30/05/2025
অবহেলার শেষ চিঠি
১. শুরুটা ছিলো অন্যরকম…
রাহুল আর মেহরিন। কলেজ জীবনের সেই চিরচেনা জুটি। একসাথে ক্লাস, একসাথে ক্যান্টিনের আড্ডা, আর রংতুলিতে আঁকা ভবিষ্যতের হাজারো স্বপ্ন। মেহরিন রাহুলকে ভালোবাসতো মনপ্রাণ দিয়ে। রাহুলও ভালোবাসতো, কিন্তু সে ভালোবাসা যেনো দিনে দিনে অভ্যাসে রূপ নিচ্ছিলো, যত্নে নয়।
২. সময়ের সাথে পাল্টে যাওয়া…
রাহুল ব্যস্ত হয়ে পড়ল ক্যারিয়ারে। ফোনে কথা কমে গেল, দেখা করার সময় হয়ে উঠলো না। মেহরিন প্রতিদিন অপেক্ষা করত একটা “কেমন আছো?” প্রশ্নের জন্য, কিন্তু সেটাও যেন বিলাসিতা হয়ে উঠেছিল।
সে ধীরে ধীরে বুঝে ফেলছিল—ভালোবাসার থেকেও বেশি কষ্ট দেয় অবহেলা।
৩. চিঠিটা…
একদিন, মেহরিন আর অপেক্ষা করতে পারলো না। সে একটা চিঠি লিখে রাহুলের টেবিলের ওপর রেখে গেল—
"রাহুল,
_ভালোবাসা যতটা না শব্দে প্রকাশ করা যায়, তার চেয়েও বেশি প্রকাশ পায় যত্নে। তুমি হয়তো আমাকে ভুলে যাওনি, কিন্তু আমাকে গুরুত্ব না দিয়ে ভুলে যাওয়ার মতোই করেছো।
আমি আর তোমার অপেক্ষায় থাকবো না। কারণ অপেক্ষা তখনই সুন্দর, যখন কেউ জানে—তার অপেক্ষার মূল্য আছে।
ভালো থেকো। আর যদি কখনও মনে পড়ে, যে কেউ তোমার জন্য নিঃশব্দে ভালোবেসেছিল, তবে সেই মেয়েটার নাম ছিল—মেহরিন।"
৪. শেষটা…
রাহুল চিঠি পড়ে বোঝে, সে কাকে হারিয়ে ফেলেছে। ছুটে যায় মেহরিনের বাড়ি, কিন্তু ততক্ষণে সে শহর ছেড়ে চলে গেছে।
উপসংহার
ভালোবাসা কখনো হঠাৎ করে শেষ হয় না। এটা ধীরে ধীরে মরে যায়—অবহেলার বিষে। যারা সত্যিই ভালোবাসে, তাদের যত্ন করো, কারণ সময়ের সঙ্গে মানুষ বদলে যায় না, কিন্তু অনুভূতি নিঃশেষ হয়ে যায়।
#মোটিভেশনাল_কোটস
#ইমোশনাল
#গল্প
#অবহেলা