20/09/2025
আমাদের দেশে দুর্নীতি বরাবরই একটি আলোচিত বিষয়। এর প্রধানতম কারণ হলো- সমাজের প্রায় সর্বস্তরে দুর্নীতির সর্বগ্রাসী রূপ। অস্বীকার করার উপায় নেই সুশাসন এবং সঠিক জবাবদিহিতার অভাবের কারণেই সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানেই কম বেশি দুর্নীতি বিদ্যমান। তবে যে সব প্রতিষ্ঠানসমূহ সরাসরি জনগণের সেবাপ্রদানকারী সংস্থা বলে পরিচিত সে সব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়। চলমান রাজনীতি এবং সমাজ ব্যবস্থার আলোকে আমাদের দেশ দুর্নীতিমুক্ত কল্পনা করা এখনো বহুদূর। তবে দুর্নীতির মাত্রা এবং অসহনীয় রূপ সমাজকে কতোটা কলুষিত করছে, জবাবদিহিতা কতোটা বিনষ্ট হচ্ছে, দুর্নীতির গতিপ্রকৃতি সেগুলো অবশ্যই সচেতন সমাজের জানার বিষয়। কালের প্রবাহে বাংলাদেশে দুর্নীতির রূপ বদলেছে, নানাভাবে, নানারূপে দুর্নীতি হচ্ছে। সার্বিক দুর্নীতি সেই অর্থে কমছে না। সেবাখাতসমূহে আগের তুলনায় বেশি জবাবদিহিতা এবং অবাধ তথ্য আদান-প্রদান ও জানার ক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় সাধারণ জনগণ সেবাপ্রাপ্তির অধিকার সম্পর্কে ক্রমশ সচেতন হচ্ছে। যা দুর্নীতি কমিয়ে আনতে এক ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের সেবাখাতসমূহের দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ করে গত একযুগেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় রয়েছে টিআইবি তথা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। টিআইবি দুই বছর অন্তে সেবাখাতের খানা জরিপের আলোকে দুর্নীতির একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করে। গত বছরের শেষলগ্নে ২৮ ডিসেম্বর সর্বশেষ সিরডাপ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে সেবাখাতের দুর্নীতির খানা জরিপ রিপোর্ট তারা অনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। এবারের জাতীয় খানা জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি বিচার বিশ্লেষণ করে টিআইবি বলেছে দেশের ৬৩.৭% সেবাগ্রহণকারী কোনো না কোনো ভাবে দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন। তবে সেবাগ্রহণের প্রেক্ষিতে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হলো শ্রম অভিবাসন (৭৭%)। প্রথমবারের মত এই খাতকে সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে বলা হলো টিআইবি’র রিপোর্টে। এর পরেই রয়েছে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী সংস্থা (৭৫.৮%), ভূমি প্রশাসন (৫৯%), বিচারিক সেবা (৫৭.০%)। খানা জরিপে বলা হয়েছে সেবা গ্রহণের সময় বাংলাদেশের ৫৩.৩% খানাকে কোনো না কোনো খাতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ দিতে হয়েছে যার গড় ১৩০৮৪ টাকা। তবে বলা হয়েছে ২০১০ সালের তুলনায় ২০১২ সালে স্বাস্থ্য খাত ছাড়া প্রায় প্রতিটি খাতেই দুর্নীতি ও হয়রানি কমেছে। এই খানা জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে ২০১২ সালের ১৫ মে থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত যা দেশের ৬৪টি জেলাতে পরিচালনা করা হয়। ২০১০ সালে যে সব সেবাখাতসমূহকে অগ্রাধিকার দিয়ে খানা জরিপ সম্পন্ন করা হয়েছিল সেগুলো হলো-আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী সংস্থা, ভূমি প্রশাসন, বিচারিক সেবা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কৃষি, বিদ্যুত্, কর ও শুল্ক, শিক্ষা, ব্যাংকিং, বীমা, এনজিও এবং অন্যান্য। উল্লিখিত সেবা খাতে দুর্নীতির শিকার হওয়া খানার হার ছিল এ রকম- আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী সংস্থা (৭৯.৭), ভূমি প্রশাসন (৭১.০২), বিচারিক সেবা (৮৮.০), স্বাস্থ্য (৩৩.০২), স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান (৪৩.৯) কৃষি (৪৫.০৩), বিদ্যুত্ (৪৫.০৯), কর ও শুল্ক (৫১.০৩), শিক্ষা (১৫.০৩), ব্যাংকিং (১৭.০৪), বীমা (১৯.০২), এনজিও (১০.০১) এবং অন্যান্য (৩৪.০১)। এদিকে ২০১২ সালে এই সেবাখাতসমূহে দুর্নীতির হার এ রকম- আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী সংস্থা (৭৫.৮), ভূমি প্রশাসন (৫৯.০), বিচারিক সেবা (৫৭.১), স্বাস্থ্য (৪০.২), স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান (৩০.৯) কৃষি (২০.৪), বিদ্যুত্ (১৮.৩), কর ও শুল্ক (১৬.০৮), শিক্ষা (১৪.০৮), ব্যাংকিং (৭.১), বীমা (৬.০), এনজিও (৫.০) এবং অন্যান্য (৫৪.৯)।