29/05/2026
✨"চুড়ির নেশা"✨
নদীর ওপারের মেলায় সবার আগে ছুটতো শেফালি।
কিন্তু ওর নেশা মিষ্টি না, খেলনা না। ওর নেশা ছিল চুড়ি।🦋
টিনের চুড়ি, কাচের চুড়ি, রেশমি চুড়ি।
হাতে টাকা থাকুক আর না থাকুক, শেফালি চুড়ি দেখলেই দাঁড়িয়ে যেত। চুড়িওয়ালা কাকু ওকে চিনতো। হাসি দিয়ে বলতো, "আবার আইছো মা? আজকে কী রঙের নেশা ধরলো?"🎀
শেফালির বিয়ে হয়েছিল ১৪ বছর বয়সে। শ্বশুরবাড়িতে শখ বলতে কিছু ছিল না।
কিন্তু ওর একটা শখ ছিল — নতুন চুড়ি। প্রতি ঈদে, প্রতি মেলায় এক গাছা চুড়ি কিনবেই। শাশুড়ি বকতো, "পেটের ভাত জোটে না, আবার চুড়ির শখ!" ✨
শেফালি হাসতো। বলতো, "মা, পেট ভরে ভাত না খাইলেও বাঁচা যায়। কিন্তু মনের শখ মরে গেলে মানুষ বাঁচে না।"✨
হাতের চুড়ি ভাঙতো, কাজ করতে গিয়ে। তবুও ও আবার কিনতো।
চুড়ির টুংটাং শব্দটা ওর কাছে স্বাধীনতার শব্দ। সংসারের হাজার চাপের মাঝে ওই টুংটাং বলতো— "শেফালি, তুই এখনো বেঁচে আছিস। তোর এখনো শখ আছে।"🪷
একবার খুব অসুখ হলো শেফালির। বিছানা থেকে উঠতে পারে না।
নাতনিটা ওর হাতের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, "নানু, তুমি এত চুড়ি পরো ক্যান?" ✨
শেফালি দুর্বল হাতে নাতনির হাত ধরলো। বললো, "মা রে, জীবনটা বড় শক্ত। মাঝে মাঝে নিজেরে মনে করাইতে হয়— আমি মেয়ে, আমারও রঙ আছে, আমারও শব্দ আছে। এই চুড়িগুলা সেই মনে করায় দেয়।"✨
সেদিনের পর নাতনিও চুড়ির নেশা ধরেছে।
এখন মেলায় গেলে দুই গাছা চুড়ি কেনে — একটা নিজের জন্য, একটা নানুর কবরের পাশে রেখে আসে।
কারণ সে জানে, চুড়ি শুধু সাজ না।
চুড়ি হলো একটা মেয়ের ছোট্ট বিদ্রোহ। "আমি আছি" বলার ভাষা। 🦋