02/06/2026
Personal Branding Series (Episode 2)
আগের পর্বে বলেছিলাম কীভাবে অন্যদের কনটেন্ট দেখে অবসার্ভ করতে হয়। কিন্তু শুধু অবসার্ভ করলেই তো হবে না, এবার তো নিজের কিছু তৈরি করার পালা! আর এখানেই আমরা সবচেয়ে বড় ভুলটা করে বসি অন্য কাউকে হুবহু কপি করার চেষ্টা করি।
সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে আজ কথা বলবো নিজের সেই ইউনিক ‘ভাইব’ বা ভয়েস খুঁজে পাওয়া নিয়ে। No expert talk, just real observation!
১. কপি ক্যাট না, ইন্সপিরেশন নিন
শুরুর দিকে আমরা সবাই কারো না কারো ফ্যান থাকি। ভাবি, ওই ভাইয়া বা আপু যেভাবে কথা বলে, আমিও যদি ঠিক ওভাবে বলি তাহলে বোধহয় আমার কনটেন্টও হিট হবে।
কিন্তু ইনরিয়ালিটি, মানুষ অলরেডি একজনকে চেনে। আপনার মধ্যে যখন তারা অন্য কারো ছায়া দেখবে, তখন কানেক্ট করতে পারবে না। অবসার্ভ করুন সবারটা, কিন্তু লেখার বা বলার সময় ফিল্টারটা হোক একদম আপনার নিজের।
২. আপনার নিজের ভাষা কোনটা?
সোশ্যাল মিডিয়ায় পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং মানে এই না যে আপনাকে সারাক্ষণ খুব কঠিন কঠিন শব্দ বা কর্পোরেট ভাষায় কথা বলতে হবে।
আপনি যদি বন্ধুদের সাথে আড্ডায় একটু মজা করতে ভালোবাসেন, আপনার কনটেন্টেও সেই লাইট হিউমারটা থাকুক।
আপনি যদি একটু ইমোশনাল বা সিরিয়াস টাইপ হন, সেটাই আপনার লেখায় ফুটিয়ে তুলুন।
যে ভাষায় কথা বলতে আপনি সবচেয়ে কমফোর্টেবল, সেটাই আপনার ব্র্যান্ড ভয়েস। কৃত্রিম কিছু করার চেষ্টা করলেই মানুষ ধরে ফেলে!
৩. কনসিসটেন্সি বনাম পারফেকশনিজম
আমরা অনেকেই প্রথম পোস্টটা করার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকি লাইক-কমেন্ট দেখার জন্য। ভাবি, পারফেক্ট না হলে পরেরটা দেবো না।
কিন্তু ট্রাস্ট মি, শুরুতে কোনো কিছুই পারফেক্ট হয় না। আপনার প্রথম ১০টা কনটেন্ট হয়তো খুব সাধারণ হবে, আর সেটাই স্বাভাবিক। আসল ম্যাজিকটা লুকিয়ে আছে কন্সিসটেন্ট থাকার মধ্যে। আপনি যত বেশি লিখবেন বা বানাবেন, আপনার নিজের ইউনিক স্টাইলটা তত দ্রুত পরিষ্কার হতে থাকবে।
আজকের পর্বের লার্নিংটা যদি একটুও রিলেটেবল লাগে, তাহলে চলুন আজকেও একটা ছোট অ্যাকশন নেওয়া যাক!
আজকে কোনো স্ক্রিপ্ট বা প্ল্যান ছাড়া, একদম নিজের মতো করে একটা পোস্ট লিখুন। হতে পারে সেটা আপনার আজকের দিনের কোনো ছোট অভিজ্ঞতা, কোনো রিয়েলাইজেশন বা ব্যর্থতার গল্প।
কোনো জাজমেন্ট ছাড়া জাস্ট নিজের মনের ভাষাটা সেখানে ঢেলে দিন। কমেন্টে জানান, নিজের খাঁটি ভাষায় লিখতে গিয়ে আপনার কেমন ফিল হলো? ❤️
আজ না হয় নিজের খাঁটি ভাষাটা খুঁজে পেলেন, কিন্তু এই ইউনিক ভাইবটা মানুষের কাছে পৌঁছাবে কীভাবে? পরের পর্বে কথা বলবো পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংয়ের সবচেয়ে ক্রুশিয়াল পার্ট নিয়ে রাইট অডিয়েন্সের কাছে নিজের কনটেন্ট নিয়ে যাওয়া এবং তাদের সাথে একটা রিয়েল কানেকশন তৈরি করা।
সবাইকে তো খুশি করা সম্ভব না, তাহলে আপনার ‘আসল মানুষ’দের আপনি খুঁজে পাবেন কীভাবে? জানতে চোখ রাখুন এপিসোড ৩-এ! Stay tuned!