15/06/2026
desh ির
নতুন মাইলফলক: দেশজুড়ে এখন সুপারফাস্ট ইন্টারনেটের দাপট।
৫জি (5G) সম্প্রসারণ: ২০২৬ সালের রোডম্যাপ অনুযায়ী, সরকার দেশের ৯০ শতাংশ মানুষকে ৫জি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
বিটিসিএল-এর সেবার মানোন্নয়ন: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল (BTCL) ইন্টারনেটের গতি তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে এবং একই খরচে উচ্চগতির জিপন (GPON) সংযোগ প্রদান করছে।
কাজের মান নিশ্চিতকরণ (QoS Directive): বিটিআরসি (BTRC) ইন্টারনেটের গুণমান নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে, যাতে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি একটি নির্দিষ্ট মানের নিচে নেমে না যায়।
অবকাঠামো উন্নয়ন: হাওড়, চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় ব্রডব্যান্ড ওয়াইফাই হটস্পট স্থাপন এবং রেলওয়ে স্টেশন ও বিমানবন্দরে ফ্রি হাই-স্পিড ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে।
ট্যাক্স হ্রাস: ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির জন্য সিম ট্যাক্স প্রত্যাহার এবং টেলিকম খাতের ওপর বিদ্যমান কর কাঠামো শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যবহারকারীর সংখ্যা: দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৩.৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, যা সংখ্যায় প্রায় ১২ কোটি ৯৬ লাখের বেশি।
ব্যবহারের হার: ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় ৭২.৪ শতাংশ সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রতিদিন অন্তত একবার ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকেন।
ফ্রিল্যান্সিং ও কর্মসংস্থান: উচ্চগতির ইন্টারনেট থাকার কারণে তরুণ প্রজন্ম ঘরে বসেই আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত হচ্ছে। এটি দেশের বেকারত্ব দূর করতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখছে।
ডিজিটাল সেবা ও ই-কমার্স: ক্যাশলেস ট্রানজ্যাকশন, অনলাইন শপিং, এবং সরকারি বিভিন্ন ই-সেবা এখন হাতের মুঠোয়। উচ্চগতির ইন্টারনেট এই সেবাগুলোকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করে তুলেছে।
মূল্য ও সক্ষমতা: উচ্চগতির ইন্টারনেটের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকলেও, গ্রামাঞ্চলে এর নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। লোডশেডিং বা কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেক সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ভবিষ্যৎ পথচলা: প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা যদি ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়াতে পারি, তবে এই উচ্চগতির ইন্টারনেটই হয়ে উঠবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার মূল হাতিয়ার।
উচ্চগতির ইন্টারনেট কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি এখন আমাদের জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম মেরুদণ্ড। সঠিক ও সৃজনশীল ব্যবহারের মাধ্যমে এটি আমাদের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।