19/05/2026
জীবনের এক পর্যায়ে এসে হঠাৎ মনে হয়, পিছনে ফেলে আসা অনেক অর্জনই আসলে কত তুচ্ছ ছিল। যেগুলো নিয়ে একসময় এত গর্ব করেছি, এত প্রতিযোগিতা করেছি, কখনো হিংসাও করেছি আজ সেগুলোর কোনো মূল্যই যেন আর অনুভব করি না।
ক্লাস ওয়ান-টুতে রোল ১ না পেয়ে কত কষ্ট পেয়েছি। মনে হতো, পরেরবার যেভাবেই হোক প্রথম হতেই হবে। যে বন্ধুটি আমাকে ছাড়িয়ে যেত, তার প্রতি অদ্ভুত এক হিংসা কাজ করত। অথচ আজ বুঝি, সেসবের কোনো বাস্তব গুরুত্বই ছিল না। এরপর এলো এসএসসি, এইচএসসি ভালো ফলাফল নিয়ে কত গর্ব, খারাপ হলে কত হতাশা। কিন্তু আজ সেসবও অর্থহীন মনে হয়।
আমি একজন এভারেজ স্টুডেন্ট হিসেবেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করতে চলেছি। খুব শিগগিরই হয়তো “বেকার গ্র্যাজুয়েট” নামটা আমার পরিচয় হয়ে যাবে। বাবার বয়স হয়ে গেছে, মায়ের শরীরও আগের মতো নেই। অথচ এত বছর পরেও আমি তাদের জন্য তেমন কিছুই করতে পারলাম না। বারবার মনে হয়েছে, ছেলে হিসেবে আমি কতটা ব্যর্থ।
আর্থিক অনটনের এই সময়গুলোতে কত দোয়া করেছি, কত চেষ্টা করেছি। চেষ্টা আর অপেক্ষা করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে গেছি, হতাশ হয়ে গেছি। এতদিন বাবা-মা হয়তো আমাকে নিয়ে খুব বেশি আশা করেননি। কিন্তু “ইঞ্জিনিয়ার” হওয়ার পর তাদের স্বপ্নগুলোও বড় হয়ে যাবে। আর আমি জানি না, সেই স্বপ্ন পূরণ করার সামর্থ্য আমার হবে কি না।
কিছুদিন ধরে খুব বেশি মন খারাপ থাকে। মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি আমি এসএসসি-এইচএসসিতে এত ভালো করার পেছনে না ছুটতাম, যদি ছোটখাটো কোনো কাজ করে তখন থেকেই বাবা-মাকে সাহায্য করতে পারতাম তাহলেই হয়তো আজ আমি বেশি সুখী হতাম। দূর থেকে শুধু তাদের কষ্ট আর পরিশ্রম দেখেছি, কিন্তু ২২-২৩ বছর বয়স হয়েও তাদের কোনো উপকারে আসতে পারিনি।
আমার এতগুলো দিন কেটে গেছে দুশ্চিন্তা আর হতাশার ভেতর দিয়ে। কখনো কখনো মনে হয়, আমার সেই বন্ধুরাই হয়তো ভালো আছে, যারা এসএসসির পর থেকেই কাজ শুরু করেছিল। বেঁচে থাকার জন্য খুব বেশি টাকার প্রয়োজন ছিল না হয়তো, কিন্তু সময়মতো সামান্যটুকুও অর্জন করতে পারিনি।
জীবনের এই ব্যর্থতার অনুভূতির কাছে তাই আগের সব অর্জন খুব সহজেই ম্লান হয়ে যায়।