22/08/2026
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বমঞ্চে শক্তির সমীকরণই বদলে দিয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান মিলে করেছে এক ঐতিহাসিক চুক্তি, যার নাম ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা ‘মক্কা প্যাক্ট’। কিন্তু গল্পটা শুধু এই তিন দেশেই থেমে নেই। বাংলাদেশ থেকেও ঘোষণা এসেছে—জাতীয় স্বার্থ মিলে গেলে এই জোটে যোগ দিতে প্রস্তুত ঢাকাও। কিন্তু কী এই মক্কা প্যাক্ট? এতে বাংলাদেশ যোগ দিলে কী কী লাভ বা ঝুঁকি রয়েছে? আর ঢাকা-ইসলামাবাদ-আঙ্কারা-রিয়াদ অক্ষ তৈরি হওয়া নিয়ে প্রতিবেশী ভারতেরই বা কেন উদ্বেগ বাড়ছে?
সহজ কথায় বললে, মক্কা প্যাক্ট হলো ন্যাটোর মতো একটি যৌথ সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি। এর মূল ধারা অত্যন্ত স্পষ্ট—তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে, তা বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এই তিন দেশ মিলে ঠিক কতটা শক্তিশালী সামরিক ব্লক তৈরি করেছে, তা গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬-এর তথ্যে স্পষ্ট।
তিন দেশের সম্মিলিত নিয়মিত সেনা সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। এর মধ্যে পাকিস্তানের আছে ৬ লাখ ৬০ হাজার, তুরস্কের ৪ লাখ ৮১ হাজার এবং সৌদি আরবের আছে ২ লাখ ৪৭ হাজার সেনা। তিন দেশ মিলিয়ে আছে প্রায় ৩ হাজার ৪১৫টি সামরিক বিমান ও ফাইটার জেট। স্থলবাহিনীর ব্যবহারের জন্য আছে ৬ হাজার ৪৬টি ভারী ট্যাংক এবং ১ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যান। সম্মিলিত তিন নৌবাহিনীর আছে ৩৪৪টি যুদ্ধজাহাজ, যার মধ্যে ৩৩টি ফ্রিগেট ও ২২টি সাবমেরিন।এই তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা বাজেট বছরে প্রায় ১২৪.৪ বিলিয়ন ডলার।বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তিন দেশ একে অপরের অভাব পূরণ করছে। সৌদি আরব দিচ্ছে অফুরন্ত অর্থ ও বৈশ্বিক প্রভাব; তুরস্ক দিচ্ছে বায়রাক্তার ড্রোন, আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ন্যাটো-মানের প্রযুক্তি; আর পাকিস্তান দিচ্ছে দক্ষ জনবল, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং সবচেয়ে বড় কথা—তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের ওপর আস্থা হারিয়ে এই দেশগুলো এখন নিজেদের রক্ষা করতে নিজেদের অক্ষ বা হরিজন্টাল কানেক্টিভিটি তৈরি করছে।