28/01/2026
কিছুদিন আগে দুই বান্ধবী আমার চেম্বারে আসে। দুজনের বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। পরিচয় গোপন রাখছি।
ধরা যাক, একজনের নাম X, অন্যজন Y। দুজনেই অবিবাহিতা।
X আমার রোগী। Y তাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে। তাদের অভিযোগ প্রায় একই রকম— তলপেটে ব্যথা, গা জ্বালাপোড়া করা ভাব, মুখে রুচি নেই, শরীর দুর্বল লাগে, মাঝে মাঝে মাথা ঘোরে।
আমি স্বাভাবিকভাবেই পিরিয়ডের ইতিহাস জানতে চাইলাম। কিন্তু মেয়েটি ঠিকভাবে কিছুই বলতে পারল না।
যেহেতু সে অবিবাহিতা, তাই সরাসরি কিছু জিজ্ঞেস করাও শোভন মনে হয়নি। রুটিন অনুযায়ী একটি আল্ট্রাসাউন্ড আর একটি প্রস্রাব পরীক্ষা করতে দিলাম।
রিপোর্ট দেখে খুব একটা অবাক হইনি।
আল্ট্রাসাউন্ডে দেখা গেল, সে প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এই ধরনের ঘটনা আমাদের কাছে নতুন নয়। বাস্তবতা হলো, প্রায় সব সনোলজিস্টই নিয়মিত এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
মেয়েটি যথারীতি কিছুটা নাটক করল। কীভাবে এমন হলো, সে নাকি কিছুই জানে না।
এটাতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। আজকাল অনেকের ক্ষেত্রেই সবকিছু “আপনা-আপনি” হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়। এসব অভিজ্ঞতা আমাদের অচেনা নয়।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমি সাধারণত চুপ থাকি। ডায়াগনোসিস জানিয়ে দিই, তারপর আর কোনো মন্তব্য করি না। যত বড় গল্পই হোক, সেটা আমার দায়িত্বের অংশ নয়।
তবে এখানে আসল বিষয়টা গর্ভধারণ নয়। আসল বিষয় হলো, মেয়েটি অবিবাহিতা। বাস্তবতা যাই হোক, সে এই সন্তান রাখতে চায় না। সেটাই তার সিদ্ধান্ত।
আমি নিজে টারমিনেশন করি না, এ সম্পর্কিত পরামর্শও দিই না। তাই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে আমি পেশেন্টকে ছেড়ে দিই।
কিন্তু এখানেই পরিস্থিতি বদলে যায়। মেয়েটি এখানেই এমআর করাতে চায়। কান্নাকাটি, অনুরোধ, হাত-পা ধরা সবই শুরু হয়ে যায়। “ম্যাডাম, আমি কী করব? আমাকে বাঁচান।”
অনেক বুঝিয়ে তাকে কাউন্টারে পাঠানো হলো।
আমার চেম্বার আর কাউন্টার পাশাপাশি। মাঝখানে কাঁচের পার্টিশন। কথাবার্তা স্পষ্ট শোনা যায়। যেহেতু এটি অবৈধ গর্ভপাতের বিষয়, তাই কর্তৃপক্ষও বিষয়টিতে আগ্রহী ছিল।
টাকার অঙ্ক নিয়ে দরকষাকষি চলছিল।
হঠাৎ রোগীর সঙ্গে আসা বান্ধবী Y উত্তেজিত হয়ে জোরে বলে উঠল— “এখানে এত টাকা কেন চাইছেন? আমি তো গত মাসেই মাত্র তিন হাজার টাকায় করিয়েছি!”
এই একটি বাক্যেই পুরো চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যায়। যে মেয়েটি আরেকজনকে নিয়ে এসেছে, সেও ঠিক এক মাস আগেই একই কাজ করেছে।
মন খুলে বলুন - Mon Khule Bolun
#জীবনেরকথা