19/01/2024
Tech Industry হচ্ছে একটা পরিবারের মত। ভাবুন তো একবার, আপনার পরিবারে সবাই যদি বাবা কিং মায়ের ভূমিকা পালন করতে চাইত, তাহলে কি সেটাকে পরিবার বলা যেত বা হত? উদাহরণ হিসেবে বললাম।
দুশ্চিন্তার বিষয় হল, এই ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন যারাই আসতেছে বা আসতে চায় তারা হাতে গুনা কয়েকটা বিষয়ই শিখতে চায়। যেমনঃ Digital Marketing, UX UI Design, Web Development, Video Editing ।
এই কয়েকটা স্কিল ছাড়া অন্য আরো অনেক স্কিল রয়েছে, সেগুলো শিখতে চেষ্টা কেউই করে না। এতে একদিকে যেমন Tech Industry এর পারিবারিক ভারসাম্য ঠিক থাকছে না, অন্যদিকে আপনি Common স্কিলে এক্সপার্ট হয়েও ভাল রেটে কাজ করতে পাচ্ছেন না।
#নতুনদের_প্রতি_সাজেশন_থাকলঃ
যে স্কিলে প্রতিযোগিতা কম, সেই স্কিলটাকে আপনার বেছে নেওয়া উচিত হবে বলে, আমি মনে করি। রিসোর্স কম থাকায়, আপনি এক্সপার্ট হতে পারলে, আপনার ডিমান্ড তৈরি হবে।
আজ থেকে ৫ বছর আগে যদি এমন একটা পোস্ট আমার চোখে পরত, আমার স্কিল ডেভেলপমেন্টের গল্পটা অন্য রকম হতে পারত।
সুতরাং ৩ টি বিষয় ভেবে আপনি সিদ্ধান্ত নিনঃ
১) যে স্কিলে প্রতিযোগীতা অনেক অনেক কম কিন্তু মার্কেটে কাজের চাহিদা প্রচুর রয়েছে এবং কাজের রেট ভাল। কেননা দিন শেষে আমার ইনকাম করার জন্যই শিখতেছি।
২) যে স্কিল অর্জন করলে, মার্কেটে পর্যাপ্ত কাজ রয়েছে এবং আপনি আপনার ডিমান্ড তৈরি করতে পারবেন তার উপর পর্যাপ্ত রিসার্স করতে হবে।
৩) মনে রাখবেন, এই মুহুর্তে আপনি কোন বিষয়ে দক্ষ নন, তাই অন্যের কথা শুনে বা ইনকাম দেখে আপনার জন্য কোন স্কিল সহজ বা কঠিন হবে, এটা চিন্তা করা বোকামী।
আপনি ১ং ও ২নং মাথায় রেখে, যে স্কিল শিখার সিদ্ধান্ত নিবেন ওটাই এক সময় আপনার কাছে সহজ হয়ে যাবে।
কারণ ২ + ২ = ৪, এটা যে না পারে তার জন্য পৃথিবীতে সব থেকে কঠিন, আর যে পারে তার জন্য সব থেকে কঠিন সরল অংকও অনেক সহজ হয়ে যায়।
#ইন্সটিটিউশন_এবং_মেন্টরদের_প্রতি_অনুরোধঃ
আপনাদের উপর ৩ টি দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।
১) সামাজিক দ্বায়িত্ব
আপনার ইন্সটিটিউশনে হতে পারে আপনি ৩ বা ৪ টি বিষয়ে শিখাচ্ছেন। একজন স্টুডেন্টকে আপনি, ধারণা দিতেই পারেন, যে এই এই স্কিল গুলোতে প্রতিযোগীতা অনেক কম, এগুলো শিখতে পারো চাইলে। এতে করে বিভিন্ন বিষয়ে স্কিলড পারসন তৈরি হবে। আপনি ঐ বিষয়ে যারা ভাল শিখায় তাদেরকে রেফার করতে পারেন। Most probably তাকে Encourage করতে পারেন নতুন যে স্কিলে প্রতিযোগীতা কম।
এতে আমাদের Tech Industry এর পারিবারিক ভারসাম্য বজায় থাকবে। এরপর ও যদি কেউ আপনি যেগুলো শিখাচ্ছেন তা শিখতে চায়, সে ডিটারমাইন্ড। তখন শিখতে পারে। কম প্রতিযোগীতাপূর্ণ স্কিল শিখানোর জন্যও মেনন্টর তৈরি করা উচিত।
২) অর্থনৈতিক দ্বায়িত্ব
আপনি যে স্কিল শিখালেন, তা শিখিয়ে মার্কেটপ্লেসে না যেতে দিয়ে, তাকে দিয়ে আপনি আপনার প্রোফেশনাল কাজ করিয়ে নিন অনতত ৬ মাস। আমার মতে, যদি ৩ মাস বা ৬ মাস তাকে দিয়ে আপনার কাজ করিয়ে নেন। এতে আপনিও লাভবান আর সেও মার্কেটপ্লেসে কাজ করার উপযোগী হয়ে উঠবে। লো-বাজেটে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বলুন স্টুডেন্টদের। যে কোন একটা মার্কেটপ্লেসের সম্পর্কে ভাল ধারণা দিন, এবং একটা তেই কাজ কতে বলুন, কেননা সে যখন একাদিক মার্কেটে যাচ্ছে, পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় মার্কেটপ্লেসে স্পামিং করতেছে। তাকে কিছু কথা বলতে ভুলবেন না প্লিজ, যে সে যখন ইনটারন্যাশনাল মার্কেটে কাজ করতেছে এমন নয় যে সে শুধু ইনকাম করতেছে আর শেষ। বরং সে বাংলাদেশকে, এদেশের সকল স্কিল মানুষকে Represent করতেছে। এদেশের মানুষের শ্রমের মূল্য তৈরি করতেছেন সারা বিশ্ব বাজারে। যার ফলে উনি, আপনি, আমি, দেশ, দেশের অর্থনিতি সব কিছুতে লাভবান হব ইন শা আল্লাহ্।
৩) ব্যবসায়িক দ্বায়িত্ব
অবস্যই আপনি আপনার চলমান ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, আমাদের আগামীদিনের পথ প্রদর্শক হয়ে। আমরা সকলে আপনাদের পাশে আছি। কেননা আপনারা না থাকলে হয়ত আমিও আজকের এই পোস্টটি করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারতাম না।
আপনার সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং ব্যবসায়ীক দ্বায়িত্ববোধ থেকে আমরা ভবিষতের জন্য উপকৃত হব ইন শা আল্লাহ্।
সকল ভুল ত্রুটি মার্জনীয়। আল্লাহ্ হাফেজ্।