Rini Akter

Rini Akter Rini Akter একটি বিনোদন মূলক page. সবাই Follow দিয়ে সাথে থাকুন । Rini Akter page টি একটি বিনোদন মূলক page. সবাই page টি Follow দিয়ে সাথে থাকবেন।

এক প্লেট ভাতের আশায় ১২ বছর বয়সে চাচার ঘরের মেজেতে বসে টিভি দেখার বাহানায় বসে থাকতাম। তারা আমার সামনে খাবার খেতো কিন্তু আ...
23/05/2026

এক প্লেট ভাতের আশায় ১২ বছর বয়সে চাচার ঘরের মেজেতে বসে টিভি দেখার বাহানায় বসে থাকতাম। তারা আমার সামনে খাবার খেতো কিন্তু আমাকে কখনো বলতো না। আয় সোহান ভাত খা কয়টা সকাল থেকে তো না খেয়ে বসে আছিস। কিন্তু তারা কখনো এটা বলতো না। তাদের খাওয়া শেষ হলে আমি মন খারাপ করে ঘর থেকে চলে আসতাম। আর মায়ের জন্য অপেক্ষা করতাম বিকেল পযন্ত।

আমার বাবা যখন স্ট্রোক করে মা**রা গেলেন । আমাদের মাথার ওপরের আকাশটা যেন এক নিমেষেই ভেঙে চুরমা*র হয়ে গেল। বাবা মা**রা যাওয়ার পর আমাদের র**ক্ত মাংসের আপন চাচা রাতারাতি কেমন যেন পর হয়ে গেলেন। যে মানুষটা বাবার জানাজায় দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বেশি কেঁদেছিলেন, তিনিই কদিন পর থেকে আমাদের দিকে ফিরেও তাকাতেন না। মা আর আমার জীবনের কষ্টের দিনগুলো ঠিক তখন থেকেই শুরু।
​ক্ষুধা জিনিসটা বড় বালাই। ১২ বছরের একটা বাচ্চার পেট তো আর বোঝে না যে তার বাবা নেই, ঘরে চাল নেই। সকাল থেকে পেটে এক দানা দানাপানি পড়েনি। দুপুরের দিকে যখন ক্ষুধার তীব্রতায় পেটটা চোঁ-চোঁ করত, তখন আমি নিরুপায় হয়ে চাচার ঘরের দিকে হেঁটে যেতাম।
​চাচার ঘরের মেঝেতে বসে থাকার আমার একটা চেনা বাহানা ছিল—টিভি দেখা। তখন গ্রামে খুব বেশি ঘরে রঙিন টিভি ছিল না। চাচার ঘরে রঙিন টিভি চলত, আর আমি এককোণে গুটিসুটি মে*রে বসে থাকতাম। আমার চোখ টিভির পর্দায় থাকত ঠিকই, কিন্তু কান দুটো পড়ে থাকত রান্নাঘরের দিকে। কখন থালাবাসনের শব্দ হবে, কখন খাবার টেবিলে সাজানো হবে।
​একটু পরেই চাচি এসে খাবার বেড়ে দিতেন। চাচা, চাচাতো ভাইয়েরা সবাই মিলে গোল হয়ে বসতেন। তরকারির সুগন্ধ যখন আমার নাকে আসত, তখন মুখ ভরে লালা চলে আসত। আমি আড়চোখে দেখতাম ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত আর মাছের ঝোল। তারা আমার সামনেই আয়েশ করে করে খাবার খেতেন, চিবানোর শব্দ হতো। কিন্তু বিশ্বাস করুন, কেউ একটিবারের জন্যও আমার দিকে তাকিয়ে বলত না—
​"আয় সোহান, ভাত খা কয়টা। সকাল থেকে তো না খেয়ে বসে আছিস।"
​না, তারা কেউ এই কথাটি কোনোদিন বলেনি। আমি টিভির দিকে তাকিয়ে শুকনো থুতু গিলতাম আর মনে মনে ভাবতাম, কেউ একজন অন্তত ডাকুক। কিন্তু তাদের খাওয়া শেষ হয়ে যেত, তারা হাত ধুয়ে উঠে যেতেন। কেউ আমার দিকে একটা রুটি বা এক দলা ভাতও বাড়িয়ে দিত না। যখন বুঝতাম আর কোনো আশা নেই, তখন তীব্র এক মন খারাপ আর চোখে জল নিয়ে গুটিসুটি মে*রে চাচার ঘর থেকে বেরিয়ে আসতাম।

​নিজের ভাঙা ঘরের বারান্দায় এসে বসে থাকতাম। মা মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে যেতেন সকালবেলা। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতো, আমার চোখ দুটো তাকিয়ে থাকত রাস্তার দিকে—কখন মা ফিরবে? মা যখন বিকেলে ক্লান্ত শরীরে আঁচলে করে বা কোনো বাটিতে করে মানুষের বাড়ির বেঁচে যাওয়া খাবার নিয়ে আসতেন, তখন মনে হতো যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ হাতে পেয়েছি। মা নিজের মুখে এক লোকমা না দিয়ে আমার মুখে তুলে দিতেন, আর আমি গোগ্রাসে তা গিলতাম।
​এরই মধ্যে মাঝে মাঝে একটু আনন্দের আলো আসত। আমাদের বড় চাচাতো বোন, যিনি শহরে থাকতেন। তিনি যখন মাঝে মাঝে গ্রামে আসতেন, তার মনটা ছিল খুব নরম। আমাকে দেখলেই ডেকে বলতেন, "সোহান, এদিকে আয়। এই নে মিষ্টি খা, ফল খা।" চাচির চোখের আড়ালে তিনি আমাকে এটা সেটা খেতে দিতেন। উনার ভালোবাসাটুকু পেয়ে আমার মনে হতো, এ পৃথিবীতে মা ছাড়া আমিও বোধহয় কারো আপন। কিন্তু কপাল খারাপ, কিছুদিন পরই উনার বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ের পর তিনি পুরোপুরি সংসারী হয়ে গেলেন, গ্রামে আসা কমে গেল। আর সেই সাথে চাচার ঘর থেকে আমার ওই সামান্য ভাগটুকুও চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।

​দিন তো আর থেমে থাকে না। ক্ষুধা আর অপমা*নকে সঙ্গী করেই আমি আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলাম। শরীরে একটু শক্তি আসতেই আমি আর মায়ের ওপর পুরো বোঝা হয়ে থাকতে চাইলাম না। গ্রামের মানুষের জমিতে, হাটে-বাজারে ছোটখাটো টুকটাক কাজ করে দিতে লাগলাম। কেউ বিশ টাকা দেয়, কেউ খুশি হয়ে দুটো খেতে দেয়। এভাবেই আমাদের মা-ছেলের টানাটানির সংসার কোনোমতে চলতে লাগল। কষ্টের দিনগুলোর মধ্যেই আমি কৈশোর পেরিয়ে একটু একটু করে তরতাজা তরুণ হয়ে উঠছি।
​ঠিক এই রকম এক সময়ে, সেদিন দুপুরে চাচার বাড়িতে এক বিশাল শোরগোল। শহর থেকে চাচির বড় বোন, তার স্বামী আর ছেলেমেয়েদের নিয়ে বেড়াতে এসেছেন। ধনী আত্মীয়, তাই চাচার বাড়িতে এলাহী কাণ্ড। বাজার থেকে রুই মাছ, খাসির মাংস, পোলাওয়ের চাল—সব আনা হয়েছে।
​হঠাৎ চাচি আমাদের ঘরের সামনে এসে মাকে ডেকে বললেন, "ও সোহানের মা, ঘরে মেহমান আসছে। একলা হাতে সব রান্ধন পারতাছি না। একটু আইসা হাত লাগাও তো।"
​মা আমার চিরকালই সরল আর পরোপকারী। চাচির ডাক শুনে মা নিজের ঘরের কাজ ফেলে মুখে এক চিলতে হাসি নিয়ে চলে গেলেন চাচার রান্নাঘরে। মা পোলাও চড়ালেন, খাসির মাংস কষাতে লাগলেন। মাংস কষানোর সেই স্বর্গীয় সুবাস আমাদের ঘর পর্যন্ত আসছিল। রান্নাঘরে মা হাসিমুখে চাচির সাথে কাজ করছেন, আর সুস্বাদু সব পদ রাঁধছেন।
​দূর থেকে মায়ের সেই রান্নার দৃশ্য দেখে আমার মনে এক চিলতে আশার আলো জাগল। আমি ভাবলাম, মা যখন নিজের হাতে এত ভালো ভালো রান্না করছে, চাচি নিশ্চয়ই খুশি হয়ে আজ আমাদের মা-ছেলেকেও একটু খেতে দেবে। অন্তত মেহমানরা খাওয়ার পর মা আর আমার পাতেও একটু মাংস-পোলাও জুটবে।
​টানা কয়েকদিন ধরে ভালো কোনো খাবার পেটে পড়েনি। খাসির মাংসের সেই সুবাসে আমার জিভে জল চলে এলো। আমি আর লোভ সামলাতে পারলাম না। পা টিপে টিপে রান্নাঘরের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। চাচি তখন অন্য ঘরে মেহমানদের সাথে কথা বলতে ব্যস্ত। মা একা একা মাংসের ডেকচি নাড়ছেন।
​আমি চুপিচুপি রান্নাঘরের ভেতরে ঢুকে মায়ের শাড়ির আঁচল টানলাম। ফিসফিস করে বললাম, "আম্মা, আমারে এক টুকরো মাংস দেও না এখান থেকে? খুব ক্ষুধা লাগছে আম্মা, একটুখানি দেও।"
​মা আমার কথা শুনে চমকে উঠলেন। উনার চোখ দুটো ভয়ে আর আত*ঙ্কে বড় বড় হয়ে গেল। মা হড়বড় করে চারপাশটা দেখে নিয়ে আমার হাতটা চেপে ধরে সরাসরি না করে দিলেন, "হায় হায় বাজান! এগুলো বলিস না এখন। তোর চাচি যদি দেখে তুই এখান থেকে মাংস খাচ্ছিস, তা হলে আর রেহায় থাকবে না। আমাদের পিঠের চা*মড়া তুলে নেবে। যা এখান থেকে, পরে দেখব।"
​কিন্তু ক্ষুধার্ত ১২-১৩ বছরের জেদের কাছে তখন মায়ের ভয় হেরে গেল। আমি মায়ের বারণ শুনলাম না। ডেকচির পাশেই একটা বাটিতে কষানো মাংসের কয়েকটা টুকরো রাখা ছিল মেহমানদের দেওয়ার জন্য। আমি মায়ের চোখের তোয়াক্কা না করে, লোভ সামলাতে না পেরে চট করে হাত বাড়িয়ে সেখান থেকে বড় এক টুকরো মাংস তুলে নিলাম।
​মা "না না" করে ওঠার আগেই আমি সেই গরম মাংসের টুকরোটা মুখে পুরে দিলাম। মাংসের স্বাদটা জিহ্বায় লাগার সাথে সাথেই আমার মনে হলো যেন অমৃত খাচ্ছি। কিন্তু সেই সুখ মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্থায়ী ছিল।
​"ওরে চু*রের দল! ঘর তো না, চোরের আস্তানা বানাইছে!"
​হঠাৎ দরজার গোড়া থেকে এক তীক্ষ্ণ চিৎকারে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল। আমি চমকে তাকিয়ে দেখি, চাচি দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন। উনার চোখ দুটো রাগে লাল, আর মুখটা হিং*স্র দেখাল।
​চাচি এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে রান্নাঘরে ঢুকে আমার হাতটা ঝটকা মে*রে ধরলেন। তারপর চিৎকার করে বলতে লাগলেন, "চো*রের ঘরের চো*র! যেমন মা, তেমন তার পোলা! নিজে তো চো*র, এখন পোলারেও চু*রি করে মাংস খাওয়ানো শিখাইতাছে! মানুষের বাড়ির মেহমানের খাবার চু*রি করতে তরগো লজ্জা করে না?"
​মায়ের মুখটা পলকে ফ্যাকাসে হয়ে গেল। মা হাতজোড় করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, "আপা, আমার পোলডারে বইকেন না। ও ছোট মানুষ, লোভ সামলাইতে পারে নাই। ও চু*রি করে নাই আপা..."
​কিন্তু চাচি তখন থামার পাত্র নন। তিনি উঠোনে গিয়ে চিৎকার করে চাচাকে শোনানোর জন্য বলতে লাগলেন, "সবাই আইসা দেখে যাও, চো*রের মা ছেলেকে চু*রি করে মাংস খাওয়াচ্ছে! এদের ঘরে আশ্রয় দেওয়াই আমাদের ভুল হইছে!"
​মুখের ভেতর সেই মাংসের টুকরোটা তখন আমার কাছে বিষের মতো লাগছিল। আমার চোখের সামনে আমার মায়ের আঁচলটা অপমা*নে কাঁপতে লাগল।

চলবে..

অভাব
পর্ব ০১
লেখক The Story Haven

খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করা হবে সবাই পেজটি ফলো করে ছোট একটা কমেন্ট করবেন তাহলে দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন

23/05/2026

আর অল্প কয়দিন পর কোরবানি ঈদ মানুষের মনে আনন্দ শেষ নেই, আমার মনে আনন্দ নেই। আমি যে আর্মি বউ
#আর্মিবউ #ভাইরালগল্প

23/05/2026

আর্মি বউ হওয়া এতো সহজ নয়,,,,
#আর্মিবউ

23/05/2026

হে আল্লাহ তুমি আমার স্বামীকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করো।যেন আপনার ছাড়া আর কারো কাছে মাথা নত করতে না হয়,,,

তিনটি ফুটফুটে যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার ঠিক পনেরো মিনিটের মধ্যে। মনিটরের সরলরেখা গুলো ক্রমশো সোজা হয়ে যাচ্ছে। শরীর বরফের ...
23/05/2026

তিনটি ফুটফুটে যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার ঠিক পনেরো মিনিটের মধ্যে। মনিটরের সরলরেখা গুলো ক্রমশো সোজা হয়ে যাচ্ছে। শরীর বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। আমি মৃ**ত্যুর খুব কাছাকাছি চলে যাচ্ছি।
আইসিইউর সেই তীব্র আলোর নিচে ডাক্তাররা যখন আমার স্তব্ধ হয়ে যাওয়া বুকটায় চাপ দিয়ে জীবন ফিরিয়ে আনার শেষ চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখন হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিলেন আমার স্বামী। আরজুন। শহরের একজন মস্ত বড় ব্যবসায়ী, যার সাফল্যের গল্প প্রায়ই খবরের কাগজের প্রথম পাতায় ছাপা হয়।
কিন্তু সেই মুহূর্তে তার চোখে কোনো পানি ছিল না, ছিল এক অদ্ভুত তাড়া। সে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়, নিখুঁত হাতে আমাদের ডি*ভোর্সের কাগজে সই করছিল।
​একজন ডাক্তার আইসিইউ থেকে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে এসে তাকে বললেন, “স্যার, আপনার স্ত্রী খুবই সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন। যেকোনো মুহূর্তে—”

​ডাক্তারকে কথা শেষ করতে না দিয়েই আরজুন একবারও মাথা না তুলে, খসখস করে সই করতে করতে শুধু একটি প্রশ্ন করল, “কাগজগুলো কখন আইনগতভাবে কার্যকর হবে?”
​ব্যস, সেই একটি মুহূর্ত আমাদের এত বছরের সম্পর্কটাকে এক ঝটকায় শেষ করে দিলো। আমি আর তার স্ত্রী রইলাম না।
​কয়েক ঘণ্টা পর যখন অলৌকিকভাবে আমার জ্ঞান ফিরল, প্রথম যে অনুভূতিটা হলো তা কোনো শারীরিক ব্যথা নয়; বরং এক হাড়কাঁপানো ঠান্ডা শূন্যতা। মনে হচ্ছিল বুকের ভেতর থেকে জ্যান্ত কিছু একটা জোর করে ছিঁ*ড়ে নেওয়া হয়েছে।

​আমি নড়ার চেষ্টা করলাম, কিন্তু আঙুলগুলো অবাধ্য। কথা বলার চেষ্টা করলাম, গলা দিয়ে কেবল শুষ্ক বাতাস বেরিয়ে এল। আমার বেডের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নার্সটি যখন আমার দিকে তাকাল, তার চোখে কোনো সান্ত্বনা ছিল না, ছিল তীব্র অস্বস্তি আর ভয়।

​সে আমতা আমতা করে বলল, “ম্যাডাম… আপনার কাগজপত্রে একটা বড় সমস্যা হয়েছে।”
​সমস্যাটা বুঝতে আমার বেশি সময় লাগল না। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আমার চিকিৎসার সমস্ত বীমা বাতিল করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি যোগাযোগের তালিকা থেকে আমার নামটা পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে। আর আমার সদ্যোজাত তিন ছেলে? তারা এখন মায়ের কোল ছেড়ে প্রশাসনিক পর্যালোচনার অধীনে, এক অদ্ভুত আইনি বেড়াজালে বন্দী।
​আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলাম, “আমার স্বামী কোথায়?”
কেউ উত্তর দিল না। ঘরের সবাই অপ*রাধীর মতো চোখ ফিরিয়ে নিল।
​কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা কেবিনে ঢুকলেন। চারপাশটা ভালো করে দেখে নিয়ে অত্যন্ত নিচু স্বরে কথা বললেন, যেন দেয়ালও আমাদের এই কথা শুনে ফেলবে।
“আপনি আর নবজাতকদের আইনি অভিভাবক তালিকাভুক্ত নন, ম্যাডাম। আরজুন সাহেব সব আইনি অধিকার নিজের দায়িত্বে নিয়ে নিয়েছেন টাকা দিয়ে। আপনি এখন আইনগতভাবে ওদের কেউ নন।”
​আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম এটা কিভাবে সম্ভব? মায়ের কোল থেকে নবজাতক বাচ্চার অধিকার কিভাবে কেড়ে নেয়। মাথার ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেল। কীভাবে একটা মানুষ এতটা নিখুঁতভাবে, এত কম সময়ে একটা জ্যান্ত মানুষের সবকিছু কেড়ে নিতে পারে?

​ঠিক তখনই, স্মৃতির অন্ধকার থেকে কিছু দৃশ্য তিরের মতো এসে বিঁধল আমার মাথায়। কয়েক সপ্তাহ আগের আরজুনের সেই চোখের ঠান্ডা, চাউনি; গভীর রাতে বারান্দায় গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলা আর অবহেলার সুরে আমাকে বলা কিছু অদ্ভুত কথা।

​হঠাৎ করেই চোখের সামনের কুয়াশাটা কেটে গেল। এটা কোনো আকস্মিক দুর্ঘ**টনা ছিল না। এটা ছিল একটা সুদীর্ঘ, ঠান্ডা মাথার নিখুঁত হিসাব। আমি যখন আইসিইউর বিছানায় জীবনের শেষ শ্বাসটুকুর জন্য লড়াই করছিলাম, সে তখন অনেক আগেই আমার অস্তিত্বের শেষ চিহ্নটুকু পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার চূড়ান্ত ছক সাজিয়ে ফেলেছিল।
​কিন্তু আরজুন একটা জিনিস হিসাব করতে ভুল করেছে। সে আমার আইনি অধিকার কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু মায়ের কলিজাটা তো কেড়ে নিতে পারেনি। শূন্যতা কেটে গিয়ে এখন আমার রগে রগে এক তীব্র আ*গুন জ্বলছে। যে সন্তানদের জন্য আমি ম**রার মুখ থেকে ফিরে এসে জন্ম দিয়েছি, তাদের জন্য আমি শেষ পর্যন্ত লড়তে রাজি আছি। খেলাটা আরজুন শুরু করেছিল ঠিকই, কিন্তু শেষটা আমি করব।

চলবে...

কাউন্টডাউন
পর্ব ০১
The Story Haven

খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করা হবে সবাই পেজটি ফলো করে রাখুন তাহলে দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন।

দুই পৃথিবীপর্ব ০৪লেখক The Story Havenফোনের ওপাশ থেকে রিংটোন বেজে চলেছে। আমার বুকের ভেতর হার্ট বিট উঠানামা করছিল, তবে তা ...
23/05/2026

দুই পৃথিবী
পর্ব ০৪
লেখক The Story Haven

ফোনের ওপাশ থেকে রিংটোন বেজে চলেছে। আমার বুকের ভেতর হার্ট বিট উঠানামা করছিল, তবে তা ভয়ে নয়, এক ধরনের ঠান্ডা উত্তেজনায়। তিনবার রিং হওয়ার পর ওপাশ থেকে সেই অতি পরিচিত স্নিগ্ধ কণ্ঠস্বর ভেসে এল, "হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম।"

আমি নিজের গলাটা যতটা সম্ভব পেশাদার এবং অমায়িক রেখে বললাম, "ওয়ালাইকুম আসসালাম। আফরিন বেগম বলছেন? আমি ডক্টর আফ্রা বলছিলাম, গতকাল আপনি আমার চেম্বারে এসেছিলেন।"

"ওহ, ডক্টর ম্যাডাম! আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন? কোনো সমস্যা হয়েছে কি ম্যাম?" আফরিনের গলায় উপচে পড়া সমীহ আর সামান্য উদ্বেগ।

"না না, ভয়ের কিছু নেই। আসলে আপনার গতকালের রিপোর্টের একটা ফাইল একটু রি-চেক করার ছিল। আর আপনার প্রেসক্রিপশনে একটা জরুরি ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট অ্যাড করতে ভুলে গিয়েছিলাম, যা এই চার মাসের সময় খুব দরকার। আপনি কি আজ বিকালের দিকে একটু ফ্রি আছেন? আমি ভাবলাম আপনার বাসার ওদিক দিয়েই যাব, প্রেসক্রিপশনটা নিজেই ড্রপ করে দিতাম।"

আমি চালটা খুব বুঝেশুনে চাললাম। আফরিনকে চেম্বারে ডাকলে সায়ন জেনে যেতে পারে। কিন্তু ওর বাসায় আচমকা হানা দিলে সায়নের আসল রূপটা হাতেনাতে ধরা পড়বে। মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার নাম করে ও যে ধানমন্ডিতেই আছে, সেটা নিশ্চিত হতে হবে।

আফরিন তো আমার আন্তরিকতায় গদগদ হয়ে বলল, "ম্যাডাম! আপনি নিজে আসবেন? কী যে বলেন, আমার তো ভাগ্য ভালো! আজ তো ওনারও (সায়নের) ফেরার কথা আছে। আপনি অবশ্যই আসবেন ম্যাম। বিকেল চারটেয় চলে আসুন, আমি ঠিকানাটা টেক্সট করে দিচ্ছি।"

লাইনটা কে'টে আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। 'ওনারও ফেরার কথা আছে'—তার মানে সায়ন ওখানেই যাচ্ছে। ও নিজেকে খুব বড় খেলোয়াড় ভাবছে, অথচ ও জানে না ওর দুই সংসারের দুই নারী আজ এক ছাদের নিচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।

দুপুর তিনটে নাগাদ আমি রেডি হয়ে নিলাম। আদিবকে আমার মায়ের বাসায় রেখে এসেছি, ওকে এই নোংরামির ছায়া থেকেও দূরে রাখতে চাই। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভালোবাসার গয়না গুলো। এই সস্তা প্রতীকগুলো দিয়ে সায়ন আমাকে সাত বছর ধরে বেঁধে রেখেছে, আর আড়ালে অন্য একটা মেয়েকেও ভালোবাসায় রাঙিয়ে দিয়েছে। আজ এই মিথ্যে মায়ার শেষ দেখে ছাড়ব।

ঠিক বিকেল চারটেয় আমি ধানমন্ডির সেই অ্যাপার্টমেন্টের সামনে পৌঁছালাম। বেশ অভিজাত এলাকা। সায়ন যে ব্যবসার টাকা জমিয়ে এখানে দ্বিতীয় স্ত্রীর জন্য বিলাসবহুল বাসা ভাড়া নিয়েছে, তা বুঝতে অসুবিধা হলো না। লিফটের ৪-এ টিপে ওপরে উঠলাম। ফ্ল্যাটের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম—নামফলকে লেখা 'সায়ন ও আফরিন'।

আমার নিজের নামের পাশে যার নাম থাকার কথা, আজ তা অন্য এক নারীর নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে। ভেতরের ঘৃণাটা আবার চাড়া দিয়ে উঠল, কিন্তু আমি নিজেকে শান্ত করে কলিংবেল চাপলাম।

কয়েক সেকেন্ড পরই দরজা খুলে গেল। আফরিন একটা সুতি শাড়ি পরে মুখে চওড়া হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। "আসুন ম্যাম, ভেতরে আসুন।"

আমি ড্রয়িংরুমে পা রাখলাম। চারপাশটা খুব সুন্দর করে সাজানো। দেয়ালে একটা বড় ফ্রেমে বাঁধাই করা ছবি ঝুলছে। সায়ন আর আফরিন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে হাসছে। ছবির সায়নের গায়ে সেই চেনা নীল শার্ট। নিজের চোখ দিয়ে দেখার পর বুকের ভেতরটা যেন খাঁ খাঁ করে উঠল।

"ম্যাডাম বসুন, আমি আপনার জন্য একটু শরবত নিয়ে আসি," আফরিন কিচেনের দিকে যেতে চাইল।

আমি সোফায় বসতে বসতে বললাম, "আফরিন, আপনার হাসবেন্ডের কথা বলেছিলেন না? ওনি কি বাসায় এসেছেন? প্রজেক্টের কাজ শেষ?"

আফরিন কিচেন থেকেই একটু উঁচু গলায় বলল, "হ্যাঁ ম্যাম, ওনি তো একটু আগেই আসলেন। ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে ঢুকেছেন। ওনাকে বলেছি আমাদের ডক্টর ম্যাডাম আসবেন , ওনিও খুব খুশি হলেন তবে কেমন যেন হয়ে গেল তারপর। বললেন ফ্রেশ হয়েই আপনার সাথে দেখা করবেন।"

আমি সোফায় হেলান দিয়ে বসলাম। আমার ঠোঁটের কোণে তখন এক পি*শাচী হাসি। সায়ন মুন্সিগঞ্জের ভুয়ো গল্প ফাদে এখানে এসে আরাম করছে। ও যখন ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে ড্রয়িংরুমে আসবে, আর এখানে ওর ডাক্তার স্ত্রী 'আফ্রা'কে বসে থাকতে দেখবে—তখন ওর মুখের অবস্থাটা কেমন হবে, তা দেখার জন্য আমার তর সইছিল না।

ঠিক তখনই ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দ হলো। পায়ে চটি গলিয়ে, চুল মুছতে মুছতে ড্রয়িংরুমে ঢুকলো সায়ন। মুখে সেই চিরচেনা হাসি নিয়ে বলল, "কই আফরিন, তোমার ডক্টর ম্যাডাম কোথায়..."

কথাটা শেষ হলো না। সায়নের চোখ ডিরেক্ট আমার চোখের ওপর পড়ল। এক সেকেন্ডের মধ্যে সায়নের হাতের তোয়ালেটা মেঝেতে পড়ে গেল। ওর চোখের মণি দুটো যেন কোটর থেকে বের হয়ে আসতে চাইল। ওর পুরো মুখটা এক মুহূর্তে কুচকুচে কালো হয়ে গেল, যেন ওর সামনে কোনো জ্যান্ত ভূ*ত দাঁড়িয়ে আছে।

আমি সোফা থেকে খুব শান্তভাবে উঠে দাঁড়ালাম। মুখে পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি হাসিটা ফুটিয়ে বললাম, "হাই আপনার স্ত্রীর খবর নিতে আসলাম। আপনার স্ত্রীর কাছে আপনার অনেক প্রশংসা শুনেছি আপনার।

সায়ন একটা শব্দও উচ্চারণ করতে পারল না। ও কাঁপতে কাঁপতে সোফার হাতলটা চেপে ধরল। ও বুঝতে পেরেছে—ওর দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার খেলাটা আজ মাঝনদীতে এসে ভেঙে চুরমা*র হয়ে গেছে।

(চলবে...)

খুব শীঘ্রই ৫ম পর্ব পোস্ট করা হয়েছে সবাই পেজটি ফলো করে ছোট একটা কমেন্ট করবেন তাহলে ৫ম পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন।

22/05/2026

এক ছিল একটা ছোট্ট গ্রামে। সেই গ্রামের পাশে ছিল ছোট্ট বন। সেখানেবাস করতো ছোট মেয়ে। মেয়েটা নাম ছিল লাবনী।(গল্পটা সম্পূর্ণ দেওয়া হয়েছে)
#গল্প #ভাইরালগল্প #রুপকথারকাহিনী

ধনী বাবার এমন এক মোটা মেয়েকে বিয়ে করেছি, যাকে কেউ কোনোদিন চায়নি… শুধু আমার মার একটা অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম জোগাড় ক...
22/05/2026

ধনী বাবার এমন এক মোটা মেয়েকে বিয়ে করেছি, যাকে কেউ কোনোদিন চায়নি… শুধু আমার মার একটা অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম জোগাড় করার জন্য।
কিন্তু বাসর রাতে, যখন ওর পেটে সেই লম্বা কাটা দাগটা দেখলাম আর ওর পরিবারের লুকিয়ে রাখা গোপন সত্যটা জানতে পারলাম… আমাদের মাঝের সবকিছু তাসের ঘরের মতো ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
আমি ওকে ভালোবাসতাম না।
এমনকি বিয়ে করার কথা কোনোদিন মাথাতেও আনিনি।
কিন্তু যখন আপনি আপনার জন্মদাত্রী মাকে প্রতিটা রাতে অক্সিজেনের অভাবে ছটফট করতে দেখবেন, আর ওনার সেই ভাঙা ভাঙা কষ্টের নিশ্বাসের শব্দ আপনার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে জীবন্ত এক দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে…
তখন আপনার ভেতরের অনেক কিছু এমনিতেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমি পেটের দায়ে আর মার চিকিৎসার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের কাজ করেছি।
তপ্ত রোদে রড-সিমেন্টের রাজমিস্ত্রি খাটা, আড়তের ভারী বস্তা মাথায় তোলা, মাঝরাতে অন্ধকার গুদামঘর পরিষ্কার করা—যে কাজে দিনশেষে চারটে টাকা বেশি পাওয়া যায়, আমি সেটাই করেছি। শুধু রাতের বেলা বাড়ি ফেরার সময় মার ওষুধের ফাইল আর ঘরের ভাড়ার টাকাটা যেন পকেটে থাকে।
কিন্তু মার ফুসফুসের অসুখটা দিন দিন আরও বেশি জটিল হচ্ছিল।
আমাদের ঘরের সেই পুরনো, সেকেন্ডহ্যান্ড অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর মেশিনটা প্রায়ই মাঝপথে বন্ধ হয়ে যেত।
যেদিন মাঝরাতে হঠাৎ মেশিনটা বিকল হয়ে গেল, আর আমি দেখলাম মা ফুসফুস ভরে একটুখানি বাতাস নেওয়ার জন্য কাঁপতে কাঁপতে নিজের বুকটা দু-হাতে খামচে ধরছে, মার চোখ দিয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে…
সেদিন আমি বুঝতে পেরেছিলাম, একটা মধ্যবিত্ত দেওয়াল পিঠ ঠেকে যাওয়ার শেষ সীমানা কাকে বলে।
এর ঠিক দিনকয়েক পরের কথা। আমি তখন একটা বড় আবাসন প্রকল্পের সাইটে লেবারের কাজ করছি। দুপুরের দিকে সাইট ম্যানেজার হঠাৎ আমাকে ডেকে পাঠালেন ওনার এসির কেবিনে।
আমি গুটিগুটি পায়ে ভেতরে ঢুকলাম। বুকটা দুরুদুরু কাঁপছিল, ভাবলাম কাজে হয়তো বড় কোনো ভুল করে ফেলেছি, আজ চাকরিটাই না চলে যায়।
কিন্তু কেবিনে ঢুকে দেখলাম, ম্যানেজারের চেয়ারের পাশে সোফায় এক মাঝবয়সী ভদ্রলোক বসে আছেন। ওনার চারপাশের নীরবতা আর গাম্ভীর্যটাই এমন ছিল, যেন ওই পুরো এলাকাটার মালিক উনি একাই।
আসলে উনি সত্যিই ওই রকম প্রভাবশালী মানুষ ছিলেন।
ঢাকা শহরের নামকরা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। মানুষ ওনার নাম শুনলে শ্রদ্ধার চেয়ে ভয় পেত বেশি।
তিনি অনেকক্ষণ ধরে আমার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বেশ ভারী গলায় বললেন, "শুনলাম তুমি ছেলে হিসেবে খুব সৎ ও কর্মঠ… আর তোমার মা নাকি খুব অসুস্থ?"
আমার মতো একজন সামান্য দিনমজুরকে নিয়ে ওনার মতো অত বড় মানুষের কী কৌতূহল থাকতে পারে, সেটা আমি কিছুতেই মেলাতে পারছিলাম না।
ঠিক তখনই তিনি এমন একটা কথা বললেন, যা আমার গোটা জীবনটাকে এক নিমেষে উল্টেপাল্টে দিল।
তিনি সরাসরি বললেন, "আমি চাই তুমি আমার মেয়েকে বিয়ে করো।"
প্রথম মুহূর্তে আমার মনে হয়েছিল, কোনো ধনী লোক বোধহয় আমার দারিদ্র্য নিয়ে তামাশা করছেন।
কিন্তু পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাইট ম্যানেজারকে দেখলাম সাথে সাথে মাথা নিচু করে ফেললেন। ওনার ওই কুঁকড়ে যাওয়া দেখেই বুঝলাম, ভদ্রলোক কোনো রসিকতা করছেন না, কথা ১০০ ভাগ সত্যি।
আসলে ওনার মেয়েকে ওই এলাকার কমবেশি সবাই চিনত।
মহিলারা পাড়ার বিয়েবাড়িতে বা চায়ের আড্ডায় ওকে নিয়ে এমনভাবে কানাঘুষো করত, যেন মেয়েটা একটা জ্যান্ত কেলেঙ্কারি।
আর যুবকেরা যেকোনো পারিবারিক বিয়ের সম্বন্ধ বা 'মেয়ে দেখা'র পর্ব শেষ হলেই আড়ালে গিয়ে ওনাকে নিয়ে নোংরা উপহাস করত।
কেউ বলত মেয়েটার নাকি মানসিক মাথা খারাপ, ও একটা পাগল।
কেউ বলত ওর শরীরে কোনো দূরারোগ্য ব্যাধি আছে, ও স্বাভাবিক নয়।
আর কিছু মানুষ তো আরও এক ধাপ এগিয়ে নোংরা ইঙ্গিত করতেও ছাড়ত না…
তারা বলত মেয়েটার চরিত্র ঠিক নেই, নষ্ট মেয়ে।
নইলে বছরের পর বছর ধরে কেন ওকে শহরের দামি দামি মানসিক হাসপাতাল আর রিহ্যাব সেন্টারে লুকিয়ে রাখা হতো? সেই রহস্য কেউ জানে না।
এমনকি সমবয়সী মেয়েরাও ওকে দেখে নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করত:
"নিশ্চয়ই কোনো ঝামেলা আছে।"
"নইলে এত টাকা পয়সা থাকা সত্ত্বেও মেয়েটার বিয়ে হচ্ছে না কেন?"
"মেয়ে যদি স্বাভাবিকই হতো, তবে কোনো ছেলেই কি টিকত না?"
আর আমাদের এই চায়ের কাপে ঝড় তোলা সমাজে…
একটা মেয়ের জীবন ধ্বংস করার জন্য একটা রটনা বা কুৎসিত গুঞ্জনই যথেষ্ট।
অথচ সেই মেয়েটা, যার নাম উপমা, সে যখনই রাস্তা দিয়ে যেত, মনে হতো চারপাশের প্রতিটা বিষাক্ত কথা সে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে।
বিয়ের কথা পাকাপাকি হওয়ার আগে একবার দূর থেকে ওকে দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার।
বেশ ভারী গড়নের, স্থূলকায় একটা মেয়ে। একটা ঢিলেঢালা সুতির চাদর দিয়ে নিজেকে পুরো গুটিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।
বাবার ঠিক এক কদম পেছনে একদম নিস্পৃহভাবে হেঁটে যাচ্ছিল সে।
চোখ দুটো মাটির দিকে নামানো।
যেন চারপাশের মানুষের ওই বাঁকা আর বিদ্রূপাত্মক নজর সইতে সইতে ও অভ্যস্ত হয়ে গেছে।
আমি যখন বুক বেঁধে ওনার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এত ছেলে থাকতে আপনি আমার মতো একটা সর্বস্বান্ত ছেলেকে কেন বেছে নিলেন?
উনি মুখাবয়বে কোনো আবেগ না এনে শান্ত গলায় বলেছিলেন, "বিয়ের পর তুমি একটা সম্মানজনক চাকরি পাবে, থাকার জন্য ফ্ল্যাট পাবে, আর তোমার মার চিকিৎসার আজীবনের সম্পূর্ণ খরচ আমি দেব।"
ঠিক সেই মুহূর্তে…
আমার মাথায় ভালোবাসার কোনো স্থান ছিল না।
সমাজের লোক কী বলবে, সেই ভয়ও ছিল না।
এমনকি উপমার ওই স্থূল চেহারা বা ওর অতীত নিয়ে ভাবার মতো মানসিকতাও আমার ছিল না।
আমার চোখের সামনে শুধু ভাসছিল মার সেই খিলখিল করে ওঠা দমবন্ধ করা মুখটা।
আমি রাজি হয়ে গেলাম।
খবরটা চারদিকে ছড়াতে একদমই সময় নেয়নি।
চেনা-পরিচিত অনেক মানুষই আড়ালে বলল, টাকার লোভে ছেলেটা নিজেকে বিক্রি করে দিল।
কেউ কেউ আবার উপহাসের সুরে হাসত:
"টাকা দিয়ে জামাই কিনে এনেছে ধনী বাবা। অভাবী ঘরের লোভী ছেলে ছাড়া ওই মেয়েকে আর কে ঘরে তুলবে?"
এমনকি আমার নিজের কিছু আত্মীয়ও আমার দিকে এমনভাবে তাকাত, যেন আমি কোনো মস্ত বড় অপরাধ করে ফেলেছি।
আর আমার মা…
যেদিন মার সামনে বিয়ের কথাটা তুললাম, মা সেদিন আমার হাত দুটো ধরে অঝোরে কেঁদেছিলেন।
মা খুব ভালো করেই জানতেন, এই বিয়েতে আমার একবিন্দুও ইচ্ছে নেই।
কিন্তু মা এটাও জানতেন, আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে 'না' বলার মতো কোনো বিলাসিতা থাকে না।
বিয়ের আগের ওই কটা দিন, এনগেজমেন্টের সময়টাতে আমি উপমাকে বিন্দুমাত্র বুঝতে পারিনি।
ও প্রয়োজনের চেয়েও বেশি চুপচাপ থাকত।
কেউ খুব সাধারণ কোনো প্রশ্ন করলেও ও অদ্ভুতভাবে চমকে উঠত, হাত-পা কাঁপত ওর।
মাঝেমধ্যে ও আমার দিকে এমনভাবে তাকাত, যেন খুব জরুরি কিছু বলতে চাইছে… কিন্তু এক অজানা ভয়ে শেষ মুহূর্তে ঠোঁট দুটো চেপে ধরে মুখ ফিরিয়ে নিত।
তবে ওর যে জিনিসটা আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলত…
সেটা হলো ওর চোখের ভাষা।
ও মাঝেমাঝে আমার দিকে এমন এক অপরাধবোধের দৃষ্টিতে তাকাত, যেন ও এমন কোনো পাপের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে যার থেকে ওর কোনো মুক্তি নেই।
আর ওর বাবার সাথে ওর সম্পর্কটা ছিল আরও অদ্ভুত, যা আমি আগে কোনো পরিবারে দেখিনি।
ওনার বাবা ঘরে ঢোকার সাথে সাথে উপমা আক্ষরিক অর্থেই কাঁপতে শুরু করত।
ভদ্রলোক সামান্য গলা উঁচিয়ে কথা বললেই ও একদম পাথর হয়ে যেত।
যেন একটা তীব্র, দমবন্ধ করা আতঙ্কের মধ্যে ও প্রতিদিন বেঁচে থাকে।
একদিন বিয়ের ঠিক দুদিন আগে, আমরা যখন ড্রয়িংরুমে কয়েক মিনিটের জন্য একা ছিলাম, আমি সোজা ওর চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "আপনাকে কি জোর করে এই বিয়েটা দেওয়া হচ্ছে?"
ও চমকে উঠে দ্রুত চোখ দুটো আমার দিকে তুলল…
তারপর খুব ক্লান্ত, ভাঙা গলায় বলল, "মাঝে মাঝে মানুষের জীবন এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন সে নিজে আসলে কী চায়, সেটাই আর গুলিয়ে ফেলে।"
কথাটা বলেই ও আবার স্তব্ধ হয়ে গেল।
বিয়ের দিনটা আমার জীবনের সবচেয়ে ভারী আর যন্ত্রণাদায়ক একটা দিন ছিল।
চারপাশের মহিলারা ওকে দেখছিল করুণা আর উপহাস মেশানো চোখে।
আর পুরুষগুলো আমার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসছিল, যেন তারা নিশ্চিত যে এই রাজকীয় বিয়ের আড়ালে মস্ত কোনো ফাঁকি আছে… আর একটা স্বাভাবিক দম্পতির প্রথম রাতে যে আনন্দ থাকে, তা আমাদের কপালে অন্তত নেই।
এমনকি উপমা নিজেও…
ওকে দেখে মনে হচ্ছিল ও কোনো ছাদনাতলায় যাচ্ছে না, বরং আদালতের কোনো ফাঁসির মঞ্চের দিকে হেঁটে যাচ্ছে।
অবশেষে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে যখন আমরা হোটেলের বাসর রুমে একা হলাম…
ও বিছানার একদম এক কোণায় চুপচাপ এসে বসল।
ও কাঁদছিল না।
একটা কথাও বলছিল না।
শুধু নিজের দু-হাত দিয়ে অপর হাতটাকে এত জোরে চেপে ধরে রেখেছিল, যেন ও নিজেকে ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়া থেকে কোনোমতে আটকে রাখছে।
আমি ঘরের এই ভারী নীরবতা আর অস্বস্তিটা কাটানোর জন্য আলতো করে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনি ঠিক আছেন তো? কোনো সমস্যা?"
ও কোনো উত্তর দিল না।
তারপর ও অত্যন্ত ধীরগতিতে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল…
আর নিজের ভারী বেনারসি শাড়ির কুঁচিটা এক হাত দিয়ে সামান্য ওপরে তুলল।
আর তখনই আমার নজর গেল ওর পেটের সেই দীর্ঘ, কালচে হয়ে যাওয়া কাটা দাগটার দিকে।
আমি নিজের জায়গায় পুরো স্তব্ধ হয়ে গেলাম।
তখনও আমি চিকিৎসার বা ঘটনার কোনো মারপ্যাঁচ বুঝিনি।
কিন্তু ওর চোখের সেই আকুলতা দেখে এটুকু স্পষ্ট বুঝলাম, ওই গভীর দাগটার পেছনে এমন এক ভয়ঙ্কর ইতিহাস লুকিয়ে আছে, যা আমার চেনা জগতের কল্পনারও বাইরে।
আমি চোখ তুলে ওর মুখের দিকে তাকালাম। দেখলাম ও পুরো কাঁপছে।
এবং ওর সাথে আলাপ হওয়ার পর এই প্রথমবার…
আমার মনে হলো, ও আমার সামনে দাঁড়াতেও প্রচণ্ড ভয় পাচ্ছে।
তারপর ও আতঙ্কে এবং কান্নায় বুজে আসা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে কাঁপাকাঁপা ঠোঁটে বলল:
"একটা সত্যি কথা আপনার জানা খুব দরকার… তবে এই সত্যিটা শোনার পর, আপনি কোনোদিন আর আমার দিকে এই চোখে তাকাতে পারবেন না।"
(চলবে…)
#নীল_পদ্ম
[লেখক #গল্প_ঘর ]

21/05/2026

এক ছিল একটা ছোট্ট গ্রামে। সেই গ্রামের পাশে ছিল ছোট্ট বন। সেখানেবাস করতো ছোট মেয়ে। মেয়েটা নাম ছিল লাবনী।
#গল্প #ভাইরালগল্প #রুপকথারকাহিনী

20/05/2026

যে প্রবাসী স্বামী কষ্টের টাকায় কোরবানি আয়োজন করা হচ্ছে।সে স্বামী কপালে এক টুকরো মাংস জোটে না
#মাংস #কোরবানী #প্রবাসী

দুই পৃথিবীপর্ব ০৩লেখক The Story Havenআদিবকে ঘুম পাড়িয়ে যখন নিজের ঘরে ফিরলাম, তখন ঘড়িতে রাত এগারোটা। সায়ন বিছানায় শুয়ে আছ...
20/05/2026

দুই পৃথিবী
পর্ব ০৩
লেখক The Story Haven

আদিবকে ঘুম পাড়িয়ে যখন নিজের ঘরে ফিরলাম, তখন ঘড়িতে রাত এগারোটা। সায়ন বিছানায় শুয়ে আছে, কিন্তু ওর চোখ খোলা। সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ও কী যেন ভাবছে। আমি ঘরে ঢুকতেই ও একটু চমকে উঠল, তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে চট করে একটা স্বাভাবিক হাসি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করল।

"আদিব ঘুমিয়েছে আফ্রা?" ওর গলায় স্পষ্ট একটা জড়তা, যেন নিজের অবচেতনের অপ*রাধবোধটাকে ঢাকতে চাইছে।

"হ্যাঁ, ও তো ঘুমালেই বাঁচি। সারা দিন যে কী পরিমাণ দুষ্টুমি করে!" আমি খুব স্বাভাবিকভাবে আলমারি থেকে নাইট ড্রেস বের করতে করতে বললাম। আয়নায় সায়নের প্রতিবিম্বটা দেখছিলাম। ও আড়চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছে। ও এখনো নিশ্চিত হতে পারছে না আমি সত্যিই সবকিছু ধরে ফেলেছি, নাকি কেবলই একটা কাকতালীয় ঘটনা নিয়ে ঠাট্টা করছি।

আমি ওয়াশরুম থেকে চেঞ্জ করে এসে বিছানার একপাশে শুয়ে পড়লাম। সায়ন একটু ইতস্তত করে আমার দিকে এগিয়ে এল। আমার কাঁধে হাত রেখে খুব চেনা একটা মায়াবী গলায় বলল, "আজকে চেম্বারের ওই কেসটার কথা বলছিলে না? আসলে ভাবছিলাম, দুনিয়ায় কত রকম অদ্ভুত মানুষ থাকে! চেহারার মিল থাকলেই কি আর এক মানুষ হয়? তুমি মিছেমিছি ওসব নিয়ে মাথা ঘামিও না, জানু।"

ওর হাতের স্পর্শে আমার পুরো শরীর ঘৃণায় রি রি করে উঠল। ইচ্ছে করছিল ওর হাতটা ঝটকা মে*রে সরিয়ে দিই। কিন্তু আমি মনে মনে হাসলাম। সায়ন ধরে নিয়েছে আমি এখনো অন্ধকারে আছি। ও ভাবছে আফরিনের নামের মিল আর চেহারার মিলটাকে ও একটা কাকতালীয় দুর্ঘ*টনা বলে পার পেয়ে যাবে। ও দুই নৌকায় পা দিয়েই চলতে চাইছে—এদিকে আমার মতো প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার স্ত্রী আর ফুটফুটে সন্তান, ওদিকে আফরিনের মতো সরল, অল্পবয়সী নতুন একটা মেয়ে। ও কোনো পক্ষই হারাতে চায় না।

আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওর দিকে তাকালাম। চোখে এক আকাশ সরলতা ফুটিয়ে বললাম, "তা ঠিক বলেছ সায়ন। আমিও পরে ভাবলাম, আমি আসলেই পাগ*লের মতো ভাবছিলাম। আমার সায়ন কি আর তেমন মানুষ? তুমি তো আমার আর আদিবের জন্য দিন-রাত এক করে খাটছ। আই অ্যাম সরি, আমি আসলে আজ চেম্বারে প্রচণ্ড টায়ার্ড ছিলাম তো, তাই উল্টোপাল্টা ভেবে ফেলেছি।"

আমার মুখে এই কথা শুনতেই সায়নের পুরো শরীর যেন এক নিমেষে শিথিল হয়ে গেল। ওর বুকের ওপর থেকে যেন মস্ত বড় একটা পাথর নেমে গেল। ও এক গাল হেসে আমার কপালে একটা চুমু খেল। "পাগ*লী একটা! ঘুমাও এখন, অনেক ধকল গেছে আজ তোমার ওপর দিয়ে।"

ও পাশ ফিরে নিশ্চিন্তে চোখ বন্ধ করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওর নিয়মিত নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা গেল—ও ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু আমার চোখে এক ফোঁটা ঘুম নেই। অন্ধকার ঘরের দিকে তাকিয়ে আমি মনে মনে ভাবলাম, সায়ন, তুমি ভেবেছ তুমি খুব চালাক? তুমি এই আফ্রাকে এখনো চেনোনি। তুমি যখন দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার খেলাটা খেলছ, তখন আমি নিশ্চিত করব যেন মাঝনদীতে গিয়ে তোমার দুটো নৌকাই একসাথে ডুবে যায়।

পরদিন সকালে সায়ন অন্য দিনগুলোর চেয়ে একটু বেশিই কেয়ারিং আচরণ করল। ব্রেকফাস্ট টেবিলে নিজ হাতে আমাকে অমলেট এগিয়ে দিল, আদিবের সাথে হাসাহাসি করল। ও ভাবছে, একটু বেশি ভালোবাসা দেখালে আমার মনের ভেতরের সুপ্ত সন্দেহটুকুও মুছে যাবে।

"আফ্রি— আই মিন, আফ্রা, আমি আজ একটু ঢাকার বাইরে যাচ্ছি," অফিস ব্যাগটা গোছাতে গোছাতে সায়ন বলল। "মুন্সিগঞ্জে একটা ফ্যাক্টরি ভিজিট আছে। ফিরতে ফিরতে কাল দুপুর হতে পারে।"

মুন্সিগঞ্জ! অথচ আমি ভালো করেই জানি, ধানমন্ডির ফ্ল্যাটে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা আফরিন সুলতানা হয়তো আজ ওর জন্য বিশেষ কোনো রান্না করে অপেক্ষা করছে। সায়ন সেখানে গিয়ে 'সংসার' করবে।

"আচ্ছা, সাবধানে যেও। পৌঁছানো মাত্র আমাকে একটা কল দিও," আমি ওর গালে আলতো করে হাত রেখে বিদায় জানালাম। সায়ন তৃপ্তির হাসি হেসে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল। ও ভাবল, ও আবার জিতে গেল।

সায়ন বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক বিশ মিনিট পর আমি আমার চেম্বারের এসিস্ট্যান্ট রনিকে ফোন করলাম। রনি আমার খুব বিশ্বস্ত, ও আমার মেডিকেলের শুরুর দিনগুলো থেকে আমার সাথে আছে।

"হ্যালো রনি, আজ আমার চেম্বারে আসতে একটু লেট হবে। তুমি একটা কাজ করো। গতকাল আফরিন সুলতানা নামের যে পেশেন্ট এসেছিল, ওনার ফাইলে ওনার একটা লোকাল নম্বর আর অ্যাড্রেস দেওয়া আছে। নম্বরটা আমাকে এখনই টেক্সট করো। আর শোনো, বিষয়টা যেন একদম আমাদের দুজনের মধ্যেই থাকে।"

"জি ম্যাম, এখনই দিচ্ছি," রনি আর কোনো প্রশ্ন না করে লাইনটা কেটে দিল।

এক মিনিটের মধ্যে আমার মোবাইলে আফরিনের নম্বরটা চলে এল। আমি নম্বরটার দিকে তাকিয়ে গভীর একটা শ্বাস নিলাম। সায়ন এখন মুন্সিগঞ্জের কথা বলে ধানমন্ডির দিকে যাচ্ছে। ও ভাবছে ও দুই দিকেই ব্যালেন্স করে সুখে থাকবে। কিন্তু ও জানে না, এই দুই পৃথিবীর সুতোটা এখন আমার হাতে।

আমি আফরিনের নম্বরে ডায়াল করলাম। ফোনের ওপাশ থেকে রিং হওয়ার শব্দ ভেসে আসছে। সায়নের অজান্তেই, ওর তৈরি করা তাসের ঘরটা এবার ভাঙার সময় এসেছে।

(চলবে...)

চতুর্থ পর্ব খুব শীঘ্রই পোস্ট করা হবে সবাই পেজটি ফলো করে ছোট একটা কমেন্ট করবেন তাহলে চতুর্থ পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন।

Address

Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rini Akter posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Rini Akter:

Share