24/03/2013
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতাদের দাবিঃ ডেসটিনি সম্পাদকের মুক্তি চাই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দাও
দৈনিক ডেসটিনির সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাত মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, জব্দকৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া ও সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা। ২৬ মার্চের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে বলে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দৈনিক ডেসটিনির সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ ও জব্দকৃত ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়ার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এসব দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দৈনিক ডেসটিনি ইউনিট আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বিএফইউজে সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব ও দৈনিক ডেসটিনির প্রধান বার্তা সম্পাদক আলতাফ মাহমুদ, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব সাইফুল ইসলাম তালুকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, দৈনিক ডেসটিনির ইউনিট চিফ কাঞ্চন কুমার দে ও ডেপুটি ইউনিট চিফ মোস্তফা হোসেন চৌধুরী। এ সময় বিএফইউজে ও ডিইউজের বর্তমান ও সাবেক নেতা, দৈনিক ডেসটিনির বার্তা সম্পাদক খালেদ ফারুকী, প্রধান প্রতিবেদক অনিল সেন ও ডেসটিনির সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরতরা উপস্থিত হয়ে দৈনিক ডেসটিনির দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে ডেসটিনির সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিএফইউজের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ আইনগতভাবে এখনো প্রমাণিত হয়নি। কোনো ভুক্তভোগী এ প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা চেয়ে অভিযোগও করেননি। তবে কিসের ভিত্তিতে ডেসটিনির সমস্ত সম্পদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে? ডেসটিনির সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি দেশবাসীরও এটা জানার অধিকার রয়েছে।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ডেসটিনি গ্রুপ যদি অবৈধ কিছু করে থাকে তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু গ্রুপের অপ্রমাণিত ওই অপরাধের দায়ে দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকার অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হবে কেন? ডেসটিনি পত্রিকায় কর্মরতদের সমুদয় বকেয়া পরিশোধের দাবি জানান তিনি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিসের ভিত্তিতে ডেসটিনির সম্পাদককে গত কয়েক মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে কেউ জানে না। তার বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগই এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। তাই ডেসটিনির সম্পাদককে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে পত্রিকাটি চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ সাংবাদিক নির্যাতন ও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচারের দাবিতে ২৬ মার্চ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে যোগ দিতে দেশের সকল সাংবাদিকের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। দৈনিক ডেসটিনির সাংবাদিক-কর্মকতা-কর্মচারীদের দাবি পূরণ না হলে ২৬ মার্চের সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব ও দৈনিক ডেসটিরি প্রধান বার্তা সম্পাদক আলতাফ মাহমুদ বলেন, ডেসটিনির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গত সাত মাসে প্রমাণিত হয়নি। তাই অবিলম্বে সম্পাদককে মুক্তি দিতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে দুদক ডেসটিনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, যা এখনো প্রমাণ করতে পারেনি কোনো সংস্থা। অথচ এর ফলে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা না খেয়ে থাকব আর আপনারা সুখে থাকবেন তা হবে না। ২৬ মার্চের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ বলেন, ডেসটিনি পত্রিকার জব্দ অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়ে বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা করতে আগামী সপ্তাহে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তারপরও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে পত্রিকার সম্পাদকের মুক্তিসহ জব্দ অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার দাবিতে ডেসটিনি পত্রিকার সাংবাদিকরা যে কর্মসূচি দেবেন তাতে সম্মতি জানিয়ে আমরাও রাজপথে থাকব। এ বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাংবাদিকদের পাশে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এ সাংবাদিক নেতা।
বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এ মানববন্ধন থেকে পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে রফিকুল আমীনের মুক্তি দাবি করছি। অন্য নেতৃবৃন্দের মতো তিনিও অবিলম্বে দৈনিক ডেসটিনির সংবাদকর্মীদের দাবি পূরণে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
দৈনিক ডেসটিনির সংবাদকর্মীরা বলেন, আমরা দৈনিক ডেসটিনির সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাত মাস ধরে বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। দৈনিক ডেসটিনির সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। তিনি ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যানও। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আদালতে বিচারাধীন। ওই মামলায় তিনি বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন।
দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকা ডেসটিনি গ্রুপের কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন তার ব্যক্তিগত ও অর্জিত সম্পদ হতে এ পত্রিকায় অর্থায়ন করতেন বলে আমরা জানি। আটক থাকার পাশাপাশি মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবও বর্তমানে জব্দ রয়েছে। পাশপাশি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকার ব্যাংক হিসাবটিও জব্দ করে রাখা হয়েছে। যার ফলে বিগত ৭ মাস ধরে আমাদের বেতনভাতা বন্ধ রয়েছে। অর্থের অভাবে এ পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানাদির লেখাপড়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে গেছে। অর্থ সংকটে অনেকের সন্তানাদিকে স্কুলে ভর্তিও করতে পারেননি। ধার-দেনায় জর্জরিত অনেকের জীবন আজ শাব্দিক অর্থেই অতিষ্ঠ। দৈনিক ডেসটিনির জব্দ ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া হলে এ সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হতো।
তারা বলেন, দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকায় কর্মরত ২৩৮ জন সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর চলতি মাসের বেতন-ভাতাসহ মোট পাওনা প্রায় ৩ (তিন) কোটি টাকা। যেহেতু মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের ব্যাংক হিসাব জব্দের অজুহাতে আমাদের বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে না, তাই তার ব্যাংক হিসাব থেকে আমাদের পাওনা ৩ (তিন) কোটি টাকা প্রদানের কার্যকর নির্দেশ প্রদানের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।