহ সুলতান উপাধিতে অভিহিত করা হয়। হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) ১২০ জন সুফি সাধকের সংঘবদ্ধ দল নিয়ে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল চট্টগ্রামে প্রথম পদার্পণ করেন। সেখান থেকে ১২০ জনের ওই আউলিয়ার দলটি ধর্ম প্রচারের জন্য বেশ কয়টি ভাগে বিভক্ত হয়ে একটি দল পা-ুয়ার রাজধানী মহাস্থানগড় (বগুড়া) অভিমুখে রওনা হন এবং সেখানকার প্রভাবশালী রাজা পরশুরামকে ইসলামের দাওয়াত দেন। সে দাওয়াত পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পরশুরাম সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হয়। অতর্কিত এ যুদ্ধে ১২০ জনের দাওয়াতি দলের সেনাপতি হযরত শাহ সুলতান সৈয়দ মাহমুদ মাহিসোয়ারসহ শাহ কাবিল গাজী, হটিয়া গাজী, শাহ এরফান গাজী, শাহ মাসউদ গাজী, শাহ মিঞা গাজী, শাহ ফাররুখ এই সাতজন বীর আউলিয়া শহীদ হন। এই সেনাপতি হযরত শাহ সুলতান সৈয়দ মাহমুদ মাহিসোয়ারেরই সমাধি বগুড়ার মহাস্থানের হযরত শাহ সুলতানের মাজার নামে পরিচিত।হযরত শাহ সুলতান সৈয়দ মাহমুদ মাহিসোয়ারের শহীদ হওয়ার সংবাদ পেয়ে হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী অন্যত্র ইসলামের প্রচারকাজ সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করে তার বাহিনী অর্থাৎ কায়কাউস নামে আউলিয়া দল নিয়ে মহাস্থানে গমন করেন। তিনি সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত না হয়ে পরশুরামকে প্রস্তাব পাঠান যে মিথ্যা পৌত্তলিকতাবাদকে ছেড়ে কুসংস্কারের অন্ধকার ভেদ করে আল্লাহর একত্ববাদ ও তার প্রেরিত পুরুষ হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে মেনে নিতে। এতে বিজয় উল্লাসে থাকা রাজা পরশুরাম ক্ষেপে গিয়ে প্রেরিত দূত হযরত তাপস মল্লিককে বন্দি করে ফেলে। অনন্যোপায় হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রা.) রণপ্রস্তুতি নিতে বাধ্য হয়ে রাজা পরশুরামকে আক্রমণ করে তাকে পরাজিত ও নিহত করে সব বরেন্দ্রভূমি দখল করেন। এরই মধ্যে জয় করা এলাকাগুলোর বেশির ভাগ লোক দলে দলে ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হতে থাকে।পরশুরামকে হত্যার ফলে বরেন্দ্রভূমি হাতে এলে সেখান থেকে যুমনা নদী পাড়ি দিয়ে বরেন্দ্র এলাকার পুব দিকে সুশিক্ষিত কায়কাউস নামক বাহিনী নিয়ে রওনা হন এবং জামালপুরের (বর্তমান) দুর্মুট নামক জায়গায় আস্তানা স্থাপন করেন। সেখানে ধর্মীয় প্রচারাভিযান নির্বিঘেœ চালনা শেষে সেখান থেকেই ১৩ (তেরো) জন আউলিয়ার একটি বাহিনী আবার বরেন্দ্রভূমির মহাস্থানের দিকে পাঠান।হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) দুই আউলিয়ার ওপর দুর্মুটের দায়িত্ব দিয়ে তার শিক্ষাগুরু সৈয়দ মহীউদ্দিন সুর্খুল আম্বিয়া সুরতনী (র.)সহ ৪০ জনের কায়কাউস বাহিনী নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পুবপাশে কামরূপ এলাকার ছোট ছোট পৌত্তলিক ধর্মাশ্রয়ী সামন্ত রাজাদের এলাকা জয় ও ইসলামের প্রচারকাজ সিদ্ধির জন্য এগিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরের বালুর চরে এসে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। বোকাই নগর থেকে কায়কাউস বাহিনী মদন কোচের রাজ্যাভিমুখে যাত্রা করেন; মদন কোচ আগে থেকেই এ কায়কাউস বাহিনীর যুদ্ধ কাহিনী ও রাজা পরশুরামের পরাজয়ের কথা জানতে পায়। যখন শুনতে পায় ব্রহ্মপুত্রের পশ্চিমাংশ থেকে কায়কাউস বাহিনী বিভক্ত হয়ে মাত্র কয়েকজনের এক বাহিনী আসছে, তখন মদনকোচ অনেকটা আশ্বস্ত হয়। সে খতিয়ে দেখেনি যে কায়কাউস বাহিনীর রণদক্ষ ব্যক্তিরাই এ ফকির বেশে আসছে।হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) রাজা মদনকোচের রাজদরবারে না গিয়ে দামছাপুর (নন্দিপুর) গ্রামে প্রথম আস্তানা গড়েন। কিছুদিন অবস্থানের পর কাংসার ঘাট (সৈয়দ ফজল) নামক স্থানে আস্তানা স্থাপন করেন। শেষে এ কোচ রাজ্যের রাজধানীর পশ্চিমে ঝিটাই নদীর দক্ষিণ তীরে বিনাবাধায় প্রবেশ করে নামাজ আদায় করেন ও ধ্যানমগ্ন শেষে বলেন যে, ‘এখানেই আমার হয়তো শেষ পর্যায়। অর্থাৎ মদনকোচের রাজ্যের অভিযানই শেষ অভিযান।’ যে জায়গায় হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) নামাজ আদায় করেছিলেন, সে জায়গা কোনো শর্ত ছাড়া তাদের দান করার প্রস্তাব দিয়ে অনুগত রূপস মল্লিককে মদনকোচের রাজদরবারে দূত হিসেবে পাঠান।রাজদরবারে প্রস্তাবটি তুললে প্রথমবারে তার বোন নন্দিনী মানব বলিদানের ভয় দেখিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। দ্বিতীয়বার যখন একটি জায়নামাজের সমপরিমাণ স্থানের আবেদন করা হয়, তখন তুচ্ছজ্ঞানে মঞ্জুর করেন। তার পরই মদনকোচের মনে সন্দেহ দেখা দেয়। সে চিন্তা করল বিদেশীরা নিশ্চয় গুপ্তধনের খোঁজ পেয়েছে। সে মুহূর্তেই সৈন্যবাহিনী নিয়ে হাজির হলো দান করা জায়গায়।
তখন হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) আসরের নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজ শেষ হলে মদনকোচ তার সৈন্যদলের সদস্যদের জায়নামাজের নিচের স্থান খনন করার আদেশ দিলেন, কিন্তু কোনো ধনের খোঁজ পাওয়া গেল না। হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) মদন কোচের মনের সন্দেহ বুঝতে পেরে তার তা অবসানের চেষ্টা করেন। তখনই জায়নামাজটি শূন্যে ছুড়ে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে জায়নামাজটি শূন্যে বিদ্যুৎ বেগে সম্প্রসারিত হতে থাকে এবং অগ্নির লেলিহান শিখার মতো বা হাজার হাজার ফণাধারী সাপের মতো অব্যক্ত শো শো শব্দে মদনকোচের রাজ্য আচ্ছাদিত হয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভীতসন্ত্রস্ত মদনকোচ উপায় জ্ঞানশূন্য হয়ে বাঁচার আকুতি জানায়। তখন হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.)-এর প্রস্তাব ছিল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ, বশ্যতা স্বীকার অথবা যুদ্ধ, এর যেকোনো একটি বেছে নেয়ার জন্য। মদনকোচ ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কথাই স্বীকার করে। আগামী দিন তার ধর্মান্তরিত অনুষ্ঠানে ও ভোজসভায় যোগদানের প্রস্তাব দিলেন এবং সেখানেই সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের অঙ্গীকার করেন। হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) প্রস্তাব মেনে নেন। আগামীকাল তার প্রাসাদে যাবেন ও ধর্মান্তরিত অনুষ্ঠান ও ভোজসভায় যোগ দেবেন। প্রস্তাবমাফিক জায়নামাজ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন। পরদিন দল নিয়ে তিনি রাজপ্রাসাদে উপস্থিত হলেন, ধর্মান্তরিত অনুষ্ঠানের আগেই ভোজনপর্ব, তাই সন্দেহের উদ্রেক হলো। ধ্যানমগ্ন হয়ে আউলিয়া হযরত শাহ সুলতান (র.) চিৎকার দিয়ে সাবধানবাণী উচ্চারণ করে বলে উঠলেন, এ রাজভোগে বিষ দেয়া আছে। সুতরাং কেউ খাবে না। মদনকোচ নিজেকে সামলিয়ে রাজভোগে দেয়া চৌদ্দতোলা পরিমাণ বিষ থাকা সত্ত্বেও অস্বীকার করে এবং হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.)-কে ওয়াদা ভঙ্গকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে। শাহ সুলতান রুমী (র.)-এর মনে দারুণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলো, তিনি কখনো খেতে ওয়াদা করেননি। তখনো সত্য চাপা দিয়ে মিথ্যার আশ্রয়ে নিজেকে সঠিক বলে মদনকোচ দৃঢ় থাকল।
তখন শুধু শাহ সুলতান রুমী (র.) নিজেই খাবার খাবেন কিন্তু সহযোগী কেউ খাবে না ঠিক হলো। সৈয়দ মহীউদ্দিন সুর্খল আম্বিয়া সুরতনী (র.)-কে একটি আশা দিয়ে আধ্যাত্মিকতার পানি উত্তোলন করে জ্ঞানহীন তার দেহে ছিটিয়ে দেয়ার কথা বলেন। খাবার খাওয়ার পর জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়লে কথামতো সৈয়দ মহীউদ্দিন সুর্খুল (র.) সব কাজ শেষ করলে, তিনি জ্ঞান ফিরে পান। তখনই হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.)-এর পা জড়িয়ে ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করে মদনকোচ সপরিবার ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে গেলেন। মদনকোচকে নীরবে এ পরাজয় বরণ করে নিতে হলো আর আউলিয়া দলের স্থান হলো রাজদরবারের রাজা ও সভাসদদের ওপরে। কিছুদিন পর মদনকোচ সপরিবারে নৌকায় করে গারো পাহাড়ের দিকে নিজ পরিচয় গোপন রেখে রওনা দিলে পথে মারা যান তার পরিবারসহ। আজ পর্যন্ত মদনকোচের নাম পৃথিবী থেকে বিলীন হয়নি। তারই নামানুসারে মদনপুর, তার তিন বোন নন্দিনী, মঙ্গলী, চন্দিনীর নামানুসারে নন্দিপুর, মনাঙ্গ ও চন্দনকান্দি, তার স্ত্রী কংশীদেবীর নামানুসারে কংশা ও আত্মীয় রামচন্দ্র কোচ ও নরেন্দ্র কোচের নামানুসারে রামচন্দ্রপুর ও নরেন্দ্রনগর নামের গ্রামগুলো তাদের স্মৃতি বহন করছে।১০৮৫ হিজরি বা ১৬৭১ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহজাহানের পুত্র বাংলার সুবাদার শাহ সুজা হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) মাজারের অনুকূলে যে সনদ প্রদান করেছিলেন তার ফার্সি ভাষা থেকে বঙ্গানুবাদ এমনÍ‘শাহ সুলতান রুমী এবং শাহ সৈয়দ সুর্খুল ও চল্লিশ আউলিয়া পরগনা ময়মনসিংহ, জায়গিরদার সৈয়দ জালালউদ্দিন মোহাম্মদ ও বিচার বিভাগের শাসনকর্তা দস্তগাহ কাজী লুৎফুল্লাহ এবং উক্ত পরগনার হুকুমত পানাহা মোহাম্মদ আলী বেগ প্রমুখ সবার মোহরযুক্ত মতে ও অন্য কর্মচারীদের দস্তখতসহ অদ্য তারিখ ১৬৬৫ সাল (মতান্তরে ১৬৭১) মোতাবেক ১০৮৫ হিজরি সালে জিলক্বদ মাসে অত্র হুকুমত নামা দ্বারা স্বীকার করা হল যে পরগনা ময়মনসিংহের বাজু হাই সরকার জায়গিরদার ছিয়াছত এবং নেজারত পানাহা সৈয়দ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ কর্তৃক লাখেরাজ প্রদত্ত সোনারগাঁও সরকারের অধীন মদনপুর মৌজায় হযরত শাহ সুলতান সাহেব ৪৪৫ হিজরিতে ৪০ জন দানেশ মান্দ মারেফাত তত্ত্বজ্ঞানীসহ আগমন করেন। এ সময় মদনা নামে রাজা ওই স্থানে রাজত্ব করতেন। উক্ত রাজা মৃত্যুমুখে পতিত হন এবং অন্য পৌত্তলিক কাফেররা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। উক্ত হযরত শাহ সুলতান মদনপুর মৌজায় সঙ্গীরাসহ অবস্থান করেন এবং জামেউল উলুম পরিচালনা করেন। এ মৌজায় সব আউলিয়ার মাজার অবস্থিত। এ মৌজার দরগা শরিফে খাদেমরা বাস করতেন। এ মৌজা সর্বপ্রকার জমা অর্থাৎ খাজনা হতে বহির্ভূত।’ হযরত শাহ সুলতানের মাজারের অবস্থান নিয়ে জনমনে আজও যে মতানৈক্য রয়েছে, ওই দলিল প্রমাণ করে যে হযরত শাহ সুলতান রুমী (র.)-এর মাজার নেত্রকোনার মদনপুরে, তা সুবাদার সুজার সময়েই স্বীকৃত ছিল। অন্যথায় এত বড় একটি দলিল কীভাবে এ এবারতে সম্পাদিত হয়। এছাড়া অনেক ঐতিহাসিক মতান্তর দেখি যে শাহ সুলতানের মাজার বগুড়া শহরের অদূরে মহাস্থানগড়ের ছোট পাহাড়ে। এ মতবাদেরও যথেষ্ট যুক্তি বা সুপ্রশস্ত ফাঁক রয়েছে। সম্রাট শাহজাহানের অন্য পুত্র সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৫৮ সালে যে দলিল বগুড়ার মহাস্থানের শাহ সুলতান নামক আউলিয়া পরিচিত ব্যক্তির মাজারের ওপর সম্পাদন করেছেন, তাতেও তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, মীর সৈয়দ সুলতান মাহমুদ মাহিসোয়ারের নাম এবং শাহ সুজা মদনপুরের দলিলে উল্লেখ করেন, শাহ সুলতান রুমী এবং সৈয়দ সুর্খুল ও ৪০ আউলিয়া; সুতরাং দুই ব্যক্তি যে ভিন্ন তার প্রমাণ ওই দলিলগুলোয়ই পাওয়া যায়। তাই শাহ সুলতান যে প্রকৃতই শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) নেত্রকোনার মদনপুরে সমাহিত এবং মীর সৈয়দ সুলতান মাহমুদ মাহিসোয়ার প্রকৃতই বগুড়ার মহাস্থান গড়ের পাশে সমাহিত, এতেও কোনো ভিন্ন যুক্তি নেই। শুধু শাহ সুলতান বলে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়, তা বিষয়টির প্রতি অজ্ঞতার কারণেই।তেমনি ঐতিহাসিক সাল নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। বিভিন্ন ঐতিহাসিকরাও ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ১৩০৩ সালে তরপ বিজয়ী সৈয়দ নাসির উদ্দিন সিপাহসালার সঙ্গে ১২ জন আউলিয়া তরপে এসেছিলেন, তার মধ্যে হযরত শাহ সুলতান একজন বলে সৈয়দ হাসান ইমাম হোসেনী চিশতি সাহেব তার তরপের ইতিহাস নামক পুস্তকে (পৃষ্ঠা-২৪) উল্লেখ করেন। গোলাম সাকলায়েনের লেখা বাংলাদেশের সুফি সাধক নামক পুস্তকে (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তৃতীয় সংস্করণ, ১৯৮২ নভেম্বর) তিনি জনশ্রুতির উদ্ধৃতি দিয়ে বগুড়ার শাহ সুলতান সম্পর্কে লিখেছেন আজগর নামক বলখের জনৈক শাসকের সন্তান ছিলেন শাহ সুলতান। অন্যদিকে নূরুল হোসেন খন্দকার তার শাহ সুলতান রুমী (র.) নামক গ্রন্থে (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, প্রথম প্রকাশ ১৯৮৭ জুন) তিনি উল্লেখ করেন যে হযরত সৈয়দ শাহ সুলতান মাহমুদ মাহিসোয়ার সৈয়দ শাহ সুর্খুল আম্বিয়ার পুত্র।মহাস্থানগড়ের ইতিহাস ও সুলতানের জীবনী নামক বইয়ে ৪৩৯ হিজরি ১০৪৩ খ্রি. শাহ সুলতান সৈয়দ মাহমুদ মাহিসোয়ার কর্তৃক রাজা নরসিংহ পরশুরামের পরাজয়ের কথা উল্লেখ করা হয়।হযরত শাহ কামাল ১৫০৩ খ্রিস্টাব্দে ইয়েমেন থেকে প্রথম পাকভারতে আগমন করেন ও মোগল সম্রাট আকবরের সময় শাহ জামাল বর্তমান জামালপুর নামক স্থানে আসেন বলে বাংলাদেশের সুফি সাধক গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়। এভাবে নাগবংশের ইতিবৃত্ত নামক পুস্তকেও লেখক জামালপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট গজ. উঙঘঙটএঐ-এর লেখা একটি বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেন বাংলা ৯১০ সাল, ইংরেজি ১৫০৩ খ্রিস্টাব্দে শাহ কামাল মুলতান থেকে বাংলায় এসেছিলেন। কিন্তু শাহ সুলতান রুমী (র.) নামক পুস্তকে শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী, সৈয়দ শাহ সুলতান মাহমুদ মাহিসোয়ার, হযরত শাহ কামাল, হযরত শাহ জামালসহ মোট ১২০ জনের এক সুফি সাধকের দল বাংলায় একই সঙ্গে আগমনের নাতিদীর্ঘ বর্ণনা দিয়েছেন লেখক।ঐতিহাসিক মতান্তরে সাধারণ পাঠকসমাজ বিভ্রান্তিতে পড়ে বিষয়টির প্রতি উদাসীন মনোভাব পোষণ করেন। তবে এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় যে হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.) ৪৪৫ হিজরিতে মদনপুরে আগমন অথবা পরলোকগমন করেন। কেননা কোনো ব্যক্তির সমাধির পাশে কোনো সন তারিখ লেখা থাকলে সেটিকে তার জন্ম অথবা মৃত্যু তারিখ হিসেবে বোঝা যায়। কোনো অবস্থায়ই তার আগমনের সন তারিখ বোঝায় না। জন্ম সন বলে বলতে হয় যেহেতু তার জন্ম এ অঞ্চলে নয় সুতরাং তার মৃত্যুর পর জন্ম তারিখ সংগ্রহ কঠিন ব্যাপার। তাই সহজেই বোঝা যায়, এটি তার মৃত্যুর সন। আগমন ও পরলোক গমনের সনটি নিয়ে ঐতিহাসিক মতান্তর থাকলেও শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.)-এর আগমনে নেত্রকোনা তথা পূর্ব ময়মনসিংহে প্রথম যে ইসলামের প্রভাব ও প্রসার সৃষ্টি হয়, তাতে কোনো ঐতিহাসিক মতভেদ নেই।হযরত শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র.)-এর আগমনে এতদঞ্চলে প্রথম ইসলাম ধর্মের প্রচারকাজ শুরু হয়। এরপর চতুর্দশ শতাব্দীর শুরুতে শামছুদ্দিন ফিরুজ শাহর সময়ে এ অঞ্চল মুসলিম শাসনাধীনে আসে। তার মৃতুর পর তারই পুত্র গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহর শাসন ছিল। তাকে যুদ্ধে পরাজিত করে বাহরাম শাহ দিল্লির প্রতিনিধি হিসেবে ময়মনসিংহসহ এ অঞ্চল শাসন করেন। চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ফকর উদ্দিন মোবারক শাহ এবং ইখতিয়ার উদ্দিন গাজী শাহ এ অঞ্চলের শাসনকাজ পরিচালনা করেন। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন ইলিয়াস শাহি বংশের সুলতানরা এ অঞ্চলের অধিকর্তা ছিলেন। ১৪৯৩ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হোসেন শাহি বংশের সুলতানেরা তাদের শাসন অক্ষুণ্ন রাখেন।ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় পূর্ব ময়মনসিংহে সুলায়মান খাঁ স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। বারোভুঁইয়ার অন্যতম নায়ক ঈশা খাঁ ও তার পারিষদরা এ অঞ্চলে ইসলামী কায়দায় শাসনকাজ পরিচালনা করেন। ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে পুরো ময়মনসিংহ জেলা কার্যকরভাবে মোগলদের শাসনে আসে। সুলতানদের আমলে শুধু সুসং দুর্গাপুরের অদূরের মসজিদটিই নয়, মোহনগঞ্জের শেখের বাড়ির মসজিদটিও সুলতানদের ধর্মীয় অনুপ্রেরণার স্বাক্ষর। হোসেন শাহর প্রতিনিধি খোয়াজ খাঁ পূর্ব ময়মনসিংহ অর্থাৎ তৎকালীন মোয়াজ্জমাবাদে যে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন এশিয়াটিক সোসাইটি তা উদ্ধার করে ইতিহাসের একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে। উদ্ধার করা শিলালিপির বঙ্গানুবাদ এরূপ, ‘মসজিদটি ত্রিপুরার গভর্নর মোয়াজ্জামাবাদ জেলার ওয়াজির এবং আলাউদ্দুনিয়া ওয়াদ্দীন আব্দুল মুজাফফর হোসেন শাহ, বিধাতা তার রাজ্য ও রাজত্বকে চিরস্থায়ী করুক, অবস্থা ও মর্যাদা বর্ধিত হউক, তার প্রতিটি মুহূর্ত বিজয়ী হউক এবং রাজ্যের উত্তরাধিকারী এ যুগের মহান ও মহৎ সুলতান খোয়াজ খাঁ কর্তৃক নির্মিত হয়। বিধাতা তাকে দুজাহানে বাঁচিয়ে রাখুন। তারিখ ২রা রবি ১১, ৯১৯ ( ৭ই জুন, ১৫১৩)।’উদ্ধারিত শিলালিপিযুক্ত মসজিদটির কোনো সন্ধান না পাওয়া গেলেও ঐতিহাসিকদের ধারণা কেন্দুয়ার রোয়াইল বাড়ির মাটি খুঁড়ে যে মসজিদটি আবিষ্কার হয়েছে, সেটি অথবা একই থানার মোজাফফরপুর গ্রামের মাটিচাপা মসজিদখানাই খোয়াজ খাঁ কর্তৃক নির্মিত মসজিদ হতে পারে। কিন্তু ওই দুটি মসজিদের ব্যবহূত কিছু ইট ও কারুকাজ দেখে মনে হয় যে মোগল স্থাপত্যশিল্পীদের হস্ত সঞ্চারণে এ দুটি মসজিদ সংস্কার হয়েছিল। এ মসজিদগুলো প্রমাণ জোগায় যে তৎকালে মুসলিম শাসকদের শুধু শাসনই নয়, এরা এ অঞ্চলবাসীদের ইসলামের মর্মবাণীসহ মুসলিম ধর্মীয় আচারে আকৃষ্ট করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল।১৯০১ সালে আবু এ গজনবী কর্তৃক প্রণীত রিপোর্টে ময়মনসিংহের মুসলমানদের বংশ, রক্ত, কুলগত নির্ঘণ্ট কষে উল্লেখ করেন মোটামুটি ২০ শতাংশ বিদেশী বংশোদ্ভূত, ৫০ শতাংশ মিশ্র রক্তজাত এবং বাকি ৩০ শতাংশ ধর্মান্তরিত মুসলমান। সুতরাং পির, আউলিয়া ও শাসকদের বংশোদ্ভূত ২০ শতাংশ, তাদের বংশধর কর্তৃক মিশ্রিত ৫০ শতাংশ মোট ৭০ শতাংশ বিদেশী ও দেশীয়দের সমন্বয়ে, বাকি ইন্দোমঙ্গোলিয়ান ও অন্যান্য জাত কুল থেকে ৩০ শতাংশ মুসলমানদের বংশধর এ অঞ্চলে একসময়কার সংখ্যালঘিষ্ঠতা থেকে বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতায় উঠেছে।

09/03/2026

দীর্ঘদিন পর ঢাবির বটতলায় মিলাদ কিয়াম 🤲

ইতিহাসের পাতায় ইসলাম প্রচারে যাঁরা অসাধারণ অবদান রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শাহজালাল মুজাররাদ ইয়ামেনি (রহ.)। তাঁর...
08/03/2026

ইতিহাসের পাতায় ইসলাম প্রচারে যাঁরা অসাধারণ অবদান রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শাহজালাল মুজাররাদ ইয়ামেনি (রহ.)। তাঁর আগমন, কর্ম, ও প্রভাব আজো বাংলার ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনে গভীরভাবে বিরাজমান। ১৩শ শতাব্দীতে তিনি ইয়ামেন থেকে উপমহাদেশে আসেন এবং সিলেটে ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

পরিচয় ও পূর্বজীবনঃ
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর পূর্ণ নাম ছিল শাহ জালাল কুনীয়ত মুজাররাদ ইয়ামেনি রহ.। জন্মস্থান সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে, তবে অধিকাংশ ইতিহাসবিদ মনে করেন তিনি ইয়ামেনের হাদরামাউত অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরআন, হাদীস, ফিকহ ও তাসাউফে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর আত্মিক সাধনা, বৈরাগ্যপূর্ণ জীবন ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের কারণে তাঁকে “মুজাররাদ” (অবিবাহিত ও নির্জন সাধক) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

ইসলাম প্রচারে তাঁর আগমন ও ভূমিকাঃ

সিলেটে আগমন
তৎকালীন সিলেট অঞ্চলে হিন্দু রাজা গৌড় গবিন্দ মুসলমানদের ওপর নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতন করছিলেন। এক মুসলিম পরিবার নবজাতকের আকিকায় গরু কোরবানি দিলে রাজার আদেশে পরিবারটিকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও বিতাড়িত করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলার মুসলিম শাসক সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীন অভিযানে যান, এবং এই যুদ্ধে সহায়তার জন্য শাহজালাল (রহ.) তাঁর ৩৬০ সাথী আউলিয়া নিয়ে সিলেটে আগমন করেন।

গৌড় গবিন্দের পতন ও ইসলাম প্রতিষ্ঠাঃ
১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে শাহজালাল (রহ.) ও সৈয়দ নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে গৌড় গবিন্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে এটি “সিলেট বিজয়” নামে পরিচিত। যুদ্ধশেষে মুসলমানরা সিলেটের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে এবং শাহজালাল (রহ.) সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি একটি খানকাহ স্থাপন করেন, যেখান থেকে তিনি ইসলাম প্রচার ও আধ্যাত্মিক সাধনা শুরু করেন।

দাওয়াত দ্বীন প্রচারের কৌশলঃ
শাহজালাল (রহ.) কোনো বলপ্রয়োগ বা জোর জবরদস্তি ছাড়াই ইসলামের শান্তিপূর্ণ বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, আখলাক ও চরিত্রের প্রভাবে বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। তিনি কেবল নামাজ, রোজা ও ইসলামের আনুষ্ঠানিক আচার শিক্ষা দেননি, বরং মানুষকে আল্লাহভীতির সঙ্গে জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়েছেন।

৩৬০ আউলিয়ার বিস্তারঃ
শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গে আগত ৩৬০ আউলিয়া সিলেট ছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। ফলে আজকের বাংলাদেশের সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী ভারতের কিছু অঞ্চলেও ইসলামের প্রভাব বিস্তার লাভ করে।

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক অবদানঃ
শাহজালাল (রহ.) ছিলেন একজন খাঁটি সুফি সাধক। তাঁর জীবন ছিল দুনিয়াবি মোহবর্জিত, আত্মনির্ভরশীল ও আল্লাহর স্মরণে পরিপূর্ণ। তিনি বহু মুরীদ তৈরি করেন এবং তাঁদের মাধ্যমে ইসলামের তাসাউফি শিক্ষা ছড়িয়ে দেন। তাঁর প্রবর্তিত আধ্যাত্মিক পথ অনুসরণ করে বহু মানুষ নৈতিকতা ও পবিত্রতার দিকে ফিরে আসে।

ওফাত ও স্মৃতিঃ
হযরত শাহজালাল (রহ.) ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মাজার সিলেট শহরের অন্যতম পবিত্র ও ঐতিহাসিক স্থান, যা প্রতিদিন হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর থাকে। এই মাজার ইসলামের ইতিহাস, তাসাউফ, ও বাঙালি মুসলমানদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক মহামূল্যবান নিদর্শন।

শাহজালাল মুজাররাদ ইয়ামেনি (রহ.) কেবল একজন ধর্মপ্রচারক নন, বরং একজন আধ্যাত্মিক নেতাও ছিলেন। তাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের শেখায় কীভাবে আত্মিক পরিশুদ্ধি, নৈতিকতা, ও মানবিক গুণাবলি দিয়ে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। আজো বাংলার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে তাঁর প্রভাব সুস্পষ্ট, এবং তিনি চিরকাল ইতিহাসের পাতায় এক উজ্জ্বল তারকার মতো জ্বলজ্বল করবেন।

Address

Banani
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Z Team posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share