27/12/2022
একজন অনলাইন ব্যবসায়ী জেনে না জেনেই অনেক সময় কিছু কমন মিসটেক করে থাকে। আর এই সব ভুলের খেসারত হিসেবে ব্যবসার লাল বাতি জ্বলে যায়। কি সেই ভুল গুলো? চলুন জেনে নেয়া যাক।
হাতের মুঠোফোন যেন আজ যাদুর কাঠি। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য থেকে শুরু করে বাস ট্রেনের টিকেট, মুদি মাল, মাছ, মাংস এমনকি কাঁচা বাজার পর্যন্ত মিলছে মাত্র কয়েকটি ক্লিকেই।
অনলাইনের এই সহজলভ্যতার কারণে অনলাইন কেন্দ্রিক ব্যবসা আজ রমরমা। আর এই রমরমা অবস্থা দেখেই অনেকে জেনশুনে অনেকেই না বুঝে ঝোঁকের বশে নেমে যাচ্ছে অনলাইন উদ্যোক্তা হতে।
কিন্তু এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যার সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার অভাবে অনলাইন ব্যবসায় ব্যর্থ হয়।
১. পরিকল্পণাঃ শুধু ব্যবসায়ই নয় যেকোনো কাজের শুরুতেই পরিপূর্ণ একটি পরিকল্পণা আপনাকে সাফল্যের অতি নিকটে নিয়ে যায়। অনলাইন ব্যবসায় শুরু ক্ষেত্রে অনেকেই না জেনে না বুঝে হুট করেই নেমে পড়ে।
কিন্তু এক্ষেত্রে নেমে পড়ার আগেই আপনাকে যথাযথ পরিকল্পণা করে নেয়া জরুরী। আপনি কি ধরনের প্রোডাক্ট সোর্সিং করতে পারবেন, সেসকল প্রোডাক্টের চাহিদা কেমন, অনলাইনে আদৌ সেল হবে কি না এমন আরো কিছু বিষয় আছে যেটা আপনাকে শুরুতেই চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
২. সঠিক মূল্য নির্ধারণঃ ব্যবসায় করার জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। আপনি যে পণ্যটি বিক্রী করবেন সেটা আপনি কেমন মূল্যে সোর্সিং করতে পারবেন তার সাথে আপনার পরিবহন খরচ, প্যাকেজিং সহ আনুষাঙ্গিক আরো কিছু খরচ এবং তার সাথে আপনি কত পরিমাণ মুনাফা করতে চাচ্ছেন সেটা যোগ করে আপনার পণ্যের বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করবেন। এক্ষেত্রে উক্ত পণ্যটি বাজার দর সম্পর্কেও আপনাকে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। নয়তো অতি মুল্যের কারণে আপনি খুব একটা সুবিধা করতে পারবেন না। আবার তেমনি যথাযথ হিসেব কষে মূল্য নির্ধারণে ব্যর্থ হলেও দিন শেষে লাভের গুড় পিপড়েই খেয়ে নিবে।
৩. মার্কেটিংঃ আপনার পণ্যটির চাহিদা ভালো, মূল্যও বাজার দরের সাথে মানানসই কিন্তু তবুও আপনি সেল পান না। এর সবচাইতে বড় কারণ হচ্ছে আপনার মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি ঠিক নেই। আপনাকে আপনার পণ্যের ধরণ, আপনার অডিয়েন্স বিহেভিয়র, এক্টিভিটিজ সহ আরো কিছু বিষয়ের দিকে খেয়াল রেখে একটি প্রপার মার্কেটিং প্ল্যান করে আগাতে হবে। অনেকেই আছেন "ধর তক্তা মার পেরেক" এর মত কিছু প্রোডাক্টের ছবি বা ভিডিও দিয়েই বু-স্ট করে দিয়ে সেলের আশায় বসে থাকেন।
অনেকেই এতে টুকটাক সাফল্য পেলেও দীর্গ মেয়াদি পরিকল্পণা ছাড়া আপনি টিকে থাকতে পারবেন না।
৪. নিম্ন মানের পণ্যঃ যে পণ্যটি আপনি বিক্রী করছেন সেটির গুণগত মান ভালো না হলে আপনি যেমন রিপিট কাস্টমার হারাবেন তেমন বাজে রিভিউয়ের কারণে অনেকে নতুন কাস্টমার অর্ডার করতে দ্বিধান্বিত হবে। তাই অবশ্যই এক্ষেত্রে আপনাকে সততার পরিচয় দিতে হবে। আপনার পণ্যের মানের ব্যপারে ক্রেতাকে যেরুপ ধারণা দিবেন ক্রেতা যেন তেমনটাই পায় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
৫. কাস্টমার সাপোর্টঃ ভালো মানের পণ্য দিয়েও আপনি যদি ক্রেতার সাথে প্রফেশনালিটি মেনটেইন করে যথাযথ আচরণ না করতে পারেন সেক্ষেত্রেও আপনি অনলাইনে রিপিট কাস্টমার এবং রেপুটেশন ২ টাই হারাবেন। আপনি যখন অনলাইন ব্যবসায়ী তখন নানা শ্রেণীর নানা পেশার লোক আপনাকে নক দিবে। খুটিনাটি জানতে চাইবে বা অনেক সময় আফটার সেলস সার্ভিস এবং ফলো-আপের প্রয়োজন হয়। আপনি যদি পেশাদার আচরণের মাধ্যমে এগুলো ব্যবস্থাপণা করতে ব্যর্থ হন তবে নিশ্চিতভাবেই আপনি অতি দ্রুতই ব্যার্থতার কাতারে শামিল হবেন।
এছাড়াও আরো বেশ কিছু বিষয় আছে। লিখাটি দীর্ঘায়িত না করতে আজ এখানেই শেষ করছি।
সকলের জন্য শুভ কামনা।
ধন্যবাদ।
আমাদের সার্ভিস সম্বন্ধে জানতে এই লিংকে ক্লিক করুনঃ
https://cutt.ly/D03sEIe