05/06/2026
সূরা আল-কাহফ (সূরা নং ১৮) কুরআনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূরা। সহীহ হাদিসে এর বেশ কিছু বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
১. জুমার দিনে সূরা কাহফ তিলাওয়াতের ফজিলত
রাসূল ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে একটি নূর (আলো) উদ্ভাসিত হবে।"
— Sunan al-Kubra, হাদিসটি বিভিন্ন মুহাদ্দিস হাসান বলে গ্রহণ করেছেন।
২. দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষা
রাসূল ﷺ বলেছেন:
"যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।"
— Sahih Muslim
অন্য বর্ণনায় এসেছে শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করার কথাও।
৩. নূর বা আলোর কারণ
জুমার দিনে এই সূরা পাঠ করলে আল্লাহ বান্দার জন্য বিশেষ নূরের ব্যবস্থা করেন, যা ঈমান ও হিদায়াতের পথকে উজ্জ্বল করে।
সূরা কাহফের প্রধান শিক্ষাসমূহ
সূরাটিতে চারটি বিখ্যাত ঘটনা রয়েছে, যা চার ধরনের বড় পরীক্ষার শিক্ষা দেয়:
আসহাবে কাহফ — ঈমানের পরীক্ষা।
দুই বাগানের মালিক — সম্পদের পরীক্ষা।
Musa ও Khidr-এর ঘটনা — জ্ঞানের পরীক্ষা।
Dhul-Qarnayn-এর ঘটনা — ক্ষমতার পরীক্ষা।
কখন পড়বেন?
জুমার দিনের সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোনো সময় পড়া যায়। অনেক আলেম বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর (জুমার রাত) থেকেও পড়াকে বৈধ বলেছেন।
উপসংহার
সহীহ হাদিস অনুযায়ী সূরা কাহফের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ফজিলত হলো:
জুমার দিনে পাঠ করলে নূর লাভ।
প্রথম বা শেষ ১০ আয়াত মুখস্থ ও পাঠ করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষা।
ঈমান, সম্পদ, জ্ঞান ও ক্ষমতার পরীক্ষায় সঠিক পথের শিক্ষা।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সূরা কাহফ বুঝে পড়া ও তার শিক্ষা অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন।