20/06/2024
বাংলাদেশের মার্কেট স্ট্রাটেজি যে কত জটিল হয়ে যাচ্ছে তা সর্বশেষ প্রমানিত হয়েছে আফগানী প্রোডাক্ট পামির কোলা দিয়ে। আগামীতে এখানে ধর্মবেচা প্রোডাক্টের বাজারই সবচেয়ে বড় হবে এটা বুঝাই যাচ্ছে। মোজোকোলা দিয়েও তা প্রমাণিত হয়েছে নিকট অতিতে। অথচ এটা প্রোডাক্টের মান নিশ্চিতে আত্মঘাতি বিষয়। অনেকটা ভারতে ধর্ম বেইচা গরুর গু-মুত খাওয়ানোর মত বিষয় আর কি!
পামির কোলা নিয়ে যেই ধর্মীয় উম্মাদনা এটার সবচেয়ে খারাপ দিক হলো প্রোডাক্ট কোয়ালিটি মেইনটেন হবে না। এবং এখানে ধর্মীয় উম্মাদনার কিছুই নাই। এই উম্মাদনার কারণে নকলে সয়লাব হবে এবং দাম হবে হাই মানের। অলরোডি যা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ৭০/৮০ টাকার পামির কোলা ২৪০/২৫০ টাকা বেচতেছে ডিসট্রিবিউশন কোম্পানী। পামির কোলা নিয়ে মাস ছয়েক আগে একটা লেখা দিছিলাম সেটা আবার একটু রিএডিট করে দিচ্ছি এখানে।
আফগান হেরাতের পামির কোলা গ্রুপের শাফা কোলা, পমিগ্রেনেড জুস, পামির কোলা, পামির ড্রিংকিং ওয়াটার, শাফা ম্যাংগো জুস, হাই চিজসহ দুগ্ধজাত বিভিন্ন পণ্য, হুউস চিপসসহ কেক বিস্কিট ও মোট ৪০ টি ভিন্ন ভিন্ন পণ্য আছে এই কোম্পানীর। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি তালিবদের ক্ষমতার আগে কখনও এত রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা পায়নি যা এখন সর্বোচ্চভাবেই পাচ্ছে। লাস্ট মাত্র দেড় বছরে কোম্পানিটি পুরো নাড়াচাড়া দিয়ে দিচ্ছে সফট ড্রিংক এবং বেভারেজ মার্কেটে। বাংলাদেশে আমাদের মত আবেগী ভাইদের তো পুরা ফ্যান্টাসিতে ঢুকিয়ে দিয়েছে। মার্কেটিংয়ে এটা দারুণ প্রভাব ফেলতেছে।
বিশেষ করে পামির কোলা আর শাফা পমিগ্রেনেড জুস হবে তাদের ব্রান্ডেড পণ্য। এই দুই ক্যান যারাই স্বাদ নিয়েছে শরীরে লেগে যাবে। আমি অনেক রিভিউ পড়ছি এবং দেখছি।
এ বছরই আগস্টে সর্বপ্রথম পামির গ্রুপ তাদের পণ্য ইউরোপে এবং আমেরিকায় এক্সপোর্ট করেছে। ইউরোপ আমেরিকার বাজারে শাফা কোলার পারফর্মেন্স যতটা পাওয়ারফুল হওয়ার কথা ছিলো ততটা হয়নি। এজন্য এই কোম্পানী তখন আলোচনায় আসেনি। আগস্ট থেকে তিনমাস মার্কেট অ্যানালাইসিস করে এই কোম্পানী কর্তৃপক্ষ সমস্যা খুঁজে বের করেছে। তারপর এই মাসে আমেরিকায় নতুন করে এক্সপোর্ট শুরু করেছে। এ মাসে আমেরিকার বাজারে পামির/শাফা কোলা দারুণ পারফর্মেন্স দেখিয়েছে। এক কথায় যেখানেই ঢুকেছে সবার মন জয় করে নিচ্ছে এই কোলা। আরব বিশ্বসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই এক্সপোর্টের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে পামির গ্রুপ। এবং এই গ্রুপ মুক্তবাজারের সকল নিয়ম মেনেই চলতেছে। নারী দিয়ে এড দিচ্ছে। এডে মিউজিক রাখছে। ডলার ব্যবস্থার সুদভিত্তিক অর্থনীতিও মেনে নিচ্ছে।
তবে পামির গ্রুপের বাজার খুবই ছোট এখনও। তাদের উৎপাদন ক্ষমতা, লোকবল, কার্যক্রম এখনও অনেক বেশি ব্যাপক না। বাংলাদেশের আমরা আবেগী মুসলমান অনেকেই ফেসবুকে শাফা কোলা নিয়ে আবেগ অনুভূতি ঝাড়ছি। এটা সুন্দর। খারাপ কিছু না। তবে বাংলাদেশে পামির গ্রুপের পণ্য সরাসরি আফগান থেকে আসা কঠিন। ওই বাণিজ্যিক চুক্তি বাংলাদেশের সাথে তাদের নাই। তবে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের পণ্য এক্সপোর্টের পর দুবাই কাতার হয়ে বাংলাদেশের বাজারে ব্যাপকভাবে ঢুকতে পারে এই পণ্য। সেক্ষেত্রে দাম পড়ে যাবে অনেক বেশি। তবে পামির গ্রুপের উৎপাদন ক্ষমতায় এখনও ব্যাপক এক্সপোর্টের দিকে তাদের যেতে দিবে না। আরো সময় লাগবে অবশ্যই। তাছাড়া যে বাজারেই তারা ডুকবে সেখানের মানদন্ডে উত্তির্ণ হয়েই ঢুকতে হবে। ইউরোপের বাজারে ঢুকতে তাদের অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। আফগানে তৈরি মানেই আর কিছু দরকার নাই বাংলাদেশের কিছু মানুষ এই টাইপের জায়গায় আছেন। এটা শুস্ক আবেগ। বিজনেসে এই আবেগ চলে না। মনে রাখবেন, এই পণ্য তালিবরা তৈরি করে না। এটা অন্য দশটা কোলা কোম্পানীর মতই স্বাভাবিক উৎপাদিত পণ্য। তবে তালিবরা আছে মানে আমরা নিরুদ্বিগ্ন, নিশ্চিন্ত! তাদের হাত ধরে আসা মানে এইখানে ভেজাল তেমন নাই হয়ত।
তবে এক পামির গ্রুপই না আফগানে এ ধরণের প্রতিষ্ঠান আগামী ১০ বছরে শত শত হবে ইনশাআল্লাহ। তাই এই একটা কোম্পানী দিয়ে তালিব বিবেচনার কিছু নাই। আখুন্দজা-বারাদার জুটি এ দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কাজ করেই যাচ্ছে। তবে মুক্তবাজারে পন্য নিয়ে প্রথম প্রবেশ হিসেবে আগামীর আফগান অর্থনৈতিক রেভ্যুলেশনে পামির কোলা গ্রুপের নাম উজ্জল হয়ে থাকবে। যদিও এই গ্রুপের গায়ে হামিদ কারজাইদেরকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করার অভিযোগের দাগ লেগে আছে এখনও!!