10/08/2026
আজকে এসএসসির রেজাল্ট দিয়েছে। অনেক জায়গায় দেখলাম ২-৩ পয়েন্টের ব্যবধানে ডিপ্লোমার কোন সাবজেক্ট পাওয়া যাবে, কোন পলিটেকনিকে ভর্তি হওয়া যাবে এসব নিয়ে সদ্য পাশ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
এদিকে আমার মতো যারা ১২৫০-এ ১২০০+ পেয়ে ভালো কোনো কলেজে সাইন্স নেবে, তাদের একটা বড় অংশ এইচএসসিতে ৯৭-৯৮% মার্ক নিয়ে শেষ পর্যন্ত অকাজের, অপদার্থ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আসবে।
তারপর শুরু হবে আসল জীবন।
চার বছর ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা, রিপোর্ট আর অ্যাসাইনমেন্ট করতে করতে পড়ার সময়ই পাওয়া যাবে না। গার্লফ্রেন্ডকে সময় দিতে না পারায় প্রতিদিন ঝগড়া হবে। মেয়ে বেশি লয়াল না হলে সম্পর্কও টিকবে না। মানসিক চাপ সামলাতে গিয়ে কেউ কেউ নেশা করা শুরু করবে।
তারপরও দাঁত কামড়ে, আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে, সকাল-সন্ধ্যা অপমান সহ্য করে, অসহনীয় পরিশ্রম করে শেষ পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হবে।বের হয়ে দেখবে, স্কুলের সেই ২-৩ পয়েন্টে এসএসসি পাশ করা বন্ধুটা ডিপ্লোমা পাশ করে ইতোমধ্যে দুই বছর ধরে চাকরি করছে। সাথে শুক্র শনিবারের সন্ধ্যায় একটু হাজিরা দিয়ে উত্তর দক্ষিণ ভার্সিটি থেকে ৫০% বিএসসি কমপ্লিট করে ফেলেছে।
আর সে তখন কোনো একদিন সামনে দাঁড়িয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করবে
“তুই কি আমার চেয়ে বেশি মেধাবী নাকি?”ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কী পড়ানো হয়, সেটা তো সবাই জানে। যেটা আমরা এক সন্ধায় হাজিরা দিয়ে কমপ্লিট করি সেটা অর্জন করতে তোদের জীবন চলে যায়। কতটা মূর্খ তোরা?
এর মধ্যে যাদের প্রেম কোনোভাবে টিকে গিয়েছিল, তাদের প্রেমিকার জন্যও সপ্তাহে সপ্তাহে বিয়ের প্রস্তাব আসতে থাকবে। একসময় ছেলেটার নিজেরই মনে হবে দুনিয়ার সবচেয়ে ব্যর্থ মানুষ সে। একটা মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার মতো যোগ্যতাও সে চার বছর ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে অর্জন করতে পারেনি। এদিকে তার সেই ডিপ্লোমা বন্ধু? সে ছেলের বার্থডে সেলিব্রেট করছে।