18/07/2026
২০০৫ সালে কেনিয়ার একটি ছোট শহরে বসবাসকারী রবার্ট মুতাই চেলোগইয়ের মুখে ছোট একটি সমস্যা দেখা দেয়। তখন কেউই ভাবতে পারেননি, সেটিই তার জীবনের দীর্ঘ ২৩ বছরের এক কঠিন সংগ্রামের সূচনা হতে যাচ্ছে।
চিকিৎসকেরা ধারণা করেন, তিনি নোমা (Noma) নামে একটি বিরল সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। অপুষ্টি ও পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত এই রোগ ধীরে ধীরে তার মুখমণ্ডলে মারাত্মক ক্ষতি করে এবং একপর্যায়ে তিনি দৃষ্টিশক্তিও হারান।
চিকিৎসার আশায় তার পরিবার জমি, গবাদিপশুসহ প্রায় সবকিছুই বিক্রি করে দেয়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা আর পুরোপুরি মেলেনি।
এই দীর্ঘ সংগ্রামের পুরো সময়ে একজন মানুষ কখনো তার পাশ ছেড়ে যাননি- তার স্ত্রী। প্রতিদিন, প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে তিনি রবার্টের পাশে ছিলেন, নিঃস্বার্থভাবে।
দীর্ঘদিন তাদের গল্প সবার অজানাই ছিল। পরে কেনিয়ার এক কনটেন্ট নির্মাতা সামাজিক মাধ্যমে রবার্টের জীবনসংগ্রামের কথা তুলে ধরলে বিষয়টি মানুষের নজরে আসে।
এরপর বিভিন্ন দিক থেকে আর্থিক সহায়তা আসতে শুরু করে এবং রবার্টকে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য কেনিয়াটা ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তবে ততদিনে সময় অনেকটাই ফুরিয়ে গিয়েছিল।
২০২৬ সালের ১৫ মার্চ, টানা ২৩ বছর রোগের সঙ্গে লড়াই করার পর রবার্ট মুতাই চেলোগই মারা যান।
তার জীবনের শেষ অধ্যায় শুধু একটি রোগের গল্প নয়; এটি এমন এক ভালোবাসার গল্প, যা দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অসুস্থতা, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও হার মানেনি। তার স্ত্রী শেষ পর্যন্ত যে সঙ্গ দিয়েছেন, সেটিই রবার্টের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে রয়ে গেছে।