27/02/2026
Heartbeat_in_the_Dark
Writer: NJ_Keya
পর্ব -৪
(অনুমতি ছাড়া copy করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌ ❌ ❌। যদি copy কেউ করে ও তাহলে আমার পেইজকে mention দিবে ।)
তিনজন নিচে ড্রয়িং টেবিলে খাবার নিয়ে বসে আছে—জেভরানের অপেক্ষায়।
বাড়ি কেনার পর থেকে আজ পর্যন্ত ইহান, আয়ান, আরভিন আর জেভরান—এই চার বন্ধু কখনো একে অপরকে ছাড়া খাবার খায়নি। কারো যদি খুব বেশি খিদে পায়, কিংবা কেউ অসুস্থ থাকে, তবুও তারা চারজন একসাথেই খায়।
এই যেমন এখনই—
ইহান, আয়ান আর আরভিন—তিনজনেরই ভীষণ খিদে পেয়েছে। তবুও কেউ খাওয়া শুরু করেনি। সবাই জেভরানের জন্য অপেক্ষা করছে।
এই যুগে এসে এমন বন্ধুত্ব দেখা যায় না বললেই চলে।
এখনকার দিনের বন্ধুত্ব মানে—নিজের কাজ হাসিল করা। এর বাইরে আর কিছুই না। কাজ থাকলে বন্ধু, কাজ শেষ হলে অচেনা মানুষ। 😒😮💨
জেভরান বলেছিল, “৫ মিনিটে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসছি।”
আর সত্যিই ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সে ড্রয়িং টেবিলের কাছে এসে পৌঁছে যায়।
সবার দিকে তাকিয়ে বলে,
— কিরে, এভাবে তোরা বসে আছিস কেন?
একটু থেমে চেয়ারে বসতে বসতে আবার বলে,
— তোদের খিদে পায়নি? এত সুন্দর খাবার সামনে নিয়ে বসে থাকা যায় নাকি!
তিনজন জেভরানের দিকে তাকিয়ে আছে—‘থ’ মেরে। 😒😒
তাদের অবস্থা বুঝে জেভরান হালকা হাসে। তবে সেই হাসি কারো চোখে পড়ে না।
এবার সে জ্ঞানী মানুষের মতো ভাব ধরে নিয়ে বলে—
— তোদের দেখে তো মনে হচ্ছে খিদেই নেই।
তিনজন: 😒😒😒😒
— থাক, তোদের খেতে হবে না। আমি একাই সব খেয়ে নেব। আমার মন কিন্তু অনেক বড়, বন্ধুদের কষ্ট সহ্য হয় না। 🙃🙃
এই কথা শুনে তিনজন একসাথে চিৎকার করে ওঠে।
জেভরান তাড়াতাড়ি দুই হাত দিয়ে কান চেপে ধরে, মিটিমিটি হাসে। মনে মনে ভাবে—
“তিনজন রেগে গেছে রে… এখন আমার শান্তি।” 🤣🤣
তিনজন একসাথেই বলে ওঠে,
— সমস্যা কি তোর হ্যাঁ? সেই সকাল থেকে না খেয়ে তোর জন্য বসে আছি, আর তুই এসব বলছিস! 😡😡😡
একটু থেমে আবার বলে,
— আজ তোর খাওয়া বন্ধ। আমরা খাবো, তুই বসে বসে দেখবি। 😁😁😁
এই কথা শোনামাত্রই জেভরান খাবার নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেয়।
এইভাবেই হাসি-ঠাট্টা, ঝগড়া আর দুষ্টুমির মধ্য দিয়ে চারজন সকালের খাবার শেষ করে।
আসলে প্রতিদিনই এরা কেউ না কেউ কাউকে রাগায়।
তবে আজ একটু ব্যতিক্রম—
আজ জেভরান একাই একসাথে তিনজনকে রাগিয়ে দিয়েছে। 🤣😉
খাওয়া শেষ করে সবাই নিজ নিজ কাজে বেরিয়ে পড়ে।
........................................................
অন্যদিকে…
সামিনা চৌধুরী সেই সকাল ছয়টা থেকে Arvitha-কে ডেকে ডেকে হয়রান। অথচ মেয়ের ঘুম ভাঙার কোনো লক্ষণই নেই।
সামিনা চৌধুরী—মেহেরিন চৌধুরীর মা।
ডাকতে ডাকতে বিরক্ত হয়ে তিনি Arvitha-র রুমে আসেন। দরজাটা আধখোলা ছিল, তাই ঢুকতে কোনো বাধা পেলেন না।
রুমে ঢুকেই তার মাথা গরম হয়ে যায়।
ছয়টা থেকে ডাকছে, আর এই মেয়েটা এখনো আরামে ঘুমাচ্ছে!
খাটের পাশে থাকা কর্নার টেবিল থেকে পানি ভর্তি মগ হাতে নেন তিনি।
পরমুহূর্তেই পুরো মগের পানি Arvitha-র মুখে ঢেলে দেন।
Arvitha ঘুম থেকে লাফ দিয়ে ওঠে।
তার এমন লাফে সামিনা চৌধুরী ভয় পেয়ে দু’পা পিছিয়ে যান।
কিন্তু Arvitha-র ঘুম এখনো পুরোপুরি ভাঙেনি। চোখ বন্ধ রেখেই চিৎকার করতে থাকে—
— বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও!
— আমাকে সমুদ্রে ফেলে দিয়েছে!
— কে কোথায় আছ?
মেয়ের এমন অবস্থা দেখে সামিনা চৌধুরী ‘থ’ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। মনে মনে ভাবেন—
“এ কী করছে!” 🙃🙃
এই চিৎকার শুনে নিচতলা থেকে সবাই দৌড়ে আসে Arvitha-র রুমে।
দেখে—সে ভেজা, চোখ বন্ধ, আর একনাগাড়ে চিৎকার করছে।
দৃশ্য দেখে আবরিয়ান বলে ওঠে,
— সকালবেলা কি পাগল হয়ে গেছিস, বনু? এমন চিৎকার করে কেউ? আর একটু হলে আমরা সবাই একসাথে হার্ট অ্যাটাক করতাম! 😡
ভাইয়ের কথা শুনে Arvitha ধীরে ধীরে চোখ খুলে দেখে—
সে খাটের উপর বসে আছে, আর বাড়ির সবাই তার রুমে দাঁড়িয়ে।
চোখ বড় বড় করে বলে,
— কী হয়েছে? আমার রুমে সবাই কেন? 👀
এই কথা শুনে সবাই Arvitha-র দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে।
ভয়ে Arvitha কুঁকড়ে যায়। 😟
পরিস্থিতি সামলাতে আরিয়া বলে ওঠে,
— কিরে, university যাবি না? নাকি সারাদিন ঘুমাবি? সকাল কত বাজে ? তোর কোনো খেয়াল আছে?
Arvitha তাড়াহুড়ো করে বালিশের পাশ থেকে মোবাইল তুলে দেখে—
সময় ৮:৪৫!
কোনো কথা না বলে সে লাফ দিয়ে উঠে ওয়াশরুমে ঢুকে যায়।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দ্রুত তৈরি হয়ে নিচে নামে।
নিচে নেমে দেখে সবাই খাবার খাচ্ছে।
সে চুপচাপ একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ে খেতে শুরু করে।
Arvitha-র তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়া দেখে সবাই নিজের খাওয়া থামিয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।
কিন্তু তার কোনো খেয়ালই নেই।
নিস্তব্ধতা ভেঙে সামিনা চৌধুরী বলেন,
— তোর পেছনে কি কুকুর লেগেছে নাকি, যে এমন করে খাচ্ছিস! 😡
মায়ের কথা শুনে Arvitha-র মন খারাপ হয়ে যায়। 😥😥
মেয়ের মন খারাপ বুঝে আনোয়ার চৌধুরী বলেন,
— আহা, এভাবে কেন বলছ? ওর হয়তো university-তে দেরি হয়ে যাচ্ছে।
তারপর মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,
— মা, তুমি খাও।
সবার দিকে তাকিয়ে আবার বলেন,
— কী হয়েছে? সবাই নিজের খাবারে মন দাও।
বাবার কথা শুনে সবাই আবার চুপচাপ খেতে শুরু করে।।
চলবে..............
(ভুল ক্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই)