17/02/2024
তিন দিন আগে ঢাকা থেকে ইব্রাহিম ওমর নামে একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আগে হি*দু ছিলেন, এখন ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তার স্ত্রী-ও নওমুসলিমা। এফিডেভিট করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ঘোষণা দিয়ে মুসলিম হয়েছেন, এবং ইব্রাহিমকে বিয়ে করেছেন।
কিন্তু মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা দেয়া হয়। মামলার জের ধরে ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রামে।
গতকাল (১৫/২/২৪) তাদের চট্টগ্রাম ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে এজলাসে তোলা হয়। সব কথা শোনার পর আদালত সেই মুসলিম নারীকে তার নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেয়ার আদেশ দেয়। বলা হয় ইব্রাহিম ওমরের জামিন শুনানি হবে রবিবার (১৮/২/২৪)।
ঘটনা এখানে শেষ হতে পারতো। কিন্তু হল না। মুসলিম নারী আদালত থেকে বের হবার সময় তার পরিবার এবং হি*দু ধর্মের বিভিন্ন আইনজীবি ও সমর্থক সেখানে বাকবিতন্ডার একটি পরিবেশ তৈরি করে। এবং অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে জোর করে সেই নারীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও হয়।
এ সময় সেখানে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদী দলের উগ রোবা দী স্লোগান 'জয় শ্রী রা*'-ও দেয়া হয়। পরিস্থিতি এতোটাই বিশৃংখল হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত কোর্টের আদেশ পরিবর্তন করে সেই মুসলিম নারীকে সেইফ কাস্টডিতে পাঠাতে বলা হয়।
আদালত প্রাঙ্গনে যা ঘটেছিল তা নিয়ে চট্টগ্রাম কোর্টের আইনজীবি সাজিদ আব্দুল্লাহ সাইফের বক্তব্য দেখা যাক। তিনি বলছেন।
"...অতঃপর আমাদের হি*দু ধর্মের ভাইয়েরা, যারা চট্টগ্রাম জজকোর্টে আইনজীবী, এই বিষয়ে আপত্তি তুলে কোর্টের বাইরে একধরনের অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। সেই সাথে নওমুসলিম দম্পতির শুভাকাঙ্ক্ষী এবং ভিকটিম ও আসামি পক্ষে আমরা যারা আইনজীবী ছিলাম তাদের মধ্যে একটা বাকবিতন্ডা লিপ্ত হয়।..দীর্ঘ বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ফাইল নিয়ে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বললে, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পূর্বের আদেশ চেঞ্জ করে কথিত ভিকটিম মেয়েকে সেইফ কাস্টডিতে পাঠিয়ে দেয়।
এভাবে একটা সাম্প্রদায়িক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি আগে কখনো সৃষ্টি হয়নি আমাদের চট্টগ্রাম কোর্টে...একজন মেয়ে ১৮ বছর উর্ধ্বে, সে নিজ জিম্মায় যেতে আইনি কোন বাঁধা নেই, তাতে কেন তারা (বাদী পক্ষ ও হিন্দু ধর্মের ভাইয়েরা) আপত্তি জানিয়ে কোর্টে জয় শ্রী রা* স্লোগান তুলে মেয়েকে নিজ জিম্মায় যেতে দেয়নি।'
ব্যাপারটা একটু ভাবুন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী, স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। প্রচলিত আইন অনুযায়ী এফিডেভিট করেছেন, বিয়ে করেছেন। কিন্তু অপহরণ মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। তার স্বামীকে বিনা দোষে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আদালত যখন বলছে নারী নিজের জিম্মায় থাকবে, তখন গন্ডগোল করে, গায়ের জোরে তাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে যেখানে আদালত সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে। আর এই সব কিছু হচ্ছে উগ রোবা দী সংগঠন আর এ* এস এর স্লোগান মুখে নিয়ে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হল, যদি আদালতে অনাকাংক্ষিত আরও কিছু ঘটতো দেশের মিথ্যামিডিয়া আর কথিত সুশীল সমাজ মুসলিমদেরকেই দোষ দিতো।
একজন নারী ইসলাম গ্রহণ করার পর তাকে নূন্যতম নিরাপত্তা আমরা দিতে পারছি না। আদালত সিদ্ধান্ত দেয়ার পরও তিনি নিরাপদ হতে পারছেন না। এ ভূখণ্ডে আমাদের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কতোটা আক্রান্ত হয়ে পড়েছে, কতোটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে, এটা তার প্রমাণ।
সবাই এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসুন, নিজে জানুন, অন্যকে জানান। রবিবার ইব্রাহিম ওমরের জামিন শুনানির সময় অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপ্রীতিকর কোন ঘটনা যেন না ঘটে, আদালত প্রাঙ্গনে আবার যেন গন্ডগোল না হয়, ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী যেন নিরাপত্তা পান, তা নিয়ে চট্টগ্রামবাসীর বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
©Asif Adnan