আধিপত্যবাদ আমাদের পদতলে

আধিপত্যবাদ আমাদের পদতলে We are against all kinds of hegemony!

27/12/2025

Difference between Soft Power vs Hegemony:

Soft power does not require dominance or control; even relatively weak states or non-state actors can exercise soft power. On the other hand, hegemony operates through a combination of consent and pressure.

While hegemony may rely heavily on soft power to gain acceptance, it also rests on material strength i.e. economic capacity, military power, and strategic leverage which remains in the background as enforcement.

Soft power can exist without hegemony, but hegemony almost always uses soft power to sustain itself and appear legitimate rather than purely coercive.

Note: Soft power is the ability to influence others through attraction rather than force. It shapes preferences using culture, values, ideas, diplomacy, credibility, and moral legitimacy, leading others to follow voluntarily because they admire, trust, or see benefit in the model presented.

26/12/2025

আধিপত্যবাদ বনাম সাম্রাজ্যবাদ — পার্থক্য কী?

ভূ-রাজনীতি ও বৈশ্বিক ক্ষমতার ভাষায় “আধিপত্য (Hegemony)” এবং “সাম্রাজ্যবাদ (Imperialism)”—দুটোই ক্ষমতার রূপ, কিন্তু প্রকৃতিতে এক নয়।

আধিপত্যবাদ মূলত সম্মতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এখানে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র বা শক্তিকেন্দ্র সরাসরি শাসন না করে নেতৃত্ব দেয়—নিজস্ব আদর্শ, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক কাঠামো ও আন্তর্জাতিক নিয়মের মাধ্যমে।

অন্য রাষ্ট্রগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন থাকে, কিন্তু প্রভাবশালী শক্তির বর্ণনা, নীতি ও কাঠামোকে “স্বাভাবিক” বা অনিবার্য বলে মেনে নেয়।

আধিপত্যে নরম ক্ষমতা (soft power), কূটনীতি, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক নির্ভরতা মুখ্য ভূমিকা রাখে। লক্ষ্য থাকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও নেতৃত্ব বজায় রাখা।

এর বিপরীতে সাম্রাজ্যবাদ দাঁড়িয়ে থাকে বলপ্রয়োগের ওপর। এখানে শক্তিশালী রাষ্ট্র সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অন্য ভূখণ্ড দখল করে, শাসন চাপিয়ে দেয়, অথবা রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

সাম্রাজ্যবাদে কঠোর ক্ষমতা (hard power), সেনাবাহিনী, প্রশাসনিক দখল এবং দমন-পীড়ন প্রধান হাতিয়ার। শাসিত ভূখণ্ড বা রাষ্ট্রগুলো প্রকৃত অর্থে স্বাধীন থাকে না; তাদের সম্পদ, বাজার ও ভূ-কৌশলগত অবস্থান ব্যবহারই হয় মূল লক্ষ্য।

এই পার্থক্য বোঝা জরুরি, কারণ আধুনিক বিশ্বে অনেক সময় সাম্রাজ্যবাদ আর সরাসরি দেখা যায় না—বরং তা আধিপত্যের ভাষা ও কাঠামোর আড়ালে নতুন রূপে হাজির হয়।

25/12/2025

Hegemony is the political, economic, and military predominance of one state over other states, either regional or global.

In theories of imperialism, the hegemonic order dictates the internal politics and the societal character of the subordinate states that constitute the hegemonic sphere of influence, either by an internal, sponsored government or by an external, installed government.

In international relations theories, hegemony is distinguished from empire as ruling only external but not internal affairs of other states. - Wikipedia.

শহীদ ওসমান হাদীকেই কেন টার্গেট করা হলো? ক। তিনি জুলাই যোদ্ধা দেখে? নাহ, আরও অনেক জুলাই যোদ্ধা ছিলেন ও আছেন। তাই শুধু জুল...
25/12/2025

শহীদ ওসমান হাদীকেই কেন টার্গেট করা হলো?

ক। তিনি জুলাই যোদ্ধা দেখে? নাহ, আরও অনেক জুলাই যোদ্ধা ছিলেন ও আছেন। তাই শুধু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে হাদীকে টার্গেট করা হয় নি।
খ। সুস্থ গণতন্ত্রের পক্ষের মানুষ দেখে? মনে হয় না। এ রকম আরও অনেকেই আছেন।

বরং হাদির মধ্যে সবচেয়ে ইউনিক যা ছিল তা হলো,
ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান।
কলকাতার সাংস্কৃতিক গোলামীর শৃংখল ভেঙ্গে ফেলার ইচ্ছা।
দিল্লীর পরাধীনতা মেনে না নেয়ার এক দৃঢ় সংকল্প!

ওরা আমাদেরকে ভয় দেখাতে চেয়েছে কিন্তু আমরা ভয় পাবো না ইনশাআল্লাহ!

25/12/2025

সকলকে আহবান জানাই:
ক। আধিপত্যবাদ বিরোধী লিখা, ক্লিপ ইত্যাদি আমাদেরকে পৌঁছে দিন।
খ। এ পেইজকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেয়া যায় - এ ব্যাপারে পরামর্শ দিন।
গ। লাইক ও শেয়ার দিয়ে এ পেইজের সাথে থাকুন।
ঘ। আপনার সকল ফ্রেন্ড-ফলোয়ারদেরকে ইনভাইট করুন এই পেইজ ফলো করতে।

25/12/2025

দিল্লী না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা - স্লোগানে মুখর দেশপ্রেমিক বিপ্লবী জনগণ।

25/12/2025

একটি রাষ্ট্র কখনোই আরেকটি রাষ্ট্রের বন্ধু হতে পারে না। এখানে রয়েছে শুধু পারস্পরিক স্বার্থের সম্পর্ক।

Why exactly? This is the definition of hegemony!
24/12/2025

Why exactly? This is the definition of hegemony!

24/12/2025

বাংলাদেশে ভারতপন্থিদের প্রকারভেদ - মাহমুদুর রহমান

১ . অখণ্ড ভারতপন্থি : নব্বই দশকের প্রথমার্ধে আমি চট্টগ্রামে এক ব্রিটিশ বহুজাতিক কোম্পানির আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই বাণিজ্যনগরীর অন্যান্য করপোরেট হাউসের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে নানা বিষয়ে নিয়মিত আড্ডায় বসতাম। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে জয়লাভ করার পর একদিন আমরা নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তর্ক করছিলাম। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ে বেজায় হতাশ এক তথাকথিত ‘সেক্যুলার’ ভদ্রলোক সবাইকে চমকে দিয়ে বলে উঠলেন, “১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হওয়াটাই বিরাট ভুল হয়েছে।

জিন্নাহ ‘দেশভাগ’ না করলে ভারত বিশ্বে আজ এক প্রধান শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারত এবং আমরা সেই দেশের নাগরিক থাকতাম।” আড্ডার বিএনপি-সমর্থকরা তাকে ভারতে মুসলমানদের দুর্দশার কথা মনে করিয়ে দিলেও খুব একটা লাভ হলো না। বাবরি মসজিদ নিয়ে চরমপন্থি হিন্দুরা তখন তুমুল আন্দোলন করছিল। কদিন পরপর ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার লোমহর্ষক কাহিনি সারা দুনিয়ার মিডিয়াতে প্রকাশ পাচ্ছিল। সেসব উদাহরণও তাকে দেখালাম। কিন্তু তাতেও কোনো ফায়দা হলো না। ভদ্রলোকটি তার অখণ্ড ভারততত্ত্বে অবিচল রইলেন। আসলে লোকটি ঘটনাচক্রে মুসলমান পরিবারে জন্মলাভ করলেও ইসলাম ধর্ম অথবা বিশ্বের মুসলমান জনগোষ্ঠীর প্রতি তিনি কোনোরকম নৈকট্য অনুভব করতেন না। তার মতো লোকরা নাস্তিক কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ নন, তারা সবাই চরম ইসলামবিদ্বেষী। আওয়ামী লীগ, দেশের বাম দলগুলো ও সুশীল গোষ্ঠীর মধ্যে চট্টগ্রামের সেই ব্যক্তির মতো অখণ্ড ভারতপন্থিদের সংখ্যা নিতান্ত কম হবে না।

২. ধর্মীয় ভারতপন্থি : লেখার প্রথমেই হিন্দু ধর্মের সঙ্গে ‘ভারত’ শব্দটির নিবিড় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছি। যদিও আর্যরা উপমহাদেশের পূর্বাংশের আদি জনগণকে অনেকটা ঘৃণার নজরেই দেখত, তবু বাঙালি হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ভারতের সঙ্গে কেবল ধর্মীয় কারণে অধিকতর একাত্মতা অনুভব করে থাকেন। ঋগ্বেদে আমাদের অঞ্চলের কালো গাত্রবর্ণের অধিবাসীদের দস্যু, রাক্ষস প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়েছে। ঐতরেয় ব্রাহ্মণে পুণ্ড্র জনগোষ্ঠীকে (উত্তরবঙ্গ) দস্যু এবং মহাভারত ও ভগবৎ পুরাণে বাংলার সমুদ্র উপকূলবর্তী জনগণকে ম্লেচ্ছ, কিরাত, যবন প্রভৃতি নামে উল্লেখ করে তাদের পাপিষ্ঠ বলা হয়েছে। এসব ইতিহাস জানা সত্ত্বেও ঊনবিংশ শতকের হিন্দু লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা তথাকথিত বাঙালি রেনেসাঁর নামে বাঙালি হিন্দুদের অখণ্ড ভারতের ব্রাহ্মণ্যবাদী চেতনা ও দর্শনের সঙ্গে মিলিত হয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন। হিন্দু মানসে সেই বাঙালি রেনেসাঁর নিট ফল হয়েছিল, উপমহাদেশের মুসলমানদের বহিরাগত ধরে নিয়ে তাদের চিরশত্রু রূপে গণ্য করা। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীদের ইতিহাসবিমুখতা ও মুসলমান-বিদ্বেষের দুটি উদাহরণ এখানে দেওয়া আবশ্যক মনে করছি।

প্রথম উদাহরণ হলো, মোদির ভারতের স্কুল-কলেজের ইতিহাস বইতে কুষাণ বংশের সম্রাট কনিষ্ককে এক মহান ভারতীয় সম্রাট হিসেবে প্রচার করলেও মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবরকে একজন বহিরাগত এবং ঘৃণ্য ও অত্যাচারী শাসক রূপে চিত্রিত করা হয়ে থাকে। অথচ কুষাণ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাবর উভয়ই মধ্য এশিয়া অঞ্চল থেকে উপমহাদেশে এসে প্রায় দেড় হাজার বছরের ব্যবধানে যার যার সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। চীন ও মোঙ্গল মিলিত বংশের ইউয়েজি গোত্রের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কনিষ্ককে ভারতীয় হিসেবে মেনে নিলেও কেবল মুসলমান হওয়ার কারণে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা মোঙ্গল ও উজবেক বংশোদ্ভূত ফারগানার বাবরকে ভারতীয় সম্রাট মানতে একেবারেই রাজি নন। কট্টর হিন্দুরা বাইরে থেকে আসা কনিষ্ককে রীতিমতো পূজা করলেও বাবরকে প্রবলভাবে ঘৃণা করে। দ্বিতীয় উদাহরণ তুলনামূলকভাবে অনেক সাম্প্রতিক। বাঙালি হিন্দুরা

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিল, কারণ তৎকালীন বড়লাট লর্ড কার্জনের সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১৫০ বছর ধরে অত্যাচারিত ও অবহেলিত বাঙালি মুসলমানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। সেদিন হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গ রোধ করে তবেই ছয় বছরব্যাপী সন্ত্রাসী আন্দোলনে ক্ষান্ত দিয়েছিল। বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতাকারী সেই বাঙালি হিন্দুরাই ১৯৪৭ সালে পুরো ১৮০ ডিগ্রি উল্টে গিয়ে বাংলা ভাগ করতে ব্রিটিশদের বাধ্য করেছিল, কারণ তারা একটি মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের বাস্তবতা মেনে নিতে পারেনি। তাদের ভাষায় ম্লেচ্ছ বাঙালি মুসলমানরা শাসকের আসনে বসবে, এটা শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত বাঙালি হিন্দুরা কিছুতেই মানতে পারেনি। তারা ১৯০৫ সালে রচিত রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার বাংলা’ ভাগ করে হলেও ১৯৪৭ সালে ভারতের অংশ হতে চেয়েছিল। একই ধরনের হিন্দুত্ববাদী মানসিকতার ফলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও ইসকন চট্টগ্রামের নেতা চিন্ময়ের মতো কট্টর ‘ধর্মীয় ভারতপন্থি’ হিন্দুরা বাংলাদেশকে ভারতভুক্ত করার স্বপ্ন বিসর্জন দিতে পারেনি।

৩. সাংস্কৃতিক ভারতপন্থি : বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই এ দেশের মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক জগৎ ইসলামবিদ্বেষী ও ভারতপন্থিদের করায়ত্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যে গানটি ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে লেখা হয়েছিল, সেই গান বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমান তাদের সাংস্কৃতিক দেউলিয়াত্ব ও ইতিহাস সম্পর্কে মূর্খতার প্রমাণ দিয়েছে। পাকিস্তান সরকারের নির্বুদ্ধিতার ফলে ষাটের দশকে মধ্যবিত্ত বাঙালি মুসলমান পরিবারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দেবতা হিসেবে দেখার যে প্রবণতা আরম্ভ হয়েছিল, সেটা অনেকাংশে এ দেশে ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভুত্ব বিস্তারের পথ সুগম করেছে। সেই থেকে বাঙালি মুসলমানের হাজার বছরের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি ক্রমেই অবহেলিত হয়েছে। প্রায় ৮০০ বছর আগে বাংলায় স্বাধীন মুসলিম সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইতিহাস আমরা অনেক আগেই বিস্মৃত হয়েছি। বৃহত্তর বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের স্ত্রী ফুলওয়ারা বেগম যে বাঙালি ছিলেন এবং তাদের সন্তান আবুল মুজাহিদ সিকান্দার শাহ পিতার মৃত্যুর পর যে দীর্ঘ ৩২ বছর (১৩৫৮-১৩৯০) বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে রাজত্ব করেছেন, সেই ইতিহাসই বা আমরা কতজন জানি? অনেক ইতিহাসবিদ দাবি করেন, শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের পিতা পারস্যের সিস্তান অঞ্চল থেকে উপমহাদেশে এলেও তার মা বাঙালি ছিলেন।

১৯৪৭ সালে আমাদের পূর্বপুরুষরা হিন্দু জমিদারদের অবজ্ঞা ও জুলুম থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রত্যাশায় মুসলমান জনগোষ্ঠীর স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের পক্ষে যে গণতান্ত্রিকভাবে রায় দিয়েছিলেন, সেই সত্যটাও বিগত আট দশকে প্রায় ঢাকা পড়ে গেছে। বাঙালিত্ব অর্জন করতে গিয়ে সমাজের এক উল্লেখযোগ্য অংশ ইসলামকে পরিত্যাগ করতে চেয়েছে। একাত্তরের চেতনার নামে যে বয়ান ফেরি করা হয়েছে এবং হচ্ছে, সেটি ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে অব্যাহতভাবে সহায়তা করেছে। এ দেশে অধিকাংশ মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকে মাথায় টুপি এবং মুখে দাড়ি থাকা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নাট্যপরিচালক ও লেখকরা অধিকাংশ হিন্দু চরিত্রকে মহৎ হিসেবে দেখিয়েছেন।

অপরদিকে ভারতের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতিটি সোপ অপেরায় পূজা-অর্চনা করা বাঙালি হিন্দু সমাজের এক অতিগুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র কাজ হিসেবে দেখালেও বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম পালনকে ধর্মান্ধতা ও কূপমণ্ডূকতা হিসেবেই দেখিয়েছেন আমাদের সাংস্কৃতিক কর্মীরা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মহান কবি আল মাহমুদ ইসলামের প্রতি ঝুঁকে পড়লে তার মতো এত বিরাট মাপের কবিকেও অনাদরে ও অবহেলায় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। ‘সাংস্কৃতিক ভারতপন্থিরা’ শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদকে দেড় দশকে সর্বপ্রকারে সহায়তা দিয়েছে। এদের হাত থেকে মিডিয়া এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মুক্তি ঘটিয়েই এ দেশের বাঙালি মুসলমানের স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে। আশা করা গিয়েছিল, জুলাই বিপ্লবের পর ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের অবসান ঘটবে। বিস্ময়করভাবে একসময়কার কথিত ভারতবিরোধী ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতারা আবারও আওয়ামী ও ভারতীয় বয়ানে বাংলাদেশে দক্ষিণপন্থা এবং মৌলবাদের উত্থানের ভয় দেখাচ্ছেন।

৪. দাসানুদাস ভারতপন্থি : আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের অধিকাংশ বাম রাজনৈতিক দল দিল্লির সঙ্গে প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্কে আবদ্ধ। এই অঞ্চলের বাম রাজনৈতিক দলের দাসসুলভ মানসিকতার সূত্রপাত হয়েছিল ব্রিটিশ আমলেই। উদাহরণস্বরূপ সিলেট রেফারেন্ডামের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ১৯৪৭ সালের সেই রেফারেন্ডামে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগণ সিলেট ও করিমগঞ্জের পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে ভোট দিলেও কমিউনিস্ট পার্টির ভারতে অবস্থিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে পার্টির পূর্বাঞ্চলের সদস্যরা ভারতভুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, পূর্ববঙ্গের মুসলমান জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষার তোয়াক্কা কমিউনিস্ট পার্টি কখনো করেনি। পরবর্তীকালে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলেও সেক্যুলারিজমের মুখোশে এসব বাম দল চরম ইসলামবিদ্বেষ লালন করেছে। আজও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের ডিপ স্টেটের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল ১৯৬৩ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর। ব্রিটিশ আমলে যুক্ত বঙ্গের প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীকে বাঙালি হিন্দুরা প্রকৃতপক্ষে কোনোদিনই পছন্দ করেনি। ১৯৪৬ সালে কলকাতার ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্রধানত মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাঙালি হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীকে দাঙ্গায় মুসলমানদের পক্ষাবলম্বনের জন্য অভিযুক্ত করেছিল। ১৯৫৬ সালে সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলে তার প্রতি ভারতীয় হিন্দুদের বিদ্বেষ আরো তীব্র হয়। সোহরাওয়ার্দীর ইন্তেকালের পর শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সর্বময় কর্তৃত্ব লাভ করলে দিল্লির সঙ্গে দলটির নিবিড় যোগাযোগের পথ সৃষ্টি হয়েছিল। পাকিস্তান আমলে বহুল আলোচিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় সংযোগের কথা শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক কারণে অস্বীকার করলেও শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনামলে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা আগরতলা ষড়যন্ত্রের সত্যতা স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে পেয়ে শেখ মুজিব ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় দলীয় লাঠিয়াল বাহিনী রূপে চরম বিতর্কিত ও অত্যাচারী ‘রক্ষী বাহিনী’ গঠন করেছিলেন।

১৯৭৫ সালের সামরিক বাহিনীর একাংশের অভ্যুত্থানে শেখ মুজিব নিহত হলে তার দুই কন্যা দিল্লিতে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেছিলেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ছয় বছর দিল্লিতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ট্রেনিং নিয়ে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন। ৪৩ বছর পর গত বছরের জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়ে তিনি পালিয়ে দিল্লিতে সেই ‘র’-এর কাছেই ফিরে গিয়ে ভারতের ডিপ স্টেটের প্রত্যক্ষ সহায়তায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন। আওয়ামী লীগ এবং উপরে বর্ণিত বামদের বাইরে উল্লেখযোগ্য দলগুলোর মধ্যে জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টিও ‘দাসানুদাস ভারতপন্থিদের’ অন্তর্ভুক্ত। পাঠকদের স্মরণে থাকার কথা, ২০২৪ সালের ‘আমি ও ডামির’ নির্বাচনের কিছুদিন আগে দলটির তৎকালীন প্রধান নেতা জিএম কাদের দিল্লি সফর করে ঢাকা বিমানবন্দরে নেমে বলেছিলেন, ভারতের নির্দেশ ছাড়া তিনি সেখানে কী আলোচনা হয়েছে, সেটা জনগণকে বলতে পারবেন না। দাসত্বের এর চেয়ে খোলামেলা স্বীকারোক্তি আর হতে পারে না। উপরোক্ত ‘দাসানুদাস ভারতপন্থি’ গোষ্ঠী সর্বদাই বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে থাকবে।

৫. হীনম্মন্য ভারতপন্থি : বাংলাদেশের একদল ভীরু ও সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতা, বিশ্লেষক, বুদ্ধিজীবী, টকশো স্টার এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কাছে প্রায়ই এই নসিহত শুনতে পাবেন যে, ভারতের মতো এক বিশাল এবং শক্তিধর প্রতিবেশীকে সন্তুষ্ট না রেখে আমরা নাকি সঠিকভাবে ও শান্তিতে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম হব না। এই শ্রেণিকেই আমি ‘হীনম্মন্য ভারতপন্থি’ নামে ডেকে থাকি। অথচ বাস্তবতা হলো, স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দী পর আমরা ভারতের ওপর রাজনৈতিক, সামরিক, কিংবা অর্থনৈতিক—কোনো কারণেই আর একতরফাভাবে নির্ভরশীল নই। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিবেচনায় ভারত বরঞ্চ বাংলাদেশ দ্বারা বিপুলভাবে উপকৃত। ১৮ কোটি নাগরিকের এই দেশটি ভারতের এক বিশাল রপ্তানি বাজার ও প্রবাসী আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

ড. ইউনূস সরকারের বিগত এক বছরের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উদ্ধত শাসকগোষ্ঠী কোনো অযৌক্তিক বিরোধ সৃষ্টি করলে আমাদের বৃহৎ ও শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি তুলনামূলকভাবে অর্থনৈতিক বিবেচনায় বরং বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পলাতক হাসিনা ভারতের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতার যে ‘মিথ’ ফ্যাসিবাদের ১৫ বছরে তৈরি করেছিলেন, সেটি আল্লাহর অসীম রহমতে বাংলাদেশের জনগণ স্বল্প সময়ের মধ্যে ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। ভৌগোলিকভাবে আমরা ভারতবেষ্টিত, এটা যেমন সত্য, তেমনি এটাও বাস্তবতা যে, ভারতের ‘সেভেন সিস্টার’ রাজ্যগুলো বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত। সুতরাং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ভূরাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করা গেলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সক্ষমতা রাখে। বাংলাদেশের এসব হীনম্মন্য ব্যক্তিদের মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানো শেখাতে আমাদের হয়তো আরো কিছুকাল অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। হীনম্মন্যতা রোগটি যেহেতু মানসিক, তাই চিকিৎসাও দীর্ঘমেয়াদি হওয়া আবশ্যক।

দালাল মিডিয়াগুলো এমনভাবে হেডলাইন করবে যেন, এদেশের সাধারণ মানুষ কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। এসবই হচ্ছে দালাল মিডিয়াগুলোর সাইকোলজি...
24/12/2025

দালাল মিডিয়াগুলো এমনভাবে হেডলাইন করবে যেন, এদেশের সাধারণ মানুষ কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। এসবই হচ্ছে দালাল মিডিয়াগুলোর সাইকোলজিক্যাল গেইম!

এদেশের দালাল ও কাপুরুষ শ্রেণী আধিপত্যবাদি শক্তির এ সকল আলাপে প্যান্ট ভিজিয়ে দেয়। কিন্তু বাস্তবে এদেশের দিকে হাত বাড়ালে ও...
24/12/2025

এদেশের দালাল ও কাপুরুষ শ্রেণী আধিপত্যবাদি শক্তির এ সকল আলাপে প্যান্ট ভিজিয়ে দেয়। কিন্তু বাস্তবে এদেশের দিকে হাত বাড়ালে ওদের হাত পুড়ে যাবে!

Address

Dhaka
1208

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আধিপত্যবাদ আমাদের পদতলে posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share