03/05/2025
প্রিয় কোনো মানুষের সাথে সাক্ষাতের সময় আমরা কীভাবে যাই? নিশ্চয় নিজেকে খুব গুছিয়ে তারপর আমরা প্রিয়জনের সামনে উপস্থিত হই৷ সুন্দর জামাকাপড়, চকচকে জুতো, খুব পরিপাটি করে মাথার চুল আঁচড়ানো, গায়ে প্রিয় সুগন্ধী।
আমরা চাই আমাদের উপস্থিতি যেন সেই প্রিয়জনকে মুগ্ধ করে। তিনি যেন অনুভব করেন যে—তিনি আমার কাছে ‘বিশেষ’ কেউ বলেই আমি আলাদা সাজে, আলাদা আয়োজনে তার সামনে এসেছি। তিনি যেন বুঝতে পারেন—তাকে আমি কতোখানি কদর করি, তার উপস্থিতি, তার সংস্পর্শ আর সংস্রব আমার কাছে কতোখানি দামি!
যদি এমন হয়, আমাদের সেই প্রিয়জন যদি খুব গণ্যমান্য কেউ হোন, যার ডাকে হেলে পড়ে জনতার স্রোত, যার কথায় মুগ্ধ আর মাতোয়ারা হয়ে থাকে শ্রোতার মন, তার সামনে যেতে হলে আমরা কীভাবে যাব?
যদি এমন হয়, সেই প্রিয়জন বা প্রিয়মুখ যদি হয় খুব ক্ষমতাধর, চোখের পলকে যিনি ঘটাতে পারেন অবিশ্বাস্য সব রদবদল, যার আঙুলের ইশারায় দেশ কিংবা মহাদেশে পড়ে যায় শোরগোল, তার সামনে দণ্ডায়মান হতে হলে আমাদের বেশভূষা কেমন হবে?
চলুন, এবার চিত্রটাকে একটু ভিন্নভাবে ভাবি।
দুনিয়ার সমস্ত প্রিয়জন, প্রিয়মুখ, গণ্যমান্য আর ক্ষমতাধরের তুলনায়, বিশ্ব জাহানের অধিপতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কি অধিকতর প্রিয়মুখ, প্রিয়জন, গণ্যমান্য আর ক্ষমতাধর নন? দুনিয়ার সমস্ত রাজা আর বাদশাহ, সমস্ত ক্ষমতাবান আর দাপটওয়ালা, সমস্ত মহামানব আর মহা-কুতুবের কারও সাথে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার শান আর মর্যাদার একবিন্দু কণারও কি তুলনা করা যাবে?
তাহলে দেখুন, দুনিয়ার প্রিয়জন আর প্রিয়মুখ, গণ্যমান্য, আর কুতুবদের সামনে যেতে হলে আমরা যে পরিমাণ সাজগোছ করি, দুনিয়ার একজন ক্ষমতাধরের পাশে ঘেঁষার জন্য আমরা নিজেকে যেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে সাজাই, সেই সজ্জা, সেই সাজবার রুচি কোথায় হারায় যখন আমরা প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সামনে দাঁড়াতে যাই?
মসজিদগুলোতে দেখবেন, অনেক মানুষ এমন কাপড়চোপড় পরেও মসজিদে আসে যেটা পরে মহল্লার বাইরে যেতে বলা হলে তিনি লজ্জায় পড়ে যাবেন। অনেকসময় মুখের দুর্গন্ধে পাশের মানুষটার সালাত আদায় করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
না, আমি এটা বলছি না যে মসজিদে খুব ভিআইপি সাজসজ্জায় আসতে হবে। কিন্তু, আমরা এটা কেন ভুলে যাই যে—আমরা যার সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছি তিনি বিশ্ব জাহানের অধিপতি। তিনি রাজাদের রাজা, বাদশাহদের বাদশাহ। সমস্ত আসমান আর যমিনের তিনিই একচ্ছত্র অধিপতি। দুনিয়ার একজন ঠুনকো নেতার পাশেও নির্দিষ্ট ড্রেস-কোড ছাড়া অনেকসময় দাঁড়ানো যায় না, সেখানে বিশ্ব জাহানের অধিপতির সামনে দাঁড়াতে এলে, একটু পরিপাটি করে আসা, একটু সুন্দর প্রস্তুতি, পরিচ্ছন্ন পোশাক আর সার্বিক পরিচ্ছন্নতার দিকে একটু যদি আমরা খেয়াল না দিতে পারি, তাহলে কীভাবে আমরা এটা দাবি করব যে—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে আমরা ‘প্রিয়’ হিশেবে গ্রহণ করেছি?
আরিফ আজাদ