The Land Of River Bangladesh

The Land Of River Bangladesh Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from The Land Of River Bangladesh, Advertising/Marketing, Dhaka.

যারা বিপদে আছেন তাঁরা যদি ১০০% খালিছ নিয়তে এই আমল করেন তাহলে বিপদ থেকে উদ্ধার হবেন ইন শা আল্লাহ।বিপদগ্রস্তের দোয়াঃহযরত আ...
12/03/2019

যারা বিপদে আছেন তাঁরা যদি ১০০% খালিছ নিয়তে এই আমল করেন তাহলে বিপদ থেকে উদ্ধার হবেন ইন শা আল্লাহ।
বিপদগ্রস্তের দোয়াঃ
হযরত আবু বাকরা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খতামান্নাবিঈন, হযরত রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ [اللّهُـمَّ رَحْمَتَـكَ أَرْجـوفَلا تَكِلـني إِلى نَفْـسي طَـرْفَةَ عَـيْن، وَأَصْلِـحْ لي شَأْنـي كُلَّـه لَا إِلَهَ إِلَّا أنْـت]
বাংলা উচ্চারনঃ "আল্লাহুম্মা রাহমাতাকা আরযু ফালা তাকিলনি ইলা নাফছী তারফাতা আঈনিউ, ওয়াছলিহ লী শা'নীঈ কুল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।
বাংলা অর্থঃ হে মহান আল্লাহ! পাক, আপনারই রহমতের আকাঙ্ক্ষী আমি, সুতরাং আপনি এক পলক পরিমাণ সময়ের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিয়েন না। আপনি আমার সমস্ত বিষয়াবলি সুন্দর করে দিন। আপনি ভিন্ন প্রকৃত কোন ইলাহ বা মা’বুদ নেই।" [মেশকাত শরীফ; ২৩৩৪, আবু দাউদ শরীফ; ৫০০২]

08/02/2019

তরুণী মেয়েদের হঠাৎ আসা আবেগ হঠাৎ চলে যায়। আবেগকে বাতাস না দিলেই হলো। আবেগ বায়বীয় ব্যাপার, বাতাস পেলেই তা বাড়ে, অন্য কিছুতে বাড়ে না।

27/11/2018
বল প্রয়োগ না চুমু খাবে?এই আপনার ভাষ্য!!লজ্জা লজ্জা লজ্জা!!
05/08/2018

বল প্রয়োগ না চুমু খাবে?
এই আপনার ভাষ্য!!
লজ্জা লজ্জা লজ্জা!!

02/02/2018

কোনো বিষয় জানতে হলে তার প্রতি একান্ত হয়ে জানতে হয়

15/01/2018

দুই ঈদের জন্য বোনাস ও ছুটি থাকলে, ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য বোনাস ও ছুটি কোথায়?
=================================================
দুই ঈদের জন্য বোনাস ও ছুটি থাকলে, দুই ঈদের চেযেও শ্রেষ্ঠ তম ঈদে তথা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য বোনাস ও ছুটি নেই কেন?
পবিত্র জুমুয়ার দিন মুসলমানগন উনাদের জন্য ঈদের দিন। পবিত্র সহীহ হাদীস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﺍﻟﺴَّﺒَّﺎﻕِ , ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓِﻲ ﺟُﻤُﻌَﺔٍ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺠُﻤَﻊِ ﻗَﺎﻝَ ” : ﻳَﺎ ﻣَﻌْﺸَﺮَ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ , ﺇِﻥَّ ﻫَﺬَﺍ ﻳَﻮﻡٌ ﺟَﻌَﻠَﻪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋِﻴﺪًﺍ ﻟِﻠْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ
“ হযরত ওবায়িদ বিন সাব্বাক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক জুমুয়ার দিনে বলেন, হে মুসলমান সম্প্রদায়! এটি এমন একটি দিন যাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈদ স্বরূপ নির্ধারণ করেছেন। (ইবনে মাজাহ : হাদীস নম্বর ১১৯৮, মুয়াত্তা মালিক- কিতাবুত ত্বহারাত: হাদীস নম্বর ১৪৪, বায়হাক্বী : হাদীস ১৩০৩, মা’য়ারিফুল সুনান ওয়াল আছার বায়হাক্বী: হাদীস ১৮০২, মুসনাদে শাফেয়ী: হাদীস ২৬৮, মুজামুল আওসাত তাবরানী ৩৪৩৩, মিশকাত শরীফ ‏)
এ পবিত্র হাদীস শরীফ উনার থেকে আমরা জানতে পারলাম, জুমুয়ার দিনকে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি ঈদের দিন হিসাবে ঘোষনা করেছেন।
কতবড় ঈদের দিন ও শ্রেষ্ঠ দিন জানেন কি ? দেখুন পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে কি বলা হয়েছে-
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻥ ﻳﻮﻡ ﺍﻟـﺠﻤﻌﺔ ﺳﻴﺪ ﺍﻻﻳﺎﻡ ﻭﺍﻋﻈﻤﻬﺎ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻫﻮ ﺍﻋﻈﻢ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﻳﻮﻡ ﺍﻻﺿﺤﻰ ﻭﻳﻮﻡ ﺍﻟﻔﻄﺮ
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, জুমুআর দিন সকল দিনের সর্দার এবং সকল দিন অপেক্ষা আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত। এটি ঈদুল আযহার দিন ও ঈদুল ফিতরের দিন অপেক্ষাও মহান আল্লাহ পাক-উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত। (ইবনে মাজাহ : হাদীস নম্বর ১১৩৭, মুজামুল কবীর তাবরানী ৪৫১১, শুয়াইবুল ঈমান বায়হাকী : হাদীস ২৯৭৩, মিশকাত শরীফ)
এই পবিত্র হাদীস শরীফ উনার থেকে আমরা জানতে পারলাম, জুমুয়ার দিন অন্য দিন সমূহের সর্দার, এমনকি পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহা থেকেও বেশি সম্মানিত।
এবার দেখূন কেন পবিত্র জুমুয়ার দিন পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহার চাইতে বেশি শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত:
ﺍﻥ ﻣﻦ ﺍﻓﻀﻞ ﺍﻳﺎﻣﻜﻢ ﻳﻮﻡ ﺍﻟـﺠﻤﻌﺔ ﻓﻴﻪ ﺧﻠﻖ ﺍﺩﻡ ﻭﻓﻴﻪ ﻗﺒﺾ
অর্থ: ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন। এ দিনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম পয়দা হয়েছেন এবং এ দিনেই তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেছেন।’ (নাসায়ী শরীফ- কিতাবুল জুমুয়া: হাদীস ১৩৮৫, মুসলিম শরীফ- কিতাবুল জুমুয়া: হাদীস ৮৫৫, তিরমিযী :হাদীস ৪৯১, মুসনাদে আহমদ : ৮৯৫৪, হাদীস নম্বর ৮৯ ইবনে মাজাহ : হাদীস ১৭০৫, সুনানে আবু দাউদ – কিতাবুস সালাত: হাদীস ১০৪৭, ইবনে খুযায়মা: হাদীস ১৬৩২ ‏)
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টি, দুনিয়ায় আগমন, বিছাল শরীফ এর জন্য পবিত্র জুমুয়ার দিন এত শ্রেষ্ঠ। এতটাই শ্রেষ্ঠ যে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পবিত্র ঈদুল আযহার চাইতেও বেশি শ্রেষ্ঠ।
শুধু তাই নয় নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ ও পবিত্র বিছাল শরীফ সবই ঈদের ও শান্তির দিন। যেমন, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে পবিত্র কুরআন শরীফ ‍উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﻳﻮﻡ ﻭﻟﺪ ﻭﻳﻮﻡ ﻳـﻤﻮﺕ ﻭﻳﻮﻡ ﻳﺒﻌﺚ ﺣﻴﺎ .
অর্থ: ‘উনার প্রতি সালাম (শান্তি), যেদিন তিনি পবিত্র বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন এবং যেদিন তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ লাভ করবেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন।’ (সূরা মারইয়াম শরীফ, আয়াত শরীফ: ১৫ ‏)
তাহলে সমস্ত নবীদের নবী, সমস্ত রসূলদের রসূল হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টি মুবারক না করলে মহনি আল্লাহ পাক তিনি কিছুই সৃষ্টি মুবারক করতেন না। এমনকি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার আগমন ও বিছাল শরীফের কারনে যে জুমুয়ার দিন ঈদের দিন, সেই আদম আলাইহিস সালাম উনিও সৃষ্টি হতেন না হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি সৃষ্টি না হলে। যেমন পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟـﻰ ﻭﻟﻮ ﻻ ﻣـﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﺎ ﺧﻠﻘﺘﻚ . ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻻﺳﻨﺎﺩ .
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন , যদি আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম না হতেন, তাহলে আমি আপনাকেও (হযরত আদম আলাইহিস সালাম) সৃষ্টি করতাম না।” সুবহানাল্লাহ! এ পবিত্র হাদীছ শরীফ খানার সনদ ছহীহ তথা বিশুদ্ধ। (আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৪র্থ খ- ১৫৮৩ পৃষ্ঠা, আছ ছহীহাহ ১ম খ- ৮৮ পৃষ্ঠা, মুখতাছারুল মুস্তাদরাক ২য় খ- ১০৬৯ পৃষ্ঠা, আত তাওয়াসসুল ১১৫ পৃষ্ঠা, তাফসীরুদ দুররিল মানছূর লিস সুয়ূত্বী ১ম খ- ৫৮ পৃষ্ঠা, কানযুল উম্মাল ১১ খ- ৪৫৫ পৃষ্ঠা)
তাহলে এখন প্রশ্ন,
জুমুয়ার দিন ঈদের দিন হওয়ার কারনে যদি সরকারি ভাবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হয়..
ঈদুল ফিতর ঈদুল আযহা ঈদের দিন হওয়ার কারনে বাৎসরিক ছুটির দিন হয় ও সরকারী বোনাস দেয়া হয়…
তাহলে যে তারিখে, যে বারে হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন বা বিলাদত শরীফ, সে দিনে সরকারী ও বেসরকারী বোনাস কোথায়????
কেন শুধুমাত্র একদিন দায়সারা ?? ছুটি
কেন পবিত্র রবিউল আউয়াল সারা মাস ব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না??

14/01/2018

মোল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “আল মাওরিদুর রাভী” কিতাবে ঈদে মিলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের দলীল
=================================================
মোল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার “আল মাওরিদুর রাভী” কিতাবে ঈদে মিলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের দলীল
বিশিষ্ট মুহাদ্দিছ হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি ইলমে হাদীছ শরীফ উনার ইলম হাছিলের জন্য পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদীনা শরীফ সব স্থানে ভ্রমন করেন। তিনি সারাজীবন অসংখ্য কিতাব রচনা করে মুসলিম জাহানের জন্য এক বিশাল নিয়ামত রেখে গিয়েছেন। উনার সে অসংখ্য কিতাবের মধ্যে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক গ্রন্থের নাম হচ্ছে “মাওরিদুর রাভী ফি মাওলিদিন নাবী”।
এ কিতাবে তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ তথা পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে দলীল পেশ করেছেন এবং সেই সাথে ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণ করেছেন যে, সারা পৃথিবীর সকল দেশে জাঁকজমকের সাথে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন হতো। উক্ত কিতাব থেকে সে ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলো উল্লেখ করা হলো-
(১) সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার অধিবাসী উনাদের মীলাদ শরীফ মাহফিল : আমাদের মাশায়েখ উনাদের ইমাম শায়খ শামসুদ্দিন মুহম্মদ সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে মীলাদ শরীফ অনুষ্ঠানে যারা কয়েক বছর উপস্থিত ছিলেন, আমি তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। আমরা মীলাদ শরীফ অনুষ্ঠানের বরকত অনুভব করছিলাম যা নির্দিষ্ট কয়েক ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়।
এ অনুষ্ঠানের মধ্যেও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মুবারক স্থান উনার যিয়ারত আমার কয়েকবার নসীব হয়েছে। আল্লামা সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন, সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার অধিবাসী উনারা বরকত ও কল্যাণের খনি। উনারা উক্ত প্রসিদ্ধ পবিত্র স্থানের প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করেন, যেটা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মুবারক স্থান। এটা সাউকুল লাইলে অবস্থিত। যাতে উনার বরকতে প্রত্যেকের উদ্দেশ্য সাধিত হয়। এসব লোক পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিন আরো অনেক কিছুর আয়োজন করে থাকেন। এ আয়োজনে আবেদ, নেককার, পরহিজগার, দানবীর কেউই বাদ যান না। বিশেষ করে হিজাজের আমীর বিনা সংকোচে সানন্দে অংশগ্রহণ করেন এবং উনার আগমন উপলক্ষ্যে ওই জায়গায় এক বিশেষ নিশান তৈরী করা হতো। পরবর্তীতে এটি পবিত্র মক্কা শরীফ উনার বিচারক ও বিশিষ্ট আলিম আল-বুরহানিশ শাফেয়ী তিনি পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে আগত যিয়ারতকারী খাদিম ও সমবেত লোকদের খানা ও মিষ্টি খাওয়ানো পছন্দনীয় কাজ বলে রায় দিয়েছেন।
(২) সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার অধিবাসী উনাদের মীলাদ শরীফ মাহফিল : সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার অধিবাসী উনারাও মীলাদ শরীফ মাহফিলের আয়োজন করতেন এবং অনুরূপ অনুষ্ঠানাদি পালন করতেন। বাদশাহ মোজাফফর শাহ আরিফ অধিক আগ্রহী এবং সীমাহীন আয়োজনকারী ছিলেন।
হযরত ইমাম আবূ শামা রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অন্যতম উস্তাদ এবং বিশেষ বুযূর্গ ছিলেন, স্বীয় কিতাব “আল বায়াছ আলাল কদয়ে ওয়াল হাওয়াদিছ” উনার মধ্যে বাদশাহের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন এরকম ভালো কাজ সমূহ উনার খুবই পছন্দ এবং তিনি এ ধরনের অনুষ্ঠান পালনকারীদের উৎসাহ প্রদান ও প্রশংসা করতেন। ইমাম জাজরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো সংযোজন করে বলেন, এসব অনুষ্ঠানাদী পালন করার দ্বারা শয়তানকে নাজেহাল এবং ঈমানদারদের উৎসাহ উদ্দীপনা দানই উদ্দেশ্যে হওয়া চাই।
(৩) মিসর ও সিরিয়াবাসীর মীলাদ শরীফ মাহফিল : পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিলে সবচাইতে অগ্রগামী ছিলেন মিসর ও সিরিয়াবাসী। মিসরের সুলতান প্রতি বছর পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের রাত্রে মীলাদ শরীফ মাহফিলের আয়োজনের অগ্রণী ভূমিকা রাখতেন।
ইমাম শামসুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন আমি ৭৮৫ হিজরীতে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রাতে সুলতান বরকুকের উদ্যোগে আলজবলুল আলীয়া নামক কেল্লায় আয়োজিত পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিলে হাজির হয়েছিলাম। ওখানে আমি যা কিছু দেখেছিলাম, তা আমাকে অবাক করেছে, অসীম তৃপ্তি দান করেছে। কোনোকিছুই আমার কাছে অস্বস্থিকর লাগেনি। সে পবিত্র রাতে বাদশাহর ভাষণ, উপস্থিত বক্তাগণের বক্তব্য, ক্বারীগণের তিলাওয়াতে কুরআন শরীফ এবং না’ত শরীফ পাঠকারীগণের না’ত শরীফ আমি সাথে সাথে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছি।
(৪) স্পেন ও পাশ্চাত্য দেশে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন : স্পেন ও পাশ্চাত্য শহরগুলোতে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রাতে রাজা বাদশাহগণ জুলুস বের করতেন। সেথায় বড় বড় ইমাম ও উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা অংশগ্রহণ করতেন। মাঝ পথে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক এসে উনাদের সাথে যোগ দিতেন এবং কাফিরদের সামনে সত্য দাওয়াত তুলে ধরতেন। আমি যতটুকু জানি, রোমবাসীগণও কোন অংশে পিছিয়ে ছিলো না। তারাও অন্যান্য বাদশাহগণের মতো পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাহফিলের আয়োজন করতেন।
(৫) অনারব দেশে তথা ভারতবর্ষে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম : আরব ছাড়াও অনারবে মীলাদ শরীফ মাহফিলের প্রচলন ছিলো মহাসমারোহে। যেমন- পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে এবং মহিমান্বিত দিনে এসকল এলাকার অধিবাসীদের ‘মীলাদ শরীফ মাহফিল’ নামে জাঁকজমক পূর্ণ মজলিসের আয়োজন হতো, গরীব মিসকিনদের মধ্যকার বিশেষ ও সাধারণ সকলের জন্য বহু ধরণের খাবারের বন্দোবস্ত করা হতো।
তাতে ধারাবাহিক তিলাওয়াত, বহু প্রকার খতম এবং উচ্চাঙ্গ ভাষায় প্রশংসা সম্বলিত কবিতা আবৃত্তি হতো। বহু বরকতময় ও কল্যাণময় আমলের সমাহার ঘটতো বৈধ পন্থায়, আনন্দ প্রকাশ করা হতো, বহু বিখ্যাত আলিমগণও তাতে অংশগ্রহণ করতেন। মুঘল বাদশাহ হুমায়ুনও বিশাল জাকজমকের সাথে প্রতিবছর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাহফিলের আয়োজন করতেন।
(আল মাওরিদুর রাভী ফি মাওলিদিন নাবিয়্যি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। লেখক– ইমামুল মুহাদ্দেসীন হযরত মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।)

12/01/2018

শরীয়তের দৃষ্টিতে মীলাদ-ক্বিয়াম …. (২য় পর্ব)
(ধারাবাহিক)
এখানে উল্লেখ্য যে, মীলাদ শরীফের এরূপ পদ্ধতি নির্ধারণ করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যাতে করে মানুষ অল্প সময়ে নিয়মতান্ত্রিক বা শরীয়ত সম্মতভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আ’লামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সানা-ছীফত, জন্মবৃত্তান্ত আলোচনা করতে পারে এবং উনার প্রতি ছালাত-সালাম পাঠ করতে পারে | যেমন বর্তমানে যে পদ্ধতিতে মাদ্রাসায় ইলমে দ্বীন শিক্ষা দেয়া হয়, তা “খাইরুল কুরুনের” অনেক পরে উদ্ভাবন করা হয়েছে এ জন্য যে, যাতে করে মানুষ অল্প সময়ে সহজভাবে ইলমে দ্বীন শিক্ষা করতে পারে | এটা যদি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফসম্মত হতে পারে, তবে যার সানা-ছীফত করা ও যার প্রতি ছালাত-সালাম পাঠ করা মহান আল্লাহ্ পাক-এর নির্দেশ ও উনার সন্তুষ্টি পাওয়ার কারণ, উনার সানা-ছীফত করার ও উনার প্রতি ছালাত-সালাম পাঠ করার মীলাদ শরীফের উক্ত পদ্ধতি কেন পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র হাদীছ শরীফসম্মত হবেনা? অবশ্যই এটা পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র হাদীস শরীফসম্মত |
কারণ কারো পক্ষেই প্রমাণ করা সম্ভব হবেনা যে, মীলাদ শরীফে যে সকল আমল রয়েছে, তার একটিও শরীয়ত বিরোধী | বরং তার প্রত্যেকটাই শরীয়ত তথা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস সম্মত | যেমন- “মীলাদ শরীফের প্রথমেই পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা হয় | কেননা, কোন নেক কাজ পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু করা রহমত, বরকত তথা মহান আল্লাহ্ পাক উনার সন্তুষ্টি লাভের কারণ |”
অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আ’লামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর ছালাত পাঠ করা হয় | কারণ ছালাত পাঠ করা মহান আল্লাহ্ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই নির্দেশ | এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, মীলাদ শরীফে যেরূপ সম্মিলিতভাবে ছালাত পাঠ করা হয়, তার প্রমাণ পবিত্র কুরআন শরীফ অথবা পবিত্র হাদীছ শরীফে রয়েছে কি? জবাব হলো- অবশ্যই হাদীছ শরীফে তার প্রমাণ রয়েছে |
যেমন- পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
قال النبى صلى الله عليه وسلم-اذا جلس قوم
يصلون على حفت بهم الملنكة من لدن اقدامهم الى
عنان السماءبايديهم قر اطيس الفضة واقلام الذهب
يكتبون الصلات على النبى صلى الله عليه وسلم
ويقولون زيدوا زادكم الله.
অর্থঃ- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আ’লামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যখন কোন সম্প্রদায় একত্রিত হয়ে বসে এবং সম্মিলিতভাবে আমার প্রতি ছালাত পাঠ করে, তখন ফেরেশতাগণ তাঁদের পা থেকে আকাশ পর্যন্ত বেষ্টন করে নেন | তাঁদের হাতে থাকে রূপার কাগজ ও সোনার কলম | যার দ্বারা তাঁরা ছালাতের সাওয়াব লিখতে থাকেন এবং বলেন, তোমরা আরো অধিক মাত্রায় ছালাত পাঠ কর, আল্লাহ্ পাক তোমাদের উন্নত করবেন |” (দুররুল মুনাজ্জাম, কাশফুল গুম্মাহ্)
এ প্রসঙ্গে অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن ابن عمر رضى الله عنهما. قال النبى صلى
الله عليه وسلم زينوا مجالسكم بالصلوة على
فان صلاتكم على نورلكم يوم القيامة.
(ديلمى مسند الفردوس.
অর্থঃ- হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আ’লামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের মজলিসকে আমার প্রতি ছালাত পাঠের দ্বারা সুসজ্জিত কর | কারণ তোমাদের ছালাত পাঠ ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের জন্যে নূরে পরিণত হবে |” (পবিত্র দায়লমী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফের উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, সম্মিলিতভাবে মজলিসে ছালাত পাঠ করা অত্যন্ত ফযীলতের কাজ | শরীয়ত সম্মত তো অবশ্যই | তাই মীলাদ শরীফের মধ্যে সম্মিলিতভাবে ছালাত পাঠ করা হয় |
সাথে সাথে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আ’লামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে শরীয়তসম্মত সুন্দর সুন্দর কাছীদা পাঠ করা হয় | কারণ স্বয়ং হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আ’লামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে কাছীদা পাঠ করতেন | যেমন বিশিষ্ট সাহাবী বিখ্যাত কবি, হযরত হাসসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু রচিত কাছীদা পাঠ করে শুনানোর জন্য স্বয়ং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ মিম্বর মুবারকের পাশে উনার জন্যে আরেকটি মিম্বর স্থাপন করে দিয়েছিলেন, যার উপর দাঁড়িয়ে হযরত হাসসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কাছীদাসমূহ পাঠ করতেন |
কাজেই মীলাদ শরীফে যে কাছীদা পাঠ করা হয়, তা সুন্নতে সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু | শরীয়তসম্মত তো বটেই | অতঃপর “তাওয়াল্লুদ শরীফ” পাঠ করা হয় | কারণ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আ’লামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার “তাওয়াল্লুদ বা জন্ম বৃত্তান্ত ও জীবনী মুবারক আলোচনা করা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফেরই নির্দেশ, যেমন- পবিত্র কুরআন শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اذكروا نعمة الله عليكم.
অর্থঃ- “তোমাদেরকে আল্লাহ্ পাক-এর যে নিয়ামত দেয়া হয়েছে, তার আলোচনা কর | অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আ’লামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই হচ্ছেন সে উল্লিখিত নিয়ামত। তোমরা উনার আলোচনা কর |” (সূরা ইমরান/১০৩)
মূলতঃ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আ’লামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাওয়াল্লুদ শরীফ বা জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করা শরীয়ত সম্মত তো অবশ্যই, সাথে সাথে অফুরন্ত রহমত, বরকত ও সন্তুষ্টি লাভের কারণ | তাই মীলাদ শরীফে “তাওয়াল্লুদ শরীফ” পাঠ করা হয় |
অতঃপর ক্বিয়াম বা দাঁড়িয়ে সালাম পেশ করা হয় | কারণ অনুসরণীয় সকল ইমাম-মুজতাহিদ, মুহাক্কিক, মুদাক্কিক ও আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিগনের সকলেই এ ব্যাপারে একমত যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আ’লামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি দাঁড়িয়ে সালাম পাঠ করা আদবের অন্তর্ভূক্ত | তাই সোনার মদীনায় রওজা শরীফ যিয়ারতের সময় দাঁড়িয়ে সালাম পেশ করতে হয় |
এ প্রসঙ্গে সকল দেওবন্দী ও বাংলাদেশর কওমীদের অন্যতম গর্ব আশরাফ আলী থানবীর খলীফা, শামছুল হক ফরিদপুরী তার " তাছাউফ তত্ত্ব" কিতাবে মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ এর ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে লিখেছে ---
" ক্বিয়াম জিনিসটা আসলে ফিকাহের অন্তর্ভুক্ত নহে - ইহা তাছাউফের অন্তর্ভুক্ত | অর্থাৎ মুহব্বত বাড়ানোর উদ্দেশ্যে হযরত রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তারিফের কাসীদা পড়া হয় তাহা দ্বারা মুহব্বত বাড়ে এবং লোকজন মুহব্বতের জোশে খাড়া হইয়া যায় | মুহব্বতের জোশে খাড়া হইলে তাহাকে বিদয়াত বলা যায় না | তাহা ছাড়া হযরত নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সালাম করার সময় বসিয়া বসিয়া সালাম করা শরীফ তবিয়তের লোকের কাছে বড়ই বেয়াদবী লাগে |"
তাছাড়া শরীয়তের কোথাও দাঁড়িয়ে সালাম পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে, এরূপ একটি প্রমাণও কেউ পেশ করতে পারবেনা | তাই মীলাদ শরীফে ক্বিয়াম করা হয় অর্থাৎ দাঁড়িয়ে সালাম পাঠ করা হয় |
অতঃপর সব শেষে মুনাজাত করা হয় | কারণ, পবিত্র হাদীছ শরীফে রয়েছে,
الدعء مخ العبادة.
অর্থাৎ “দু’য়া বা মুনাজাত হচ্ছে, ইবাদতের মূল বা মগজ |” তাই মীলাদ শরীফ শেষে মুনাজাত করা হয় |
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, মীলাদ শরীফ, মীলাদ শরীফের পদ্ধতি এবং মীলাদ শরীফে যা যা কর হয়, সবই পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফসম্মত |
ইন্ শা আল্লাহ্ চলবে ……

10/01/2018

সকল দেওবন্দী ওহাবীদের প্রধান মুরুব্বীদের ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের পক্ষে ফতোয়া

==================================================

দেওবন্দী, তাবলীগি দের চাইতে বড় ভন্ড মুনাফিক দুনিয়ায় আছে কিনা সন্দেহ আছে। আমারা যে আমল গুলো করলে তারা শিরক- বিদয়াতের গরম ফতোয়া দেয়, সে কাজগুলো তাদের মুরুব্বীরা করলো সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকে।
সকল নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আশেকগনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, উনারা মীলাদ শরীফ এবং ক্বিয়াম শরীফ করে থাকেন। অথচ দেওবন্দী –তাবলীগি- কওমীখারেজীরাএইটাকেসরাসরিবিদয়াত/ কুফরী/ শিরিকফতোয়াদিয়েথাকে।
অথচ, এই দেওবন্দী তাবলীগি দের মুরুব্বীরা এই মীলাদ শরীফ এবং ক্বিয়াম শরীফকে জায়েজ বলেই ফতোয়া প্রদান করেছে এবং পালনও করেছে ।
আসুন তাদের কিতাব থেকেই দলীল প্রদান করি —
আশরাফ আলী থানবী , রশিদ আহমদ গাঙ্গুহী, সহ সকল উলামায়ে দেওবন্দীদের পীর শায়েখে আরব ওয়াল আযম ,হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কিতাবে বর্ননা করেন –>
مولودشريفكوذريعهبركلتسمجهكرهرسالمنعقدكرتاهوناورقيامكےوقتبےحدلطفولذتپاتاهوی
অর্থ- মীলাদ শরীফের মাহফিলকে বরকত লাভের উসিলা মনে করে আমি প্রতি বছর মীলাদ শরীফ এর মজলিস করি এবং মীলাদ মাহফিলে ক্বিয়াম শরীফ করার সময় আমি অশেষ আনন্দ ও স্বাদ উপভোগ করি।”
দলীল —
√ফয়সালায়ে হাফতে মাসায়লা পৃষ্ঠা ৫
হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার অন্য কিতাবে বলেন —
”আমাদের আলেমগন (দেওবন্দী) মীলাদ শরীফের বিষয়ে খুবই বিরোধ করছে। তবু আমি ক্বিয়াম শরীফ জায়েজ পন্থি আলেমগনের পক্ষেই গেলাম। যখন ক্বিয়াম শরীফ জায়েজ হওয়ার দলীল মওজুদ আছে , তখন কেন এতো বাড়াবড়ি করা হচ্ছে ? আমাদের জন্য তো মক্কা শরীফ মদীনা শরীফের অনুকরনই যথেষ্ট।অবশ্য ক্বিয়ামের সময় জন্মের এতেকাদ না রাখা চাই। যদি ( মাহফিলে) হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের বিষয়ে বিশ্বাস করা হয় , এতে কোন অসুবিধা নাই। কেননা আলমে খালক এবং কালের সাথে সম্পৃক্ত , এবং আলমে আমর উভয়বিধ অবস্থা থেকে পবিত্র । সূতরাং হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মীলাদ মাহফিলে আগমন করা উনার পবিত্র জাত মুবরকের জন্য অসম্ভব নয় !”
দলীল–
√শামায়েলে এমদাদীয়া ৮ পৃষ্ঠা
দেওবন্দী সর্বোচ্চ গুরু আশরাফ আলী থানবী তার কিতাবে লিখেছে —
ولاحتفالبذكرالودةانكانخالياحنالبدعاتالمروجةجاءزبلمندوبكساءراذكارهصلياللهعليهوسلم–والقيمعندذكرولادتهالشريفةحاشااللهانيكونكفرا
অর্থ–”হুজুরপাকছল্লাল্লাহুআলাইহিওয়াসাল্লামউনার বিলাদত শরীফের বর্ননা করার জন্য মাহফিল করা জায়েজ বরং মুস্তাহাব , যখন উহা (হিন্দুস্থনের) প্রচলিত বিদয়াত হতে পবিত্র হবে এবং ( মীলাদ শরীফে) তাওয়াল্লুদ শরীফ পাঠ করার সময় ক্বিয়ম করা কখনোই কুফরী নয় !”
দলীল —
√ইমদাদুল ফতোয়া ৪ র্থ খন্ড ৩২০ পৃষ্ঠা
আশরাফ আলী থানবী অপর এক কিতাবে লিখেছে —-
”ঐ সকল কার্যাবলী ( অর্থাৎ শিরনী, ক্বিয়াম ইত্যাদি) প্রকৃত পক্ষে মুবাহ কাজ সমূহের অন্তর্ভুক্ত। তাতে কোন ক্ষতি নেই এবং সেজন্য প্রকৃত মীলাদ শরীফ এর ব্যাপারে কোন প্রকার নিষেধ আসতে পারে না।”
দলীল–
√তরীকায়ে মীলাদ ৮ পৃষ্ঠা ।
দেওবন্দী ইমাম মাওলানা খলীল আহমদ সাহারানপুরী রচিত ”আলমুহান্নাদআ’লালমুফান্নাদ” কিতাবে পবিত্র মক্কা শরীফ এবং মদীনা শরীফ এর আলেমদের মীলাদ শরীফ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাব দেওবন্দী খলীল আহমদ সাহারানপুরী লিখেন-
”রসূলে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুবারক বেলাদতের আলোচনা বা মীলাদ শরীফ পাঠ এমন কি তাঁর পাদুকা সংশ্লিষ্ট ধূলি অথবা তাঁর বাহন গাধাটির প্রশ্রাব-পায়খানা মুবারক আলোচনাকে আমরা কেন কোন সাধারণ মুসলমান বেদআতে মুহররমা বা হারাম বলতে পারে না। না আমরা কখনো বলিনি বলিও না।
ঐ অবস্থা যার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক হযরত রসূলে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে রয়েছে তার আলোচনা আমাদের মতে অধিকতর পছন্দনীয় ও উন্নতমানের মুস্তাহাব।”
দলীল-
√আল মহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ ২১ তম প্রশ্নের জবাব।
লেখক- মাওলানা খলীল আহমদ সাহারানপুরী দেওবন্দী।
প্রকাশনা- ইত্তেহাদ বুক ডিপো, দেওবন্দ (ইউ পি)
খলীল আহমদ সাহারানপুরী এই বইতে লিখেছে এটাই দেওবন্দী আকাবিরদের আক্বীদা। এর বিপরীত আক্বীদা পোষনকারীরা দেওবন্দী গ্রুপের নয়।
সকল দেওবন্দী ও বাংলাদেশর কওমীদের অন্যতম গর্ব আশরাফ আলী থানবীর খলীফা , শামছুল হক ফরিদপুরী তার ”তাছাউফতত্ত্ব”কিতাবেমীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ এর ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে লিখে —
”ক্বিয়াম জিনিসটা আসলে ফিকাহের অন্তর্ভুক্ত নাহে –ইহা তাছাউফের অন্তর্ভুক্ত।অর্থাৎমুহব্বত বাড়ানোর উদ্দেশ্যে হযরত রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তারিফের কাসীদা পড়া হয় তাহা দ্বারা মুহব্বত বাড়ে এবং লোকজন মুহব্বতের জোশে খাড়া হইয়া যায় । মুহব্বতের জোশে খাড়া হইলে তাহাকে বিদয়াত বলা যায় না। তাহা ছাড়া হযরত নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সালাম করার সময় বসিয়া বসিয়া সালাম করা শরীফ তবিয়তের লোকের কাছে বড়ই বেয়াদবী লাগে।”
দলীল—
√তাছাউফ তত্ত্ব ৪১ পৃষ্ঠা
শুধু তাই নয়, দেওবন্দী সিলসিলার প্রতিষ্ঠিাতা সহ সকল দেওবন্দীদের পীর সাহেব হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার নিজের ত্বরীকা সম্পর্কে সকল অনুসারি দের মধ্যে কিছু উপদেশ লিখিত আকারে রেখে গিয়েছিলেন ! আসুন দেখা যাক উপদেশগুলা কি ছিলো –>
★গৌরব করবে না।
★নিজেকে বড় মনেকরবে না।
★খায়ের ও বরকতের জন্য মীলাদ মাহফিলের আঞ্জাম করবে এবং ক্বিয়াম করবে।
★পীর আওলিয়া গনের ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে যোগদান করবে!
★ফাতেহাখানীতে যোগদান করবে।
★মাশায়েখ ও পীর আওলিয়াগনের মাযার শরীফ যিয়ারত করবে।
★অবসর সময় তাঁদের মাযার শরীফের পার্শ্বে এসে রূহানীয়ত সহ মুতাওজ্জুহ হবে এবং স্বীয় মুর্শিদের সুরতে তাদের ধ্যান করবে ও ফয়েজ হাসিলের চেষ্টা করবে। কারন তাঁরা আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্থলাভিষিক্ত বলে গন্য!
★এগুলোই আমার ত্বরীকা !
আর এসবই বরকতময় কর্ম। আমার লেখা “ফায়সালায়ে হাফতে মাসায়লা” কিতাবে এ সকল বিষয় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে !””
দলীল–
√যিয়াউল কুলুব- কতিপয় বিশেষ উপদেশ পরিচ্ছেদ !
লেখক- হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজির
মক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি !
মুসলমান ভাইগন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে-দেওবন্দী সিলসিলায় কয়জন এই উপদেশ মান্যকরে ?
দেওবন্দী দের কাছে এই আমাল গুলাতো শিরিক আর বিদয়াত !!
তবে তারা কি উনাকে মুশরিক/বিদয়াতি বলবে ?
পীরের ত্বরীকা অস্বীকার করে কি তারা পীরের সিলসিলায় থাকতে পারে ?
জবাব পেলে ভালো হতো।
এবার একটু চিন্তা করুন দেওবন্দীরা কত নিকৃষ্ট। নিজেদের সিলসিলার সবাই মীলাদ -ক্বিয়ামে পক্ষে ফতোয়া দিয়ে গেছে সেটা দেখে না। আমরা সুন্নী মুসলমানরা মীলাদ ক্বিয়াম করলে সেটা তাদের কাছে শিরক-বিদায়াত হয়ে যায়। যদি আমাদেরকে শিরকি- বিদয়াতি ফতোয়া দিতে চায় তাহলে সর্বপ্রথম যেন নিজেদের মুরুব্বী দের মুশরিক আর বেদাতী ফতোয়া দিয়ে নেয় । নচেত আমাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার অধিকার তাদের নাই।

05/01/2018

(৭)
কতক্ষণ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতে হবে?

এই বিষয়ে আল্লাহপাক বলেন-” وتعزروه وتوقروه وتسبحوه بكرة واصيلا অর্থাৎ সন্ধ্যা থেকে সকাল,সকাল থেকে সন্ধ্যা।” প্রতিটা ক্ষণে ক্ষণে এবং অনন্তকাল ধরে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক,সম্মান মুবারক, ছানা-ছিফত ও প্রশংসা মুবারক করো।সুবহানাল্লাহ।
একটা মূহুর্তও উনার রহমত থেকে খালি না। আমরা দুনিয়াতে তো করবই। এখন আমাদের ইখতিয়ার আছে।
ফাল ইয়াফরাহু পালন করতে হবে- ইখতিয়ারে ও গইরে ইখতিয়ারে। আমরা ইখতিয়ার ও গইরে ইখতিয়ার সর্বসময়ই ফাল ইয়াফরাহু করব।

04/01/2018

(৬২)
মিলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ সম্পর্কে মক্কা শরীফ-মদিনা শরীফ-এর মুফতীগণের প্রাচিন ফতোয়ার কালেকশন

بسم الله الرحمن الرحيم
আল্লামা আব্দুর রহীম তুর্কমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ১২৮৮ হিজরী সনে মক্কা ও মদিনা এবং জেদ্দাহ ও হাদিদার উলামায়ে কেরামের দ্বারা মিলাদ ও কিয়াম সম্পর্কে একটি ফতোয়া লিখিয়ে হিন্দুস্তানে নিয়ে আসেন এবং নিজ গ্রন্থ ” রাওয়াতুন নাঈম” -এর শেষাংশে ছেপে প্রকাশ করেন ।
প্রশ্নঃ আল্লাহ তায়ালা অসীম রহমত আপনার উপর বর্ষিত হোক । নিম্নে বর্নিত বিষয়ে আপনার অভিমত ও ফতোয়া কি ?
” মিলাদ শরীফ পাঠ করা – বিশেষ করে নবী করিম সাল্লাল্লাহয় আলাইহে ওয়াসাল্লামের পবিত্র জন্ম বৃত্তান্ত পাঠকালে কিয়াম করে সম্মান প্রদর্শন করা , মিলাদের জন্য দিন তারিখ নিদিষ্ট করা , মিলাদ মজলিস কে সাজানো , আতর গোলাপ ও খুশবু ব্যাভার করা। কুরআন শরীফ হতে সুরা ক্বেরাত পাঠ করা এবং মুসলমানদের জন্য খানাপিনা (তাবারুক) তৈরি করা – এই ভাবে অনুষ্ঠান করা জায়েয কিনা এবং অনুষ্ঠানকারীগন এতো সাওয়াবের অধিকারী হবেন কিনা ? বর্ণনা করে আল্লাহর পক্ষ হতে পুরস্কৃত হোন ।
– আব্দুর রহীম তুর্কমানী – হিন্দুস্তান ,১২৮৮ হিজরি ।
মক্কা শরীফের ফতোয়াদাতাগনের জবাব ও ফতোয়া ।
অনুবাদঃ ” জনে নিন – উপরে বর্নিত নিয়মে (কিয়াম) মিলাদ শরীফের অনুষ্ঠান করা মোস্তাহসান ও মুস্তাহাব । আল্লাহ ও সমস্ত মুসলমানের নিকট ইহা উত্তম । ইহার অস্বীকারকারীগন বিদআতপন্থী ও গোমরাহ্‌ । হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর হাদিস আছে –
” মুসলমান যে কাজকে পছন্দনীয় বলে বিবেচনা করেন -তা আল্লাহর নিকট ও পছন্দনীয় “।
( মুসলিম )।
এখানে মুসলমান বলতে ঐ সমস্ত মুসলমানকে বুঝায়-যারা কামেল মুসলমান । যেমন পরিপুর্ন আমলকারী উলামা , বিশেষ করে আরবেরদেশ , মিশর , সিরিয়া ,তুরস্ক ও স্পেন-ইত্যাদি দেশের উলামাগন সলফে সালেহীনদের যুগ থেকে অদ্যবধি (১২৮৮ হিঃ)
সকলেই মিলাদ কেয়াম কে মুস্তাহসান, উত্তম ও পছন্দনীয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন । সর্বযুগের উলামাগনের স্বীকৃতির কারনে মিলাদও কিয়ামের বিষয় বরহক ।
উহা গোমরাহী হতে পারে না । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন । ” আমার উম্মত গোমরাহ বিষয়ে একমত হতে পারে না ” ( মিশকাত শরীফ)
সুতরাং যারা মিলাদ ও কিয়াম কে অস্বিকার করবে-শরিয়তের বিচারকের উপর তাদের যথাযথ শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব ।(ফতুয়া সমাপ্ত )
মক্কা শরিফের ফতোয়াদাতা মুফতীগনের স্বাক্ষর ও সিলমোহর
১। আল্লামা আব্দুর রহমান সিরাজ ।
২।আল্লামা আহনদ দাহলান ।
৩।আল্লামা হাসান ।
৪। আল্লামা আব্দুর রহমান জামাল ।
৫। আল্লামা হাসান তৈয়ব।
৬।আল্লামা সোলায়মান ঈছা ।
৭। আল্লামা আহমদ দাগেস্তানী ।
৮। আল্লামা আব্ডুল কাদের সামস ।
৯। আল্লামা আব্দুর রহমান আফেন্দী ।
১০। আল্লামা আব্দুল কাদের সানখিনী।
১১। আল্লামা মুহাম্মদ শারকী ।
১২ । আল্লামা আব্দুল কাদের খোকীর ।
১৩। আল্লামা ইবরাহিম আলফিতান।
১৪। আল্লামা মুহাম্মদ জারুল্লাহ ।
১৫। আল্লামা আব্দুল মুত্তালিব ।
১৬। আললামা কামাল আহমেদ ।
১৭। আল্লামা মুহাম্মাদ ছায়ীদ আল-আদাবি ।
১৮। আল্লামা আলি জাওহাদ ।
১৯। আল্লামা সৈয়দ আব্দুল্লাহ কোশাক।
২০। আল্লামা হোসাইন আরব।
২১ । আল্লামা ইব্রাহিম নওমুছি।
২২। আল্লামা আহমদ আমিন।
২৩। আল্লামা শেখ ফারূক ।
২৪। আল্লামা আব্দুর রহমান আযমী ।
২৫। আল্লামা আব্দুল্লাহ মাশশাত ।
২৬। আল্লামা আব্দুল্লাহ কুম্মাশী।
২৮। আল্লামা মুহাম্মদ বা-বাসীল।
২৯। আল্লামা মুহাম্মদ সিয়ুনী।
৩০। আল্লামা মুহাম্মদ সালেহ জাওয়ারী।
৩১। আল্লামা আব্দুল্লাহ জাওয়ারী।
৩২। আল্লামা মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ ।
৩৩। আল্লামা আহমদ আল মিনহিরাভী ।
৩৪ । আল্লামা সোলাইমান উকবা ।
৩৫। আল্লামা সৈয়দ শাত্বী ওমর ।
৩৬। আল্লামা আব্দুল হামিদ দাগেস্তানী ।
৩৭। আল্লামা মুস্তফা আফীফী ।
৩৮। আল্লামা মানসুর।
৩৯ । আল্লামা মিনশাবী ।
৪০। আল্লামা মুহাম্মদ রাযী । (১২৮৮ হিজরী) ।

03/01/2018

ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি ঈদ হতো এবং সকল ঈদের সেরা ঈদ হতো, তবে এখানে ছলাত থাকতো, খুতবা থাকতো। ছলাত ডবল হতো, খুতবা ডবল হতো। কিন্তু এখানে ছলাত, খুতবা নেই।
পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু সাইয়্যিদুল আইয়াদ, অর্র্থাৎ সকল ঈদের সেরা ঈদ সেহেতু এ ঈদে এমন ছলাত রয়েছে, সে ছলাত শুধু ডবলই নয় বরং দায়িমী ছলাত। এ ছলাত শুরু হয়েছে সৃষ্টির শুরু থেকে এবং এটা জারী থাকবে অনন্তকাল ধরে। কারণ এ ছলাত স্বয়ং আল্লাহ পাক পড়েন। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻣﻼﺋﻜﺘﻪ ﻳﺼﻠﻮﻥ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﺍﻣﻨﻮﺍ ﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻤﻮﺍ ﺗﺴﻠﻴﻤﺎ .
অর্র্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক এবং উনার ফেরেশতারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার শানে ছলাত পড়েন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও উনার শানে ছলাত পড়ো এবং সেই সাথে যথাযথ সম্মানে সালামও পেশ করো।” (সূরা আহযাব/৫৬)
উক্ত আয়াত শরীফ-এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক মু’মিন-মুসলমানদের জন্য এ ছলাত পড়া ফরয-ওয়াজিব করে দিয়েছেন। এমনকি এ ছলাত অন্য ইবাদতসমূহের মধ্যেও পড়ার হুকুম রয়েছে। বিশেষ করে দোয়া বা মুনাজাতকে বলা হয়েছে ইবাদতের মগজ।
যেমন হাদীছ শরীফ-এর ইরশাদ হয়েছে-
ﻋﻦ ﺍﻧﺲ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻝ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﻣﺦ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺓ .
অর্র্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, দোয়া হলো ইবাদতের মগজ বা সারবস্তু।” (তিরমিযী, মিশকাত)
আর সেই দোয়া বা মুনাজাত ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত উনার শানে ছলাত পড়া না হবে। সুবহানাল্লাহ!
যেমন হাদীছ শরীফ-এর বর্ণিত রয়েছে-
ﻋﻦ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﻣﻮﻗﻮﻑ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻭﺍﻻﺭﺽ ﻻﻳﺼﻌﺪ ﻣﻨﻬﺎ ﺷﻰْﺀ ﺣﺘﻰ ﺗﺼﻠﻰ ﻋﻠﻰ ﻧﺒﻴﻚ .
অর্র্থ: “হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই দোয়া আসমান ও যমীনের মাঝখানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ছলাত বা দুরূদ শরীফ পাঠ না করবে, ততক্ষণ তোমার কোন দোয়াই আল্লাহ পাক-এর নিকট পৌঁছবেনা।” (তিরমিযী, মিশকাত)
“তাইসীরুল উছূল” কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-
ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﻣﻮﻗﻮﻑ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻭﺍﻻﺭﺽ ﻻ ﻳﺼﻌﺪ ﺣﺘﻰ ﻳﺼﻠﻰ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ . ﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﺍﻭﻝ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﻭﺍﻭﺳﻄﻪ ﻭﺍﺧﺮﻩ .
অর্র্থ: “দোয়া আসমান ও যমীনের মধ্যখানে ঝুলন্ত থাকে। যতোক্ষণ পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করা না হয়, ততোক্ষণ পর্যন্ত দোয়া উপরে উঠে না বা কবুল হয় না। সুতরাং, তোমরা দোয়ার শুরুতে, মধ্যখানে ও শেষে আমার প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ করো।”
অতএব, এ ছলাতের গুরুত্ব কত বেশি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একইভাবে এ ঈদে এতো বিশাল ও এতো ব্যাপক খুতবা রয়েছে, যে খুতবা (হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার আলোচনা, প্রশংসা, মর্যাদা-মর্তবা, ফযীলত, ছানা-ছিফত) ক্বিয়ামত পর্যন্ত বর্ণনা করা হলেও তা শেষ হবে না। সুবহানাল্লাহ! যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক নিজেই ইরশাদ করেন-
ﻭﺭﻓﻌﻨﺎ ﻟﻚ ﺫﻛﺮﻙ .
অর্র্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার আলোচনা বা খুতবাকে বুলন্দ করেছি।” (সূরা আলাম নাশরাহ-৪)। সুবহানাল্লাহ!
এবং আল্লাহ পাক বান্দাদেরকে আদেশ করেছেন যে-
ﺍﻧﺎ ﺍﺭﺳﻠﻨﻚ ﺷﺎﻫﺪﺍ ﻭﻣﺒﺸﺮﺍ ﻭﻧﺬﻳﺮﺍ . ﻟﺘﺆﻣﻨﻮﺍ ﺑﺎﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ﻭﺗﻌﺰﺭﻭﻩ ﻭﺗﻮﻗﺮﻭﻩ ﻭﺗﺴﺒﺤﻮﻩ ﺑﻜﺮﺓ ﻭﺍﺻﻴﻼ .
অর্র্থ: “তোমরা হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার খিদমত করো, উনাকে সম্মান করো এবং সকাল-সন্ধ্যা, অর্র্থাৎ সদাসর্বদা উনার প্রশংসা, ছানা-ছিফত, মর্যাদা-মর্তবা বর্ণনা করো। এক কথায় উনার শানে খুতবা প্রদান করো।” (সূরা ফাতহ- ৮, ৯) সুবহানাল্লাহ!
স্মরণীয় যে, সব ঈদের হুকুম এক রকম নয়। যেমন ঈদুল ফিতরের বিশেষ আমল হলো ঈদের নামাযের পূর্বে ছদকাতুল ফিতর আদায় করা। আর ঈদুল আযহার বিশেষ আমল হলো ঈদের নামাযের পরে পশু কুরবানী করা। যার প্রত্যেকটি ওয়াজিব। এ দু’ঈদে কিন্তু রোযা রাখা হারাম। কিন্তু জুমুআর দিন ও আরাফা’র দিন মুসলমানদের এ দু’ ঈদে রোযা রাখা হারাম নয় বরং অশেষ ফযীলতের কারণ। আর এ দু’ ঈদের আমলের মধ্যে কুরবানী কিংবা ছদক্বাতুল ফিতর কোনটিই নেই। বরং জুমুআর দিনে যুহরের নামাযের পরিবর্তে কেবলমাত্র পুরুষ, বালিগ, সুস্থ, মুক্বীম ব্যক্তির জন্য মসজিদে গিয়ে খুতবাসহ নামায আদায় করতে হয়। আর মহিলাদের জন্য জুমুআর দিনে আলাদা কোন ছলাতও নেই, আবার খুতবাও নেই। আর আরাফার দিনে শুধুমাত্র যারা হজ্জে যেয়ে থাকেন, তাদের জন্য ৯ই যিলহজ্জ আরাফার ময়দানে অবস্থান করাটা ফরযের অন্তর্ভুক্ত। আর শুধুমাত্র হাজীগণের জন্য আরাফা’র ময়দানে যুহর ও আছর নামায পড়তে হয়। ঈদের দিন হওয়া সত্ত্বেও আরাফা’র ময়দানে আলাদা কোন ছলাত নেই। আর খুতবা শুধুমাত্র হাজীগণের জন্যই। হাজীগণ ব্যতীত দুনিয়ার কোন মুসলমানের জন্য, হোক সে পুরুষ অর্থবা মহিলা তার জন্য আরাফা’র দিন ঈদের দিন হওয়া সত্ত্বেও আলাদা কোন ছলাতও নেই, খুতবাও নেই। আর অন্যান্যদের জন্য আরাফা’র দিন রোযা রাখা খাছ সুন্নত এবং অশেষ ফযীলতের কারণ।
এছাড়া, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম- উনার প্রতি খাঞ্চা নাযিলের দিনকে যে ঈদের দিন সাব্যস্ত করা হয়েছে, সে ঈদ উপলক্ষে কোন খুতবা ও ছলাত (নামায) রয়েছে কি? বরং সে ঈদ উপলক্ষে কেবল খাদ্য গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ঈদ হলেই যে খুতবা ও ছলাত থাকতে হবে, তা নয়। বরং একেক ঈদের একেক হুকুম, যা আল্লাহ পাক- উনার কুদরতের অন্তর্ভুক্ত।
অতএব, সাইয়্যিদুল আইয়াদ পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে উলামায়ে ছূদের প্রদত্ত বক্তব্য চরম জিহালত ও মূর্খতা বলেই প্রমাণিত হলো।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Land Of River Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share