Nahid Farhad Raju Journalist

  • Home
  • Nahid Farhad Raju Journalist

Nahid Farhad Raju Journalist যদি জানো তুমি কে...
সমগ্র বিশ্ব তোমাকে চিনতে পারবে।
–নাহীদ ফরহাদ রাজু

কিন্তু কি কারনে??— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজুরোজ কিন্তু কি কারনে??আমাকে এত বড় শাস্তি দিয়েতুমি কোথায় হারিয়ে গেলে?আজও মাঝ...
13/09/2026

কিন্তু কি কারনে??
— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজু

রোজ কিন্তু কি কারনে??
আমাকে এত বড় শাস্তি দিয়ে
তুমি কোথায় হারিয়ে গেলে?

আজও মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে
মনে হয়—
এই বুঝি তোমার কল আসবে,
এই বুঝি ওপাশ থেকে বলবে,
“কী করো?”

কিন্তু ফোনটা নীরব থাকে,
শুধু বুকের ভেতর
তোমার নামটা শব্দ করে।

শুধু একটা প্রশ্ন করতে চাই—
সত্যিই কি ভালোবেসেছিলে আমাকে?
নাকি ভালোবাসার নামে
আমার হৃদয়টাকে একদিন
অভ্যাস করে নিয়েছিলে?

গল্পের দিকে চোখ রাখলেই
তোমার আর আমার স্মৃতিগুলো মনে পরে।
কোনো কোনো সময়
নিজেদের গল্প খুঁজে পাই,
কোনো কোনো চরিত্রে
তোমার মুখ দেখতে পাই—

আর তখন বুঝতে পারি,
মানুষ চলে গেলে
শুধু মানুষটাই যায় না,
তার সঙ্গে চলে যায়
একটা সময়,
একটা পৃথিবী,
একটা পুরো জীবন।

কত বিকেল পেরিয়ে গেছে,
কত রাত নিঃশব্দে ভোর হয়েছে,
কতবার নিজেকে বুঝিয়েছি—
“ভুলে যা…”

কিন্তু মনকে কীভাবে বোঝাই?
যে মানুষটাকে ভুলতে চাই,
সে-ই তো আমার প্রতিটি স্মৃতির
সবচেয়ে সুন্দর অংশ হয়ে আছে।

তুমি জানো,
তোমাকে হারানোর কষ্টটা
তোমাকে পাওয়ার আনন্দের চেয়েও বড় হয়ে গেছে।

কারণ তুমি শুধু আমার কাছ থেকে দূরে যাওনি—
তুমি আমার ভেতর থেকে
আমার একটা অংশ নিয়ে গেছো।

তবু আজও তোমাকে দোষ দিই না।
ভালোবাসার মানুষকে
কীভাবে দোষ দেওয়া যায় বলো?

শুধু মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে—

সত্যিই কি ভালোবেসেছিলে আমাকে?
নাকি আমি একাই
আমাদের ভালোবাসাটাকে সত্যি ভেবেছিলাম?

যদি সত্যিই ভালোবেসে থাকো,
তবে বলো—
কী অপরাধ ছিল আমার?

আমি তো তোমার কাছে
কিছুই চাইনি।
শুধু চেয়েছিলাম—
তুমি থেকো।

তোমার হাতটা ধরে
জীবনের শেষ বিকেল পর্যন্ত
হেঁটে যেতে চেয়েছিলাম।

কিন্তু তুমি এমনভাবে চলে গেলে,
একবার ও চিন্তা করলে না আমাদের গল্পর কথা।

আজ বুঝি—
কিছু মানুষ জীবনে আসে
থাকার জন্য নয়,
সারা জীবন মনে থাকার জন্য।

আর তুমি—
তুমি আমার সেই মানুষ,
যাকে আমি আর কোনোদিন পাব না,
তবু কোনোদিন হারাতেও পারব না।

এটাই হয়তো আমার সবচেয়ে বড় শাস্তি—

তুমি আমার নও,
তবু আমার প্রতিটি স্মৃতিতে
তুমিই আছো।

কোনো মেয়াদ নেই এই শাস্তির,
কোনো আপিল নেই,
কোনো মুক্তি নেই—

শুধু প্রতিদিন
তোমার স্মৃতির কাছে
আমার নীরব পরাজয়।

আর যদি কোনোদিন
হঠাৎ তোমার মনে পড়ে
যে একজন মানুষ
তোমাকে সত্যিই ভালোবেসেছিল—

তাহলে শুধু একবার মনে মনে বলো,
“হ্যাঁ, সে সত্যিই আমাকে ভালোবেসেছিল।”

তুমি ফিরে এসো না।
আমি আর তোমাকে ফিরে আসতে বলব না।

শুধু আমার শেষ স্বীকারোক্তিটুকু
তোমার কাছে রেখে গেলাম—

আমি তোমাকে ভুলতে পারিনি,
ভুলতে চাইওনি।
কারন তোমাকে হারিয়েও
আমি বুঝেছি—
কিছু ভালোবাসা পূর্ণতা পেলে শেষ হয়ে যায়,
আর কিছু ভালোবাসা অসম্পূর্ণ থেকেই
সারা জীবন বেঁচে থাকে।

তুমি আমার সেই অসম্পূর্ণ ভালোবাসা—
যার শেষ নেই,
শুধু আমি নেই।

তুমি ফিরে এসো না—
আমি আর তোমাকে ফিরে আসতে বলব না।
শুধু কোনো এক নির্জন রাতে
নিজেকে একবার প্রশ্ন করো—

যে মানুষটা তোমাকে
এতটা ভালোবেসেছিল,
তাকে এভাবে হারিয়ে
তুমি কি সত্যিই সুখী হতে পেরেছো?

আর যদি কোনোদিন
আমার কথা মনে পড়ে,
তবে আমাকে খুঁজো না।
কারণ ততদিনে হয়তো
তোমাকে ফিরে পাওয়ার ইচ্ছেটাও
আমার ভেতরে আর বেঁচে থাকবে না।

শুধু মনে রেখো—
একটা মানুষ ছিল,
যে তোমার কাছে কিছুই চায়নি,
শুধু তোমার পাশে থাকতে চেয়েছিল।

তুমি তাকে ভালোবাসোনি—
তবু সে তোমাকেই ভালোবেসে গেছে।

তুমি তাকে ভুলে গেছো—
তবু সে তোমাকে ভুলতে পারেনি।

আর এটাই তার শেষ স্বীকারোক্তি—

তোমাকে পাওয়া আমার ভাগ্যে ছিল না,
তোমাকে হারানো ছিল আমার নিয়তি।
কিন্তু তোমাকে ভালোবেসেছিলাম—
এটা কোনো ভুল ছিল না।

ভুল শুধু একটাই করেছিলাম—

তোমাকে নিজের ভেবেছিলাম।

আজ তুমি অন্য কারও জীবনের গল্প,
আর আমি—
তোমার গল্পের সেই মানুষ,
যার নাম হয়তো আর মনে নেই।

তবু আমার শেষ নিশ্বাসের আগেও
যদি কেউ জিজ্ঞেস করে—

“তোমার জীবনে সবচেয়ে বেশি কাকে ভালোবেসেছিলে?”

আমি তোমার নামই বলব।

কারণ ভালোবাসা শেষ হয়ে গেলেও
ভালোবাসার মানুষটা শেষ হয়ে যায় না।

তুমি আমার জীবন থেকে চলে গেছো,
কিন্তু আমার জীবন থেকে
তোমার স্মৃতি কোনোদিন যাবে না।

আর হয়তো এটাই
তোমার দেওয়া আমার সবচেয়ে বড় শাস্তি—

তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা নয়,
তোমাকে ভালোবেসে
তোমাকে ছাড়াই বেঁচে থাকা।

পেশা— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজুকী অদ্ভুত পেশা আমার—অন্ধের দেশেআমি আয়না আর চশমার দোকানদার।যারা দেখতে পায় না,তাদের হাতে দি...
07/09/2026

পেশা

— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজু

কী অদ্ভুত পেশা আমার—
অন্ধের দেশে
আমি আয়না আর চশমার দোকানদার।

যারা দেখতে পায় না,
তাদের হাতে দিই আয়না।
যারা সত্য দেখতে চায় না,
তাদের চোখে পরাই চশমা।

আয়না মুখ দেখায়—
তবু কেউ নিজের মুখ চিনতে পারে না।
চশমা চোখ খুলে দেয়—
তবু কেউ আলোকে বলে,
“এ তো অন্ধকার!”

কেউ আয়না ভাঙে,
কেউ চশমা ছুড়ে ফেলে।

কারণ
নিজেকে বদলানোর চেয়ে
আয়না ভাঙা সহজ,
সত্য মেনে নেওয়ার চেয়ে
সত্যকে মিথ্যা বলা সহজ।

এখানে অপরাধ
মিথ্যা বলা নয়—
সত্য দেখানো।

এখানে শত্রু
যে মিথ্যা বানায় সে নয়,
যে আয়না তুলে ধরে সে।

তবু আমি দোকান খুলি প্রতিদিন।
আয়নাগুলো মুছে রাখি,
চশমাগুলো সাজিয়ে রাখি।

জানি—
সবাই দেখতে চায় না,
কেউ কেউ শুধু
নিজের অন্ধত্বটুকু
নিরাপদে বাঁচিয়ে রাখতে চায়।

দিন শেষে হিসাব করি—
কত আয়না বিক্রি হলো,
কত চশমা গেল,
আর কত মানুষ
নিজেকে না দেখেই
নিজের অন্ধকারে ফিরে গেল।

তবু দোকান বন্ধ করি না।

কারণ একদিন
কেউ একজন আসবেই—
আয়নার সামনে দাঁড়াবে,
চশমা চোখে দেবে,
আর হঠাৎ আবিষ্কার করবে—

অন্ধকারটা পৃথিবীতে ছিল না,
ছিল তার নিজের চোখে।

কী অদ্ভুত পেশা আমার—
অন্ধের দেশে
আমি আয়না বিক্রি করি,
চশমা বিক্রি করি,
আর বিনিময়ে
মানুষের রাগ কিনে বাড়ি ফিরি।

তবু দোকান বন্ধ করি না—

কারণ সত্যের দোকানে
ক্রেতা কম হলেও
আয়না কখনো মিথ্যে বলে না।

06/09/2026

অপরাধ

— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজু

আমি জানি, তুমি অনেক ব্যস্ত—
তোমার পৃথিবীতে
হয়তো আমার জন্য
সময়ের কোনো আলাদা ঘর নেই।

তবুও কতবার কল দিয়েছি—
রিং হয়েছে,
কেটে গেছে,
নীরব হয়েছে ফোন;
শুধু নীরব হয়নি
আমার অপেক্ষা।

ভাবি,
হয়তো সত্যিই ব্যস্ত তুমি,
হয়তো কোনো জরুরি কাজে,
হয়তো কোনো একদিন
সময় করে নিজেই বলবে—
“কী খবর?”

সেই একটুখানি আশাতেই
আমি প্রতিদিন
অপেক্ষার দরজায় দাঁড়িয়ে থাকি।

অভিমান করি না,
অভিযোগও নেই—
শুধু জানতে ইচ্ছে করে,
কী অপরাধ আমার?

তোমার কথা মনে পড়লেই
মুঠোফোনটা হাতে নিই,
নামটা খুঁজি,
কিছু লিখি,
আবার মুছে ফেলি।

শেষ পর্যন্ত
দুটো শব্দই পাঠাই—
“কেমন আছো?”

ফেসবুকের ইনবক্সে,
হোয়াটসঅ্যাপের নীরব ঘরে—
আমার কথাগুলো পৌঁছে যায়,
তুমি দেখো,
‘সিন’ করো,
তারপরও
কোনো উত্তর আসে না।

কখনো মনে হয়,
উত্তর দেওয়ার মতো
কোনো কথাই হয়তো নেই তোমার।

আবার মনে হয়,
কথা আছে—
শুধু আমার সঙ্গে বলার
ইচ্ছেটাই নেই।

এই ভাবনাটাই
সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।

আমি তো তোমার কাছে
ভালোবাসার দাবি রাখিনি,
চাইনি কোনো অধিকার,
চাইনি তোমার ব্যস্ত জীবনে
আমার জন্য দীর্ঘ কোনো সময়।

শুধু চেয়েছিলাম—
কখনো যদি আমার কথা মনে পড়ে,
একটা ছোট্ট মেসেজ দিও।

বলতে পারো—
“ভালো আছি।”

আমি তাতেই
হয়তো সারাদিন
ভালো থাকতে পারতাম।

কিন্তু তোমার নীরবতা
প্রতিদিন আমাকে শেখায়—
সব প্রশ্নের উত্তর
শব্দে দিতে হয় না।

কিছু উত্তর
নীরবতাই দিয়ে দেয়।

তবুও আজও
শেষবারের মতো জানতে চাই—

আমি কি খুব বেশি চেয়েছিলাম?
নাকি তোমাকে আপন ভেবে
বারবার ফিরে আসাটাই
আমার সবচেয়ে বড় ভুল?

যদি ভুল হয়ে থাকে,
শাস্তিটা মেনে নেব।

শুধু যাওয়ার আগে
একবার বলে যেও—

তোমাকে এতটা মনে করার,
এতটা খোঁজার,
এতটা আপন ভাবার—
কী অপরাধ আমার?

কারণ তুমি হয়তো
একটা মেসেজের উত্তর দাওনি,

কিন্তু আমি—
তোমার নীরবতার প্রতিটি মুহূর্তে
নিজেকে প্রশ্ন করেছি।

অপরাধী যদি আমি-ই হই,
তবে আমার অপরাধটা
একবার অন্তত বলে যেও।

দিনশেষে— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজুদিনশেষে আমি নিজের কাছেই ফিরি—কারণ সবার কাছেআমি বড্ড বেশি।বেশি কথা বলি,বেশি অনুভব করি,বেশ...
01/09/2026

দিনশেষে

— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজু

দিনশেষে আমি নিজের কাছেই ফিরি—
কারণ সবার কাছে
আমি বড্ড বেশি।

বেশি কথা বলি,
বেশি অনুভব করি,
বেশি ভালোবাসি,
বেশি অভিমান করি—
আর হয়তো তাই
কারও কাছে ঠিক মানিয়ে উঠতে পারি না।

আমি তো চেয়েছিলাম
একটু মন দিয়ে কেউ শুনুক,
আমার নীরবতারও
একটা ভাষা আছে—
কেউ সেটা বুঝুক।

কিন্তু মানুষ ব্যস্ত,
সবাই নিজের গল্প নিয়ে ব্যস্ত;
আমার গল্প শোনার
সময় কারও নেই।

তাই দিনশেষে
সব অভিমান গুছিয়ে,
সব না-বলা কথা বুকের ভেতর লুকিয়ে
আমি নিজের কাছেই ফিরি।

নিজেকেই প্রশ্ন করি—
“কেমন আছিস?”

নিজেই উত্তর দিই—
“ভালো আছি।”

যদিও জানি,
এই ‘ভালো আছি’র আড়ালে
কতটা ভাঙাচোরা রাত,
কতটা জমে থাকা কান্না,
কতটা একাকিত্ব
নিঃশব্দে ঘুমিয়ে আছে।

তবুও ফিরি নিজের কাছে—
কারণ পৃথিবী আমাকে
অতিরিক্ত ভেবে দূরে সরিয়ে দিলেও,
আমি তো জানি,
আমার এই অতিরিক্ত ভালোবাসা,
অতিরিক্ত অনুভূতি,
অতিরিক্ত মায়া—
এসবই তো আমার সত্যিকারের আমি।

তাই দিনশেষে
কেউ পাশে থাকুক বা না থাকুক,
কেউ বুঝুক বা না বুঝুক—
আমি নিজের হাতটা
নিজেই শক্ত করে ধরে রাখি।

কারণ শেষ পর্যন্ত
সবাই চলে গেলেও
নিজের কাছে তো
নিজেকেই থাকতে হয়।

আর সেই কারণেই—
দিনশেষে আমি
নিজের কাছেই ফিরি।

কিছু কথা না হয় থাকুক অজানায়— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজুভোরের বাতাস ছুঁয়ে যাক তোমায়,যেভাবে ছুঁয়ে যায় অচেনা কোনো ফুল—নি...
31/08/2026

কিছু কথা না হয় থাকুক অজানায়

— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজু

ভোরের বাতাস ছুঁয়ে যাক তোমায়,
যেভাবে ছুঁয়ে যায় অচেনা কোনো ফুল—
নিঃশব্দে, কোনো দাবি না রেখে,
তবু রেখে যায় অদৃশ্য এক আবেগের ভুল।

মেঘেরা থাকুক তোমার আকাশজুড়ে,
বৃষ্টি নামুক নরম কোনো দুপুরে;
আর হঠাৎ যদি মন খারাপ হয়,
আমায় রেখো তোমার কোনো গোপন সুরে।

কিছু কথা না হয় থাকুক অজানায়—
সব কথা কি আর বলা যায় মুখে?
কিছু অনুভূতি নীরবেই বেঁচে থাক,
দুজনের অদৃশ্য কোনো সুখে।

চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠুক ধীরে,
স্মৃতির মতো মিলিয়ে যাক বাতাসে;
তুমি হয়তো জানো না—কতটা তুমি
নিঃশব্দে মিশে আছো আমার শ্বাসে।

তুমি থেকো তোমার আপন নীড়ে,
তোমার মতো করেই বেঁচে থেকো;
আমি দূরে থেকেও প্রতিটি প্রহরে
তোমার নামেই নিজেকে লিখে রেখো।

জানালার পাশে সকালের আলো
নরম করে ছুঁয়ে দিক তোমার মুখ;
আমি না থাকলেও সেই আলোর ভেতর
তোমার চোখে জেগে থাকুক আমার সুখ।

দূরত্ব থাকুক—পথ যতই দীর্ঘ হোক,
ভালোবাসার কি কখনো দূরত্ব হয়?
তুমি যদি থাকো হৃদয়ের গভীরে,
হাজার মাইলও মুহূর্তে ফুরিয়ে যায়।

শিশিরভেজা ঘাসের মতো কোমল
হোক তোমার প্রতিটি সকাল;
তোমার একটুখানি হাসির কাছে
হার মেনে যাক আমার সব অবসাদ, সব জঞ্জাল।

কিছু না-বলা কথা থাকুক বাতাসে,
কিছু অপেক্ষা জমুক নিরালায়;
তুমি থেকো তোমার নিজের পৃথিবীতে,
আমি ডুবে থাকি তোমারই মায়ায়।

যদি কোনো ভোরে হঠাৎ
আমার কথা মনে পড়ে যায়,
জেনো—কেউ একজন আজও
তোমার নাম নিয়েই ঘুম ভাঙায়।

যদি কোনো রাতে চাঁদের আলোয়
অকারণে মনটা কেঁদে ওঠে,
জেনো—আমারও কোনো নীরব রাত
তোমার অভাবেই নিঃশব্দে ভিজে ওঠে।

তোমাকে পাওয়ার ইচ্ছে আছে,
তবু তোমাকে বাঁধতে চাই না;
ভালোবাসি বলেই তোমার স্বাধীন আকাশে
আমার কোনো অধিকার চাই না।

শুধু এটুকু মনে রেখো—
পৃথিবী বদলাবে, মানুষ বদলাবে,
সময়ের স্রোতে কত মুখ হারিয়ে যাবে;
কত পরিচিত নাম একদিন
অচেনা হয়ে যাবে স্মৃতির ভিড়ে।

তবু তোমার জন্য রাখা এই হৃদয়
অন্য কোনো নামে ডাকবে না—
কারণ কিছু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য নয়,
শুধু সারাজীবন বয়ে নেওয়ার জন্য।

ভোরের বাতাস ছুঁয়ে যাক তোমায়,
আলোয় ভরে উঠুক তোমার প্রতিটি পথ;
আমি কাছে থাকি কিংবা বহুদূরে,
তোমাকেই ভালোবাসা—আমার একমাত্র সত্য।

তুমি হয়তো কোনোদিন জানবেও না
কত গভীরে তোমাকে রেখেছি আমি;
তুমি শুধু আমার ভালোবাসা নও—
তুমি আমার নীরবতারও শেষ নামটি।

তাই কিছু কথা না হয় থাকুক অজানায়,
কিছু অনুভূতি থাকুক হৃদয়ের গোপন ঘরে;
তুমি না জানলেও ভালোবাসব তোমায়—
কোনো দাবি ছাড়া, কোনো প্রত্যাশা ছাড়া,

যতদিন ভোরের বাতাস
নিঃশব্দে ছুঁয়ে যাবে পৃথিবী,
যতদিন আকাশে মেঘ জমবে,
বৃষ্টি নামবে কোনো নির্জন দুপুরে—

ততদিন আমার নীরব হৃদয়ের ভেতর
অমলিন হয়ে থাকবে তুমি;
কিছু কথা অজানাই থাকুক—
ভালোবাসা থাকুক তার চেয়েও গভীরে।

আজ একবার এসো— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজুআজ ভীষণ তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে।কেন জানি,শুধু এই ভাবনাটুকুই—আজ তোমার সঙ্গে দেখা হবে...
26/08/2026

আজ একবার এসো

— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজু

আজ ভীষণ তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে।

কেন জানি,
শুধু এই ভাবনাটুকুই—
আজ তোমার সঙ্গে দেখা হবে—
আমার ভেতরে
নীরব কোনো উৎসবের মতো
আলো জ্বেলে দেয়।

সারাদিনের ব্যস্ততার ভিড়েও
কেমন করে যেন বারবার
তোমার মুখটা ভেসে ওঠে চোখের সামনে।

কাজের ফাঁকে হঠাৎ থেমে যাই,
নিজের অজান্তেই ভাবি—
আজ তুমি কী পরে আসবে?

সাদা শাড়ি?
নাকি সবুজ?
নাকি শ্রাবণের মেঘের মতো
কোনো কোমল, বিষণ্ন রঙে
নিজেকে জড়িয়ে আসবে?

কপালে থাকবে ছোট্ট একটি টিপ?
চোখে সেই চেনা কাজল?

চুলে কি বেলি ফুল গুঁজবে?
নাকি খোঁপা খুলে
এলোমেলো চুলেই চলে আসবে?

তুমি জানো না—
তোমার সাজের চেয়েও
তোমাকে সাজতে দেখার অপেক্ষাটাই
আমার কাছে বেশি সুন্দর।

তুমি যখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজেকে একটু একটু করে সাজাবে,
হয়তো তখন জানবেই না—
দূরে কোথাও একজন মানুষ
তোমার সেই মুহূর্তগুলো কল্পনা করে
নিঃশব্দে হাসছে।

হয়তো তুমি ভাববে—
আজ এত সাজগোজের কী দরকার?

কিন্তু আমার কাছে
তোমার কপালের একটি টিপ,
চোখের একটুখানি কাজল,
চুলের ভেতর গুঁজে দেওয়া
একটি বেলি ফুল—
এসব কোনো সাজ নয়।

এসব আমার কাছে
ভালোবাসার ছোট ছোট ভাষা—
যাদের কোনো শব্দ নেই,
তবু তারা
হাজার কথার চেয়েও
স্পষ্ট।

তোমার হাতের চুড়ির শব্দ,
পায়ের নূপুরের মৃদু ঝংকার,
শাড়ির আঁচল সামলে
ধীরে ধীরে আমার দিকে এগিয়ে আসা—

এই সামান্য দৃশ্যগুলোর জন্যই
হয়তো আমি
সারাদিন অপেক্ষা করতে পারি।

বয়স তো আমারও হচ্ছে।

আগের মতো
অকারণে কোথাও ছুটে যাওয়া,
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা,
শুধু তোমাকে দেখব বলে
নিজেকে যত্ন করে গুছিয়ে নেওয়া—
এসব অভ্যাস
হয়তো অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছি।

তবু তুমি যখন বলো—
“আজ দেখা হবে?”

তখন আমার ভেতরে
বহুদিন ঘুমিয়ে থাকা
সেই ছেলেটা হঠাৎ জেগে ওঠে।

চোখে আলো নামে,
মুখে অকারণ হাসি ফুটে ওঠে,
বুকের ভেতর শুরু হয়
এক অদ্ভুত ব্যস্ততা।

মনে হয়—
পৃথিবীর সব কাজ
আজ থাকুক দূরে;
আজ শুধু
তোমার সঙ্গে দেখা হোক।

হয়তো বাইরে তখন
শ্রাবণের বৃষ্টি নামবে।

রাস্তা ভিজে যাবে,
ভেজা মাটির গন্ধে
শহরটা হঠাৎ
অচেনা সুন্দর হয়ে উঠবে।

তোমার চুলের ডগায়
জমে থাকবে বৃষ্টির জল,
শাড়ির আঁচলটা
হয়তো একটু ভিজে যাবে।

আর আমি?

আমি হয়তো তোমার দিকে তাকিয়ে
কিছুক্ষণ কোনো কথাই বলতে পারব না।

শুধু মনে হবে—
এই মুহূর্তে
তোমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা
পৃথিবীর সমস্ত প্রাপ্তির চেয়েও
বেশি মূল্যবান।

হয়তো তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে
আমার বলার মতো
অনেক কথা থাকবে,
অথচ কোনো কথাই
মুখে আসবে না।

শুধু মনে হবে—
কিছু মানুষকে
কথায় ভালোবাসা যায় না;
তাদের ভালোবাসতে হয়
নীরবে পাশে দাঁড়িয়ে,
চোখের ভাষায়,
অকারণ নীরবতায়।

তারপর যদি তুমি হঠাৎ বলো—

“আজ নয়…
কাল দেখা হবে।”

কী আশ্চর্য!

মাত্র তিনটি শব্দ—
“কাল দেখা হবে।”

অথচ সেই তিনটি শব্দেই
ভেঙে যেতে পারে
আমার সারাদিনের সব আয়োজন।

কারণ,
আজকের আকাশ
কাল আর একই থাকে না।

আজ যে মেঘ
তোমাকে ঘিরে দেখার স্বপ্ন দেখেছি,
কাল হয়তো সে মেঘ থাকবে না।

আজ যে বৃষ্টিটা
তোমার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছিলাম,
কাল হয়তো
সে বৃষ্টির কোনো খবরই থাকবে না।

আজ যে কথাগুলো
তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে
বলতে চেয়েছিলাম,
কাল তারা হয়তো
আমার বুকের ভেতরেই
নিঃশব্দ হয়ে যাবে।

আজ তোমাকে দেখে
যে আনন্দটুকু পাওয়ার কথা,
কাল সেই আনন্দ
আর ঠিক একই রকম হবে না।

কারণ,
সব অনুভূতিরই
নিজস্ব একটি সময় আছে।

সব অপেক্ষা
আগামীকালের কাছে
জমা রাখা যায় না।

কিছু দেখা
শুধু আজকেই সুন্দর।

কিছু কথা
শুধু আজ বললেই
পূর্ণতা পায়।

কিছু মুহূর্ত
শুধু একটি নির্দিষ্ট বিকেলের জন্যই আসে—
তারপর হারিয়ে যায় সময়ের ভিড়ে,
স্মৃতি হয়ে
সারাজীবন থেকে যায়।

তাই যখন বলি—
“আজ তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে,”

আমি শুধু তোমাকে ডাকছি না।

আমি ডাকছি—
আজকের বৃষ্টি,
আজকের বিকেল,
আজকের মেঘ,
আজকের আলো,
আর আমার ভেতরে লুকিয়ে থাকা
সেই অস্থির ছেলেটাকে—

যে এখনো বিশ্বাস করে,
তোমার সঙ্গে দেখা হওয়া মানেই
একটি সাধারণ দিন
হঠাৎ অসাধারণ হয়ে ওঠা।

তাই—

আজ একবার এসো।

কালকের জন্য রেখে দিও না
আজকের এই ভালো লাগা।

আজ যদি তোমার হাতটা
একটু সময়ের জন্যও
আমার হাতে রাখতে পারো,
তবে এই সামান্য মুহূর্তটুকুকেই
আমি সারাজীবনের স্মৃতি করে রাখব।

আজ যদি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে
একবার বলতে পারি—

“তোমাকে খুব ভালোবাসি,”

তাহলেই হয়তো
আমার সমস্ত অপেক্ষা,
সমস্ত অস্থিরতা,
সমস্ত না-বলা কথা—
এক মুহূর্তে
সার্থক হয়ে যাবে।

আর যদি কিছুই বলতে না পারি,
তবু তুমি এসো।

শুধু একবার
আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ো।

হয়তো তোমার নীরবতাই
আমার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর হয়ে যাবে।

হয়তো তোমার চোখের একটুখানি হাসি
আমার দীর্ঘ অপেক্ষার
সবটুকু ক্লান্তি মুছে দেবে।

হয়তো সেদিন
আমাদের মধ্যে কোনো কথাই হবে না—
তবু সেই নীরবতাটুকু
আমার কাছে হয়ে থাকবে
একটি পূর্ণ কবিতা।

তাই—

আজ একবার এসো।

কারণ,
কিছু অপেক্ষা
শুধু আজকের জন্যই জন্মায়।

কিছু দেখা
শুধু আজকেই সুন্দর।

কিছু মুহূর্ত
ফিরে আসে না কোনোদিন।

কিছু কথা
পরে বললেও
আর একই অর্থ বহন করে না।

আজকের মতো
আর কোনো “আজ”
হয়তো কোনোদিন আসবে না।

আর কিছু ভালোবাসা—

কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে জানে না।

চিঠি— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজুতোমাকে একটি চিঠি লিখব বলেকতদিন পেরিয়ে গেল—হিসাব রাখিনি।শুধু একবারতোমাকে জানাতে চেয়েছিলাম—...
25/08/2026

চিঠি

— মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজু

তোমাকে একটি চিঠি লিখব বলে
কতদিন পেরিয়ে গেল—
হিসাব রাখিনি।

শুধু একবার
তোমাকে জানাতে চেয়েছিলাম—
ভালোবাসি।

এই একটি শব্দের জন্যই
একদিন নীল খাম খুঁজতে বেরিয়েছিলাম।

এই দোকান থেকে ওই দোকান,
এই মার্কেট থেকে ওই মার্কেট—
কত অচেনা মুখের সামনে দাঁড়িয়ে
একই প্রশ্ন করেছি—

“নীল খাম আছে?”

কেউ অবাক হয়েছে,
কেউ হেসেছে,
কেউ বলেছে—

“এখন আর চিঠি লেখে কে?”

আমি হেসেছি।

কী করে বোঝাই—
সব চিঠি ডাকঘরের ঠিকানায় যায় না;
কিছু চিঠি লেখা হয়
একজন মানুষের হৃদয়ের ঠিকানায়।

তাই আমার দরকার ছিল
শুধু একটি নীল খাম,
একটি সুগন্ধি কাগজ—

যার ভাঁজে ভাঁজে
লুকিয়ে রাখব
বহুদিনের না-বলা কথা,
কিছু অসমাপ্ত স্বপ্ন,
আর তোমার নামে জমে থাকা
এক পৃথিবী নীরবতা।

---

অবশেষে একদিন
নীল খাম আর কাগজ নিয়ে
রাতের টেবিলে বসলাম।

কলমটা কাগজ ছোঁয়ার আগেই
বাইরে ঝড় উঠল।

জানালার কাঁচ কেঁপে উঠল,
দরজায় বাতাসের ধাক্কা,
আকাশ কালো হয়ে এলো—

তারপর বৃষ্টি।

মনে হলো,
এই ঝড়ও বুঝি জানে
আমি আজ তোমাকে লিখতে বসেছি।

সে আমার শব্দগুলো
উড়িয়ে নিতে চায়,
বাক্যগুলো ছিঁড়ে ফেলতে চায়,
তোমার নামে জমিয়ে রাখা
সব অনুভূতি
জলের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চায়।

দরজা বন্ধ করলাম।
জানালা বন্ধ করলাম।

তবু ঝড় থামল না।

বাইরে তখন অন্ধকার,
কাঁচের ওপারে বৃষ্টির শব্দ,
আর ঘরের ভেতর
একটি মানুষ—

যার সমস্ত আলো
একজনের নামেই জ্বলে।

তুমি।

---

টেবিলের ওপর
সাদা কাগজ।

পাশে
অপেক্ষমাণ নীল খাম।

অথচ তোমার নামটি
আজও লেখা হয়নি।

কলম হাতে নিয়ে লিখলাম—

“প্রিয় তুমি,”

তারপর থেমে গেলাম।

কী লিখব?

লিখব কি—
তোমাকে ছাড়া
দিনগুলো কীভাবে
ধীরে ধীরে সন্ধ্যা হয়ে যায়?

লিখব কি—
তোমার কথা মনে পড়লেই
আজও বুকের ভেতর
কেন অকারণে বৃষ্টি নামে?

লিখব কি—
তুমি না থেকেও
কীভাবে আমার প্রতিটি দিনের
নিঃশব্দ সঙ্গী হয়ে আছো?

নাকি লিখব—
এতদিন পরও
তোমাকে ভালোবাসার জন্য
আমার কোনো অনুশোচনা নেই?

না।

এসব কিছুই লিখব না।

শুধু লিখব—

ভালোবাসি।

একটি শব্দ।

অথচ এই একটি শব্দের ভেতরেই
কত রাতের নিঃসঙ্গতা,
কত ভোরের অপেক্ষা,
কত না-পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস,
কত অভিমান,
কত স্বপ্ন,
কত অশ্রু—

আর তোমাকে হারিয়ে ফেলার
অসংখ্য অদৃশ্য ভয়।

একটি শব্দে
এসব কি লেখা যায়?

হয়তো যায় না।

তবু লিখব।

কারণ কিছু অনুভূতির
ব্যাখ্যা হয় না—
শুধু স্বীকার করে নিতে হয়।

---

যদি কোনোদিন
এই চিঠি তোমার হাতে পৌঁছায়,

নীল খামটি ধীরে খুলে
সুগন্ধি কাগজের ভাঁজ মেলো।

দেখবে—

সেখানে কোনো দীর্ঘ গল্প নেই,
কোনো অভিযোগ নেই,
ফিরে আসার অনুরোধও নেই।

শুধু একটি শব্দ—

ভালোবাসি।

আর তার নিচে
অদৃশ্য কালিতে লেখা থাকবে
আমার সমস্ত জীবন।

হয়তো ততদিনে
অনেক ঋতু বদলে যাবে।

শহরের রাস্তা বদলাবে,
পরিচিত দোকানের সাইনবোর্ড বদলাবে,
মানুষ বদলাবে,
আমরাও হয়তো বদলে যাব।

হয়তো একদিন
নীল খামও হয়ে যাবে
পুরোনো কোনো সময়ের নাম।

তবু কিছু কথা
পুরোনো হয় না।

কিছু ভালোবাসা
সময়ের সঙ্গে মরে না—
শুধু নীরব হতে শেখে।

তাই আমি লিখব।

যদিও জানি,
সব চিঠির উত্তর আসে না।

সব অপেক্ষার শেষ হয় না।

সব ভালোবাসার
একটি পরিণতি থাকে না।

তবু ভালোবাসা
অপেক্ষা করতে জানে।

---

তাই ঝড় থাকুক।
বৃষ্টি থাকুক।
অন্ধকার থাকুক।

আমি লিখব।

কারণ ঝড়
চিঠির কাগজ উড়িয়ে নিতে পারে,
বৃষ্টি
কালির অক্ষর মুছে দিতে পারে,
দূরত্ব
দুটি মানুষকে আলাদা রাখতে পারে,
সময়
স্মৃতির ওপর ধুলো জমাতে পারে—

কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসা
মুছে দিতে পারে না।

এই গভীর রাতে
আবার কলমটা হাতে নিলাম।

সাদা কাগজের ওপর
ধীরে ধীরে লিখলাম—

“প্রিয় তুমি,”

তারপর দীর্ঘ নীরবতা।

জানালার বাইরে
তখনও বৃষ্টি।

নীল খামের গায়ে
ঘরের ক্ষীণ আলো
কেঁপে কেঁপে পড়ছে।

শেষে লিখলাম—

“ভালোবাসি।”

আর কিছু নয়।

স্বাক্ষরও নয়।

কারণ তুমি জানো—
এই একটি শব্দের ভেতর
কার নাম লেখা আছে।

চিঠিটা ভাঁজ করলাম।

নীল খামের ভেতর
যত্ন করে রেখে দিলাম।

খামটি বন্ধ করার আগে
শেষবার তাকালাম
সেই একটি শব্দের দিকে।

তখন মনে হলো—

কিছু চিঠি
আসলে ডাকবাক্সে ফেলার জন্য লেখা হয় না।

কিছু চিঠি লেখা হয়
নিজের কাছে।

নিজের বুকের গভীরে
লুকিয়ে রাখা একটি সত্যকে
একবার কাগজের সামনে
স্বীকার করে নেওয়ার জন্য।

তাই এই চিঠি
হয়তো কোনোদিন
তোমার হাতে পৌঁছাবে না।

হয়তো তুমি কোনোদিন জানবেও না—
এক ঝড়-বৃষ্টির রাতে
কেউ একজন
নীল খাম আর সুগন্ধি কাগজ নিয়ে
তোমার নামে বসেছিল।

তবু তাতে কী?

চিঠি পৌঁছাক বা না পৌঁছাক—
ভালোবাসা তো পৌঁছে গেছে
তার ঠিকানায়।

কারণ ভালোবাসার ঠিকানা
কোনো শহর নয়,
কোনো বাড়ি নয়,
কোনো ডাকঘরও নয়।

তার একটাই ঠিকানা—

তুমি।

আক্ষেপ—মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজুযে কথাডা তোরে কওনের কথা—হেই কথাডাই কই শহরের বিলবোর্ডের লগে।তুই এই শহরেই আছস,তবু তোরে দেখি ...
25/08/2026

আক্ষেপ

—মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজু

যে কথাডা তোরে কওনের কথা—
হেই কথাডাই কই শহরের বিলবোর্ডের লগে।

তুই এই শহরেই আছস,
তবু তোরে দেখি না—
দেহি খালি
আকাশ ছোঁয়া বিলবোর্ড,
ঝলমলে বাত্তি,
আর মানুষের মুখের মইধ্যে
হাজার রকমের বিজ্ঞাপন।

রাইত নামলে
শহরডা যখন নীল আলোয় ভইরা যায়,
তখন তোর মুখডা খুঁজি।

কখনো কোনো রিকশাওয়ালার পাশে,
কখনো কোনো মাইয়ার চুলের ভাঁজে,
কখনো বাসের জানালায়,
কখনো চায়ের দোকানের ধোঁয়ার মইধ্যে।

কেউ তোর মতো হাইসে ওঠে,
কেউ তোর মতো চোখ নামায়,
কেউ তোর মতো চুপ কইরা থাকে—

আমি থমকাইয়া দাঁড়াই।

তারপর বুঝি—

সে তুই না।

এই “তুই না” কথাডা
কত বড় কষ্ট,
হেইডা যার বুকের ভিতর আছে
সে ছাড়া আর কেউ জানে না।

অথচ তোর লগে
একটা বিকাল কাটাইবার লাইগা
আমি কত সন্ধ্যা ফালাইয়া দিছি।

কত রাইত
জানালার পাশে বইসা
শহরের বাত্তি গুনছি।

আর মনে মনে ভাবছি—

এই শহরের কোনো এক রাস্তায়
তুইও কি আমার কথা ভাবতেছস?

হয়তো তুইও
কোনো জানালার পাশে বইসা আছস।

হয়তো তোর জানালার বাইরেও
বৃষ্টি পড়তেছে।

হয়তো দূরে
কোনো রিকশার ঘণ্টি বাজতেছে।

হয়তো কোনো চায়ের দোকানে
কেউ হাইসা উঠছে।

আর তুই—

চুপ কইরা
আমারে মনে করতেছস।

আবার হয়তো না।

হয়তো তুই
আমারে একেবারেই ভুইলা গেছস।

এই “হয়তো”
কথাডাই সবচাইতে বেশি কষ্ট দেয়।

---

তুই জানস,
ময়মনসিংহের বিকালডা কেমন?

ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে
যখন শেষ বিকালের রোদ
আস্তে আস্তে নরম হইয়া আসে,
কাশফুলগুলা বাতাসে দোলে,
নদীর পানি
চুপচাপ কূলে আইসা লাগে—

তখন আমার তোর কথা মনে পড়ে।

মনে হয়,
তুই যদি পাশে থাকতি,
দুইজন চুপ কইরা
ঘাটের সিঁড়িতে বইসা থাকতাম।

কথা কওনেরও দরকার হইত না।

তুই নদীর দিকে চাইয়া থাকতি,
আমি তোর দিকে।

মাঝখানে
বইত নদী।

আর আমাগো না-কওয়া কথাগুলা
ভাসত পানির লগে।

কিন্তু তুই নাই।

আমি একলাই।

ব্রহ্মপুত্র আছে,
ঘাট আছে,
কাশবন আছে,
বিকালের বাতাস আছে—

খালি তুই নাই।

এইটাই আমার আক্ষেপ।

---

যে কথাগুলা তোরে কওনের কথা—
হেইগুলা অহন
রাস্তার বাত্তির কাছে জমা থাকে।

রাইত বাড়ে।

শহর ঘুমায়।

দোকানের ঝাঁপ নামে।

শেষ রিকশাডাও
ধীরে ধীরে গলির মইধ্যে হারায়।

কিন্তু আমার কথা শেষ হয় না।

আমি তখন
মনে মনে তোর লগে কথা কই।

কই—

“তুই কেমন আছস?”

“খাইছস?”

“এতদিন কই আছিলি?”

“আমারে কি একটুও মনে পড়ে?”

কোনো জবাব আসে না।

দূরে খালি
কোনো কুকুর ডাইকা ওঠে।

কোনো ট্রেনের শব্দ
রাইতের বুকের ভিতর দিয়া
দূরে চইলা যায়।

আর আমি বুঝি—

তুই আমার কাছে নাই।

---

যে চিঠিডা তোরে লেখনের কথা—
হেই চিঠিডাই লিখি
নগরপিতার কাছে।

লিখি—

এই শহরের ফুটপাতগুলা
এত ভাঙা ক্যান?

বৃষ্টির পানিতে
রাস্তা আর নদীর মাজে
ফারাক থাকে না ক্যান?

ক্যান রাত নামলে
কেউ দামি গাড়িতে বাড়ি ফেরে,
আর কেউ ফুটপাতের ওপর
পলিথিন টানাইয়া ঘুমায়?

ক্যান নদীর পাড়ে
এত সুন্দর বাতাস,
আর মানুষের জীবনে
এত হাহাকার?

লিখতে লিখতে
চিঠির শেষ পাতায়
কেমনে জানি
তোর নাম আইসা পড়ে।

আমি লিখতে চাই—

“প্রিয় তুই,
কেমন আছস?”

তারপর থাইমা যাই।

কলমডা
কাগজের ওপরে থাইমা থাকে।

চিঠিডা ভাঁজ করি।

খামে ভরি।

কিন্তু ঠিকানা লিখি না।

কারণ—

তোর ঠিকানা আমি জানি না।

খালি জানি,
তুই এই শহরেই আছস।

---

তোর বাড়ির গলিডা
আমি চিনি।

চিনি সেই মোড়,
যেইখানে শীতের সকালে
চায়ের দোকান থেইকা ধোঁয়া ওঠে।

চিনি সেই রাস্তা,
যেইখানে বর্ষায়
পানি জমে ছোট্ট নদী হইয়া যায়।

চিনি সেই ঘাট,
যেইখান থেইকা
ব্রহ্মপুত্রের বাতাস
শরীরের ভিতর ঢুইকা যায়।

চিনি তোর পছন্দের বিকাল।

চিনি তোর হাঁটার শব্দ।

চিনি তোর হাসি।

খালি চিনি না—

তোর কাছে যাওনের সাহস।

---

যে গানডা তোরে শোনানোর কথা,
তোর লগে গাওনের কথা—

হেই গান অহন
নদীর পাড়ে একলাই গাই।

কখনো বাতাস
আমার সুর লইয়া যায়।

কখনো নদী
আমার কথা গিল্যা ফেলে।

কখনো কাশফুল
মাথা নাড়াইয়া মনে হয়
আমারে বুঝতেছে।

আমি তখন ভাবি—

তুই যদি থাকতি!

তুই যদি একবার কইতি—

“আবার গা।”

আমি হয়তো
সারারাত গান গাইতাম।

---

কী অদ্ভুত জীবন রে!

মানুষ ভালোবাসার কথা
মুখ দিয়া কইতে পারে না,

কিন্তু মরণ আইলে
সবাই দৌড়ায়।

অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন
রাইতের বুক ফাইড়া যায়।

হাসপাতালের সামনে
মানুষ দাঁড়াইয়া থাকে।

কারও চোখে পানি,
কারও হাতে রিপোর্ট,
কারও ঠোঁটে দোয়া।

তখন মনে হয়—

জীবনডা তো
আসলে খুবই ছোট।

একটা ফোন করা যায়।

একবার দেখা করা যায়।

একটা কথা কওয়া যায়—

“তুই কেমন আছস?”

তবু আমরা কই না।

অভিমান করি।

অহংকার করি।

ভয় পাই।

অপেক্ষা করি।

তারপর একদিন
দেখি—

অপেক্ষা করার মানুষডাই নাই।

---

এই শহরের হেরেক মোড়ে
আমি তোরে খুঁজি।

ব্রহ্মপুত্রের ঘাটে খুঁজি।

চায়ের দোকানে খুঁজি।

পুরান গলিতে খুঁজি।

বৃষ্টির পানিতে খুঁজি।

শীতের কুয়াশায় খুঁজি।

গ্রীষ্মের ধুলায় খুঁজি।

কাশবনের দোলায় খুঁজি।

নৌকার মাঝির গলায় খুঁজি।

হাটের ভিড়ে খুঁজি।

কোথাও তুই নাই।

অথচ তোর না-থাকাডা
সবখানেই আছে।

---

একদিন
একটা মাইয়া লাল শাড়ি পইরা
ব্রহ্মপুত্রের পাড় দিয়া
হাঁইটা যাইতেছিল।

দূর থেইকা
তোর মতো লাগল।

আমি থাইমা গেলাম।

বুকের ভিতর
কেমন জানি ধক কইরা উঠল।

মাইয়াডা পেছন ফিরল।

দেহি—

তুই না।

আমি তখন
নিজের কাছেই হাইসা কইলাম—

“বোকা মানুষ,
তুই এখনো তোরে খুঁজস?”

হ্যাঁ।

খুঁজি।

কারণ মানুষরে
ভুইলা থাকা যায়,
কিন্তু মনের ভিতর
যে মানুষডারে একবার
বসাইয়া ফেলা যায়—

তারে উঠানো যায় না।

---

কখনো মনে হয়,
তুই হয়তো আমার পাশ দিয়া
হাঁইটা গেছস।

আমি অন্যদিকে চাইয়া ছিলাম।

হয়তো কোনোদিন
একই ঘাটে দাঁড়াইয়া
আমরা দুইজন
একই নদীর দিকে চাইছিলাম।

তুই জানস না
আমি আছিলাম।

আমি জানি না
তুই আছিলি।

একই বাতাস
আমাগো দুইজনরে ছুঁইয়া গেছে।

একই নদীর পানি
দুইজনের চোখে
একই রকম আলো ফেলছে।

শুধু—

আমরা একে অপররে
দেখি নাই।

এইটাই কি দূরত্ব?

না।

দূরত্ব কিলোমিটারে নাই।

দূরত্ব আছে—

একটা না-পাঠানো মেসেজে,

একটা মুছা ফেলা নাম্বারে,

একটা “কেমন আছস?”
না-জিগাইবার ভিতরে,

একটা “চল দেখা করি”
না-কওয়া বিকালে,

আর একটা
“আমি তোরে এখনো ভালোবাসি”
না-বলা জীবনে।

---

মুঠোফোনে তোর নাম লিখি।

অনেকক্ষণ তাকাইয়া থাকি।

ভাবি—

“কই আছস?”

লিখি।

আবার মুছা দিই।

ভাবি—

“তোরে মনে পড়ে।”

লিখি।

আবার মুছা দিই।

শেষে
স্ক্রিনডা নিভা যায়।

ঘর অন্ধকার হয়।

আর আমার ভিতরের
একটা আলো
আরও একটু নিভা যায়।

---

কিছু সম্পর্ক
ভাঙে না।

খালি কথা কওয়া বন্ধ হয়।

কিছু মানুষ
হারায় না।

খালি কাছে থাইকাও
দূরের মানুষ হইয়া যায়।

কিছু ভালোবাসা
শেষ হয় না।

খালি তার
কোনো ঠিকানা থাকে না।

তুই আর আমি
তেমনই একটা গল্প।

যার শুরুডা মনে আছে।

মাঝের দিনগুলা মনে আছে।

ব্রহ্মপুত্রের পাড়ের
কিছু বিকাল মনে আছে।

বৃষ্টির দিনের
কিছু কথা মনে আছে।

চায়ের কাপের ধোঁয়া মনে আছে।

শুধু শেষডা—

কেউ লেখে নাই।

---

হয়তো একদিন
হঠাৎ তুই আইসা কইবি—

“এতদিন কই আছিলি?”

আমি হাইসা কইমু—

“এইহানেই তো আছিলাম।”

তুই জিগাইবি—

“তাইলে দেখা হইল না ক্যান?”

আমি কী কইমু?

কইমু—

শহরডা আমগো
একই ঠিকানা দিছিল,

খালি একই সময় দেয় নাই।

নাকি কইমু—

আমরা দুইজনেই
একে অপররে খুঁজছি,

খালি একই সময়ে না।

নাকি কিছুই কইমু না।

চুপ কইরা
তোর দিকে চাইয়া থাকমু।

কারণ কিছু প্রশ্নের
কোনো জবাব নাই।

জবাব দিলে
হয়তো গল্পডাই শেষ হইয়া যাইব।

আমি চাই না
তুই আমার গল্পের শেষ হস।

তুই বরং
আমার অসমাপ্ত প্রশ্ন হইয়া থাক।

---

তুই হইস—

শীতের সকালের
ব্রহ্মপুত্রের কুয়াশা,

যারে দেখা যায়,
ছোঁয়া যায় না।

তুই হইস—

বর্ষার নদী,
যারে থামানো যায় না।

তুই হইস—

কাশবনের বাতাস,
যারে ধরা যায় না।

তুই হইস—

ময়মনসিংহের বিকাল,
যারে ভুলা যায় না।

তুই আমার জীবনের
একটা অসমাপ্ত ঋতু।

---

তোর কথা মনে পড়লে
আজও শহরের দিকে চাইয়া থাকি।

দেহি—

বিলবোর্ড জ্বলতেছে।

ম্যানহোল খোলা।

অ্যাম্বুলেন্স ছুটতেছে।

হাসপাতালের সামনে ভিড়।

ফুটপাতে মানুষ ঘুমাইতেছে।

কেউ প্রেম করতেছে।

কেউ বিচ্ছেদের কষ্টে কান্দতেছে।

কেউ বাড়ি ফিরতেছে।

কেউ কারও অপেক্ষায় আছে।

আর দূরে—

ব্রহ্মপুত্র
নিজের মতো বইয়া যাইতেছে।

কাউরে কিছু না কইয়া।

এই নদীডা জানে—

কত মানুষ
তার পাড়ে বইসা
কান্দছে।

কত মানুষ
ভালোবাসার কথা
কইতে পারে নাই।

কত মানুষ
একজন মানুষরে
ভুইলা যাওনের ভান করছে।

তুইও হয়তো
কোনোদিন
এই নদীর পাড়ে বইসা
আমারে মনে করছস।

হয়তো না।

---

আমি জানি না
তুই অহন কারে ভালোবাসস।

জানি না
কার হাত ধইরা
তুই রাস্তা পার হস।

জানি না
কার লগে বইসা
তুই চা খাস।

জানি না
রাইতে ঘুমাইবার আগে
কার কথা তোর মনে পড়ে।

খালি এইটুকু জানি—

কখনো যদি হঠাৎ
তোর আমার কথা মনে পড়ে,

তাইলে ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে
একবার আইসা দাঁড়াইস।

কাশফুলের দিকে চাইস।

নদীর পানির দিকে চাইস।

হয়তো দেখবি—

একজন মানুষ
এখনো কোনো এক ঘাটে
তোর কথা ভাবতেছে।

সে আমি নাও হইতে পারি।

তবু মনে কইরো—

হয়তো আমি।

---

কারণ কিছু মানুষ
শরীরে দূরে চইলা গেলেও
মনের শহর থেইকা
কখনো চইলা যায় না।

তুই এই শহরেই আছস—

এইটুকু জানাই
আমার সবচাইতে বড় সান্ত্বনা।

আর তোরে দেখি না—

এইটুকুই
আমার সবচাইতে বড় আক্ষেপ।

তবু আক্ষেপ একটাই—

এই শহরডা রোজ
আমারে তোর কথা মনে করাইয়া দেয়।

বৃষ্টির শব্দে,

রাইতের বাতাসে,

ব্রহ্মপুত্রের ঢেউয়ে,

কাশফুলের দোলায়,

চায়ের কাপে,

অচেনা কারও হাসিতে,

পুরান কোনো গানে,

ঘাটের সিঁড়িতে,

নিভা যাওয়া বাত্তিতে—

সবখানেই
তোর ছায়া আছে।

খালি তুই নাই।

---

তাই রোজ
একই শহরে হাঁটি।

একই আসমানের নিচে।

একই বাতাস বুকের ভিতর নিয়া।

একই নদীর পাড় দিয়া।

একই রাস্তায়
তোরে না-পাওয়ার অভ্যাস করি।

তুই হয়তো জানস না—

তোরে না দেইখাও
কীভাবে একজন মানুষ
রোজ তোরে দেইখা যাইতে পারে।

তোর লগে কথা না কইয়াও
কীভাবে সারাদিন
তোর লগেই কথা কওয়া যায়।

তোরে ছুঁইতে না পারলেও
কীভাবে একজন মানুষ
সারাজীবন
একটা স্পর্শের স্মৃতি
বুকের ভিতর বুইনা বেড়ায়।

এই শহর আমারে
অনেক কিছু শিখাইছে—

ভিড়ের মইধ্যে একলা থাকতে,

কথার মইধ্যে চুপ থাকতে,

হাসির আড়ালে কান্দতে,

ভালোবাসার পরেও
অভিমান না করতে।

খালি একটা জিনিস
আজও শিখতে পারি নাই—

তোরে ভুইলা থাকতে।

---

হয়তো কোনোদিন
শহরডা বদলাইয়া যাইব।

নতুন রাস্তা হইব।

পুরান বিলবোর্ড নামব।

ম্যানহোল বন্ধ হইব।

হাসপাতালের সামনে
ভিড় কমব।

মানুষের জীবন বদলাইব।

ব্রহ্মপুত্রও হয়তো
তার গতিপথ বদলাইব।

কিন্তু আমার ভিতরের
একটা পুরান রাস্তা
তোর কাছেই যাইব।

হেই রাস্তায়
কোনো ট্রাফিক থাকব না।

কোনো সিগন্যাল থাকব না।

কোনো বিলবোর্ড থাকব না।

কোনো শহরের কোলাহল থাকব না।

খালি—

তুই থাকবি।

আর আমি থাকমু।

অনেক বছর পরেও
হেই রাস্তায় দাঁড়াইয়া
একবার খালি কইমু—

“তুই এই শহরেই আছিলি,
তবু এতদিন
দেখা হইল না ক্যান?”

হয়তো তুই হাসবি।

হয়তো কিছুই কইবি না।

হয়তো কইবি—

“তুই তো ডাকস নাই।”

আমি চুপ কইরা থাকমু।

কারণ সত্যিটা হইল—

আমি ডাকিনি।

তুইও ডাকস নাই।

আমগো মাঝখানে
যেই শহরডা আছিল,
হেই শহর রোজ
আমগো দুইজনের হইয়া
অনেক কথা কইছে।

খালি একবারও কই নাই—

“তোরা দুইজন
একবার একে অপরের কাছে
ফিরা যা।”

এই লাইগাই
আমার এত আক্ষেপ।

---

তুই এই শহরেই আছস—

তবু তুই আমার নস।

তোরে দেখি না—

তবু তোর ছায়া দেহি।

তোর লগে কথা কই না—

তবু তোর নীরবতা শুনি।

তোর হাত ধরি না—

তবু তোর হাতের উষ্ণতা
আজও আমার স্মৃতির মইধ্যে রইছে।

আর রোজ
শহরের ভিড় পার হইয়া
আমি যখন একলা বাড়ি ফিরি,

তখন মনে হয়—

আজও যদি তুই
একবার পথ আটকাইয়া দাঁড়াইতি,

একবার খালি কইতি—

“চল,
ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে
একটু হাঁটি।”

তাইলে হয়তো
এই লম্বা জীবনটার
সব ক্লান্তি
ভুইলা যাইতাম।

---

কিন্তু তুই এই শহরেই আছস।

আমি জানি।

আর আমি
এই শহরেই আছি।

তুইও হয়তো জানস।

খালি আমগো দুইজনের
ঠিক মাঝখানে দাঁড়াইয়া আছে
একটা লম্বা নীরবতা।

যেই নীরবতা
কোনো বিলবোর্ড ঢাকে না,

কোনো চিঠি ভাঙতে পারে না,

কোনো গান পার হইতে পারে না,

ব্রহ্মপুত্রের স্রোতও
যেই নীরবতা
ভাসাইয়া নিতে পারে না।

তাই—

যে কথাডা তোরে কওনের কথা,
হেই কথাডা আজও কই না।

যে চিঠিডা তোরে লেখনের কথা,
হেই চিঠিডা আজও পাঠাই না।

যে গানডা তোর লগে গাওনের কথা,
হেই গানডা আজও একলা গাই।

আর যে মানুষডারে
একদিন খুব কাছে চাইছিলাম—

হেই মানুষডারেই
আজ সবচাইতে দূর থেইকা ভালোবাসি।

তুই এই শহরেই আছস—

এইটুকু সত্য
আমারে বাইচা রাখে।

আর তোরে দেখি না—

এইটুকু সত্য
রোজ আমারে
আরও একটু কইরা ভাইঙা দেয়।

তবু আক্ষেপ একটাই—

এই শহরডা রোজ
আমারে তোর কথা মনে করাইয়া দেয়,

ব্রহ্মপুত্রের ঢেউয়ে
তোর নাম লিখে দেয়,

কাশফুলের দোলায়
তোর ছায়া দেখায়,

বৃষ্টির ফোঁটায়
তোর স্পর্শ মনে করায়—

শুধু তোরেই
আমার সামনে আইনা
দাঁড় করায় না।

আর আমি—

তোর অপেক্ষায় নাই,
তবু অপেক্ষা করি।

তোরে খুঁজি না,
তবু খুঁজতে ফিরি।

তোরে ডাকমু না,
তবু প্রতিটা নীরবতায়
তোর নামই শুনি।

কারণ কিছু আক্ষেপ
কখনো শেষ হয় না—

খালি মানুষ
হেই আক্ষেপের লগে
বাইচা থাকতে শেখে।

আর কিছু মানুষ—

শহর বদলাইয়া গেলেও,

নদীর গতিপথ বদলাইয়া গেলেও,

সময় বদলাইয়া গেলেও,

জীবন বদলাইয়া গেলেও—

মনের ভিতর
একই জায়গায়
দাঁড়াইয়া থাকে।

তুইও তেমনই একজন—

আমার শহরের
সবচাইতে কাছে থাকা,

আমার নদীর
সবচাইতে ওপারের,

আমার জীবনের
সবচাইতে না-পাওয়া,

আর আমার মনের
সবচাইতে দূরের মানুষ।

গল্প—মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজুউৎসর্গ — কিশোরগঞ্জ এর হুমায়ূন কবির ভাইকেআসুন, গল্প করি।অনেক দিন আমরা গল্প করি না।প্রাণ খুলে...
23/08/2026

গল্প
—মুন্সী নাহীদ ফরহাদ রাজু

উৎসর্গ — কিশোরগঞ্জ এর হুমায়ূন কবির ভাইকে

আসুন, গল্প করি।
অনেক দিন আমরা গল্প করি না।
প্রাণ খুলে কথা বলি না।
মনের দরজাটা খুলে বসে
একটু সময় নিয়ে
একে অপরের কথা শুনি না।

আমাদের এতই ব্যস্ততা!
সকাল আসে কাজের তাড়ায়,
দুপুর কেটে যায় ব্যস্ততায়,
সন্ধ্যা নামে ক্লান্ত হয়ে,
আর রাত এসে প্রশ্ন করে—
“আজ সারাদিন কার সঙ্গে
মন খুলে কথা বললে?”

উত্তরটা আমাদের জানা।
কারও সঙ্গে না।
আমরা এখন কথা বলি প্রয়োজনের সময়।
খোঁজ নিই প্রয়োজনের সময়।
মেসেজ দিই প্রয়োজনের সময়।
এমনকি কাছের মানুষটার সঙ্গেও
কথা বলার আগে মনে হয়—
“সময় আছে তো?”

অথচ একটা সময় ছিল,
কথা বলার জন্য কোনো কারণ লাগত না।

কারও বাড়ির উঠানে বসে,
চায়ের দোকানের বেঞ্চে,
রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে,
কিংবা কোনো এক বিকেলের নির্জন বারান্দায়—
গল্প শুরু হয়ে যেত।

কী নিয়ে গল্প করতাম,
আজ আর মনে নেই।

তবু মনে আছে—
গল্পগুলো ভালো ছিল।

সেই গল্পে বড় কোনো বিষয় থাকত না।
দেশ বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকত না,
জীবনের বড় কোনো সমাধানও থাকত না।

ছিল শুধু আমরা।

ছিল কিছু হাসি,
কিছু দুঃখ,
কিছু স্বপ্ন,
কিছু অভিমান,
আর ছিল অকারণ অনেক কথা।

একটা গল্প শেষ হতো,
আরেকটা গল্প শুরু হতো।

একজন বলত—
“শোন, একটা কথা বলি?”

অন্যজন বলত—
“বলো।”

তারপর সেই কথার ভেতর থেকে
আরও দশটা কথা বেরিয়ে আসত।

এভাবেই সন্ধ্যা রাত হতো।

চায়ের কাপ কখন ঠান্ডা হয়ে যেত,
সেদিকে কারও খেয়াল থাকত না।

ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যেত,
কিন্তু আমাদের গল্প
কোথাও যেন থামতে চাইত না।

আজ সেই দিনগুলো কোথায়?

কোথায় সেই মানুষগুলো?

কোথায় সেই আড্ডা?

কোথায় সেই অকারণ হাসি?

সব আছে—
শুধু আমরা নেই।

আমরা আছি,
কিন্তু আগের মতো নেই।

সময় আমাদের বদলে দিয়েছে।
দায়িত্ব আমাদের বদলে দিয়েছে।
জীবনের হিসাব-নিকাশ
আমাদের অনেক বেশি হিসেবি করে দিয়েছে।

আগে মানুষকে সময় দিতাম,
এখন সময় খুঁজি।

আগে দেখা করার জন্য
একটা অজুহাত বানাতাম,
এখন দেখা না করার জন্য
অজুহাত খুঁজি।

আগে দূরের মানুষকে
কাছের মানুষ বানাতে সময় লাগত না,
এখন কাছের মানুষও
কখন যেন দূরের হয়ে যায়।

কী অদ্ভুত জীবন!

আমাদের হাতে আজ
যোগাযোগের কত মাধ্যম—
তবু কথা কমে গেছে।

মোবাইলের স্ক্রিনে
শত শত নাম,
হাজার হাজার পরিচিত মুখ,
অসংখ্য বার্তা—

তবু মন খুলে বলার মতো
মানুষের সংখ্যা
দিন দিন কমে যাচ্ছে।

তাই মাঝে মাঝে মনে হয়,
আসুন, একটু থামি।

সব ব্যস্ততা সরিয়ে রাখি।

কিছু সময়ের জন্য
জীবনের হিসাব বন্ধ রাখি।

চলুন, ফিরে যাই
সেই পুরোনো দিনগুলোর কাছে।

যে দিনগুলো তখন
আমাদের কাছে খুব সাধারণ ছিল,
আজ সেগুলোই
সবচেয়ে অসাধারণ মনে হয়।

মনে আছে সেই বিকেল?

সূর্যটা একটু হেলে পড়েছে।
আকাশে মেঘের ভেলা।
দূরে আজানের শব্দ।
কেউ চা নিয়ে এসেছে।

তারপর গল্প।

কেউ পুরোনো প্রেমের কথা বলছে,
কেউ চাকরি পাওয়ার স্বপ্নের কথা,
কেউ সংসারের দুঃখ লুকিয়ে
হাসির গল্প করছে।

কেউ হয়তো চুপ করে আছে।

তবু সে-ও গল্পের অংশ।

কারণ কিছু মানুষ
কথা না বলেও
আড্ডাকে পূর্ণ করে রাখে।

আজ তাদের কথা মনে পড়ে।

কেউ আছে কাছে,
কেউ দূরে,
কেউ হয়তো আর নেই।

কিন্তু স্মৃতির ভেতর
সবাই আছে।

কেউ কেউ তো এমনভাবে থেকে যায়
যে বছর পেরিয়ে যায়,
দশক পেরিয়ে যায়,
জীবন বদলে যায়—

তবু তাদের কথা মনে পড়লে
মনে হয়,
এই তো সেদিনের কথা!

এই তো সেদিন
আমরা পাশাপাশি বসেছিলাম।

এই তো সেদিন
কেউ একজন বলেছিল—
“জীবনটা একদিন ঠিক সুন্দর হয়ে যাবে।”

তখন বিশ্বাস করেছিলাম।

আজও করি।

শুধু সুন্দর হওয়ার সংজ্ঞাটা বদলে গেছে।

এখন বুঝি,
সুন্দর জীবন মানে
বড় বাড়ি নয়,
বড় গাড়ি নয়,
অনেক টাকা নয়।

সুন্দর জীবন মানে—
কয়েকজন আপন মানুষ।

যাদের কাছে
নিজেকে লুকাতে হয় না।

যাদের কাছে
হাসি যেমন সত্যি,
কান্নাটাও তেমন সত্যি।

যাদের সামনে
চুপ করে থাকলেও
কোনো অস্বস্তি হয় না।

যাদের কাছে
“কেমন আছো?” প্রশ্নটা
শুধু সৌজন্য নয়—
সত্যিকারের খোঁজ।

আসুন,
আজ সেই মানুষগুলোর কথা বলি।

যারা আমাদের জীবনে এসেছিল
কোনো ঘোষণা ছাড়াই,
কিন্তু চলে যাওয়ার পর
একটা বিশাল শূন্যতা রেখে গেছে।

আসুন,
সেইসব বন্ধুত্বের কথা বলি
যেগুলো কোনো কাগজে লেখা ছিল না,
কোনো প্রতিশ্রুতিতে বাঁধা ছিল না—

তবু ছিল।

খুব আপন ছিল।

আসুন,
সেইসব ভুলের কথাও বলি
যেগুলো আজ মনে পড়লে
হাসি পায়।

সেইসব দুঃখের কথা বলি
যেগুলো একসময়
অসহ্য মনে হয়েছিল,
আজ সেগুলোও
জীবনের গল্প হয়ে গেছে।

জীবন আসলে গল্প ছাড়া কিছু নয়।

কিছু অধ্যায় আনন্দের,
কিছু অধ্যায় কষ্টের,
কিছু অধ্যায় অসমাপ্ত,
আর কিছু অধ্যায়
আমরা যতই চাই,
আর কখনো খুলতে পারি না।

তবু স্মৃতির একটা দরজা থাকে।

সেই দরজা খুললেই
পুরোনো মানুষগুলো ফিরে আসে।

ফিরে আসে পুরোনো বিকেল,
পুরোনো রাস্তা,
পুরোনো চায়ের দোকান,
পুরোনো হাসি।

ফিরে আসে সেই আমরাও—
যারা তখনও জানতাম না
একদিন এসবের জন্য
এত মন খারাপ হবে।

তাই আসুন,
আজ স্মৃতিচারণ করি।

হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর,
হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর,
হারিয়ে যাওয়া আড্ডাগুলোর।

যে কথাগুলো বলা হয়নি,
আজ সেগুলো বলি।

যে অভিমানগুলো জমে আছে,
আজ সেগুলো ভুলে যাই।

যাদের সঙ্গে অনেক দিন কথা হয়নি,
তাদের একবার মনে করি।

হয়তো ফোন করা সম্ভব নয়,
হয়তো দেখা করা সম্ভব নয়—

তবু মনে তো করা যায়!

কারণ কিছু সম্পর্ক
দূরত্বে শেষ হয় না।

কিছু মানুষ
কথা না হলেও
মনের ভেতর কথা বলে যায়।

আর কিছু গল্প—

কখনো শেষ হয় না।

শুধু গল্পকার বদলে যায়,
সময় বদলে যায়,
শ্রোতা বদলে যায়।

গল্পটা থেকে যায়।

তাই আজ কোনো তাড়া নেই।

আজ কাজের কথা নয়,
দায়িত্বের কথা নয়,
জীবনের হিসাবের কথা নয়।

আজ শুধু গল্প হবে।

এক কাপ চা থাকবে।

হয়তো চা ঠান্ডা হয়ে যাবে।

হয়তো রাত অনেক হবে।

হয়তো কেউ বলবে—
“চল, আজ থাক।
আবার কোনো দিন গল্প হবে।”

কিন্তু আমরা জানি—
সেই “কোনো দিন”
সবসময় আসে না।

তাই আজই হোক।

আজই ফিরে আসি
কিছু পুরোনো দিনের কাছে।

আজই বসি
আপন মানুষগুলোর পাশে।

আজই বলি—

“কেমন আছো?”

শুধু প্রশ্ন করার জন্য নয়,
উত্তরটা শোনার জন্য।

আসুন, গল্প করি।

অনেক দিন পর
প্রাণ খুলে গল্প করি।

হয়তো গল্প করতে করতে
হঠাৎ কোনো এক পুরোনো স্মৃতি
চোখের সামনে এসে দাঁড়াবে।

হয়তো আমরা হেসে উঠব।

হয়তো কোনো এক সময়
চোখটা একটু ভিজে যাবে।

তাতে ক্ষতি কী?

কিছু কান্নাও তো
গল্পেরই অংশ।

কিছু হাসিও।

কিছু মানুষও।

কিছু হারিয়ে যাওয়াও।

আর কিছু ফিরে পাওয়াও।

জীবন যদি সত্যিই
একটা গল্প হয়—

তাহলে আসুন,
আজ তার সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়টা
একসঙ্গে লিখি।

কোনো বড় কথা নয়।

কোনো বড় স্বপ্ন নয়।

শুধু একটু সময়।

একটু আপনজন।

একটু মন খুলে কথা বলা।

আর অনেক দিন পর
নির্ভেজাল কিছু গল্প।

আসুন, গল্প করি।

অনেক দিন আমরা গল্প করি না।

Address


1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nahid Farhad Raju Journalist posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed Advertising & Marketing Company?

Share