25/04/2026
সম্মিলিত ইমাম খতিব পরিষদের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে পরিষদকে পাশ কাটিয়ে স্বার্থন্বেষী বহিরাগতদের তৎপরতায় সর্বমহলে উদ্বেগ
ইমাম-খতিবদের দ্বীনি দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৭ দফা দাবিতে জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করে সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদ।
গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সরকার গঠনের পর এসব দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হলে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রকাশ্যে সমর্থন জানায়।
পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করলে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ উঠেছে, সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদকে পাশ কাটিয়ে একশ্রেণীর সুবিধাভোগী ও স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিষদের নেতৃবৃন্দের মতে, ইমাম-খতিবদের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদের মাধ্যমেই এসব দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
📌 সম্মেলনে উত্থাপিত ৭ দফা দাবি ছিল নিম্নরূপ:
১. রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী শরিয়াকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান এবং সকল ধর্মাবলম্বীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।
২. রাষ্ট্রীয় জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ইমাম-খতিবদের সম্পৃক্ত করা; জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি, গ্রাম আদালত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৩. দেশের সকল মসজিদের ইমাম-খতিবদের জন্য মোয়াজ্জিনসহ সেবা কাঠামো প্রণয়ন এবং মসজিদ কমিটিতে তাদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করা।
৪. মসজিদ ও মাদরাসার বিদ্যুৎ ও পানির বিল মওকুফ করা।
৫. দাওরায়ে হাদিস সনদপ্রাপ্ত আলেমদের সরকারি মসজিদের ইমাম-খতিব, স্কুল-কলেজের ধর্মীয় শিক্ষক ও কাজী পদে নিয়োগ প্রদান; পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষা কমিশন ও এনসিটিবি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন কমিটিতে বিশিষ্ট আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করা।
৬. ওয়াকফ সম্পত্তির অপব্যবহার রোধে বিশেষজ্ঞ আলেমদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন এবং ওয়াকফ প্রশাসন আইন শরিয়াহসম্মতভাবে সংস্কার করা।
৭. যথাযথ প্রমাণ ছাড়া কোনো ইমাম-খতিব, মোয়াজ্জিন বা আলেমকে গ্রেফতার বা হয়রানি না করা।
দাবিগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রকাশ পেলেও, প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে সংশ্লিষ্ট পরিষদের মাধ্যমেই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।