05/04/2026
আব্দুল্লাহ প্রথমে বিষয়টাকে একদমই গুরুত্ব দেয়নি।
কোমরের পাশে ছোট্ট একটা গোল লাল দাগ হয়েছিল।
হালকা চুলকাচ্ছিল।
সে ভাবলো, “গরমে হয়েছে… এমনিতেই সেরে যাবে।”
ছোট একটা দাগ।
এত ছোট যে ভয় পাওয়ার মতো কিছুই মনে হয়নি।
কিন্তু ৩–৪ দিন পর সে খেয়াল করলো,দাগটা আর ছোট নেই এটা একটু বড় হয়েছে,চারপাশটা আরও লাল।
চুলকানিটাও আগের চেয়ে তীব্র কিন্তু তারপরও সে ডাক্তার দেখায়নি❗
পাশের ফার্মেসি থেকে একটা মলম এনে লাগাতে শুরু করলো।
প্রথম দুই-তিন দিন মনে হলো যেন ভালোই হচ্ছে।
দাগটা একটু শুকনো মনে হচ্ছিল।আব্দুল্লাহ স্বস্তি পেল।
ভাবলো, “সমস্যা শেষ।”কিন্তু আসল বিপদ তখনও শুরু হয়নি‼️
এক রাতে হঠাৎ প্রচণ্ড চুলকানিতে তার ঘুম ভেঙে গেল।ঘুম থেকে উঠে লাইট জ্বালিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই তার বুক কেঁপে উঠল।
কোমরের পাশে যে একটা দাগ ছিল,এখন সেটা বড় হয়ে গেছে।তার পাশেই আরও নতুন গোল দাগ।পেটের নিচে আরেকটা,উরুতেও উঠেছে,পিঠের দিকেও শুরু হয়েছে⁉️
মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে একটা ছোট দাগ তার শরীরে নতুন নতুন জায়গা দখল করা শুরু করেছে❗
চুলকাতে চুলকাতে ত্বক জ্বালা করছে,ঘুম নেই,শান্তি নেই।
লজ্জায় কাউকে খুলেও বলতে পারছে না।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় কী জানেন❓
সে যে মলম লাগাচ্ছিল,সেটা রোগটাকে সারায়নি—
বরং ভেতরে ভেতরে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে⁉️
শেষে ডাক্তার দেখানোর পর জানা গেল,এটা সাধারণ চুলকানি না,এটা দাদ❗
***দাদ আসলে কী?
এটা ফাঙ্গাসজনিত ত্বকের সংক্রমণ।
এটা খুব ছোট একটি দাগ দিয়ে শুরু হতে পারে,
কিন্তু অবহেলা করলে ধীরে ধীরে শরীরের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছড়িয়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে যখন—
• শরীর ঘেমে ভেজা থাকে
• টাইট কাপড় পরে থাকা হয়
• অন্যের তোয়ালে, গামছা বা কাপড় ব্যবহার করা হয়
• আক্রান্ত জায়গা শুকনো রাখা হয় না
** দাদের লক্ষণঃ
১. গোল বা রিং-এর মতো লাল দাগ
২.চারপাশ উঁচু, মাঝখান তুলনামূলক ফ্যাকাসে
৩. তীব্র চুলকানি
৪.দাগ ধীরে ধীরে বড় হওয়া
৫.এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়া
***সবচেয়ে বিপজ্জনক ভুল
অনেকেই ফার্মেসি থেকে স্টেরয়েডযুক্ত মলম কিনে লাগান।
প্রথমে মনে হয় ভালো হচ্ছে।
কিন্তু বাস্তবে যা হয়—
-- দাগ কিছুটা চাপা পড়ে রোগ ভেতরে ভেতরে থেকে যায়,পরে আরও বড় আকারে ফিরে আসে,শরীরের আরও জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে ফলে চিকিৎসা অনেক কঠিন হয়ে যায়‼️
দাদ হলে করণীয়ঃ
* আক্রান্ত জায়গা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন;
*আলাদা তোয়ালে, গামছা ও কাপড় ব্যবহার করুন;
*টাইট ও ঘাম ধরে রাখে এমন পোশাক এড়িয়ে চলুন; *নিজের ইচ্ছায় মলম ব্যবহার করবেন না;
*দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং
*প্রয়োজন হলে সঠিক অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা নিন
*** মনে রাখবেনঃ
দাদ শুধু আপনার শরীরেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
এটা আপনার কাপড়, তোয়ালে, বিছানা, এমনকি পরিবারের অন্য সদস্যের শরীরেও ছড়িয়ে যেতে পারে।
আজ আপনার কোমরে,কাল আপনার সন্তানের গায়ে,
পরশু আপনার স্ত্রীর শরীরে।
একটা ছোট দাগকে অবহেলা করা,অনেক বড় ভোগান্তির শুরু হতে পারে⁉️
*****শরীরে গোল, লাল, চুলকানো দাগ দেখলেই এটাকে হালকা করে নেবেন না।
কারণ প্রথমে ছোট মনে হলেও,এই দাদই পরে ভয়ংকরভাবে ছড়িয়ে যেতে পারে‼️
©