29/07/2026
নৈতিকতার মুখোশ খসে পড়ছে: বেরিয়ে আসছে জামায়াতের আসল চেহারা!!
জামায়াতে ইসলামী বছরের পর বছর ধরে নিজেদের নৈতিকতার ঠিকাদার সেজে এসেছে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা অন্যদের অনৈতিকতা, দুর্নীতি আর চরিত্রহীনতার অভিযোগ করে। ইসলামী মূল্যবোধ, পারিবারিক পবিত্রতা, নারীর মর্যাদার কথা বলে তারা নিজেদের আলাদা বলে দাবি করে। কিন্তু বাস্তবতা কী? একের পর এক নারী-সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি, ভিডিও, অভিযোগ আর দ্বৈত আচরণে তাদের সেই নৈতিকতার মুখোশ এখন প্রকাশ্যে ছিঁড়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে নগ্ন উদাহরণ সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। অল্প বয়স্ক এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দল প্রথমে এআই বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। পরে এমপি নিজেই দাবি করেন ওই নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। কিন্তু বিয়ের কাগজপত্র, তারিখ, নারীর বয়স ও বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে অসংগতি স্পষ্ট। দুই দিনের জনরোষের পর জামায়াত তাঁকে ‘নৈতিক স্খলন’-এর অভিযোগে বহিষ্কার করে। সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবার কোনো দল এমপিকে এমন কেলেঙ্কারিতে বের করে দিল। এটা কি নৈতিকতার জয়? না। এটা চাপের মুখে ক্ষতিপূরণের চেষ্টা।
এটি কোনো ব্যতিক্রম নয়। গত দুই বছরে জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ একের পর এক এসেছে। রংপুরে ইউনিয়ন নেতার বিরুদ্ধে মহিলা মেম্বারের ধর্ষণ মামলা। ফেনীতে শিবির নেতার ধর্ষণচেষ্টা। ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত অন্তত ৫০টির বেশি এমন অভিযোগ। যারা মঞ্চে নারীর সম্মান রক্ষার কথা বলে, তাদের নিজেদের লোকদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ জমলে সেই নৈতিকতা কিসের?
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ঘিরেও একই প্রশ্ন । ২০২৫ সালে তাঁর সঙ্গে নাহিদ ইসলামের ‘চুম্বনের’ ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। এছাড়াও ইফতার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জামাত আমিরের ছেলেদের চুম্বনের দৃশ্য ভাইরাল হয় । প্রকাশ্যে এ ধরনের চুম্বন দলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এর আগে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ‘হ্যাকিং’ বলে দাবি করা হয়। নারী সংগঠনগুলো তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের দাবি তোলে। নৈতিকতার ধারক যদি এভাবে বারবার বিতর্কে জড়ান, তাহলে দাবির মূল্য কতটুকু থাকে?
খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত নেতাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নেশা, মাতলামিসহ নানা গুজব ও অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। যশোরে এক জামায়াত এমপির মেয়ের আচরণ নিয়ে স্থানীয় ক্ষোভ ও বাড়ি ঘেরাওয়ের ঘটনাও ঘটেছে। আমাদের এসব পরকীয়া অশ্লীল কর্মকাণ্ড ও নারী ইস্যু দলের নৈতিকতার দাবির বিপরীতে জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে।
জামায়াত দাবি করে তারা ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—জনরোষ না উঠলে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো তাগিদই দেখা যায় না। প্রথমে অস্বীকার, ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়া, তারপর চাপে পড়ে তদন্ত ও বহিষ্কার। এটা নৈতিক শৃঙ্খলার নমুনা নয়। এটা রাজনৈতিক ক্ষতি কমানোর কৌশল।
যে দল অন্যদের অনৈতিকতার অভিযোগ করে, তাদের নিজেদের ঘর থেকে যদি একের পর এক এমন কেলেঙ্কারি, ভিডিও আর অভিযোগ বেরিয়ে আসে, তাহলে সেই নৈতিকতার দাবি শুধু মুখের কথা। মুখোশ যখন এভাবে খসে পড়ে, তখন জনগণকে আর ধোঁকা দেওয়া যায় না। জামায়াত যদি সত্যিই নৈতিকতার ধারক হতে চায়, তাহলে শুধু বহিষ্কার নয়—নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি, নেতাকর্মীদের আচরণ ও জবাবদিহিতা নিয়ে কঠোর আত্মসমালোচনা করতে হবে। নইলে এই নৈতিকতার মুখোশ আর কতদিন টিকবে, সে প্রশ্ন এখন জনগণই জোরে জোরে করছে।