অবচেতনভাবে আমরা হৃদয়ে আনুষ্ঠানিকতাকে ধারণ করি । আর স্বাভাবিক অনুভূতি থেকে দূরে সরে যাই। লাশের কফিনে ফুল দিয়ে ক্যামেরার সামনে ছবি তুলে আত্মতৃপ্তিতে ভুগি,লাশের রাজনীতিতে শামিল হই। অথচ নিহতের পরিবারের খবর রাখার প্রয়োজন বোধ করি না। সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলিনা। যদি কেউ বলার দু:সাহস করে তবে সে অর্ধসত্য বলছে বলে টিপ্পনি কাটি। এটা আমাদের মজ্জাগত না হলে ও অভ্যাসগত। আমাদের রাজনীতিবিদরা ভালো বলতে পা
রবেন কতটুকু দেশের জন্য আর কতটুকু নিজের জন্য রাজনীতি করেন। দেশকে নিয়ে অনেক বুলি আমরা আওড়াই কিন্তু দেশকে আদৌ কি ভালোবাসি?
আমরা নিজ দেশের চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যঙ্গ করি অথচ ভারতীয় চলচ্চিত্রে আমাদের প্রাণ জুড়িয়ে যায়। পার্শবর্তী দেশে আমাদের কোন চ্যানেল চালানোর অনুমতি নেই। অথচ তাদের চ্যানেলগুলোর সিরিয়াল আমরা দিনরাত দেখি। আর মুখে দেশপ্রেমের কথা বলি। এটাই কি দেশপ্রেমের লক্ষণ?
গুজব -গুঞ্জন আর বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে কার আগে কে সামাজিক যোগাযোগ সাইটে শেয়ার করব তা নিয়ে রীতিমত আমরা হুমড়ি খেয়ে পড়ি। কিন্তু একজন বিস্ময়কর ক্ষুদে লেখক সারিনাকে নিয়ে আমরা তেমন একটা আত্মহারা হই না। দেশের আনাচে কানাচে যত নেতিবাচক সংবাদ আছে তার পেছনে আমরা ছুঁটি। গণমাধ্যমের কর্মীরাও আমাদের ছোটায়। অথচ ইতিবাচক সংবাদকে আমরা অবলিলায় অবজ্ঞা করি। জাতিসংঘের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ ‘আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে বাংলাদেশের নারী আমিরা হককে আমরা কজনইবা চিনি। যতটা চিনি কুখ্যাত বাংলা ভাইকে। গণমাধ্যমই আমাদের চিনিয়েছে। কিন্তু এটাই কি হওয়ার কথা ছিল? সকল গণমাধ্যমে একই ঘটনার একই ধরণের ছবি-শিরোনাম ও সংবাদ বিশ্লেষণ হয়। ঘটনার পেছনের ঘটনা নিয়ে খুব একটা অনুসন্ধানী রিপোর্ট কি আমরা দেখতে পাই? বিনোদন মানেই বিদেশি নায়িকার অশ্লীল -অপ্রাসঙ্গিক ছবি, অতি ব্যক্তিগত খবর নিয়ে মাতামাতি। অথচ দেশীয় শিল্পীদের ভালো কাজগুলো আমরা কজনইবা তুলে ধরি?
আমরা যদি দেশকে ভালবাসি, দেশপ্রেম নামক শব্দটিকে হৃদয়ে লালন করি তাহলে উপরের জিজ্ঞাসাগুলোর জবাব আমাদের কাছে আছে। এরকম আরও অনেক প্রশ্নের উত্তরের সন্ধানে কয়েকজন স্বপ্নচারী মানুষকে সাথে নিয়ে প্রতিক্ষণের পথচলা । আসুন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা দেখানোর জন্য নয় ; অন্তরের অন্তস্থল থেকে অঙ্গিকারবদ্ধ হয়ে দেশপ্রেমকে জাগিয়ে তুলি। চেতনে -অবচেতনে দেশকে ভালেবেসে দেশমাতৃকার ছবি হৃদয়ে ধারণ করে সামনে এগিয়ে চলি প্রতিক্ষণ ।