23/09/2025
সাহাবীদের যুগে বিয়ে
১. খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার বড় মেয়ে যাইনাব বিনতে মুহাম্মদ রাদিয়াল্লাহু আনহা। তিনি তাঁর মেয়েকে বিয়ে দেন আবুল আ'স ইবনে রাবি'র সাথে। যিনি ছিলেন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার বোন হালা বিনতে খুওয়াইলিদ রাদিয়াল্লাহু আনহার ছেলে।
অর্থাৎ, খাদিজা রা. তাঁর বোনের ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেন।
২. একজন নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিয়ে করার ইচ্ছে পোষণ করেন। তাঁর ইচ্ছের কথা জানান নিজের বোনকে। সেই বোন আবার তাঁর স্বামীর সাথে কথা বলেন— আমার বোন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিয়ে করার ইচ্ছে পোষণ করছে।
তখন সেই স্বামী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যান বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই প্রস্তাবে রাজি হন এবং সর্বশেষ বিয়ে করেন সেই নারীকে।
তিনি ছিলেন মাইমুনা বিনতে হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহা, তাঁর বোন লুবাবা বিনতে হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহা, বোনের স্বামী (বিয়ের ঘটক) আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চাচা।
৩. নিজেদের ঘরবাড়ি, সম্পদ সব ফেলে রেখে সাহাবীরা মদীনায় হিজরত করেন। হিজরতকারী সাহাবীদের মধ্যে দ্রুততম সময়ে নিজের পায়ে দাঁড়ান কোন সাহাবী? মুহাজির সাহাবীদের মধ্যে সর্বপ্রথম বিয়ে করেন কোন সাহাবী?
তিনি ছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
৪. সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী ছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু, অন্যতম গরীব ছিলেন বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু।
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ তাঁর বোন হালা বিনতে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ে দেন বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে।
৫. উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং সায়িদ ইবনে যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহু— দুজনই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী।
দুজনই একে অন্যের বোন বিয়ে করেন!
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বিয়ে করেন আতিকা বিনতে যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহাকে, সায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বিয়ে করেন ফাতিমা বিনতে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহাকে।
৬. সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিয়ে করেন কোন সাহাবী?
ইসলামে একসাথে ৪ স্ত্রীর অধিক রাখার অনুমতি নেই। কিন্তু, স্ত্রী যদি ইন্তেকাল করে, তালাক দেয়া হয়, তাহলে আরো বিয়ে করা যায়। অর্থাৎ, একসাথে সর্বোচ্চ ৪ জন স্ত্রী থাকতে পারেন। যার মানে, একজন পুরুষ চারের অধিক বিয়ে করা টেকনিকালি পসিবল।
সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিয়ে করেন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি অন্তত ১৫টি বিয়ে করেন।
৭. যাইনাব বিনতে জাহশ রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিয়ে হলে মদীনার সমাজে কানাঘুষা শুরু হয়। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সেটা এড্রেস করেছেন।
সবচেয়ে বেশি যেটা নিয়ে আলোচনা হয়, সেটা হলো পালকপুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে।
এর বাইরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্ট ছিলো।
যাইনাব বিনতে জাহশ রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সপ্তম স্ত্রী।
তবে, ইতোপূর্বে দুজন স্ত্রী ইন্তেকাল করেন— খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং যাইনাব বিনতে খুজাইমা রাদিয়াল্লাহু আনহা।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ৪ জন স্ত্রী জীবিত। সাওদা, আয়িশা, হাফসা এবং উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না।
অর্থাৎ, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাইনাব বিনতে জাহশ রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ে করেন, তখন তিনি ছিলেন একসাথে থাকা পঞ্চম স্ত্রী।
কিন্তু, ইসলামে তো একসাথে ৪ স্ত্রীর বিধান?
যার মানে দাঁড়ায়, আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য বিশেষ করে যতো ব্যতিক্রম নিয়ম রাখেন, তারমধ্যে অন্যতম ছিলো ৪ জনের অধিক স্ত্রী রাখা; যা যাইনাব রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে বিয়ের মাধ্যমে কার্যকর হয়।
৮. হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী আতিকা বিনতে যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন তাঁর চেয়ে প্রায় ২৬ বছরের বড়ো।
যায়িদ ইবনে হারিসা রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী উম্মে আইমান রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন তাঁর চেয়ে প্রায় ২০ বছরের বড়ো।
অর্থাৎ, স্ত্রীরা ছিলেন স্বামীদের তুলনায় ২০-২৬ বছরের বড়ো!
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর বয়স তখন ৫৫ বছর। তিনি বিয়ে করেন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মেয়ে উম্মে কুলসুম বিনতে আলী রাহিমাহাল্লাহকে। ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার মেয়ে উম্মে কুলসুমের বয়স তখন ১১ বছর।
স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য ছিলো ৪৪ বছর।
৯. দুজন সাহাবী ছিলেন প্রবাদপ্রতিম কাপল! তারা একে অন্যকে অনেক ভালোবাসতেন। স্বামী যখন আঘাতপ্রাপ্ত হলেন, অসুস্থ হলেন, তখন তিনি স্ত্রীর জন্য দুআ করলেন— আমার ইন্তেকালের পর আল্লাহ যেন তোমাকে আমার চেয়েও সেরা মানুষের স্ত্রী বানান!
স্ত্রী অবাক। আপনার চাইতে সেরা আর কে হতে পারে?
স্বামীর দুআ কবুল হয়।
তাঁর ইন্তেকালের পর তার স্ত্রীকে বিয়ে করেন খোদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
সেই স্ত্রী ছিলেন উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা।
১০. স্বামী-স্ত্রী একে অন্যকে এতো ভালোবাসতেন যে, তারা দুজন প্রতিজ্ঞা করেন, কেউ আগে ইন্তেকাল করলে অন্যজন আর বিয়ে করবেন না।
স্বামী আগে ইন্তেকাল করলেন।
তার স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন আর কেউ না, মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু; যিনি ছিলেন তৎকালীন খলিফা।
মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন সেই নারী সাহাবী। কারণ, তিনি তাঁর স্বামীর সাথেই জান্নাতে সংসার করার কমিটমেন্ট করেছিলেন।
সেই নারী ছিলেন উম্মে দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহা।
এখানে একটা ইন্টারেস্টিং ফুটনোট আছে। উম্মে দারদা তো মেয়ের নামে নাম হয়। অর্থাৎ, তার মেয়ে ছিলেন দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহা, মা উম্মে দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহা।
মা-মেয়ে দুজনকেই খলিফারা বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু, দুজনই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। মা প্রত্যাখ্যান করেন মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রস্তাব, আর মেয়ে প্রত্যাখ্যান করেন (মূলত মেয়ের বাবাই) ইয়াযিদ ইবনে মুআবিয়ার প্রস্তাব (প্রস্তাবের সময় ইয়াযিদ খলিফা ছিলো না)।
©