15/08/2025
শুধু নামের ফ্রিল্যান্সার হলেই হবে না, কাজের ফ্রিল্যান্সার ও হতে হবে আপনাকে৷ একজন ফ্রিল্যান্সারের যে ২০ টি গুণাবলি থাকা প্রয়োজনীয় আজ তা নিয়ে বলো আপনাদের।
আসুন শুরু করি।
1. দক্ষতা (Skill) - যে কাজে ফ্রিল্যান্স করবেন, সেই বিষয়ে পাকা দক্ষতা থাকতে হবে৷ হাতুড়ে ডক্টরের মতো শুধু একটু একটু নলেজ থাকলে চলবে না৷ আপনাকে হতে হবে এক্সপার্ট।
2. টাইম ম্যানেজমেন্ট - সময়মতো কাজ শেষ করার অভ্যাস থাকতেই হবে৷ একজন ফ্রিল্যান্সারের যেহেতু অনেক কাজ একই সময়ে হাতে থাকে তাই আপনাকে টাইম ম্যানেজমেন্ট জানতে হবে, যেনো এক কাজের জন্য আরেক কাযে লেট না হয়।
3. প্রফেশনাল কমিউনিকেশন - ক্লায়েন্টের সাথে পরিষ্কার, ভদ্র ও প্রফেশনালভাবে কথা বলার গুণ থাকতে হবে৷ ক্লাইন্ট মানে ক্লাইন্ট, তাকে ক্লাইন্টের মতই ট্রিট করতে হবে৷ সে আপনার বন্ধু নয়। ওকে?
4. অ্যাডাপ্টেবলিটি (Adaptability) - নতুন টুল, ট্রেন্ড বা কাজের ধরনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতা থাকতে হবে৷
5. প্রবল শেখার ইচ্ছা - প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার মনোভাব থাকতে হবে৷ কারণ এই সেক্টর দ্রুত পরিবর্তনশীল৷ কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন কিছু না কিছু শিখুন নিজেকে আপডেট রাখুন।
6. প্রবল ধৈর্য - প্রোজেক্ট বা পেমেন্ট দেরি হলেও ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামলানো অনেক বড় গুণ। এই জায়গায় বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সার ধরা খায়, শুরুর দিকে আমিও খেয়েছিলাম এক ইন্ডিয়ানের কাছে৷ সে গল্প আরেকদিন বলবো নে। 😑
7. Problem Solving গুণাবলি- চ্যালেঞ্জ আসলে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে৷ অনেক সময় একটা সমস্যার সমাধান করতে গেলে আরো ১০ টা নতুন সমস্যা সামনে আসে৷ এগুলা দেখলে হতাশ হওয়া যাবে না।
8. নেটওয়ার্কিং দক্ষতা - নতুন ক্লায়েন্ট বা সুযোগ খুঁজে বের করার ক্ষমতা থাকা জরুরী। জাস্ট নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে মাত্র ৫/৬ মাসে আমি অনেকের ভাগ্য বদলাতে দেখেছি৷
9. স্বচ্ছতা - কাজের অবস্থা, সময় ও ডেলিভারি নিয়ে সৎ থাকবেন অলওয়েজ। যা কথা দিবেন তা-ই ক্লাইন্টকে ডেলিভার করবেন। কথায় কাজে যার মিল নেই তাকে কেউ বিশ্বাস করে না৷
10. গুণগত মান বজায় রাখা (Quality) - সব সময় ক্লাইন্টকে বেস্ট সার্ভিস দিবেন৷ এবং আফটার সেলস সার্ভিসের দিকে বেশি ফোকাস করবেন৷ কাজ শেষ হওয়ার পর ক্লাইন্টকে ভুলে যাবেন না৷ তাহলে ক্লাইন্ট পরের প্রোজেক্ট দেয়ার সময় ও আপনাকে ভুলে যাবে। ওকে?
11. নেগোশিয়েশন স্কিল - ন্যায্য রেট ঠিক করবেন সব সময়৷ অতিরিক্ত বেশিও না, কম ও না৷
একটা প্রবাদ আছে অনেক টা এমন,
হয় তুমি কাজ টা ফ্রি -তে করো না হয় ফুল প্রাইসে করো
কিন্তু কম দামে করিও না৷
এটা মাথায় রাখবেন৷ ওকে?
12. রিভিউ থেকে শেখা - ভালো-মন্দ ফিডব্যাক সব গুলোই পজিটিভলি নিবেন৷ কোনো ক্লাইন্ট বাজে ফিডব্যাক দিলে তার প্রতি খারাপ বিহেভিয়ার করবেন না৷ বরং সে কেনো খারাপ রিভিউ দিলো খুঁযে বের করে নিজেকে ইম্প্রুভ করবেন।
13. ফোকাসড মাইন্ডসেট - কাজে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করবেন৷ বিভ্রান্তি এড়িয়ে যাবেন৷ যেখানে নেগেটিভ মানুষ তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখবেন
14. পজিটিভ অ্যাটিচিউড - চ্যালেঞ্জ ও ব্যর্থতাকে পজিটিভ ভাবে দেখবেন৷ এটা যে কত বড় গুণ তা এখন আমি বুঝি৷ কিন্তু তা আজ থেকে দেড় বছর আগেও আমার ছিলো না৷
বাট নাউ, আমি খুব চিল। এবং এমন টা-ই যেনো থাকতে পারি দুয়া করবেন৷ ♥️
15. প্রফেশনাল ব্র্যান্ডিং - প্রোফাইল, পোর্টফোলিও ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে ভালোভাবে উপস্থাপন করবেন৷ এটা না করে ফ্রিল্যান্সিং করতে নামলে আপনি ফেইল৷ এটা লাগবেই ১০০%
যদি পোর্টফলিও না থাকে আপনি সব জায়গা থেকে ঝরে পরবেন লিখে রাখুন।
16. ফিনান্স ম্যানেজমেন্ট - আয়-ব্যয় সঠিকভাবে পরিকল্পনা করবেন৷ টাকা আসলেই টাকা উড়াবেন না৷
১০০ টাকা আর্নিং হলে ৪০ টাকা জমাবেন আর ৬০ টাকা খরচ করবেন৷ প্লান বি রেডি করবেন৷ সেভিংস এর টাকা দিয়ে প্লান বি শুরু করবেন৷ মনে রাখবেন ফ্রিল্যান্সিং হলো ঢেউ এর মতো৷ যখন টাকা আসে তো আসেই আর না আসলে তার ছায়া টুকুও দেখা যায় না।
17. প্রোঅ্যাকটিভ হওয়া - ক্লায়েন্ট বলার আগেই প্রয়োজন বুঝে কাজ করবেন৷ অনেক ক্লাইন্ট বুঝিয়ে কথা বলতে পারে না৷ তখন আপনাকে বিষয়টা বুঝে নিতে হবে৷
18. রিলায়েবিলিটি - যা বলবেন, তা সময়মতো করে দেখাবেন৷ এতে আপনার উপর মানুষ ভরসা করবে।।
19. মাল্টিটাস্কিং দক্ষতা - একাধিক প্রোজেক্ট একসাথে পরিচালনা করতে পারাকে বুঝায়৷ তবে সব কাজ একা করতে গিয়ে কাজ গুলোতে যেনো ঝামেলা না তৈরি হয়৷ কেমন?
20. গোপনীয়তা রক্ষা- ক্লাইন্টরা অনেক ইনফরমেশন দিবে আপনাকে ভরসা করে৷ চেষ্টা করবেন তাদের সিক্রেট বিষয় গুলো সিক্রেট রাখতে৷ কখনোই তার ইনফরমেশন লিক করবেন না৷ এটা আমানত আর আমানতের খিয়ানত করা মুনাফিকের লক্ষণ।