Rini Akter

Rini Akter Rini Akter একটি বিনোদন মূলক page. সবাই Follow দিয়ে সাথে থাকুন । Rini Akter page টি একটি বিনোদন মূলক page. সবাই page টি Follow দিয়ে সাথে থাকবেন।

অফিসের সহকর্মীদের সুন্দরী বউদের দেখে আমার হিং*সা হতো। সেদিন সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে মেজাজ হারিয়ে স্ত্রীকে বলেই ...
24/08/2026

অফিসের সহকর্মীদের সুন্দরী বউদের দেখে আমার হিং*সা হতো। সেদিন সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে মেজাজ হারিয়ে স্ত্রীকে বলেই ফেললাম— "তোমার মতো সাধারণ চেহারার মেয়েকে বিয়ে করে আমার জীবন টা শেষ হয়ে গেছে একদম রস কসহীন। তোমাকে সাথে নিয়ে গেলে সবার সামনে আমার প্রেস্টিজ নষ্ট হয়!" আমার এই কথা শুনে ও একটুও তর্ক করেনি, শুধু হাত থেকে শাড়িটা নামিয়ে রেখে বলল— "তুমি একাই যাও, আমি ঘরেই থাকি বাচ্চাদের নিয়ে।"

​পুরো অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরে দেখি, ও এক কোণে বসে আছে ছোট ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে আছে। আর বড় মেয়েটা ৬ বছর সে সোফায় শুয়ে আছে। অনুষ্ঠান থেকে আসতে সময় বড় মেয়ের জন্য হোটেল থেকে ২ প্যাক বিরিয়ানি নিয়ে আসছি। মেয়েটা তার মায়ের গায়ের রং পেয়েছে শ্যামলা। তাও সে আমার কাছে ভীষণ প্রিয়। আমি আমার মেয়েকে আমার ছোট ছেলের থেকে ভালোবাসি। সেও আমাকে ভালোবাসে। তার কাছ থেকে বাবা ডাক শুনলে আমার সব কষ্ট দূর হয়ে যায়।
​মেয়েকে তুলে বিরিয়ানি খাওয়ালাম। ছোট ছেলের জন্য রাখলাম একটু। তার বয়স ২ বছর। কিন্তু আমার স্ত্রীর জন্য কিছু রাখলাম না। তার এই চেহারা আমার আর ভালো লাগে না। কেন যে টাকা নিয়ে বিয়ে করতে গেলাম। কিন্তু আমার স্ত্রী আমাকে প্রচুর ভালোবাসে।

​হাত-মুখ ধুয়ে এসে সোফায় বসতেই বড় মেয়েটা আধো আধো গলায় বলে উঠল, "বাবা, তুমি এসেছ? আমার জন্য বিরিয়ানি এনেছ?"

আমি মুচকি হেসে ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম, "হাঁ মা, তোমার জন্যই তো এনেছি। ওঠো, খেয়ে নাও।"
​মেয়েটা আনন্দ নিয়ে খেতে বসল। কিন্তু আমার স্ত্রী রোকেয়া তখনও ঘরের কোণে বসেই ছোট ছেলেকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছিল। ওর মুখে কোনো টু শব্দ নেই। আমার কথায় হয়তো ওর বুকে খুব লেগেছে, কিন্তু ওর সেই শান্ত চেহারা দেখে আমার উল্টো আরও বিরক্ত লাগছিল। রূপ নাই, সাজগোজের কোনো ঢং নাই, একটা ধ্যাবড়া সাধারণ চেহারা নিয়ে সারা দিন ঘরে পড়ে থাকে।

​অথচ অফিসে আমাদের স্যার এবং সহকর্মীদের বউদের দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। ফর্সা ত্বক, সুন্দর জামাকাপড়, কত চটপটে কথা বলা! তাদের পাশে আমার এই স্ত্রী যেন একদম বেমানান। বিয়ের সময় ওর বাবার বাড়ি থেকে বেশ কিছু টাকা আর গয়না দিয়েছিল বলে লোভে পড়ে বিয়েটা করেছিলাম। তখন ভেবেছিলাম টাকা থাকলে সব হবে। কিন্তু এখন বুঝি, একটা সুন্দরি বউ পাশে না থাকলে পুরুষের সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো যায় না।

​খাওয়া শেষ করে মেয়েটা আমার কোল ঘেঁষে ঘুমিয়ে পড়ল। আমি ওকে বিছানায় শুইয়ে দিলাম। রোকেয়া তখনও ছেলেটাকে কোলে নিয়ে চুপচাপ বসে আছে। আমি ঘরে গিয়ে ঘড়ির দিকে তাকালাম, রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। রান্নাঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার, চুলাও ধরানো হয়নি বোঝা যাচ্ছে।

​রা*গটা আবার মাথায় চড়ে বসল। আমি গলার আওয়াজ একটু চড়িয়ে বললাম, "কী ব্যাপার? রাতে খাবার কিছু রান্না করোনি? আমি হোটেল থেকে এনেছি ঠিক আছে, কিন্তু তোমার তো নিজস্ব দায়িত্ব বলতে কিছু থাকা দরকার! শুধু কোণে বসে থাকলে তো সংসার চলে না।"
​রোকেয়া আস্তে করে মাথা তুলে আমার দিকে তাকাল। ওর চোখে জল ছিল কি না অন্ধকারে ঠিক বোঝা গেল না। ও খুব নিচু গলায় বলল, "দুপুরে যা ছিল তাতেই হয়ে যেত। তোমার তো অনুষ্ঠান থেকেই খেয়ে আসার কথা ছিল, আর বাচ্চাদের কথা ভেবে কিছু রাঁধিনি। বিরিয়ানি তো এনেছই।"

​"আমি এনেছি বলেই তো বেঁচে গেলে! নইলে তো বাচ্চারাও না খেয়ে ঘুমায়ে থাকত," আমি বিরক্ত হয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে আড়চোখে রোকেয়ার দিকে তাকালাম। সাধারণ একটা সুতি শাড়ি পরা, চুলগুলো এলোমেলো করে বাঁধা। ওর এই ছাদহীন, সাজগোজহীন রূপ দেখে নিজের ওপরই রা*গ হচ্ছিল।

​"তোমার মতো মেয়েকে কেন যে ঘরে এনেছিলাম," আমি বিড়বিড় করে বললাম। "আজ অনুষ্ঠানে সবাই কত সুন্দর সুন্দর বউ নিয়ে এসছিল। আর আমি বউ নিয়ে গেলে লোকে হাসাহাসি করত। আমার প্রেস্টিজের বারোটা বাজত।"

​কথাগুলো শুনে রোকেয়া এবারও কোনো প্রতিবাদ করল না। ও ছেলেটাকে কাঁথা জড়িয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে আমার দিকে এল। ওর চলাফেরায় কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো রা*গ বা ক্ষো*ভের বহিঃপ্রকাশও নেই। একদম শান্ত, যেন ও এসব কথায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

​ও আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে টেবিল থেকে আমার ঘড়ি আর মানিব্যাগটা তুলে নিয়ে ঠিক জায়গায় গুছিয়ে রাখল। তারপর বলল, "তোমার গায়ের জামাটা খুলে দাও, ধুয়ে দেব। আর কাল সকালে তো অফিসে জলদি যেতে হবে, আমি টিফিন তৈরি করে রাখব।"

​ওর এই সহজ কথাগুলো আমাকে আরও বেশি অচেনা আর অদ্ভুত শোনাল। কোনো মেজাজ দেখাল না, কোনো গা*লমন্দ করল না। উল্টো আমারই খেয়াল রাখছে! কিন্তু আমার মন তাতেও গলল না। মনে হচ্ছিল, এই ভালোবাসা আর যত্ন সবই তো সাধারণ, কিন্তু সুন্দর চেহারা কই? একটা পুরুষের মন ভরাতে গেলে যে রূপের প্রয়োজন, তা তো ওর মধ্যে বিন্দুমাত্র নেই।

​আমি বিছানায় গিয়ে গা এলিয়ে দিলাম। রোকেয়া লাইটটা নিভিয়ে দিয়ে ঘরের কোণে ফ্যানের নিচে নিজের জন্য একটা পাতলা কাঁথা পাতল। ও সবসময় মেঝেশুতেই পছন্দ করে, বিশেষ করে যখন আমি রাগ করে থাকি।
​অন্ধকারে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আমি ভাবতে লাগলাম আমার জীবনের কথা। চাকরি করি, মোটামুটি ভালোই মাইনে পাই তবে চাকরি টা রোকেয়ার বাবার টাকা দিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু বাড়ি ফিরলেই একটা বিষণ্ণতা আমাকে চেপে ধরে। আমার সব সহকর্মীরা বউ নিয়ে উইকএন্ডে ঘুরতে যায়, ছবি তোলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে। আর আমি? রোকেয়াকে নিয়ে কোথাও যেতেও আমার লজ্জা করে। লোকে হয়তো ভাববে আমি টাকার লোভে একটা কালোর রূপহীন মেয়েকে ঘরে এনেছি। কথাটা সত্যি হলেও শুনতে তো ভালো লাগে না!

​হঠাৎ অন্ধকারের মধ্যে রোকেয়ার আস্তে করে শ্বাস ফেলার শব্দ শুনলাম। ও হয়তো ঘুমানোর চেষ্টা করছে, কিংবা চুপচাপ কাঁদছে। আমার মনের এক কোণে সামান্য অপরা*ধবোধ উঁকি মা*রলেও পরক্ষণেই অহংকার আর হিং*সা সেটাকে চাপিয়ে দিল। আমার মতো পুরুষের পাশে একটা রূপসী মেয়েই মানায়, এই রোকেয়া নয়।

চলবে...?

অন্ধ রূপের অর্ঘ্য
পর্ব ০১
লেখক The Story Haven (শাহেদ খান)

প্রথম পর্ব কেমন লাগলো? আজকেই দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করা হবে। ধন্যবাদ

 #ত্রিশ_টাকার_লটারিপর্ব-02লেখক:Rini Akterফোনের স্ক্রিনে সাব্বির নামটা জ্বলজ্বল করছিল। কয়েক সেকেন্ড ধরে আমি শুধু ফোনটির দ...
21/08/2026

#ত্রিশ_টাকার_লটারি
পর্ব-02
লেখক:Rini Akter

ফোনের স্ক্রিনে সাব্বির নামটা জ্বলজ্বল করছিল। কয়েক সেকেন্ড ধরে আমি শুধু ফোনটির দিকে তাকিয়ে রইলাম। তিন সপ্তাহ আগে যে মানুষটি আমার চোখের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিল, “তোমাকে আর ওই বাচ্চাকে চালানোর দায়িত্ব আমি নেব না।

এবার নিজেই দেখো কীভাবে চলবে,” সেই মানুষটিই আজ আমাকে ফোন করছে। তখন আমার কাছে ছিল মাত্র তেত্রিশ টাকা। আর আজ আমার জীবনের হিসাবটাই যেন পুরোপুরি বদলে গেছে।

আমার হাতে এখন এমন এক সম্পদ, যার পরিমাণ হয়তো সারাজীবন কল্পনাও করেনি।

আমি শেষ পর্যন্ত কলটি রিসিভ করলাম।

ওপাশে কয়েক সেকেন্ড কোনো শব্দ হলো না। তারপর সাব্বির কণ্ঠ ভেসে এল, “তুমি... সত্যিই লটারি জিতেছ?”

আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় বললাম, “তুমি তো খবর দেখেছ। তাহলে আবার জিজ্ঞেস করছ কেন?”

সে যেন কথাটা কীভাবে শুরু করবে বুঝতে পারছিল না। কিছুক্ষণ পর বলল, “আমি... আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।”

আমার ঠোঁটে তিক্ত একটা হাসি ফুটে উঠল।

“তিন সপ্তাহ আগে আমিও বিশ্বাস করতে পারিনি।”

“কী?”

“আমি বিশ্বাস করতে পারিনি যে আমার নিজের স্বামী আমাকে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এভাবে ছেড়ে চলে যেতে পারে।”

ওপাশে নীরবতা নেমে এল।

আমি জানতাম, সে এখন কী বলতে চাইছে। তবুও তাকে সুযোগ দিলাম।

কিছুক্ষণ পর সে বলল, “আমি ভুল করেছি।”

আমি ধীরে ধীরে বললাম, “ভুল?”

“হ্যাঁ। আমি তখন খুব চাপে ছিলাম। অনেক কিছু একসঙ্গে হয়ে গিয়েছিল। আমি বুঝতে পারিনি—”

আমি তাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, “তুমি আমাকে ছেড়ে যাওয়ার আগে সবকিছু ভেবেচিন্তে করেছিলে, । তুমি স্যুটকেস গুছিয়েছিলে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের টাকা তুলে নিয়েছিলে। আমার কার্ড বাতিল করেছিলে। মাহি বাইরে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিল। আর যাওয়ার আগে আমাকে বিচ্ছেদের চুক্তি পাঠিয়েছিলে। এগুলো কোনো রাগের মুহূর্তের সিদ্ধান্ত ছিল না।”

সে এবার নিচু গলায় বলল, “মাহির সঙ্গে আমার সম্পর্ক শেষ।”

আমি চোখ বন্ধ করলাম।

“তুমি আমাকে ফোন করেছ মাহির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার খবর দিতে?” “না।”

“তাহলে?” “আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই।”

“কেন?” “আমাদের কথা বলা দরকার।”

আমি বললাম, “আমাদের কথা বলার সময় তোমার ছিল তিন সপ্তাহ আগে।”

সে তাড়াতাড়ি বলল, “তখন পরিস্থিতি আলাদা ছিল।”

আমি উত্তর দিলাম, “না। পরিস্থিতি একই ছিল। শুধু তখন আমার কাছে টাকা ছিল না।”

ওপাশে আবার নীরবতা।

আমার কথাটা হয়তো তার হৃদয়ে গিয়ে লেগেছিল।

কিন্তু আমার হৃদয়ে তার আগের কথাগুলো আরও গভীরভাবে গেঁথে ছিল।

আমি বললাম, “তুমি কি মনে করতে পারো, যাওয়ার আগে আমাকে কী বলেছিলে?”

সে চুপ করে রইল।

আমি নিজেই বললাম, “তুমি বলেছিলে—‘নিজেই দেখো কীভাবে চলবে।’সাব্বির দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “আমি জানি। আমি ভুল করেছি।”

“তখন আমার কাছে মাত্র তেত্রিশ টাকা ছিল।”

সে এবার কিছু বলল না।

আমি বললাম, “ত্রিশ টাকা দিয়ে আমি একটা লটারির টিকিট কিনেছিলাম। আর বাকি তিন টাকা দিয়ে ওটমিল কিনে বাড়ি ফিরেছিলাম।”

“তুমি... সত্যিই মাত্র তেত্রিশ টাকা নিয়ে ছিলে?”

“হ্যাঁ।”

“আমি ভাবিনি...”

আমি তিক্ত হেসে বললাম, “তুমি কিছুই ভাবোনি। সেটাই তোমার সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল।”

কিছুক্ষণ পর বলল, “তুমি কি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে?”

আমি জানতাম, এই প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া সম্ভব নয়।

তাই বললাম, “আমি জানি না।”

“আমি তোমার কাছে ফিরে আসতে চাই।”

আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।

“কী বললে?”

“আমি তোমার কাছে ফিরে আসতে চাই। তোমার কাছে। আমাদের মেয়ের কাছে।”

আমি ধীরে বললাম, “তুমি কি লটারি না জিতলে এই কথাটা বলতে?”

সে সঙ্গে সঙ্গে বলল, “অবশ্যই।”

আমি জানতাম, এই কথার কোনো প্রমাণ নেই।

তাই আর তর্ক করলাম না।

ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো।

আমি দরজা খুলতেই দেখি মেহরিন দাঁড়িয়ে আছেন। তার হাতে কয়েকটি ফাইল এবং একটি মোটা খাম।

তিনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝলেন, আমি কার সঙ্গে কথা বলছি।

আমি ফোনটা কানে রেখেই বললাম, “সাব্বির, আমাকে এখন যেতে হবে।”

সে তাড়াতাড়ি বলল, “এক মিনিট। আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।”

“বলো।”

“তুমি আমাদের মেয়েকে আমার কাছ থেকে দূরে রেখো না।”

আমি কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইলাম।

তারপর বললাম, “তুমি যখন চলে গিয়েছিলে, তখন তুমি শুধু আমাকে ছেড়ে যাওনি। তুমি তোমার মেয়েকেও ছেড়ে গিয়েছিলে।”

“আমি এখন সব ঠিক করতে চাই।”

“সবকিছু সবসময় ঠিক করা যায় না।”

আমি কলটি কেটে দিলাম।

মেহরিন আমার পাশে এসে বসলেন।

“সাব্বির?”

আমি মাথা নেড়ে বললাম, “হ্যাঁ।”

“সে কী চায়?”

“ফিরে আসতে চায়।”

মেহরিন কয়েক সেকেন্ড আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, “তুমি এখন কোনো আবেগের সিদ্ধান্ত নেবে না।”

আমি বললাম, “আমি জানি।”

তিনি টেবিলের ওপর ফাইলগুলো রাখলেন।

“কারণ আমাদের সামনে এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু আছে।”

আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম।

“কী?”

মেহরিন প্রথম ফাইলটি খুললেন।

“সাব্বির তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার আগে তোমাদের যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে যে টাকা সরিয়েছিল, তার পুরো হিসাব আমরা পেয়েছি।”

আমি চুপচাপ কাগজগুলোর দিকে তাকালাম।

একটার পর একটা লেনদেনের তালিকা।

তারিখ।

সময়।

টাকার পরিমাণ।

কোথায় পাঠানো হয়েছে তার বিবরণ।

আমি প্রথম কয়েকটি লেনদেন দেখে কিছু বুঝতে পারলাম না।

তারপর মেহরিন একটি নির্দিষ্ট লাইনে আঙুল রাখলেন।

“এটা দেখো।”

আমি সংখ্যাটার দিকে তাকালাম।

তারপর বললাম, “এটা কী?”

“সাব্বির একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা গেছে।”

“কত?”

মেহরিন বললেন, “প্রায় এক কোটি টাকার সমপরিমাণ সম্পদ কয়েক ধাপে সরানো হয়েছে।”

আমার মাথা ঘুরে উঠল।

“এক কোটি?”

“হ্যাঁ।”

আমি ধীরে ধীরে চেয়ারটায় বসে পড়লাম।

“কিন্তু সে আমাকে বলেছিল ব্যবসার জন্য টাকা লাগছে।”

মেহরিন বললেন, “ব্যবসার জন্য নয়। অন্তত এই লেনদেনগুলো ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।”

আমি আবার কাগজের দিকে তাকালাম।

“তাহলে টাকা গেল কোথায়?”

মেহরিন বললেন, “কিছু টাকা একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে গেছে। আর সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাহির যোগাযোগ আছে।”

আমার বুকের ভেতরটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।

“মানে?”

“মানে, সাব্বির আর মাহির সম্পর্ক হয়তো শুধু ব্যক্তিগত ছিল না।”

আমি কিছুক্ষণ কোনো কথা বললাম না।

মেহরিন এবার দ্বিতীয় ফাইলটি খুললেন।

সেখানে ছিল একটি সম্পত্তির নথি।

আমি কাগজটা হাতে নিয়ে দেখলাম।

“এটা তো আমাদের সম্পত্তি!”

“হ্যাঁ।”

“এখানে কী হয়েছে?”

মেহরিন বললেন, সাব্বির এই সম্পত্তি বন্ধক রাখার চেষ্টা করেছিল।”

আমি হতবাক হয়ে বললাম, “আমার অনুমতি ছাড়া?”

“সে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করতে পারেনি।”

আমার চোখের সামনে যেন অন্ধকার নেমে এল।

আমি এতদিন ভেবেছিলাম, আমার স্বামী শুধু অন্য একজন নারীর জন্য আমাকে ছেড়ে গেছে।

কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তার পরিকল্পনা ছিল আরও গভীর।

সে আমার সংসার ভাঙতে চেয়েছিল।

আমাকে আর্থিকভাবে দুর্বল করতে চেয়েছিল।

আর হয়তো আমার ভবিষ্যৎটাও নিজের হাতে নিতে চেয়েছিল।

মেহরিন বললেন, “আরেকটা জিনিস আছে।”

আমি তার দিকে তাকালাম।

তিনি একটি ই-মেইলের প্রিন্ট কপি আমার সামনে রাখলেন।

ই-মেইলটি সাব্বির পাঠানো হয়েছিল।

বিষয় ছিল—

“ডিভোর্স সেটেলমেন্ট—ফাইনাল ড্রাফট।”

আমি নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, সেখানে এমন একটি শর্ত লেখা ছিল যেখানে বিচ্ছেদের পর আমি কোনো আর্থিক দাবি করতে পারব না।

আমি বললাম, “এটা তো সেই চুক্তি, যেটা সে আমাকে পাঠিয়েছিল।”

মেহরিন বললেন, “না। এটা তার আগের খসড়া। আর এখানেই একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।”

“কী?”

“এই খসড়াটি তৈরি হয়েছিল তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার প্রায় এক মাস আগে।”

আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।

এক মাস আগে!

মানে সাব্বির অনেক আগেই আমাকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তাহলে মাহির সঙ্গে তার সম্পর্ক কবে থেকে?

আমি হঠাৎ বললাম, “মাহি কি শুধু একজন পরামর্শদাতা ছিল?”

মেহরিন আমার দিকে তাকালেন।

“সম্ভবত নয়।”

আমার বুকটা ধক করে উঠল।

আমি চোখ নামিয়ে নিলাম।

“আমি ওদের ওপর বিশ্বাস করেছিলাম।”

মেহরিন শান্ত গলায় বললেন, “তোমার ভুল ছিল বিশ্বাস করা নয়। ভুল ছিল এমন একজন মানুষকে বিশ্বাস করা, যে তোমার বিশ্বাসের যোগ্য ছিল না।”

আমি কিছু বললাম না।

সেদিন রাতে আমি একা ঘরে বসে অনেকক্ষণ ভাবলাম।

তারপর আমার মনে হলো, ইয়াসিনের ল্যাপটপটা এখনও আমার কাছে আছে।

আমি মেহরিনকে ফোন করলাম।

“আপনি কি এখন কথা বলতে পারবেন?”

“হ্যাঁ। কী হয়েছে?”

“সাব্বির পুরোনো ল্যাপটপটা আমার কাছে আছে।”

“ওটা এখনই খুলবেন না।”

“কেন?”

“সম্ভবত ওখানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। আমি সকালে একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসব।”

পরদিন সকালে ল্যাপটপ পরীক্ষা করা হলো।

অনেক ফাইল মুছে ফেলা হয়েছিল।

কিন্তু সবকিছু পুরোপুরি মুছে ফেলা যায়নি।

একটি পুরোনো ফোল্ডার উদ্ধার করা হলো।

ফোল্ডারের নাম—

“প্রজেক্ট ফ্যামিলি।”

আমি নামটা দেখে অবাক হয়ে গেলাম।

মেহরিন ফোল্ডারটি খুললেন।

ভেতরে ছিল আমার নাম।

আমার কিছু ব্যক্তিগত নথির কপি।

আমাদের সম্পত্তির কাগজ।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

এমনকি আমার গর্ভাবস্থার চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু কাগজও।

আমি আতঙ্কিত হয়ে বললাম, “সে এগুলো কেন রেখেছিল?”

মেহরিন বললেন, “এটা আমরা বের করব।”

তারপর একটি ফাইল খুলতেই আমার চোখ আটকে গেল।

সেখানে লেখা ছিল—

“সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ—ধাপ ৩।”

তার নিচে কয়েকটি নির্দেশনা।

আমি পড়তে পড়তে বুঝতে পারলাম, সাব্বির ধাপে ধাপে আমার আর্থিক অধিকার কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

কিন্তু তার পরিকল্পনার শেষ অংশটি পড়েই আমার বুক কেঁপে উঠল।

সেখানে লেখা ছিল—

“সন্তান জন্মের আগে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।”

আমি সঙ্গে সঙ্গে পেটের ওপর হাত রাখলাম।

মেহরিন বললেন, “এখন বুঝতে পারছেন কেন আপনার স্বামী এত তাড়াহুড়ো করে চলে গিয়েছিল?”

আমি মাথা নেড়ে বললাম, “হ্যাঁ।”

কিন্তু তখনও আমরা জানতাম না—এই পরিকল্পনায় মাহির ভূমিকা কতটা।

ঠিক সেই সময় আমার ফোনে একটি মেসেজ এল।

অপরিচিত নম্বর।

“আপনি যদি সত্যিটা জানতে চান, আগামীকাল সন্ধ্যা ছয়টায় পুরোনো রেলস্টেশনের পাশের কফিশপে আসুন। মেহরিনকে সঙ্গে নেবেন। কাউকে বিশ্বাস করবেন না।”

আমি মেসেজটা মেহরিনকে দেখালাম।

তিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন, “আমরা যাব।”

পরদিন নির্ধারিত সময়ে আমরা সেখানে পৌঁছালাম।

কিছুক্ষণ পর একজন মধ্যবয়সী লোক এসে আমাদের সামনে বসলেন।

তার হাতে একটি বাদামি ফাইল।

তিনি বললেন, “আমি সাব্বির ব্যবসার হিসাবরক্ষক ছিলাম।”

তারপর তিনি একে একে কয়েকটি ছবি বের করলেন।

একটিতে সাব্বির।

একটিতে মাহি।

আরেকটি ছবিতে তারা দুজন এমন একজন মানুষের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল, যাকে আমি দেখেই চিনে ফেললাম।

আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

কারণ—

সেই মানুষটি আমার নিজের পরিবারের একজন।

মেহরিন আমার দিকে তাকালেন।

আমি ফিসফিস করে বললাম, “এটা কীভাবে সম্ভব?”

লোকটি বললেন, “আপনার স্বামী একা এই পরিকল্পনা করেনি।”

আমি ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

তারপর তিনি একটি অডিও রেকর্ডিং চালু করলেন।

প্রথমে কিছু অস্পষ্ট শব্দ।

তারপর সাব্বির কণ্ঠ—

“ওকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে হবে। এমনভাবে, যাতে সবাই ভাবে দোষটা ওর।”

এরপর মাহির কণ্ঠ—

“আর যদি ওর হাতে টাকা চলে আসে?”

কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর ইয়াসিন বলল—

“ওর কাছে টাকা আসবে না। আমি ব্যবস্থা করে রেখেছি।”

মাহি বলল—

“আর যদি হঠাৎ ভাগ্য খুলে যায়?”

সাব্বির হেসে বলেছিল—

“ওর ভাগ্য এত ভালো না।”

রেকর্ডিং শেষ হয়ে গেল।

আমি চোখ বন্ধ করলাম।

তিন সপ্তাহ আগে যে মানুষটি আমার ভাগ্য নিয়ে ঠাট্টা করেছিল, সে জানত না—মাত্র বিশ টাকা দিয়ে আমি তার পুরো পরিকল্পনাকে উল্টে দেব।

কিন্তু রহস্যের শেষ তখনও হয়নি।

হিসাবরক্ষক লোকটি বললেন, “আপনার পরিবারের যে মানুষটিকে আপনি ছবিতে দেখেছেন, তার অ্যাকাউন্টে ইয়াসিনের টাকা গেছে।”

আমি কাঁপা গলায় বললাম, “কে?”

তিনি উত্তর দেওয়ার আগেই আমার ফোন বেজে উঠল।

অপরিচিত নম্বর।

আমি কল ধরলাম।

ওপাশ থেকে একটি কণ্ঠ বলল—

“আপনি ভুল মানুষকে সন্দেহ করছেন। আসল মানুষটা এখন আপনার বাড়িতেই আছে।”

কলটি কেটে গেল।

আমি আর মেহরিন একে অপরের দিকে তাকালাম।

সেদিন রাতে বাড়িতে ফিরে আমি প্রথমবার বুঝলাম—আমার চারপাশের মানুষগুলোর দিকে নতুন করে তাকাতে হবে।

কারণ শত্রু সবসময় দূরে থাকে না।

কখনো কখনো সে আমাদের একেবারে কাছেই থাকে।

আর সেই রাতেই আমি জানতাম না—

পরদিন যে মানুষটি আমার সামনে এসে দাঁড়াবে, সে-ই খুলে দেবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্যের শেষ দরজা।

চলবে...খুব শিগ্রই পরবর্তী অংশ পোস্ট করা হবে, পর্ব প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন আপনার নিউজ ফিডে পৌঁছে যায় সেই জন্য পেজটি ফলো করে রাখুন

আমার যমজ ভাই হাবিব এবং তার স্ত্রী ঝুমা  বহু বছর ধরে মরিয়া হয়ে বাবা-মা হওয়ার চেষ্টা করছিল। তাই একদিন তারা যখন আমাকে জি...
21/08/2026

আমার যমজ ভাই হাবিব এবং তার স্ত্রী ঝুমা বহু বছর ধরে মরিয়া হয়ে বাবা-মা হওয়ার চেষ্টা করছিল। তাই একদিন তারা যখন আমাকে জিজ্ঞেস করল, আমি কি তাদের জন্য একটি সন্তান গর্ভে ধারণ করতে রাজি হব, তখন আমি এক মুহূর্তও দ্বিধা করিনি।

আমি রাজি হয়ে গেলাম। হাবিব শুধু আমার ভাই ছিল না। সে ছিল আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোতে, বিশেষ করে আমাদের বাবা-মা মারা যাওয়ার পর, সে সবসময় আমার পাশে ছিল। আমার নিজের একটি ছেলেও ছিল। তাই আমি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারতাম, একটি সন্তানের জন্য তারা কতটা আকুল ছিল।

আমি যদি তাদের স্বপ্নের পরিবারটি গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারি, তাহলে আমি সেটা করতে চেয়েছিলাম।

পুরো গর্ভাবস্থায় হাবিব ও ঝুমা প্রতিটি চিকিৎসা পরীক্ষায় আমার সঙ্গে ছিল।

প্রতিটি আল্ট্রাসাউন্ডে তারা গভীর আগ্রহ ও আনন্দ নিয়ে তাদের অনাগত সন্তানকে বড় হতে দেখত।

যখন তারা জানতে পারল, তাদের সন্তান একটি মেয়ে হবে, তখন নিশাত সঙ্গে সঙ্গে ছোট ছোট জামাকাপড়, পুতুল, খেলনা এবং শিশুর জন্য নানা জিনিস কিনতে শুরু করল। দুজন মিলে শিশুটির জন্য একটি সুন্দর ঘরও সাজিয়ে ফেলল। সবকিছুই যেন নিখুঁত ছিল।

অবশেষে সেই দিনটি চলে এল। দীর্ঘ সময় ধরে প্রসবযন্ত্রণা সহ্য করার পর আমি তাদের মেয়েকে জন্ম দিলাম। ঝুমা যখন প্রথমবার শিশুটিকে দেখল, তখন আবেগে তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে শুরু করল।

হাবিব এগিয়ে এসে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে নবজাতক শিশুটিকে কোলে তুলে নিল।
কয়েক সেকেন্ড সে শুধু শিশুটির দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর হঠাৎ তার চেহারায় অদ্ভুত এক পরিবর্তন দেখা দিল। মুহূর্তের মধ্যেই তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

“হাবিব?” আমি উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “কী হয়েছে?” সে কষ্ট করে ঢোক গিলল।

তারপর এমন এক কণ্ঠে বলল, যা আমি প্রায় চিনতেই পারছিলাম না “আমি দুঃখিত, কিন্তু… আমি ওকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারব না।”
আমি হতবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

“তুমি কী বলছ? হাবিব, ও তো তোমার মেয়ে!”
সে প্রথমে ঝুমা দিকে তাকাল।

তারপর সরাসরি আমার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি দুঃখিত,” সে আবার বলল।

“কিন্তু আমাকে ওকে ছেড়ে দিতে হবে। আমি ওকে আমার সঙ্গে নিয়ে যাব না।” আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে নবজাতক শিশুটিকে আবার আমার কোলে তুলে দিল। ঝুমা সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল। তার চোখ দিয়ে তখন অঝোরে পানি ঝরছে।

“কেন?” সে কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল।

“হাবিব, আমরা আমাদের মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারব না কেন?”
হাবিব মুখ লাল হয়ে উঠল।

কিছুক্ষণ সে নীরবে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল। অবশেষে ধীরে ধীরে বলল, “ওর পিঠের দিকে তাকাও।”

আমার বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।
“আমরা এটা করতে পারব না।”
কাঁপা হাতে আমি ধীরে ধীরে শিশুটির শরীর থেকে কম্বলটি সরিয়ে তার পিঠের দিকে তাকালাম।

পরের মুহূর্তে যা দেখলাম, তাতে মনে হলো আমার পায়ের নিচের মাটি সরে গেল।
আমার হাঁটু প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হলো।

আর ঝুমা যখন একই জিনিসটি দেখল, তখন সে এমন জোরে চিৎকার করে উঠল যে করিডোর দিয়ে ছুটে এলেন হাসপাতালের নার্সরা।

চলবে…? আপনাদের রেসপন্স পেলে পরবর্তী অংশ দ্রুত লিখব। সবাই লাইক কমেন্ট করে পেইজে ফলো করুন।

্য
পর্ব-০১
লেখক~Rini Akter

খুব শিগ্রই পরবর্তী অংশ পোস্ট করা হবে, পর্ব প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন আপনার নিউজ ফিডে পৌঁছে যায় সেই জন্য পেজটি ফলো করে রাখুন।

আমার ভাইয়ের বিয়ের ঠিক আগের দিন, সে আমার বাড়িটি নিজের নামে করে দেওয়ার দাবি করল। এমনকি আমাকে বলল, বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও ভাড়...
20/08/2026

আমার ভাইয়ের বিয়ের ঠিক আগের দিন, সে আমার বাড়িটি নিজের নামে করে দেওয়ার দাবি করল। এমনকি আমাকে বলল, বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও ভাড়া নিয়ে থাকতে। আমি রাজি না হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে উঠল। তখন আমি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। কিছুক্ষণ পর আমি মেঝেতে পড়ে গেলাম, আর আমার গর্ভের পানি ভেঙে গেল। আমার বাবা-মা সবকিছু নিজের চোখে দেখেও সেখান থেকে চলে গেলেন। আমি চিৎকার করে সাহায্য চাইছিলাম... আর ঠিক দুই মিনিট পর আমার দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো...

আমার ভাই আমাকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মেঝেতে ফেলে রেখে চলে গেল। মেঝেতে পড়ে যাওয়ার পরপরই যখন আমার পোশাকের নিচে উষ্ণ তরল ছড়িয়ে পড়ল, তখনই বুঝতে পারলাম ভয়ংকর কিছু একটা ঘটে গেছে। আমি আতঙ্কে কাঁপছিলাম। আমার বাবা-মা আমার দিকে তাকালেন, আমার চিৎকার শুনলেন, কিন্তু সাহায্য করার পরিবর্তে তাঁরা ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন।

মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা আগেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। আমি আমার বড় বাড়ির বসার ঘরে বসে আমার ভাই সবুজ বিয়ের আয়োজনের জন্য সাদা ফুল সাজাচ্ছিলাম। তিন বছর আগে আমি নিজে গড়ে তোলা একটি প্রযুক্তি ব্যবসা বিক্রি করে এই বাড়িটি কিনেছিলাম। সেই ব্যবসা বিক্রি করে আমি প্রচুর অর্থের মালিক হয়েছিলাম। কিন্তু আমার পরিবারের কেউ জানত না আমি আসলে কতটা সম্পদের মালিক। কারণ ছোটবেলা থেকেই আমি জানতাম, ইয়াসিনকে আমার অর্থের কথা জানালে আমার প্রতিটি অর্জনকেই সে নিজের প্রাপ্য বলে মনে করবে।

সেদিন বিকেলে সবুজে আমার বাবা-মা এবং তার বাগদত্তা ময়ূরীকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়িতে এল। তাদের হাতে ছিল বিয়ের আয়োজনের কিছু সামগ্রী। কিন্তু তাদের আচরণে ছিল এমন এক ধরনের অধিকারবোধ, যেন এই বাড়িটি তাদেরই।সবুজ ঘরে ঢুকেই আমার দিকে না তাকিয়ে সোফায় বসে পড়ল। তারপর বলল, “রুহি, আমাদের একটা বিষয় আজই মিটিয়ে নিতে হবে।”

আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম, “কী বিষয়?”

সে বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল, “বিয়ের পর আমি আর ময়ূরী এই বাড়িতেই থাকব।”

আমি কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর ধীরে ধীরে বললাম, “কী বললে?”

ময়ূরী সঙ্গে সঙ্গে হেসে উঠল। “আপু, আপনি তো একাই থাকেন। এত বড় বাড়ি আপনার একার জন্য রেখে কী হবে?”

আমি নিজের পেটের দিকে হাত রাখলাম। তারপর শান্ত গলায় বললাম, “আমি একা নই। আমি মা হতে চলেছি।”

মা তখন কথায় যোগ দিলেন। “তবু তো তোমার এত বড় বাড়ির প্রয়োজন নেই। তুমি চাইলে ছোট একটা বাসা ভাড়া নিতে পারো।”

আমি অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকালাম। “আমি কেন নিজের বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাসায় উঠব?”

বাবা এবার গম্ভীর গলায় বললেন, “কিছুদিনের জন্যই তো।সবুজ সংসার শুরু হচ্ছে। তার একটা ভালো জায়গা দরকার।”

আমি হেসে ফেললাম। “তাহলে ওকে একটা বাড়ি কিনে দাও।”

সবুজ মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। সে পকেট থেকে একটি ফাইল বের করে আমার সামনে টেবিলের ওপর রাখল।

আমি ফাইলটির দিকে তাকিয়ে বললাম, “এটা কী?”

সে উত্তর দিল, “বাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের কাগজ।”

আমার বুকের ভেতর যেন ধাক্কা লাগল। “তোমরা আগে থেকেই এসব কাগজ তৈরি করে রেখেছ?”

সবুজ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল। “বাবা একজন পরিচিত লোকের মাধ্যমে সব ব্যবস্থা করে ফেলেছে।”

আমি ফাইলটি খুলে কয়েক পৃষ্ঠা দেখলাম। তারপর ধীরে ধীরে সেটি বন্ধ করে দিলাম।

“না।”

ঘরের পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল। সবুজ উঠে দাঁড়াল।

“তুমি কী বললে?”

আমি শান্তভাবে বললাম, “আমি এই বাড়ি তোমার নামে করে দেব না।”

সবুজ এবার রেগে গেল। “আমি ময়ূরীকে কয়েক মাস ধরে বলে আসছি, বিয়ের পর এই বাড়িটাই আমাদের হবে!”

আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, “তুমি তাকে যা খুশি বলতে পারো। কিন্তু সেটা আমার সমস্যার বিষয় নয়।”

তার মুখ রাগে লাল হয়ে উঠল। “তুমি সবসময় নিজেকে আমাদের চেয়ে বড় মনে করো। টাকা হয়েছে বলে ভাবছ, তুমি আমাদের কেউ নও!”

আমি বললাম, “আমি কখনো নিজেকে তোমাদের চেয়ে বড় ভাবিনি। কিন্তু এই বাড়ির মালিক আমি। আর আমার অনুমতি ছাড়া কেউ এটা নিতে পারবে না।”

মা হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন, “রুহি! নিজের ভাইয়ের বিয়ের আগে এত ঝামেলা করছ কেন? অন্তত ওর বিশেষ দিনটার কথা ভাবো!”

আমি অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকালাম। “আমি ঝামেলা করছি?”

বাবা এবার কঠিন গলায় বললেন, “কাগজে সই করে দাও। বিষয়টা এখানেই শেষ হোক।”

আমি আমার ফোনটি হাতে তুলে নিলাম। “না। আর তোমরা এখন আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও।”

ঠিক তখনই সবুজ আমার দিকে এগিয়ে এল। আমি এক পা পিছিয়ে গেলাম।

“আমার কাছ থেকে দূরে থাকো।”

কিন্তু সে থামল না।

“সই করো!” “আমি বলেছি, দূরে থাকো!”

কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তর্ক ভয়ংকর রূপ নিল। সবুজ আমার হাত থেকে ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করল। আমি নিজেকে সরিয়ে নিতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেললাম।

তারপর ধপাস!

আমি প্রচণ্ড আঘাত নিয়ে মেঝেতে পড়ে গেলাম। আমার পেটের ভেতর হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হলো। আমি পেট চেপে ধরে কুঁকড়ে গেলাম।

“আহ্...!”

তারপরই অনুভব করলাম, আমার শরীর থেকে তরল বের হয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ছে। আমি আতঙ্কিত হয়ে গেলাম।

আমার কণ্ঠ কাঁপছিল।

“আমার গর্ভের পানি ভেঙে গেছে...”

ঘরের সবাই এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। ময়ূরী আতঙ্কিত চোখে আমার দিকে তাকাল।

“ওহ আল্লাহ!” কিন্তু তার পরেই বাবা সবুজ হাত ধরে দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

“বাবা... আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চলো!”

কেউ উত্তর দিল না।

মা নিজের ব্যাগ তুলে নিলেন। আমি কাঁদতে কাঁদতে বললাম, “মা, দয়া করে... আমার বাচ্চার কিছু হয়ে যেতে পারে!”

মা একবার পেছনে ফিরে তাকালেন। তারপর ঠান্ডা গলায় বললেন, “তুমি সবসময় সামান্য বিষয়কে বড় করে দেখাও।”

আমি হতবাক হয়ে গেলাম। “সামান্য বিষয়?”

আমি মেঝেতে পড়ে আছি, আমার গর্ভের পানি ভেঙে গেছে, আর আমার নিজের মা এটাকে সামান্য বিষয় বলছেন!

সবুজ কিছু না বলে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। আমি শেষবারের মতো চিৎকার করে বললাম, “সবুজ"! আমাকে এভাবে ফেলে যেও না!”

কিন্তু সে পেছনে ফিরে তাকাল না। দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

আমি একা পড়ে রইলাম। ব্যথা ক্রমেই বাড়ছিল। আমি কাঁপতে কাঁপতে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে লাগলাম।

“কেউ আছেন?” “দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন!”

“আমার বাচ্চা...!”

ঠিক তখনই—ঠক! ঠক! ঠক!

আমার দরজায় জোরে কড়া নাড়ার শব্দ হলো।

আমি চমকে দরজার দিকে তাকালাম। বাইরে থেকে একজন পুরুষের কণ্ঠ ভেসে এল,

“রিনি রহমান?”

আমি কোনোভাবে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলাম।

“জি...”

লোকটি বলল, “আমি তদন্তকারী কর্মকর্তা আরিফ হাসান। সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের একটি গুরুতর বিষয় নিয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতে এসেছি।”

আমার চোখ ধীরে ধীরে টেবিলের ওপর পড়ে থাকা সেই ফাইলটির দিকে চলে গেল। যে ফাইলটি কিছুক্ষণ আগেই সবুজ আমার সামনে রেখেছিল।

হঠাৎ আমার বুকের ভেতর অন্যরকম একটা অনুভূতি হলো। আমি বুঝতে পারলাম—আমার পরিবার শুধু আমার বাড়িটা দখল করার চেষ্টা করেনি। তারা এমন একটি কাগজে নিজেদের নাম লিখে গেছে, যার পরিণতি তারা কল্পনাও করেনি।

তারা ভুল মানুষকে টার্গেট করেছিল।

আর তার চেয়েও বড় কথা—তারা নিজেদের নাম জড়িয়ে ফেলেছিল ভুল অপরাধের সঙ্গে।

চলবে...?

#গর্ভবতী_বোনকে_অত্যাচার
পর্ব-০১
লেখক~

আপনাদের রেসপন্স পেলে পরবর্তী অংশ লিখব। গল্প টা কেমন হয়েছে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন।

আমি বিয়ে করেছিলাম এমন একজন পুরুষকে, যে আগে থেকেই বিবাহিত ছিল। তার প্রথম স্ত্রী বিয়ের চার বছর পরও মা হতে পারেনি। আর আমা...
19/08/2026

আমি বিয়ে করেছিলাম এমন একজন পুরুষকে, যে আগে থেকেই বিবাহিত ছিল। তার প্রথম স্ত্রী বিয়ের চার বছর পরও মা হতে পারেনি। আর আমার বিয়ের এক বছর না যেতেই আল্লাহ আমাকে যমজ দুই ছেলে দিলেন। তখন আমার শাশুড়ি আমাকে বলেছিল—
“তুমি একটা ছেলে রাখো, আর তোমার সতীনকে একটা ছেলে দাও। বেচারিটা তো গরিবের মতো কষ্টে আছে, একই বাড়িতে থেকেও তো ওর কোল খালি!”

কথাটা শুনে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, শাশুড়ি বুঝি মজা করছেন।

আমি হেসে বলেছিলাম,
“কী বলেন মা! ছেলে কি ভাগ করে দেওয়ার জিনিস? ওরা তো আমার পেটের সন্তান। নয় মাস গর্ভে রেখে জন্ম দিয়েছি!”

কিন্তু তখনও আমি জানতাম না, শাশুড়ি কথাটা একদম মজা করে বলেননি।

সেদিন থেকেই শুরু হয়েছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর কয়েকটা বছর।

আমি যখন আদমকে বিয়ে করি, তখন আমি জানতাম সে আগে থেকেই চার বছর ধরে বিবাহিত। তার প্রথম স্ত্রী সামাহ—আমার সতীন—বিয়ের এত বছর পরও কোনো সন্তানের মা হতে পারেনি।

সত্যি বলতে, সামাহকে নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ ছিল না।

মেয়েটা খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। নিজের মতো থাকত, কারও সঙ্গে ঝগড়া করত না। বরং অনেক সময় আমার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করত।

সমস্যা ছিল আমার শাশুড়িকে নিয়ে।

কারণ সামাহ শুধু আমার সতীনই ছিল না, সে ছিল আমার শাশুড়ির বোনের মেয়ে। তাই স্বাভাবিকভাবেই শাশুড়ির কাছে সে ছিল আপনজন। আর আমি ছিলাম বাইরের বাড়ির মেয়ে, যে এসে তাদের সংসারে জায়গা নিয়েছে।

তারপরও আমি কখনো ভাবিনি, একদিন আমার নিজের সন্তানদের নিয়েও আমাকে লড়াই করতে হবে।

বিয়ের এক বছর পর আল্লাহ আমাকে যমজ দুই ছেলে দিলেন।

দুইটা ফুটফুটে ছেলে!

ওদের মুখ দেখার পর আমার মনে হয়েছিল, জীবনে আর কিছু চাই না।

কিন্তু হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যখন দুই সন্তানকে বুকে নিয়ে ছিলাম, তখনই শাশুড়ি এসে বলল,

“তুই একটা রাখিস, আর একটা সামাহকে দিয়ে দে। ও বেচারি কত বছর ধরে বাচ্চার জন্য কষ্ট করছে!”

আমি কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে ছিলাম।

মনে হচ্ছিল, হয়তো আমি এখনো ওষুধের ঘোরে আছি। হয়তো ঠিকমতো শুনিনি।

হেসে বললাম,

“মা, আপনি কি সত্যি বলছেন?”

শাশুড়ি তখনও হাসছিল।

“আরে, আমি তো মেয়ের ভালোর জন্যই বলছি। তোর তো দুইটা হয়েছে, ওর তো একটা-ও হয়নি।”

আমার বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল।

আমি আদমের দিকে তাকালাম।

ভেবেছিলাম, সে নিশ্চয়ই এবার তার মাকে থামাবে।

আমি রাগ করে বললাম,

“তুমি চুপ করে আছো কেন, আদম? তোমার মা কী বলছে শুনছ না?”

আদম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“আমি কী বলব বলো? আজকে ঝামেলা কোরো না। চার বছর ধরে আমি এই দিনের জন্য অপেক্ষা করেছি। আজ আমার দুইটা ছেলে হয়েছে। আজ শুধু আনন্দ করতে চাই।”

স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আর কিছু বললাম না।

ভাবলাম, আজকের দিনটা নষ্ট করব না।

কিন্তু সেই নীরবতার মূল্য আমাকে পরের চার বছর দিতে হয়েছিল।

বাড়িতে ফেরার পর শাশুড়ির আচরণ ধীরে ধীরে আরও বাড়তে লাগল।

একদিন সে সামাহকে বলল,

“তুই বরং একটা ছেলের নাম রাখ।”

সামাহ লজ্জায় মাথা নিচু করে বলল,

“আমি কেন নাম রাখব খালা? ওদের বাবা-মা নাম রাখবে।”

কিন্তু শাশুড়ি ছাড়ল না।

“আরে, আমরা কি আলাদা নাকি? একই বাড়ির মানুষ। আর তোর সতীন তো ভালো মেয়ে। তাই না, ওফা?”

আমি বুঝতে পারছিলাম, আমাকে এমনভাবে প্রশ্ন করা হচ্ছে যেন না বললেই আমি নিষ্ঠুর হয়ে যাব।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও বললাম,

“আচ্ছা… তুমি একটা নাম রাখো।”

শেষ পর্যন্ত আদম এক ছেলের নাম রাখল সামের, আর সামাহ আরেকজনের নাম রাখল নাদের।

আমি মনে মনে বললাম,

“ঠিক আছে। নামই তো। নাম নিয়ে আর কী সমস্যা!”

কিন্তু আমি বুঝিনি, এটা ছিল শুরু মাত্র।

নাদের যখনই কাঁদত, শাশুড়ি তাকে কোলে নিয়ে সরাসরি সামাহর কাছে চলে যেত।

তারপর বলত,

“নে, তুই একটু দুধ খাওয়াস। ওফার দুধ তো একটা বাচ্চার জন্যই যথেষ্ট।”

আমি সঙ্গে সঙ্গে বলতাম,

“মা, আমি দুজনকেই বুকের দুধ খাওয়াব। দরকার হলে ফর্মুলা দুধও দেব। দুজনই আমার সন্তান।”

শাশুড়ি খুব শান্তভাবে বলত,

“না না, একটা নিয়মে মানুষ করলে বাচ্চার শরীর ভালো থাকবে।”

আমি বুঝতাম, এটা নিয়মের কথা নয়।

এটা ছিল আমার সন্তানকে ধীরে ধীরে সামাহর সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল—সামাহ নিজে কখনো এসব চাইত না।

সে বরং অস্বস্তিতে থাকত।

একদিন আমাকে একা পেয়ে বলেছিল,

“ওফা, তুমি কিছু মনে কোরো না। খালা যা করে, আমার জন্যই করে। আমি কিন্তু তোমার ছেলেকে নিতে চাই না।”

আমি ওর দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম,

“আমি জানি, সামাহ। তোমার সঙ্গে আমার কোনো সমস্যা নেই।”

সত্যিই ছিল না।

আমার সমস্যা ছিল সেই মানুষটার সঙ্গে, যে মায়ের মায়া দেখাতে গিয়ে আমার মাতৃত্ব কেড়ে নিতে চাইছিল।

দিন যেতে লাগল।

শাশুড়ি কখনো সামাহকে বলত,

“তুই নাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দে।”

কখনো বলত,

“তুই ওকে খাওয়াস।”

আবার কখনো বলত,

“ওফা, দুইটা বাচ্চা সামলাতে তোর কষ্ট হয়। সামাহ তো আছেই। ওরও তো একটা বাচ্চার মতো করে যত্ন নিতে দে।”

আমি সব সহ্য করতাম।

কারণ আমি জানতাম, একটা ভুল কথা বললেই সংসারে আগুন লাগবে।

কিন্তু একদিন শাশুড়ি এমন একটা কাজ করল, যেটা আমি কোনোদিন ভুলতে পারিনি।

সে নাদেরকে কোলে নিয়ে বলছিল,

“বল বাবা… মা… মা… মমা… সামাহ মমা…”

আমি দূর থেকে শুনছিলাম।

আমার বুকের ভেতর যেন কেউ আগুন ধরিয়ে দিল।

আমি দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে তার কোলে থেকে নিয়ে নিলাম।

তারপর কাঁপা গলায় বললাম,

“মা, আর একবার যদি আমার ছেলেকে বলেন সামাহকে মা ডাকতে, তাহলে আমি কিন্তু সত্যিই ছেলেদের নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যাব।”

শাশুড়ি কিছুক্ষণ চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।

আমি বললাম,

“আমার সন্তানদের নিয়ে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে না। ওরা দুজনই আমার সন্তান। এটা কেউ বদলাতে পারবে না।”

সেদিন শাশুড়ি আর কিছু বলেনি।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর মুখ বাঁকিয়ে বলেছিল,

“আমি তো বেচারির কষ্ট একটু কমাতে চাই। কিন্তু তুই এত নিষ্ঠুর! একটু ভালো কাজ করতেও তোর মন চায় না।”

আমি কোনো উত্তর দিইনি।

চার বছর কেটে গেল।

এই চার বছর ধরে প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে আমাকে বোঝানো হয়েছে—আমার দুই ছেলের একজন যেন সামাহরও হয়।

আমি প্রতিবারই চুপ থেকেছি।

কারণ সংসারটা ভাঙতে চাইনি।

আমার সন্তানদের বাবার কাছ থেকে দূরে করতে চাইনি।

তারপর একদিন আদম বলল,

“এবার সবাইকে নিয়ে একটু ঘুরতে যাই। অনেকদিন কোথাও যাওয়া হয়নি।”

আমরা সবাই খুব খুশি হলাম।

আদম সিদ্ধান্ত নিল, আগে আমি দুই ছেলেকে নিয়ে এক সপ্তাহ যাব। পরের সপ্তাহে সামাহ যাবে।

যেদিন বের হওয়ার সময় হলো, আদম গাড়িতে গিয়ে বসেছে। আমি সামের আর নাদেরকে নিয়ে দরজার দিকে এগোচ্ছি।

ঠিক তখনই শাশুড়ি আমাকে থামিয়ে দিল।

বলল,

“ওফা, একটা কাজ কর। সামেরকে তুই সঙ্গে নিয়ে যা। নাদেরকে সামাহর কাছে রেখে যা। তোর একসঙ্গে দুইটা বাচ্চা সামলাতে কষ্ট হবে।”

আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম,

“না মা। দুজনকেই আমি নিয়ে যাব।”

শাশুড়ি মিষ্টি করে বলল,

“আরে পাগলি, একটা ছেলে তো রেখে যাচ্ছিস। পরের সপ্তাহে সামাহ যখন যাবে, তখন নাদেরকে নিয়ে যাবে। দুজনেরই তো ঘোরা হয়ে যাবে।”

আমি এবার শক্ত গলায় বললাম,

“ওরা দুজনই আমার সন্তান। আমি একজনকে রেখে আরেকজনকে নিয়ে যেতে পারব না।”

শাশুড়ির মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।

সে রেগে গিয়ে বলল,

“তোর সব কথায় শুধু একটাই কথা—দুজনই তোর সন্তান! দুজনই তোর সন্তান!”

আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম।

সে আরও বলল,

“আচ্ছা, তুই প্রথম মা যে যমজ সন্তান জন্ম দিয়েছিস? কী এমন হয়েছে? একটা ছেলে সামাহর কাছে থাকলে কী এমন ক্ষতি?”

আমি বললাম,

“ক্ষতি হবে আমার। কারণ আমি মা। নিজের সন্তানকে রেখে কোথাও যেতে পারব না।”

শাশুড়ি এবার যেন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল।

আমার দিকে আঙুল তুলে বলল,

“ঠিক আছে! এত অহংকার করিস? মনে রাখিস, আল্লাহ যেভাবে তোকে দুইটা সন্তান দিয়েছেন, সেভাবেই কেড়ে নিতেও পারেন!”

কথাটা শুনে আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

কিন্তু সে থামল না।

বলল,

“এত জেদ আর অহংকার নিয়ে থাকিস না। একদিন বুঝবি, সন্তান হারানোর কষ্ট কী!”

মুহূর্তের মধ্যে আমার বুকটা কেঁপে উঠল।

একজন মা হয়ে কীভাবে আরেকজন মাকে এমন কথা বলা যায়?

আমি আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ালাম না।

দুই ছেলেকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরলাম।

চোখের পানি আটকে গাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলাম।

আমার শরীর কাঁপছিল।

মনে হচ্ছিল, ওই কথাগুলো যেন আমার কানের ভেতর বারবার বাজছে।

“আল্লাহ যেভাবে দিয়েছেন, সেভাবেই কেড়ে নিতে পারেন…”

আমি জানতাম না, কয়েক ঘণ্টা পর এই কথাগুলোই আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াবে।

আমি জানতাম না, ওই অভিশাপের পর এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে, যার কথা মনে পড়লেও আজও আমার বুক ধড়ফড় করে।

সেদিন যদি আমি জানতাম সামনে কী অপেক্ষা করছে…

তাহলে হয়তো আমি আমার দুই সন্তানকে নিজের কাছ থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরতে দিতাম না।

বরং যদি জানতাম আমার সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্য আমাকে সেই বাড়ির দরজায় বসে থাকতে হবে, তবুও বসে থাকতাম।

কারণ সেই সফর থেকে ফিরে আমি আর আগের মানুষটা ছিলাম না।

সেদিন আমি বুঝেছিলাম—একজন মায়ের কাছে তার সন্তানকে হারানোর ভয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভয়।

আর আমার শাশুড়ির সেই কথাগুলো…

সেগুলো কি শুধু রাগের মাথায় বলা কিছু কথা ছিল?

নাকি সত্যিই সেদিন থেকে আমার জীবনে নেমে এসেছিল এক ভয়ংকর বিপদ?

কী ঘটেছিল সেই ছুটির সফরে?

কেন ফিরে এসে আমি বারবার মনে করেছিলাম—ইশ, সেদিন যদি ছেলেদের নিয়ে বেরই না হতাম!

আর এমন কী ঘটেছিল, যার পর আমি নিজের সন্তানদের নিয়ে সেই বাড়িতে ফিরতেও ভয় পেয়েছিলাম?

জানতে হলে গল্পের পরের অংশের অপেক্ষা করুন।

আপনাদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য একটি কথা বলতে চাই—

চলবে,,
গল্প :নাম বিহীন
পার্ট ১
MIRAZ_HOSSAIN
Copy post

Address

Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rini Akter posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Rini Akter:

Shortcuts

Share