26/06/2026
৬ মাসের গোপন সম্পর্ক, ২,০০৪টি ফোনকল, তারপর ৪০০ ফুট গভীর খাদ...
মাত্র কয়েক মাস পরেই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ২৬ বছর বয়সী রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল ও সিয়া গোয়াল-এর। দুই পরিবারই বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সামাজিক মাধ্যমে তাদের হাসিমাখা ছবি, ঘুরতে যাওয়ার ভিডিও আর একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত দেখে কেউ বুঝতেই পারেনি, এই সম্পর্কের পেছনে অন্য একটি গল্পও তৈরি হচ্ছিল।
১৮ জুন কেতনের জন্মদিন উপলক্ষে সিয়া তাকে নিয়ে যান মহারাষ্ট্রের লোহাগড় ফোর্টে। তাদের সঙ্গে ছিল সিয়ার কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরী। কিছুক্ষণ পর খবর আসে, কেতন প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে মারা গেছেন। প্রথমে সবাই এটিকে দুর্ঘটনা বলেই বিশ্বাস করেছিল।
কিন্তু তদন্ত শুরু হওয়ার পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।
পুলিশের দাবি, গত প্রায় ৬ মাস ধরে সিয়া ও চেতনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, এই সময়ে দুজনের মধ্যে ২,০০৪টি ফোনকল হয় এবং তারা মোট ২৩৮ ঘণ্টারও বেশি সময় কথা বলেছেন। শুধু তাই নয়, ঘটনার আগের দিনও তারা দীর্ঘ সময় যোগাযোগে ছিলেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, কেতনকে হত্যা করার পরিকল্পনা একদিনে তৈরি হয়নি। বরং লোহাগড় ফোর্টে তাকে হত্যার একাধিক চেষ্টা করা হয়েছিল। কখনও পর্যটকদের উপস্থিতির কারণে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়, কখনও পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তারা পিছিয়ে আসে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন কেতনকে পাহাড়ের একেবারে কিনারায় নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি তোলার অজুহাতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর সিয়ার দেওয়া একটি সংকেতের পর চেতন তাকে ধাক্কা দিয়ে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর সিয়া সবাইকে জানান, কেতন নাকি ছবি তুলতে গিয়ে পিছলে পড়ে গেছেন। কিন্তু তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের তথ্য, মোবাইল লোকেশন, কল রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সন্দেহের দিক বদলে ফেলেন।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল সিয়ার Instagram Story। কেতনের মৃত্যুর পর তিনি লিখেছিলেন:
"You left me on my birthday."
এই স্টোরিটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। একই সঙ্গে তাদের আগের রোমান্টিক ছবি ও ভিডিওও নতুন করে আলোচনায় আসে।
এদিকে কেতনের পরিবারের দাবি, বাগদানের পর থেকেই তারা সম্পর্কের মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক বিষয় লক্ষ্য করেছিলেন। তবে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল বলেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি।
বর্তমানে সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরী গ্রেপ্তার রয়েছেন। পুলিশ বলছে, তদন্তে দুজনই একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। তবে মামলাটি এখনো আদালতে বিচারাধীন, তাই অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
একটি হাসিমাখা প্রেমের গল্প কীভাবে ভারতের অন্যতম আলোচিত হত্যা মামলায় পরিণত হলো, সেটিই এখন সবার আলোচনার বিষয়।
আপনার কী মনে হয়?
এটি কি সত্যিই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নাকি তদন্তে আরও নতুন তথ্য সামনে আসবে?
💬 আপনার মতামত কমেন্টে জানান।