19/10/2022
ভিডিও এডিটিং কেনো শিখবেন?
ভিডিও এডিটিং কেনো শিখবেন?
ভিডিও এডিটিং কেনো শিখবেন?
আমরা সবাই প্রতিনিয়তই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোতে অনেক ধরনের ভিডিও দেখি। ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামে আজ ভিডিও শেয়ারিং বেড়ে গেলেও, ভিডিও শেয়ারিং সাইট হিসেবে প্রথম জনপ্রিয় হয়ে উঠে ইউটিউব। আর ২০০৫ সালে ইউটিউব চালু হবার পরে ভিডিও এর ভিন্নতার মাত্রা আজকে গিয়ে অন্য এক চূড়ায় গিয়ে থেকেছে। তবে আমরা যদি আরো পেছনে যাই, ডিজিটাল ক্যামেরার আবির্ভাবের পর থেকেই ভিডিওর বিবর্তন শুরু, টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচারের জন্যে নির্মাণ করা চিত্রগুলো বানানোর পর থেকে প্রচারের আগ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার এডিট বা সম্পাদন করা হতো। আর এই ভিডিও এডিটিং এর কাজই বর্তমানে এই তথ্য প্রযুক্তিময় যুগে চলে গিয়েছে অন্য এক চূড়ায়, কারণ নিজের দক্ষতা দেখিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অনেক দেশের মানুষেরাই আজ অর্থ উপার্জন করতে পারছে!
এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, আমরা ভিডিও এডিটিং কেনো শিখবো আর কিভাবে শিখবো? এই দুই প্রশ্নেরই উত্তর আপনাকে চমকে দিতে পারে। আমরা যদি ভিডিও এডিটিং শিখে ফেলি কিছু কোর্সের দ্বারা, এটা আমাদের জন্য অনেক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিবে। তাহলে আমাদের ভিডিও এডিটিং এর আদ্যোপান্ত সম্পর্কে আগে ধারণা নিতে হবে। শুরুতেই যদি বলতে হয়, যে ভিডিও এডিটিং কি, এটি একটি স্কিল বা দক্ষতা যেটি যেকেউ নিজেদের ঘরে বসেই এই দক্ষতাটি অর্জন করতে সক্ষম হবে, শুরুতেই একটু জটিল লাগতে পারে ভিডিও এডিটিং এর বেশ কিছু ফিচারস, তবে বারবার প্র্যাক্টিসের দ্বারা তা কাটিয়ে উঠে ফেলা সম্ভব। ভিডিও এডিটিং এর বেশ কয়েকটি সুবিধা বা লাভের কথা যদি বলতেই হয় তাহলে একটু খুলেই বলতে হবে পুরো বিষয়টিই যাতে আপনারা বিস্তর ধারণা লাভ করতে সক্ষম হোন।
প্রথমেই যদি ভিডিও এডিটিং কেনো শিখবো এটার উত্তর দিতে হয় তাহলে অবশ্যই বলতে হবে, বর্তমানে ভিডিও এডিটিং একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে এবং যেটির মাধ্যমেও দ্বারা আয় করা সম্ভব। আপনারা খেয়াল করলে বুঝবেন, আমি শুরুতেই বলেছিলাম যে আমরা আজকাল সোশ্যাল মিডিয়াতে অসংখ্য ভিডিও দেখি যেগুলোর বেশিরভাগই এডিট করে তারপর আপলোড করা হয়। এর পেছনে অনেক কারণ আছেই, মূলত যেটা প্রধান তা হলো যাতে যে ভিডিওটা দেখছে কিভাবে তার মনোযোগ ধরে রাখা যায়, ভিডিও স্টোরির পাশাপাশি এডিটিং কারিকুরি দেখিয়েও তা সম্ভব। তো এখন কমবেশি সব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানই নিজেদের উপস্থিতি মানুষের মধ্যে জানান দেয়ার জন্যে হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে। বর্তমানে এর চাহিদার জন্যেই অনলাইনে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গুলো নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোতে পোস্ট বা ভিডিও শেয়ার করে থাকে, মার্কেটিং এর কাজটাও হয়ে এরই মাধ্যম।
যদি আমরা একটু চিন্তা করে দেখি, যে আসলে এই কাজটার জন্যে কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানে ভিডিও এডিটর নিয়োগ দেয়, কাজ করে দেয়ার বিনিময়ে ভালো একটা আয়ও হয়ে যায়। আর বর্তমানে টেক দুনিয়া যতোটা এগিয়ে যাচ্ছে, ভিডিও এডিটিং এর চাহিদা এমনিতেই বেড়ে চলেছে প্রতিনিয়তই। শুধু নিজ দেশের মধ্যে এটা সীমাবদ্ধ থাকছে না, বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতেও বাইরের দেশের প্রতিষ্ঠান্গুলো নিজেদের কাজগুলো ফ্রিলান্সিং এর মাধ্যমে ভিডিও এডিটিং এর কাজ করিয়ে নিচ্ছে, এতে অনেক মানুষেরই কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর এই কাজটার চাহিদা দিনদিন এতোই বাড়ছে যে যেকেউ যেকোনো বয়সের মানুষ এই কাজটা শিখে নিজেদের ভিডিও এডিটিং এ ক্যারিয়ার বানিয়ে নিচ্ছে।
আয়ের একটা সুযোগ থাকার পাশাপাশি আরো অনেক কাজেই ভিডিও এডিটিং কাজে লাগতে পারে। যদি কেউ ভিডিও এডিটিং এ দক্ষ হয়ে থাকে তাহলে, তার একটা চাহিদা থাকবেই মানুষের কাছে। নিজের এই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারেও ভিডিও এডি্টিং এর কাজ খুবই কার্যকরী হয়ে উঠে। হয়তো নিজেদের একটি অনুষ্ঠান বা ইভেন্ট চলাকালীন সময়ে কিছু দৃশ্য ধারণ করা হলো, এখন হুবুহু তাই ব্যবহার করা গেলেও খুব একটা ভালো ফল বয়ে আনে না। এই জন্যেই ভিডিও এডিটিং এর দক্ষতা থাকলে খুব সহজেই ভিডিওটি এডিট করে ব্যবহারের উপযোগী কর তোলা সম্ভব হবে।
ভিডিও তৈরির আরেকটা উদ্দেশ্য হলো এটা যাতে মানুষের মধ্যে কিছু না কিছু প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। তা না হলে শুধু শুধু ভিডিও এর কোনো বানানোর কারণ নেই আসলে! একটা ভিডিও যতোটা মানুষের মনের মধ্যে প্রভাব খাটাতে পারবে, ততোই মানুষের মধ্যে সেই ভিডিও নিয়ে একটা আলোচনার ইচ্ছা বা আবেগ প্রকাশের ইচ্ছা থাকবেই। এমন অনেক বিষয়ই আছে আমাদের সমাজে যেগুলো অনেক জরুরি বিষয় আলোচনার দাবি রাখে তার কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু একটি ভিডিও এর মাধ্যমেই পুরো বিষয়টাকে গুছিয়ে তুলে ধরা গেলে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া সহজ হবে। মানুষের মধ্যে একটা বৈশিষ্ট্য আছে যে, অনেকেই কিছু জিনিস দেখার মাধ্যমে দ্রুত শিখে ফেলে, এই ক্ষমতার কারণে তাদেরকে ভিডিওতে কিছু উপস্থাপনের মাধ্যমে খুব সহজেই প্রভাবিত করা যাবে। মার্কেটিং এর এক অনন্য হাতিয়ার এই ভিডিও এডিটিং, এডিটেড ভিডিও সবসময়ে থেকেই যায়। একে অপরের মাঝে এই ভিডিও শেয়ায়ের দ্বারা ভিডিও ছড়িয়ে যায় অনেকেরই হাতে, যা একটা বিশাল জনগোষ্ঠীকে মূহূর্তের মধ্যেই তাদের মনযোগ নিয়ে ফেলা সম্ভব।
আগেই বলেছি যে ভিডিও একবার তৈরির পর তা কোথাও আপলোড করে দিলে, আর মানুষের শেয়ারের দ্বারা অনেকের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার ফলে এক ভিডিও তার জনপ্রিয়তা পায়। সেই আপলোড করা ভিডিও যেকোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্লার্টফর্মে কিন্তু থেকেই যায়, যদি না কতৃপক্ষের দ্বারা তা সড়িয়ে ফেলা হয়। ভিডিওটার টপিক নিয়ে কেউ গুগল বা ইউটিউবে সার্চ করলেই সে ভিডিওটি খুজে বের করা সম্ভব, আর তা পরবর্তীতে গবেষনার কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব। অনেকেই আছে যারা একই বিষয়ে ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে অনলাইনে দিয়ে দেয়, আর সেই টপিকের আলোকে যে কেউ একটু অনলাইনে ঘাটাঘাটি করলেই তারা অসংখ্য রিসোর্স থেকেই নিজেদের কাজে লাগিয়ে ফেলা সময়ের ব্যাপার। গবেষনার কাজে বা পড়ালেখার কাজে হোক, ভিডিও খুব ভালো একটি টুল কিছু শেখার জন্যে। কখনোই শেখা থেমে থাকে না, ধারাবাহিক এই শিখন পদ্ধতির মাধ্যমে। আর মজার বিষয় হলো যে অনলাইনে থেকে যাওয়া ভিডিও যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা যাবে, শুধু প্রয়োজন ইন্টারনেট সংযোগ এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস। তো এই অসাধারণ ফিচারটাকে কাজে লাগিয়ে যেকেউ নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে।
গ্রাফিক্যালি কোনো কিছু উপস্থাপন করতে গেলেই সেখানে চলে আসে মানুষের কল্পনাশক্তির কত কিছু। তবে, ভিডিও এডিটিং এর সাথেও কিন্তু নিজেদের সৃজনশীল দিকটার সম্পর্ক আছে। একটা ভিডিও তখনি ভালো হবে, যখন সেটা যে দেখছে তার মনে নাড়া দিতে পারে। কিছু একটার সূচনা করে দিতে পারে। তো একজন ভিডিও এডিটর নিজের কল্পনা শক্তিকে কাজে লাগিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়া, তার কাজ দিয়ে দর্শকের মনের মধ্যে কিছু আবির্ভাব করার সু্যোগ সৃষ্টি হয়। নিজের সৃজনশীলতা বিকাশের একটা সুন্দর ক্ষেত্র কিন্তু ভিডিও এডিটিং, কারণ আমরা জানি কেউ একজন ভিডিও এডিট করার আগে তাকে ভাবে নিতে হয় যে সে আসলে কিভাবে আগাবে, কোন জায়গায় কিভাবে কোন জিনিসের মিশ্রণ করবে থেকে শুরু করে সবকিছু। আর এসব করতে পারাটা অবশ্যই একটি স্কিল বা দক্ষতা, কোনো সন্দেহ নাই!
তো এতক্ষন আমরা জানলাম যে ভিডিও এডিটিং দিয়ে আসলে আমরা কিভাবে কি থেকে কি করতে পারি, এর প্রয়োজনীয়তা কি আরো অনেক কিছু। কিন্তু এতো কিছু জানলে এখন নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছা করবে, এই স্কিলটা শিখবো কিভাবে? এর উত্তর দেবার আগে অবশ্যই এটা জানে রাখে জরুরি যে যেকোনো স্কিল প্রথমবারের মতো শিখতে গীলে অনেক বাধা পার করতে হয়, শুরুতেই অনেক কিছু দেখেই মনে হতে পারে যে এটি মনে হয় অনেক সহজ একটা কাজ, আসলে তা না। তবে কিছু গাইডলাইনস ফলো করে আগালে অনেক কষ্টই কম হবে। বর্তমানে এই স্কিলের মতো আরও অনেক কোর্স আছে যেগুলোর চাহিদা অনেক বেশি। যেকোনো জায়গা বা ট্রেনিং ইন্সটিটিউট বা অনলাইন প্লার্টফর্ম থেকে কিছু অর্থের বিনিময়ে এই স্কিলটা শিখে ফেলা যায়। বেশ কিছু জনপ্রিয় ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার আছে, যেগুলো দিয়ে যে কেউ ভিডিও এডিটিং শুরু করতে পারে।
জনপ্রিয় কয়েকটা হলো,
০১। এডোবে প্রিমিয়ার প্রো,
০২। এডোবে আফটার এফেক্টস,
০৩। এডোবে প্রিমিয়ার এলেমেন্টস,
০৪। ফিল্মোরা,
০৫। ভিএসডিসি,
০৬। লাইটওয়ার্কস,
০৭। ওপেনশট, ইত্যাদি
প্রিমিয়ার প্রো এর বিভিন্ন ভার্সন আছে, যেকোনো একটি দিয়েই কিন্তু যাবতীয় শিখার কাজটা শুরু করা যায়, কাজ শেখার মধ্যে কোনো ব্যাঘাত হবে না। তবে ইন্টারনেট কানেকশন আর একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থাকা আবশ্যক। আর কাজ শেখা শুরুর আগে নিজের ডিভাইসে সফটওয়্যার গুলো ওয়েব থেকেই নামিয়ে নিয়ে রাখতে হবে, তারপর সেটআপ দিয়ে দিতে হবে। রান হলে তা দিয়ে কাজ শুরু করা যাবে, আর কোর্স শুরু করলে গোছানো পদ্ধতিতে কাজ শেখা শুরু আরো সহজ হয়ে যাবে!
যদি শেষে কিছু বলতেই হয় তা হলো, বর্তমানে যেভাবে টেক দুনিয়া সামনে আগায় যাচ্ছে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে সামনের দিন গুলোতে ভিডিও এডিটিং অন্য এক মাত্রায় পৌছে যাবে, অনেক জটিল জটিল বিষয়ের আবির্ভাব হবে যা এটিকে করে তুলবে আকর্ষনীয়। তো ভিডিও এডিটিং কেউ যদি শখের বশেও শেখা শুরু করে, তার এই পরিশ্রম বৃথা যাবে না। সে তার সামনের দিনগুলোতে এই দক্ষতাটিকে কাজে লাগিয়ে নিজের উন্নতির জন্যে সামনে এগিয়ে যাবার প্রেরনা খুজে পাবে। তাই এই মূল্যবান স্কিলটি শিখে ফেলুন এখনি, এবং সামনে দেখতে থাকুন এটি কোথায় গিয়ে পৌছে! অনেক কিছুই বদলে যাবে দ্রুতই, ভিডিও এডিটিং অনলাইন জগতে অন্য একটা মাত্রা নিয়ে আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই!