বন্দর টাইমস-Port Times

বন্দর টাইমস-Port Times চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশ বিদেশের বিভিন্ন বন্দর সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্য উপস্থাপন করাই আমাদের মূল ফোকাস

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনএনসিটির পর আইসিডি-বে টার্মিনাল: ডিপি ওয়ার্ল্ডের লক্ষ্য পুরো সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণ?নিজস্ব প্রত...
18/08/2026

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

এনসিটির পর আইসিডি-বে টার্মিনাল: ডিপি ওয়ার্ল্ডের লক্ষ্য পুরো সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণ?

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ও চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা নেওয়ার আলোচনার আড়ালে বাংলাদেশের পুরো ‘সাপ্লাই চেইন’ বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের এক সুদূরপ্রসারী নীল নকশা উন্মোচিত হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দুবাই-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড কেবল একটি টার্মিনাল নয়, বরং গাজিপুরের ধীরাশ্রম আইসিডি (Inland Container Depot) এবং বন্দরের ভবিষ্যৎ মেগা প্রকল্প ‘বে-টার্মিনাল’—সবকিছুই একটি ‘প্যাকেজ ডিল’-এর আওতায় কবজা করতে চায়। লজিস্টিকস বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পুরো অর্থনৈতিক করিডোর একটি একক বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

‘পোর্ট টু ডোর’ স্ট্র্যাটেজি: লক্ষ্য যখন একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ
ডিপি ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক ব্যবসায়িক মডেল হলো ‘পোর্ট টু ডোর’ লজিস্টিকস। তারা কেবল বন্দরে জাহাজ ভেড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং আমদানিকৃত পণ্য বন্দর থেকে বের হয়ে শিল্পাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছানোর পুরো পথটি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবিত চুক্তিতে এনসিটি পরিচালনার পাশাপাশি গাজিপুরের ধীরাশ্রমে একটি বিশাল আইসিডি নির্মাণের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সিংহভাগ কারখানা গাজীপুর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। ধীরাশ্রম আইসিডি নিয়ন্ত্রণ করার অর্থ হলো দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের লজিস্টিকস নাড়িটি নিজের হাতের মুঠোয় রাখা। এর ফলে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ওই একটি মাত্র প্রতিষ্ঠানের মর্জির ওপর জিম্মি হয়ে পড়বেন।

বে-টার্মিনাল: ভবিষ্যতের চাবিকাঠি কি অন্যের হাতে?
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে নির্মিত হচ্ছে ‘বে-টার্মিনাল’। এটি বাংলাদেশের আগামীর অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। অভিযোগ উঠেছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড এনসিটির দোহাই দিয়ে বে-টার্মিনালের একটি বড় অংশের অংশীদারিত্বও নিশ্চিত করতে চায়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এনসিটি, ধীরাশ্রম আইসিডি এবং বে-টার্মিনাল—এই তিনের নিয়ন্ত্রণ যদি একক কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে, তবে বাংলাদেশের লজিস্টিকস সেক্টরে কোনো ‘প্রতিযোগিতা’ (Competition) অবশিষ্ট থাকবে না। এটি একটি ধ্রুপদী ‘মনোপলি’ বা একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে ট্যারিফ বৃদ্ধি এবং সেবার মান হ্রাসের কারণ হতে পারে।

ভারতীয় নীতিনির্ধারক ও কৌশলগত ঝুঁকি
এই ‘প্যাকেজ ডিল’-এর পেছনে ডিপি ওয়ার্ল্ডের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের গ্রুপ সিইও যুবরাজ নারায়ণ এবং সাব-কন্টিনেন্টাল সিইও রিজওয়ান সুমার—যাঁরা একই সাথে ভারতের মুন্দ্রা ও চেন্নাই বন্দরের কৌশলগত স্বার্থ দেখেন, তাঁদের হাতেই কি তবে বাংলাদেশের পুরো সাপ্লাই চেইনের চাবিকাঠি তুলে দেওয়া হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত যখন বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নিচ্ছে, তখন বন্দর থেকে শুরু করে গাজিপুরের আইসিডি পর্যন্ত পুরো চেইনটি যদি ডিপি ওয়ার্ল্ডের (ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের অধীনে) নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যবসায়িক স্বকীয়তা বলে কিছু থাকবে না। এটি প্রকারান্তরে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রতিবেশী দেশের লজিস্টিকস ব্লুপ্রিন্টের একটি ‘উপ-শাখা’য় পরিণত করবে।

আওয়ামী আমলের সেই ‘লুটেরা মডেল’
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্যাকেজ ডিলের পরিকল্পনাটি মূলত পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সালমান এফ রহমান ও শেখ রেহানার প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় শুরু হয়েছিল। সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপের লজিস্টিকস ব্যবসার প্রসারে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এই বিশাল সুবিধা দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল। বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী কেন স্বৈরাচার আমলের সেই বিতর্কিত ‘প্যাকেজ ডিল’ বাস্তবায়নে এত মরিয়া, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
শিপিং এজেন্ট ও আমদানিকারকরা বলছেন, রটারড্যাম বা কলম্বো বন্দরে একাধিক অপারেটর থাকে বলেই সেখানে প্রতিযোগিতা ও দক্ষতা বজায় থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে যদি এনসিটি ও বে-টার্মিনালের মতো প্রধান স্থাপনাগুলো ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তবে পুরো অর্থনীতিকে জিম্মি করা তাদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।

লজিস্টিকস বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মোড়কে বাংলাদেশের পুরো সাপ্লাই চেইন বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার এই ‘আগ্রাসী’ পরিকল্পনা এখনই রুখে দেওয়া উচিত। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো একটি একক প্রতিষ্ঠানকে বন্দরের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে শিল্পাঞ্চল পর্যন্ত একচেটিয়া আধিপত্য দিতে যাওয়া হবে এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। রক্ষকের আসনে বসে যারা এই জিম্মিদশার পথ প্রশস্ত করছেন, তাঁদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড ভারতীয়দের দখলে – সাংবাদিক ইলিয়াসনিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ও চট্টগ্রামসংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই-ভিত্তিক প্রত...
18/08/2026

ডিপি ওয়ার্ল্ড ভারতীয়দের দখলে – সাংবাদিক ইলিয়াস

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ও চট্টগ্রাম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার উদ্যোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডসহ দুবাইয়ের বড় বড় প্রকল্প এবং তাদের প্রযুক্তি খাত এখন পুরোপুরি ভারতীয়দের নিয়ন্ত্রণে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কি না, তা সরকারকে ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইলিয়াস হোসেন তাঁর পোস্টে বলেন, “ডিপি ওয়ার্ল্ড বলেন আর দুবাই এর বড় বড় যত প্রকল্প বলেন সবই ভারতীয়দের দখলে। বিশেষ করে তাদের টেক জগৎ পুরোটাই ভারতীয়দের নিয়ন্ত্রণে! তারপরেও ডিপি ওয়ার্ল্ড কিভাবে আমাদের বন্দরের দায়িত্ব পায়? নিরাপত্তার স্বার্থে আশা করি সরকার এটা বিবেচনা করবে।”

সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের এই আশঙ্কার সূত্র ধরে বন্দর টাইমসের এক দীর্ঘ অনুসন্ধানেও অত্যন্ত চমকপ্রদ ও উদ্বেগজনক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ পদগুলো এখন একটি বিশেষ দেশের কর্মকর্তাদের ‘একচ্ছত্র বলয়ে’ বন্দি। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রতিটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এমন সব কর্মকর্তা, যারা একই সাথে ভারতের প্রধান বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরাসরি কাজ করছেন।

অনুসন্ধানে পাওয়া ডিপি ওয়ার্ল্ডের সেই ‘ইন্ডিয়ান চেইন’:
১.যুবরাজ নারায়ণ (Yuvraj Narayan): ডিপি ওয়ার্ল্ডের বর্তমান গ্রুপ সিইও। এর আগে তিনি গ্রুপ ডেপুটি সিইও এবং সিএফও হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমের বিদায়ের পর তিনিই এখন প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্ণধার। বিশ্বখ্যাত এই লজিস্টিকস জায়ান্টে এখন এই ভারতীয় নাগরিকের একচ্ছত্র আধিপত্য। ডিপি ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক অর্থায়ন, বড় বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সব সিদ্ধান্তের মূল চাবিকাঠি এখন তাঁরই হাতে। মূলত তাঁর নেতৃত্বেই ডিপি ওয়ার্ল্ড এখন বৈশ্বিক লজিস্টিকস রাজনীতিতে একটি নির্দিষ্ট আঞ্চলিক বলয়ের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২. রিজওয়ান সুমার (Rizwan Soomar): তিনি ডিপি ওয়ার্ল্ডের ‘ইন্ডিয়া সাবকন্টিনেন্ট’ অঞ্চলের সিইও এবং এমডি। বাংলাদেশ ও ভারতের পুরো ব্যবসা তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে। তিনি মূলত ভারতের মুন্দ্রা, জওহরলাল নেহরু (নাভা শেভা) ও কোচিন পোর্টের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার প্রধান কারিগর।
৩. প্রদীপ দেশাই (Pradeep Desai): গ্লোবাল চিফ টেকনোলজি অফিসার (CTO)। ইলিয়াস হোসেন যে ‘টেক জগৎ’ নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন, তার মূল হোতা এই প্রদীপ দেশাই। বাংলাদেশের বন্দরের সব ডিজিটাল ডেটা ও সাইবার সিকিউরিটি পরোক্ষভাবে তাঁর দপ্তরের অধীনে চলে যাবে।
৪. দেবাং মানকোড়ি (Devang Mankodi): ভিপি - শেয়ারড সার্ভিসেস (সাবকন্টিনেন্ট)। লজিস্টিকস ও অপারেশনাল সাপোর্টের পুরো চেইনটি তাঁর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
৫. দীপেন্দ্র কুশওয়াহ (Deependra Kushwah): চিফ অপারেটিং অফিসার (COO - India)। ভারতের বন্দরগুলোর অপারেশনাল গতি বাড়ানোর দায়িত্ব তাঁর।
৬. অদিতি শ্রীবাস্তব (Aditi Shrivastava): এইচআর প্রধান (সাবকন্টিনেন্ট)। কর্মী নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের মূল ক্ষমতা তাঁর হাতে, যা এনসিটিতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের জন্য বড় ঝুঁকি।

স্বার্থের সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকি:
লজিস্টিকস বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি ধ্রুপদী ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাত। যে কর্মকর্তারা ভারতের মুন্দ্রা বা চেন্নাই বন্দরকে এই অঞ্চলের প্রধান হাবে রূপান্তর করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে দায়বদ্ধ, তারাই যখন চট্টগ্রামের এনসিটি টার্মিনালের অপারেশন ও ট্যারিফ নির্ধারণ করবেন, তখন তারা কি চট্টগ্রামের উন্নয়ন করবেন নাকি সুপরিকল্পিতভাবে একে স্থবির করে দেবেন—সেই প্রশ্ন এখন তুঙ্গে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিটি টার্মিনালটি দেশের কৌশলগত নৌ-ঘাঁটির অত্যন্ত কাছে অবস্থিত। এছাড়া প্রদীপ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন আইটি সিস্টেমের মাধ্যমে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির সব সংবেদনশীল তথ্য প্রতিবেশী দেশের সার্ভারে জমা হওয়ার পূর্ণ আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা মনে করছেন, যেখানে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় বন্দর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৬২৯ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের রেকর্ড গড়েছে, সেখানে ইলিয়াস হোসেনের উত্থাপিত নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বন্দর টাইমসের খুঁজে পাওয়া ‘ভারতীয় চেইন’-এর তথ্যগুলো উপেক্ষা করা হবে এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। জাতীয় স্বার্থ ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই ইজারা প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতার সাথে পুনর্বিবেচনা করা এখন সময়ের দাবি।

এনসিটি ইজারা নিয়ে উত্তপ্ত চট্টগ্রাম বন্দর: ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তে বড় আন্দোলনের শঙ্কানিজস্ব প্রতিবেদ...
16/08/2026

এনসিটি ইজারা নিয়ে উত্তপ্ত চট্টগ্রাম বন্দর: ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তে বড় আন্দোলনের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বন্দর টাইমস | চট্টগ্রাম

দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত নিওমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশীয় অপারেটরদের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সচল থাকা এই টার্মিনালটিকে দুবাই ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের (DP World) হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে এই ইজারা প্রক্রিয়াকে ঘিরে বন্দরে বিরাজ করছে এক ধরণের থমথমে পরিস্থিতি। বন্দর টাইমস-এর নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বন্দর ব্যবহারকারী ও শ্রমিকদের মধ্যে যে ক্ষোভ জমা হচ্ছে, তা অচিরেই একটি বড় ধরণের গণআন্দোলনের রূপ নিতে পারে।

একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ:
বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সাথে কথা বলে বন্দর টাইমস নিশ্চিত হয়েছে যে, এনসিটি ইজারার ক্ষেত্রে সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষ অংশীজনদের (Stakeholders) সাথে কোনো ধরণের কার্যকর আলোচনা করেনি। অভিযোগ উঠেছে, একটি নির্দিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে এবং একপাক্ষিক ঢঙে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বন্দর ব্যবহারকারীদের মতে, যেখানে দেশীয় অপারেটররা অত্যন্ত সফলভাবে এই টার্মিনালটি পরিচালনা করে বিশ্বমানের সক্ষমতা দেখিয়েছে, সেখানে হঠাৎ কেন বিদেশিদের হাতে এটি তুলে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে—তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বন্দর টাইমসের বিশ্লেষণে উত্তেজনার ৪টি প্রধান কারণ:
১. দেশীয় সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন: গত ১০ বছরে এনসিটিতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছে। বন্দরের নিজস্ব সরঞ্জাম ব্যবহার করে দেশি জনবল দিয়ে যেখানে মুনাফা অর্জন সম্ভব হচ্ছে, সেখানে কেন চড়া শর্তে বিদেশি অপারেটর আনা হচ্ছে, তা সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে চরম হীনম্মন্যতা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
২. একচেটিয়া আধিপত্যের শঙ্কা: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো একটি বড় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানকে এনসিটির মতো স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্ট ইজারা দিলে বন্দরে তাদের একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হবে। এতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ বৃদ্ধি এবং দেশীয় ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৩. শ্রমিক স্বার্থ ও কর্মসংস্থান: এনসিটির বর্তমান কর্মপরিবেশে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। ডিপি ওয়ার্ল্ড দায়িত্ব নিলে তাদের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়বে, ফলে বড় ধরণের ছাঁটাই বা শ্রমিক কমানোর আশঙ্কা করছেন শ্রমিক নেতারা। এই কর্মহীন হওয়ার ভয়ই মূলত বড় আন্দোলনের মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।
৪. স্বচ্ছতার অভাব: পুরো ইজারা প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত দরপত্র বা প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতির অভাব স্পষ্ট। বন্দর টাইমস পর্যালোচনা করে দেখেছে, পর্দার আড়ালে একপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি করার এই মানসিকতা সাধারণ স্টেকহোল্ডারদের মনে বড় ধরণের অনাস্থা তৈরি করেছে।

আন্দোলনের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে:
বন্দর টাইমস পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, বন্দর পাড়ার বিভিন্ন মোড়ে ও চায়ের দোকানে এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু এই ইজারা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং স্টেকহোল্ডাররা নিজেদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু করেছেন। যদি ইজারা প্রক্রিয়া থেকে সরে আসা না হয় বা তাদের দাবিদাওয়া শোনা না হয়, তবে বন্দর অচল করার মতো কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে যে কোনো সময়।

চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন সবার কাম্য। কিন্তু সেই উন্নয়নের নামে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতাকে গলা টিপে ধরা এবং একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিদেশি নির্ভরতা বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে আত্মঘাতী হতে পারে। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকার যদি এখনই উন্মুক্ত আলোচনায় না বসে, তবে এই ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

বন্দর বিক্রির মিশন: হাসিনার মেয়েজামাইকে বাঁচাতে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দিচ্ছে আশিক-মনিরুজ্জামান চক্র!বিশেষ অনুসন্ধানী প্...
12/08/2026

বন্দর বিক্রির মিশন: হাসিনার মেয়েজামাইকে বাঁচাতে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দিচ্ছে আশিক-মনিরুজ্জামান চক্র!

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন । বন্দর টাইমস ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে আধুনিক ও লাভজনক সম্পদ ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল’ (এনসিটি) কোনো রকম বড় বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়াই দুবাইভিত্তিক ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজের ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকায় নির্মিত ও সম্পূর্ণ প্রস্তুত এই ‘গ্রে টার্মিনালটি’ বিদেশি অপারেটরকে দেওয়ার নেপথ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক কৌশল ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সাইমা ওয়াজেদ পুতুলের সাবেক স্বামী খন্দকার মাসরুর হোসেনের বিরুদ্ধে দুবাইতে দুই হাজার কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের যে তদন্ত চলছে, তা ধামাচাপা দিতেই মূলত দুবাইভিত্তিক এই সংস্থাকে চট্টগ্রাম বন্দরের চাবি সঁপে দেওয়া হচ্ছে। আর অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এই বিতর্কিত উদ্যোগটি তড়িঘড়ি বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা রাখছে বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান চক্র।

নথিপত্র অনুযায়ী, এনসিটির মূল অবকাঠামো নির্মাণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ হয়েছে ৭৩৭ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ব্যাকআপ সুবিধা ও আধুনিক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম কেনায় আরও বিপুল অর্থ ব্যয় করে বন্দর। চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত এনসিটিতে সরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও প্রশাসন শাখার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এনসিটি পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি বর্তমানে রয়েছে। কেবল সফটওয়্যার ও আইটি ব্যবস্থার কিছুটা আধুনিকায়ন ছাড়া এখানে নতুন কোনো বড় বিনিয়োগের সুযোগই নেই।
চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ শাহজাহানের মতে, বিশ্বজুড়ে যেসব টার্মিনাল নতুন করে বানাতে হয় (গ্রিনফিল্ড প্রজেক্ট), সেখানে বিদেশি ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু এনসিটির মতো সম্পূর্ণ প্রস্তুত, আধুনিক ও প্রতিদিন শত কোটি টাকা রাজস্ব দেওয়া ‘গ্রে টার্মিনাল’ বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার নজির বিশ্বে খুব একটা নেই।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ডেনিশ এপিএম টার্মিনালসের পর এবার আরব আমিরাতের ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর হাতে এনসিটি তুলে দেওয়ার দরকষাকষি চলছে। পিপিপি কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড নাকি এই টার্মিনালে ২০৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। কিন্তু এই তথাকথিত ২০৫ মিলিয়ন ডলার কোন কোন খাতে কীভাবে খরচ হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট রূপরেখা বা বিবরণ নথিতে নেই।

উল্টো প্রস্তাবিত রাজস্ব শেয়ারিং মডেলে দেখা গেছে, বন্দরকে দেওয়া হবে অত্যন্ত নামমাত্র মুনাফা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বন্দরের আয়ের অন্যতম বড় উৎস ‘স্টোর রেন্ট’ (কন্টেইনার রাখার ভাড়া)-এর সিংহভাগ চলে যাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের পকেটে। অর্থাৎ, নিজের টাকায় ২,৭১২ কোটি টাকা খরচ করে বানিয়ে রাখা তৈরি একটি সোনার ডিম পাড়া হাঁস স্রেফ পরিচালনা করার জন্য বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দিয়ে নিজেদের আয় নিজেরই কমানোর আয়োজন করা হয়েছে।

দৈনিক আমার দেশের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে চরম এক রাজনৈতিক অনৈতিকতা। শেখ হাসিনার মেয়ে সাইমা ওয়াজেদ পুতুলের সাবেক স্বামী খন্দকার মাসরুর হোসেনের বিরুদ্ধে দুবাইতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের গুরুতর অভিযোগ ওঠে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের আঁচ থেকে শেখ হাসিনার পরিবার ও পুতুলের সাবেক স্বামীকে বাঁচাতে আরব আমিরাত সরকারকে সন্তুষ্ট করার পথ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক এনসিটি টার্মিনালটি দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার অশুভ প্রক্রিয়া শুরু হয়। পতিত সরকারের আঁকা সেই একই নকশা বাস্তবায়নে এখন বর্তমান প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী পদে থাকা আশিক চৌধুরী ও বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

লালদিয়া টার্মিনালে এপিএম টার্মিনালসকে ৪৮ বছরের জন্য অনায্য সুবিধায় ইজারা দেওয়ার পর এবার এনসিটিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরকে পুরোপুরি বিদেশি সিন্ডিকেটের দখলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যেখানে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি সর্বোচ্চ মুনাফা দিয়ে আসছে, সেখানে শূন্য বিনিয়োগে একটি বিদেশি কোম্পানিকে বসিয়ে দিয়ে দেশের রিজার্ভ ফাঁকা করার এই নীতিকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে অভিহিত করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, পুতুলের সাবেক স্বামীর দুর্নীতি ঢাকতে কিংবা বিদেশি লবিস্টদের খুশি করতে দেশের সবচেয়ে লাভজনক ‘এনসিটি’ টার্মিনাল বিকিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আশিক চৌধুরী ও মনিরুজ্জামান চক্রের এই জাতীয় স্বার্থবিরোধী উদ্যোগ রদ না করলে চট্টগ্রাম বন্দর তার নিজস্ব রাজস্ব হারাবে এবং দেশের অর্থনীতি স্থায়ীভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ক্ষরণের মুখে পড়বে।

"ডিপি ওয়ার্ল্ড যেই শর্তে চায়, সেই শর্তেই এনসিটির চুক্তি করে ফেলুন" - বন্দর কর্তৃপক্ষকে আশিক চৌধুরীর নির্দেশবন্দর টাইমস...
10/08/2026

"ডিপি ওয়ার্ল্ড যেই শর্তে চায়, সেই শর্তেই এনসিটির চুক্তি করে ফেলুন"

- বন্দর কর্তৃপক্ষকে আশিক চৌধুরীর নির্দেশ

বন্দর টাইমস প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর একটি ‘নির্দেশ’ নিয়ে বর্তমানে বন্দর ও আমলাতান্ত্রিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড (DP World) যেভাবে চাইছে, যেই শর্তে চাইছে, ঠিক সেভাবে ও সেই শর্তে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) তাদের হাতে তুলে দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে তথ্য এসেছে বন্দর টাইমসের হাতে। জাতীয় রাজস্ব হারানো এবং আইনি জটিলতার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও একটি বিদেশি কোম্পানির সব শর্ত মেনে নেওয়ার এই অতি-তৎপরতাকে ‘জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী’ হিসেবে দেখছেন বন্দর বিশেষজ্ঞরা।

বন্দর টাইমসের অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে এনসিটি হস্তান্তরের চুক্তিটি যখন কর ফাঁকি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়ে অমীমাংসিত অবস্থায় ছিল, তখন বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষকে বার্তা দিয়েছেন যে—বিনিয়োগ আকর্ষণের স্বার্থে ডিপি ওয়ার্ল্ডের দেওয়া সব শর্ত মেনেই চুক্তিটি দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানটি যেভাবে মুনাফা বণ্টন এবং রাজস্ব ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে, সেভাবেই তাদের বন্দর বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য এক ধরনের প্রশাসনিক চাপ তৈরি করা হয়েছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাবিত মডেলে বড় ধরনের ‘আর্থিক ফাঁদ’ রয়েছে বলে প্রমাণ এসেছে বন্দর টাইমসের হাতে। ডিপি ওয়ার্ল্ড দাবি করেছে, সরকার তাদের ওপর কোনো ভ্যাট বা অগ্রিম আয়কর (AIT) আরোপ করতে পারবে না। এ ছাড়া টার্মিনালের সমস্ত আয় প্রথমে তাদের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে থাকবে, যা পরে তারা বন্দর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেবে।

বিডা চেয়ারম্যান এমন একটি প্রস্তাব কেন মেনে নেওয়ার নির্দেশ দিলেন, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে। কারণ, এই শর্ত মেনে নিলে সরকার বছরে প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা নিশ্চিত রাজস্ব হারাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আশিক চৌধুরী সাবেক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার হওয়ায় তিনি হয়তো করপোরেট স্বার্থ ভালো বোঝেন, কিন্তু রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টি এখানে চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।

আইনগতভাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার কাজ বিডার হলেও, বন্দরের অপারেশনাল সিদ্ধান্ত বা বিদেশি কোম্পানির হাতে সার্বভৌম সম্পদ তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিডা চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্যেষ্ঠ আমলা ও আইনি বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, বিডা চেয়ারম্যান এবং বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের মধ্যকার এই নজিরবিহীন সমন্বয় মূলত একটি বিশেষ ‘মিশন’ বাস্তবায়নের অংশ।

নেপথ্যে কী ‘১২০০ কোটির’ মিশন?

বন্দর ও ব্যবসায়ী মহলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে যে, এই দ্রুত হস্তান্তরের পেছনে বিশাল অঙ্কের ‘কমিশন বাণিজ্য’ কাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও তাদের সুবিধাভোগী সিন্ডিকেটের এজেন্ডাই এখন বর্তমান প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি বাস্তবায়ন করছেন। যেখানে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় বন্দর বছরে ৪,৬৭৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা করছে, সেখানে ৩৩০ কোটি টাকার কর ফাঁকির শর্ত মেনে কেন একটি বিদেশি কোম্পানিকে ‘রেড কার্পেট’ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা বিডা বা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।

অর্থনীতিবিদ ও লজিস্টিকস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “বিনিয়োগের নামে দেশের প্রধান প্রবেশদ্বারের নিয়ন্ত্রণ অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া আর সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়া একই কথা।” ডিপি ওয়ার্ল্ডের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং তাদের বিতর্কিত আন্তর্জাতিক রেকর্ড মাথায় রেখে এই চুক্তিটি করার আগে আরও গভীর পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, নীতিনির্ধারকদের মনে রাখা উচিত, কোনো বিশেষ ব্যক্তির নির্দেশ বা কমিশনের নেশায় জাতীয় সম্পদ যদি একবার হাতছাড়া হয়, তবে তা পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই আত্মঘাতী চুক্তির বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

বিদেশী অপারেটরদের দখলে চট্টগ্রাম বন্দর: আশিক চৌধুরী-মনিরুজ্জামানরা কি দেশকে শ্রীলঙ্কার পথে নিয়ে যাচ্ছে?বিশেষ অনুসন্ধানী ...
08/08/2026

বিদেশী অপারেটরদের দখলে চট্টগ্রাম বন্দর: আশিক চৌধুরী-মনিরুজ্জামানরা কি দেশকে শ্রীলঙ্কার পথে নিয়ে যাচ্ছে?
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম বন্দরের একের পর এক কৌশলগত টার্মিনাল বিদেশি বহুজাতিক অপারেটরদের হাতে তুলে দেওয়ার আত্মঘাতী প্রক্রিয়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই শুরু হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) চকচকে প্রচারণার আড়ালে বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামানদের দৌড়ঝাঁপে চূড়ান্ত হওয়া এসব চুক্তি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে তড়িঘড়ি করে নেওয়া এসব সিদ্ধান্তের ফলে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ কি সত্যি দক্ষিণ এশিয়ার লজিস্টিকস হাব হতে যাচ্ছে, নাকি শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও পরনির্ভরশীলতার ফাঁদে পা দিচ্ছে?

এশিয়ায় সমুদ্র বাণিজ্যে যারা সফল—যেমন সিঙ্গাপুর, চীন ও ভিয়েতনাম—তারা কখনোই বন্দরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেয়নি। তারা ‘অপারেটর মডেল’ বা ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার (যৌথ উদ্যোগ) মডেল’ অনুসরণ করে নীতিগত সিদ্ধান্ত, কারিগরি দক্ষতা এবং আয়ের বড় অংশ নিজেদের কাছে রেখে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। এর ঠিক বিপরীত কাজ করেছিল আমাদের নিকট প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা। ২০১৭ সালে ঋণের চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে পড়ে হাম্বানটোটা বন্দরটি ৯৯ বছরের কনসেশনে চীনের একটি কোম্পানির কাছে (৮৫% অংশীদারিত্ব) হস্তান্তর করে তারা। কাগজে-কলমে মালিকানা শ্রীলঙ্কার হলেও পরিচালনা ও সিদ্ধান্তের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিদেশি কোম্পানির হাতে, যা দেশটির অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বকে ত্বরান্বিত করে। আশিক চৌধুরী ও মনিরুজ্জামানদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সেই একই শ্রীলঙ্কা মার্কা বিপজ্জনক পথে হাঁটছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থা আইএফসি (IFC) যেখানে লালদিয়া চুক্তির দরকষাকষির জন্য অন্তত ৬২ দিন সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল, সেখানে মাত্র ১৩ দিনে তড়িঘড়ি করে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। এর নেপথ্যে বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানসহ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি গোষ্ঠী মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। সমক্ষমতার পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) তৈরি করতে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা লাগলেও লালদিয়ার কৃত্রিম ব্যয় বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা (৫৫০ মিলিয়ন ডলার)। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তুতকৃত জমিতে ২,৭০০ কোটি টাকার বেশি লাগার কথা নয়। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে মূলত বিদেশি বিনিয়োগ তোলার বাহানায় চুক্তির মেয়াদ ১০-১৫ বছরের জায়গায় বাড়িয়ে মোট ৪৮ বছর (৩ বছর নির্মাণ + ৩০ বছর পরিচালনা + ১৫ বছর এক্সটেনশন) করা হয়েছে।

এই ৪৮ বছরের চুক্তিতে বৈদেশিক মুদ্রা ফাঁকির যে বন্দোবস্ত করা হয়েছে, তা দেশের রিজার্ভের ওপর মরণকামড় বসাতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার প্রতি গড়ে আয় হয় ১৬২ ডলার। অপারেটরের পরিচালন খরচ ৪১ ডলার বাদ দিলেও নিট উদ্বৃত্ত থাকে ১২১ ডলার। কিন্তু চুক্তির গোপন স্ল্যাব অনুযায়ী, ৯ লাখ কন্টেইনারের সীমা পার হলেই বন্দর পাবে কন্টেইনার প্রতি মাত্র ১০ ডলার! অর্থাৎ কন্টেইনার প্রতি ১০০ ডলারের বেশি অর্থ সরাসরি বিদেশে পাচার হয়ে যাবে। ডেনিশ মায়ারস্কের বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে লালদিয়ায় ১০-১২ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হলে বছরে প্রায় ১২ কোটি ৩ লাখ ডলার (১,৫০০ কোটি টাকা) দেশ থেকে বের হয়ে যাবে। ৪৫ বছরের অপারেশনাল মেয়াদে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা)।

একদিকে দেশে ১০০ বিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী রিজার্ভ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আশিক চৌধুরী ও মনিরুজ্জামানদের সই করা এই চুক্তির মাধ্যমে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা তুলে দেওয়া হচ্ছে বিদেশি অপারেটরের হাতে। দেশীয় অপারেটরদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ না দিয়ে এবং শতভাগ আয় বিদেশে পাঠানোর বন্দোবস্ত করে চট্টগ্রাম বন্দরকে কখনোই লজিস্টিকস হাব বানানো সম্ভব নয়; বরং এটি দেশকে চূড়ান্ত অর্থনৈতিক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেবে। দেশীয় উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষায় এই ‘অসম’ কনসেশন চুক্তি অবিলম্বে পর্যালোচনা বা বাতিল করা এখন সময়ের দাবি।

কনসেশন মডেলে নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা: ঢাকার পররাষ্ট্রনীতির গভীর সংকটনিজস্ব প্রতিবেদকচট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও ...
02/08/2026

কনসেশন মডেলে নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা: ঢাকার পররাষ্ট্রনীতির গভীর সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও সচল টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের হাতে পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি ‘দুর্বল ও ভঙ্গুর রাষ্ট্র’ হিসেবে তুলে ধরবে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নীতিনির্ধারক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অনুন্নত আফ্রিকান দেশগুলোর মতো পূর্ণাঙ্গ ‘কনসেশন মডেল’ বা ইজারা প্রথায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে সমর্পণ করার এই তোড়জোড় বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক দরকষাকষির ক্ষমতা এবং বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক লজিস্টিকস খাত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জিবুতি, সোমালিয়া, মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা কিংবা সেনেগালের মতো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এবং প্রশাসনিকভাবে দুর্বল দেশগুলোতেই মূলত বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সম্পূর্ণ ইজারা বা ‘কনসেশন’ দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সিঙ্গাপুর কিংবা ভিয়েতনামের মতো স্বাবলম্বী ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো কখনোই তাদের সচল ও প্রধান কৌশলগত সমুদ্রবন্দর সম্পূর্ণ বিদেশি ইজারায় ছেড়ে দেয় না। এসব দেশ নিজস্ব রাষ্ট্রীয় সংস্থায় বন্দর পরিচালনা করে কিংবা বড়জোর নতুন কোনো বন্দর বা টার্মিনাল নির্মাণের ক্ষেত্রে সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার’ (JV) মডেলে যায়—যেখানে পরিচালনা, প্রযুক্তি ও তথ্যের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে রাষ্ট্রের হাতেই।

এখানেই বড় ধরনের নীতিগত প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত কোনো নতুন বন্দর নির্মাণের বিশাল অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য দরকার হলেও, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনালটি ইতোমধ্যে পুরোপুরি নির্মিত, নিজস্ব টাকায় কেনা আধুনিক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড চার হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। একটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও বিপুল লাভজনক জাতীয় সম্পদকে কেন আফ্রিকান দেশগুলোর অনুকরণে বিদেশিদের হাতে ইজারা দেওয়া হবে?—এই প্রশ্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সার্কেলে বাংলাদেশকে একটি হাস্যকর ও অদক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করছে। এটি বৈশ্বিক মানচিত্রে এমন বার্তা দিচ্ছে যে, বাংলাদেশ তার দেশের সবচেয়ে বড় ও লাভজনক অর্থনৈতিক স্থাপনা পরিচালনা করার ন্যূনতম সার্বভৌম সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেছে।

এমন এক সময়ে এই ক্ষতিকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নির্ভরতা, নীতিগত অবস্থান এবং পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো বর্তমানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সামর্থ্য, আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার সক্ষমতা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই মুহূর্তে দেশের ১১ লাখ কোটি টাকার বাণিজ্যের মূল প্রবেশদ্বারটি ডিপি ওয়ার্ল্ড (যে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী পদে আসীন প্রতিবেশী দেশের নাগরিকরা) ও এপিএম টার্মিনালসের মতো বিতর্কিত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে সোপর্দ করলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম এবং একটি নির্দিষ্ট আঞ্চলিক অক্ষের অধীনস্থ রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করবে।

সংক্ষেপে, লাভজনক এই টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া কোনো বাণিজ্যিক উন্নয়ন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক ভুল পদক্ষেপ। এর ফলে আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে, বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের সার্বভৌম মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে এবং ভবিষ্যতে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখা ঢাকার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে।

বিদেশী অপারেটররা বাংলাদেশকে রিজিওনাল হাব বানাবে নাকি দেউলিয়া বানাবে?বিশেষ সংবাদ, বন্দর টাইমস ডেস্কবঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অ...
01/08/2026

বিদেশী অপারেটররা বাংলাদেশকে রিজিওনাল হাব বানাবে নাকি দেউলিয়া বানাবে?
বিশেষ সংবাদ, বন্দর টাইমস ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান ‘লজিস্টিকস হাব’ বানানোর স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। নেপাল, ভুটান এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিশাল বাণিজ্যের প্রাকৃতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের সম্ভাবনা অপার। কিন্তু এই সম্ভাবনার উজ্জ্বল প্রচারণার অন্তরালে এখন একটি বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বিদেশি অপারেটরদের হাতে একের পর এক টার্মিনাল ইজারা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কি সত্যিই আঞ্চলিক হাব হবে, নাকি শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা ও দেউলিয়াত্বের পথ ধরবে? সরকার যে দীর্ঘমেয়াদী কনসেশনভিত্তিক ইজারা নীতি অনুসরণ করছে, তা দেশকে স্বাবলম্বী করার বদলে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর স্থায়ী মুনাফা লোটার ফাঁদে পরিণত করছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এশিয়ায় যারা সত্যিই সফল আঞ্চলিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে—যেমন সিঙ্গাপুর, চীন ও ভিয়েতনাম—তাদের উত্থানের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা কখনোই নিজেদের জাতীয় কৌশলগত সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়নি। এই দেশগুলো মূলত ‘অপারেটর মডেল’ কিংবা সর্বোচ্চ ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার (যৌথ উদ্যোগ) মডেল’ অনুসরণ করে নিজেদের সমুদ্র অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। তারা বিদেশি প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা গ্রহণ করেছে ঠিকই, কিন্তু বন্দরের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মূল কর্তৃত্ব, আয় এবং প্রযুক্তিগত বিকাশ নিজেদের হাতেই রেখে দিয়েছে। এর ফলে তারা কেবল নিজেদের বন্দরই দক্ষভাবে চালায়নি, বরং অর্জিত বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা জাতীয় রিজার্ভে জমা করে নিজেদের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক পরাশক্তিতে পরিণত করেছে।

এর ঠিক বিপরীত এবং করুণ দৃষ্টান্ত আমাদের নিকট প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা। আঞ্চলিক হাব হওয়ার জোরালো প্রচারণা চালিয়ে শ্রীলঙ্কা তাদের কলম্বো ও হাম্বানটোটা বন্দরে বিদেশি কোম্পানিকে ডেকে এনে দীর্ঘমেয়াদী কনসেশন দিয়েছিল। ২০১৭ সালে বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট ও ঋণের চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা সরকার হাম্বানটোটা বন্দরটি ‘চাইনা মার্চেন্টস পোর্ট হোল্ডিংস’-এর নেতৃত্বাধীন যৌথ উদ্যোগকে ৯৯ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কনসেশনে সঁপে দিতে বাধ্য হয়। এই যৌথ উদ্যোগে চীনের অংশীদারিত্ব ছিল প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কা পোর্ট অথরিটির ছিল মাত্র ১৫ শতাংশ। কাগজ-কলমে বন্দরের মালিকানা শ্রীলঙ্কার কাছে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিচালনা এবং লভ্যাংশের মূল নিয়ন্ত্রণ চলে যায় চীনের হাতে। ফলশ্রুতিতে, শ্রীলঙ্কা আঞ্চলিক হাব হওয়া তো দূরের কথা, রিজার্ভ হারিয়ে চূড়ান্ত অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বের মুখে পড়ে।

বাংলাদেশ আজ সিঙ্গাপুর, চীন বা ভিয়েতনামের স্বাবলম্বী মডেল ছেড়ে শ্রীলঙ্কার সেই ঝুঁকিপূর্ণ পথে হাঁটছে কি না—লালদিয়া বা পতেঙ্গার চুক্তিগুলো তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। জয়েন্ট ভেঞ্চার বা অপারেটর মডেলে না গিয়ে ডেনিশ প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসকে ৪৮ বছরের জন্য (৩ বছর নির্মাণ + ৩০ বছর পরিচালনা + ১৫ বছর এক্সটেনশন) কনসেশন দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার প্রতি গড়ে ১৬২ ডলার আয় হলেও অপারেশনের ৪১ ডলার বাদ দেওয়ার পর যে ১২১ ডলার নিট উদ্বৃত্ত থাকে, তার মধ্যে সরকারের প্রাপ্তি মাত্র ১০ থেকে ১৮ ডলার। অর্থাৎ কন্টেইনার প্রতি ১০০ ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি বিদেশে চলে যাচ্ছে। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ফাপানো ব্যয় দেখিয়ে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে এই গোপন স্ল্যাবের কারণে ৪৫ বছরের অপারেশনাল মেয়াদে দেশ থেকে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা) বের হয়ে যাওয়ার পথ সুগম হয়েছে। দেশীয় অপারেটরদের বড় হতে না দিয়ে এবং সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ কখনোই হাব হতে পারবে না; বরং এটি বিদেশি কোম্পানিগুলোর একটি ‘অপারেশনাল বেস’-এ পরিণত হয়ে জাতীয় রিজার্ভ খালি করবে।

পরিশেষে, বাংলাদেশকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি সিঙ্গাপুর, চীন ও ভিয়েতনামের মতো স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক মডেল বেছে নেব, নাকি শ্রীলঙ্কার মতো দীর্ঘমেয়াদী কনসেশন দিয়ে নিজেদের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেব? শুধু জেটি বা অবকাঠামো তৈরি করলেই লজিস্টিকস হাব হওয়া যায় না, যদি না বন্দরের মূল আয় ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেশের হাতে থাকে। বাংলাদেশ যদি সত্যিই দক্ষিণ এশিয়ার লজিস্টিকস হাব হতে চায়, তবে অবিলম্বে শ্রীলঙ্কা মার্কা আত্মঘাতী কনসেশন নীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশীয় অপারেটরদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশে রাখার শক্ত নীতি গ্রহণ করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বের হাত থেকে রক্ষা করে একটি স্বাবলম্বী ‘জাতীয় পোর্ট ম্যানেজমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি’ গড়ে তোলাই হতে হবে দায়িত্বশীল জাতীয় কৌশল।

১০০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভের টার্গেট: বড় বাধা লালদিয়া চুক্তিপাচার হবে ৬ বিলিয়ন ডলার!বন্দর টাইমস ডেস্কচট্টগ্রাম বন্দরের লালদ...
01/08/2026

১০০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভের টার্গেট: বড় বাধা লালদিয়া চুক্তি
পাচার হবে ৬ বিলিয়ন ডলার!

বন্দর টাইমস ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য সম্পাদিত ‘অসম’ চুক্তিটি বাতিল করা না হলে নতুন সরকারের পক্ষে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মাইলফলক অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বন্দর সংশ্লিষ্টরা। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে—শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার দিন (১৭ ডিসেম্বর)—তড়িঘড়ি করে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের (এপি মোলার-মায়ারস্কের সহযোগী) সঙ্গে এই চুক্তি সই করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি বছর দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বের হয়ে যাওয়ার যে আইনি পথ তৈরি করা হয়েছে, তাতে লাগাম টানতে বিএনপি সরকারের উচিত অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিল বা পুনর্বিবেচনা করা।

আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থা আইএফসি দরকষাকষির জন্য অন্তত ৬২ দিন সময় দেওয়ার পরামর্শ দিলেও মাত্র ১৩ দিনে তড়িঘড়ি করে এই আত্মঘাতী চুক্তি সম্পন্ন করা হয়। এই তড়িঘড়ির পেছনে প্রধান ভূমিকা ছিল চারজনের—বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সাবেক নৌ উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন, ড. ইউনুসের সাবেক বিশেষ দূত লুতফে সিদ্দীকী এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান।

নথিপত্র ও কৌশলগত হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, সমান ক্ষমতার পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) মাত্র ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকায় নির্মিত হলেও লালদিয়া টার্মিনালের কৃত্রিম প্রাক্কলিত ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা (৫৫০ মিলিয়ন ডলার)। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে এই অবাস্তব বিনিয়োগ তোলার বাহানায় চুক্তির মেয়াদ ১০-১৫ বছরের জায়গায় বাড়িয়ে মোট ৪৮ বছর (৩ বছর নির্মাণ + ৩০ বছর পরিচালনা + ১৫ বছর এক্সটেনশন) করা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় ক্ষতির জায়গা তৈরি করা হয়েছে রাজস্ব ভাগাভাগির স্ল্যাবে। আনুমানিক ৮ লাখ বলা হলেও মায়ারস্ক গ্রুপের একক বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে লালদিয়ায় বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ১০ থেকে ১২ লাখ টিইইউ (TEU) স্পর্শ করবে। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কন্টেইনার সংখ্যা ৯ লাখ পার হলেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি কন্টেইনারে প্রাপ্তি ২১-২২ ডলার থেকে নেমে আসবে মাত্র ১০ ডলারে। চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে প্রতি কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে গড় আয় ১৬২ ডলার। অপারেটরের ৪১ ডলার খরচ বাদ দিলে উদ্বৃত্ত ১২১ ডলারের মধ্যে বন্দর পাবে গড়ে মাত্র ১৮ ডলার, আর বাকি ১০০ ডলারের বেশি অর্থ সরাসরি বিদেশে পাচার হয়ে যাবে।

এই হিসাব অনুযায়ী, লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে বছরে প্রায় ১২ কোটি ৩ লাখ ডলার (১৫০০ কোটি টাকা) দেশের বাইরে চলে যাবে। ১ টাকাও মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যয়বৃদ্ধি না ধরে অপারেশনাল ৪৫ বছরে বৈদেশিক মুদ্রার এই ক্ষরণের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা)।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন সরকারের ঘোষিত ১০০ বিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী রিজার্ভ গড়ে তোলার প্রাথমিক পূর্বশর্ত হলো বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় ও পাচার বন্ধ করা। একটি মাত্র টার্মিনাল থেকে যদি প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রিজার্ভ বের হয়ে যায়, তবে জাতীয় রিজার্ভের প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তদুপরি, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের বিশেষ দিনে (১৭ ডিসেম্বর) সই হওয়া এই চুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই স্বচ্ছতার প্রশ্ন রয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ১০০ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই চুক্তি বাতিল করে দেশের অনুকূলে নতুন চুক্তি করার জোর দাবি উঠছে।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বন্দর টাইমস-Port Times posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share