12/07/2025
পেইজটা ডাউনে ছিল, হয়তো ভালোই ছিল। কিন্তু আর চুপ থাকতে পারলাম না। হাতেগোনা কয়েকজনকে লোভ দেখিয়ে ব্রেইনওয়াশ করে সাড়ে ৫০০০ কুয়েটিয়ানদের শাস্তি দেয়ার এই পদ্ধতি অত্যন্ত অমানবিক এবং নির্দয়। কুয়েটে এ পর্যন্ত কোন আন্দোলন মাথা উচু করে দাড়াতে পারে নাই। এর আগেই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আন্দোলন দমিয়ে দেয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ২০১৯ সালে এনকোডেড এক্সাম সিস্টেমের আন্দোলন -এসবকিছু ভেস্তে দিয়েছে স্বার্থান্বেষী শিক্ষকমহল। আগে আওয়ামীপন্থীরা এসব করতো, এখন বিএনপিপন্থীরা। মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। কিন্তু এবার প্রথম কোন আন্দোলন সফল হয়েছে। এই আন্দোলন কিন্তু ১০০% ন্যায্য ছিল দেখেই দেশের সকল ছাত্রসমাজ একত্রিত হয়েছিলো কুয়েটিয়ানদের সাথে। সবাই আওয়াজ তুলেছিল।
কিন্তু তাতে কি? ভবিষ্যতে যাতে কেউ কোন ন্যায় দাবি নিয়ে মাথা উচু করে দাড়াতে না পারে সেই প্রক্রিয়া চলমান এবং এজন্য শাস্তি দেয়া হচ্ছে সকল কুয়েটিয়ানদের। আর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে অন্ধভক্ত কিছু বিপথগামীদের, যাদেরকে সহজেই eyewash করা যায়। হযরত আলি স্যারের পদত্যাগের জন্য যারা কর্মসূচী দিয়েছিলেন, তাদেরকে দ্রুত ক্লাস শুরু করার মূলা ঝুলিয়ে এভাবেই eyewash করে কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করিয়েছিলেন। যার ফলে আজ কুয়েটের কর্মরত সবাই বেতন থেকে বঞ্চিত।
আন্দোলন চলাকালীন বিচ্ছিন্ন সেসব ঘটনার জন্য একাধিকবার শিক্ষকদের নিকট ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে, এমনকি পায়ে পর্যন্ত পড়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দিক থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখানো হয়েছে। লাঞ্চনার ঘটনা ঘটিয়েছে হাতেগোনা কয়েকজন, তাদের জন্য সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে শাস্তি দেয়া কোন ধরনের ন্যায়পরায়ণতা? এমনকি অনেককে ল্যাব সুবিধা থেকেও অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। এগুলো কখনোই শিক্ষকসুলভ আচরণ হতে পারে না। সকল শিক্ষকও আবার এসব অন্যায়ে সম্পৃক্ত না।
কিন্তু কথায় বলে,
"অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে"