01/11/2024
ফেসবুক মার্কেটিং মূলত দুই ভাবে করা যায়ঃ
১।অর্গানিক মার্কেটিং।
২।পেইড মার্কেটিং।
#অর্গানিক মার্কেটিংঃ- অর্গানিক উপায়ে মার্কেটিং করাকে মূলত অর্গানিক মার্কেটিং বলে যার জন্য কোনো বাজেট লাগে না এবং অর্গানিক ভাবেই রিচ এবং এনগেজমেন্ট হয়।
#পেইড মার্কেটিংঃআপনি খেয়াল করে দেখবেন কখনো কখনো ফেসবুক নিউজ ফিডে কিছু পোস্ট থাকে যেগুলোতে স্পনসরড লেখা থাকে। এই পোস্ট গুলোই মূলত পেইড ফেসবুক মার্কেটিং।
যদি আপনার একটি ফেইসবুক পেইজ থাকে, তবে এতদিনে আপনি নিশ্চয় এটি বুঝে গেছেন ফেইসবুক অডিয়েন্স এর কাছে রিচ করা কত কঠিন।
তাই যদি আপনি ফেসবুক এড বা পোস্ট বুস্ট এর জন্য টাকা খরচ না করেন, তবে আপনার পোস্টটি খুব বেশি মানুষের কাছে পোঁছাবে না।
তাহলে এখন প্রশ্ন আমরা পেইড মার্কেটিং এর জন্য বুস্ট করবো নাকি এড ক্যাম্পেইন?
সবচেয়ে সহজ ভাবে ফেসবুকে পেজ প্রোমোট করাটাই হলো বুস্টিং । ফেসবুক এই ফিচার টা রেখেছে যারা একেবারেই নতুন তারা যেন অতি সহজে ফেসবুকে পেজ বা ব্যবসা প্রোমোট করতে পারে । এই পদ্ধতিতে আপনার বিশেষ ভাবে তেমন কোন কিছু জানা থাকার প্রয়োজন পড়ে না । আপনার ফেসবুক পেজের প্রতিটি পোস্টের নীচেই দেখবেন Boost Post বলে একটা বাটন আছেন । এখানে ক্লিক করে অল্প কিছু ধাপ সম্পন্ন করলেই আপনার পোস্টের এড চালু হয়ে যাবে ।
তবে এখানে একটা কিন্তু আছে।আমি সরাসরি কাউকে বলি না এটা করতে । এটাকে খারাপ বলছি না । আপনি দ্রুত একটা এড রান করলে এই অপশন চুজ করতেই পারেন । তবে এটার থেকেও ভাল অপশন আছে । এর আগে বলে নেই এটা কেন ভাল অপশন নয়?
সকল ব্যবসারই মেইন টার্গেট থাকে । কিন্তু বুস্ট ফিচার থেকে এটা ভালোভাবে করা সম্ভব হয় না । ভালোভাবে ডিপ টার্গেট করা সম্ভব হয় না । এছাড়া এড অবজেক্টিভ বা এড দেওয়ার মূল উদ্যেশ্য অনুসারে ফেসবুকের যেই ফিচার সেটা বুস্ট ফিচার থেকে ভালোভাবে হয় না । এক্ষেত্রে শুধুমাত্র রিচ ক্যাম্পেইন হয় । বুস্ট পোস্ট শুধু মাত্র আপনাকে ‘এনগেজমেন্ট’ এনে দেবে – আপনি প্রচুর লাইক বা কমেন্ট পাবেন আপনার পোস্টে। কিছু মেসেজও আপনি পাবেন। কিন্তু যখন আপনি সেল করতে চাইবেন তখন আর বুস্ট পোস্ট আপনার কাঙ্খিত রেজাল্ট এনে দিতে পারবে না।
ফেসবুকের সমস্ত টার্গেটিং অপশন আপনি এখানে পাবেন না। ফলে আপনি সম্ভাব্য কাস্টমারদের স্বল্প খরচে রিচ করতে পারবেন না।
তাহলে আপনার লক্ষ্য যদি হয় ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বিজনেস করা এবং সেল আনা তাহলে অবশ্যই ফেসবুক এড ক্যাম্পেইন ভালো অপশন।অ্যাড ম্যানেজার ব্যবহারে ফেসবুকের সমস্ত প্রকার টার্গেটিং অপশন ব্যবহার করার সুযোগ থাকে।এড ক্যাম্পেইন ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি বিস্তারিত টার্গেটিং অপশন পেতে পারেন, যেমন বয়স, লিঙ্গ, অবস্থান, ভাষা, আগ্রহ, আচরণ ইত্যাদি। বুস্টিং-এর তুলনায় এড ক্যাম্পেইনে টার্গেটিং আরও উন্নত ও নির্ভুল হয়।এড ক্যাম্পেইন-এ আপনি ক্রিয়েটিভ অ্যাড ফরম্যাট, কন্টেন্ট এবং ডিসপ্লে অপশনগুলিতে বেশি কন্ট্রোল পান।এড ক্যাম্পেইন-এ আপনি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার এবং অডিয়েন্স নেটওয়ার্কের বিভিন্ন প্লেসমেন্টে অ্যাড দেখানোর কন্ট্রোল পান।
এতে আপনার বিজনেস এর জন্য কাস্টমার খুঁজে পাবার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি থাকে।এড ক্যাম্পেইন-এর মাধ্যমে তৈরি করা অ্যাডগুলি সাধারণত বুস্টেড পোস্টের চেয়ে বেশি প্রফেশনাল লুক দেয়, যা ব্র্যান্ড ইমেজের জন্য ভালো।এড ক্যাম্পেইন বিভিন্ন অব্জেক্টিভ অফার করে, যেমন ব্র্যান্ড আওয়ারনেস, রিচ, ট্রাফিক, এনগেজমেন্ট, অ্যাপ ইন্সটলস, ভিডিও ভিউস, লিড জেনারেশন, কনভার্সন ইত্যাদি।
Ads হল একটি জটিল এবং কাস্টমাইজেবল পদ্ধতি, যা অনেক বেশি অপশন, টার্গেটিং ক্ষমতা এবং বিশ্লেষণ প্রদান করে। এটি বড় এবং বিশদ ক্যাম্পেইনের জন্য উপযুক্ত। অন্যদিকে, Boosting একটি সহজ এবং দ্রুত পদ্ধতি, যা সীমিত কাস্টমাইজেশন এবং টার্গেটিং অপশন সহ আসে। এটি ছোট এবং নির্দিষ্ট পোস্ট প্রোমোশন বা প্রাথমিকভাবে ফেসবুক বিজ্ঞাপন শুরু করার জন্য উপযুক্ত।
সুতরাং, ক্যাম্পেইন অনেক ক্ষেত্রে বুস্টিং-এর থেকে ভালো কারণ এটি উন্নত টার্গেটিং, কন্ট্রোল, বাজেট ম্যানেজমেন্ট, রিপোর্টিং এবং বিশ্লেষণ সুবিধা প্রদান করে।